কালকে খুব ভোরে কাজে যাওয়ার কথা ছিল , আমার প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়ে যায় । ব্রেকফাস্ট করার সময় ছিল না । ওই অফিসে একটা অটোমেটিক মেশিন আছে। যেখানে হাল্কা পাতলা স্নাক্স , চকোলেট এবং কোল্ড ড্রিংক পাওয়া যায় । কেশ টাকা দিয়ে কিনতে হয় । কোন কার্ড এক্সসেকপ্ট করে না ।

কিনতে গিয়ে দেখি আমার ৫০ সেন্ট কম । আশেপাশে পরিচিত কেউ নায় । দূরে দেখি এক জর্জিয়ান মেয়ে । ওর সাথে আমার এক দিন এর পরিচয় । ওকে বললাম , খুচরো ৫০ সেন্ট আছে কিনা । ও তখন কাজ করছিল , আমাকে বলে তুমি আমার ব্যাগ খুলে নিয়ে নাও । আমি আবার ব্যাগ চিনতে ভুল করবো ভেবে, ও কে বলি তুমি নিয়ে আসো । আমি তোমার কাজ করে দিচ্ছি । ও দ্রুত গেল এবং আসল । ওর পুরো মানিব্যাগটা আমাকে দিয়ে বলে তুমি নিয়ে ওই জায়গায় রেখে দিও। আর চেইনটা লাগিয়ে দিও । মানি ব্যাগ এ নিম্নে ৩০০ ইউরো ছিল । ।

পরে ব্রেক টাইমে আবার আমাকে জিজ্ঞেস করে , আমি আবার কিছু কিনবো না কি । পরে কথা প্রসঙ্গে যখন শুনল , আমি ব্রেকফাস্ট করে আসি নাই । এরপর ও এটা খাও ওইটা নাও সে কি রিকুয়েস্ট । জীবনে করদিয়েল মানুষ দেখছি , এইরকম মাদার তেরেসা টাইপ মেয়ে জীবনে কম দেখছি । আমি খুব খেয়াল করে দেখলাম ও অন্য কলিগ এর সাথেও চূড়ান্ত লেভেল এর হেল্পফুল । । মাস্টার্স এ পরে । ইতিহাস ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে । ওর একটা বাচ্চা আছে , ও সিঙ্গেল মাদার। ও যেহেতু জার্মান না , তাই সরকারের সাহায্য পায় না ।

নিজে ইঙ্কাম করে , আবার পড়াশুনা করে একি সাথে আবার নিজের বাচ্চা কে দেখে রাখে । এত স্ট্রাগল, এতো ক্রুইল রিয়ালিটি তারপর ওর হাসিটা ওর চোখে-মুখে লেগে থাকে।

মানুষের প্রতি এই অন্ধ বিশ্বাস দেখে আমি অনেক অবাক হয়ে ছিলাম । পরে চিন্তা করলাম আমি কি কাউকে আমার ব্যাগ টা দিয়ে দিতাম এভাবে _ তার উপর পূর্ব ইউরোপ । আফ্রিকান হলে তো চিন্তা ও করতাম না । আর আরব হলে তো বলতাম এই না , আমার কাছে টাকা আছে!

নিজেকে ছোট ভাবতে যাওয়ার সময় মনে পড়ল , ৬৮ হাজার বর্গ মাইলের ওই দেশে প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মিনিটে কেউ না কেউ , কাউকে বিশ্বাস করার জন্য প্রতি মুহূর্তে মুল্য দিচ্ছে । যে সময় টা তে জরজিয়ান মেয়ে টা আমাকে বিশ্বাস করে ওর পুরো মানিব্যাগ টা দিয়ে দিয়েছিল , ওই সময় বাংলাদেশে কেউ বিশ্বাস করে ঘরের দরজা খুলেছিল । এবং পরিণতি………।

তবে কি বাংলাদেশে কাউকে বিশ্বাস করা পাপ? বিশ্বাস হয়ত বাংলা স্থানে নয়?


এছাড়া পড়তে পারেন,


ঈষৎ সম্পাদিত।