ঠিকমত দেশের ফুলিশ স্টেশনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নাই তার মধ্যে ঘুরে আসতে হল জার্মান পুলিশ স্টেশন, তাও একজন বন্ধুর জন্য জার্মান অনুবাদক হিসেবে, তাও পুলিশের বিশেষ অনুরোধে। ভাবই আলাদা! ওদের ধারনা আমি এক আধটু জার্মান পারি ! আমি কিন্তু আসলেই পারি কিন্তু সমস্যা হল আমি যা বলি জার্মানরা তা বুঝে না, আর ওরা যা বলে সব আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। এই ছোটখাট সমস্যাটা বাদ দিলে আমি কিন্তু ভালোই জার্মান পারি! দেশে থাকতে বাসে, কারে একটা পোস্টার সব সময় দেখতাম হুর পরির লাহান আবেদনময়ি এক পুলিশ কাকি আর ষাঁড় এর লাহান বডি বিলডার এক পুলিশ কাকু বাইক নিয়ে দাড়ায় আছে সমুদ্র তীরে। তখন থেকেই ভাবতাম বিদেশের পুলিশতো দেখি দেখতে সিরাম। 🙂

যাই হোক অনেক ভয় ডর নিয়ে ঢুকলাম ভিতরে। ভিতরে ঢুকতে গিয়ে দেখি দরজা আছে কিন্তু খোলার কোন ব্যবস্থা নাই। আমরা যখন কি করবো বুঝতে না পেরে একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম, এর মধ্যে এক বুইড়া পুলিশ কাকু কোন দিক থেকে যেন বের হয়ে পরিচয় জানতে চেয়ে এয়ার হোসটেস এর মত হাসিমুখে ভেতরে ঢুকতে বলল। তখনও যদি বুইড়া পুলিশ কাকুর হাসির অর্থটা বুঝতে পারতাম আমিতো উল্টা দৌড় দিতাম। ভিতরে ঢুকে তো আরও হতাশ, কোথায় হুর পরি আর ষাঁড় এর লাহান পুলিশ উল্টা পুলিশগুলারে দেখে মনে হল কোনভাবে আজকের কাজটা শেষ করে বাসায় পৌছাইতে পারলেই হয় তারপর কাল সকালে ঘুম থেকে উঠেই সোজা বৃদ্ধাশ্রমের দিকে হাটা দিবে।

এরপর শুরু হইল আসল কাজ, মানে পুলিশের কাজ। শুরু হইল হাজারো প্রশ্ন। এইটা জিগায় তো ওইটা জিগায়, পুলিশের দেখি প্রশ্নের শেষ নাই। আমি আর আমার বন্ধু দুইজন মিলে শুরু করলাম হাত পা ছোড়াছুড়ি, চেষ্টা করছিলাম যথাসম্ভব সবকিছু করে পুলিশরে জার্মানে বুঝানোর জন্য, পুলিশ দেখি ইংলিশের ই ও জানে না। কিন্তু এমন একটা সময় আসলো যখন দেখি হাত পা ছোড়াছুড়ি আর কাজ করে না, পুলিশও কিছু বুঝে না, আমরাও বুঝাতে পারি না। যাই বলি, পুলিশ বলে “ইহা সহি জার্মান ভাষা নহে”। মহা মুশকিল, এখন কৈ যায়, ওই দিন যে কার মুখ দেখে ঘুম থেকে উঠছিলাম ওইটা মনে করছিলাম, আর ভাবছিলাম নিশ্চয় কারও ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার দেখছি, কার যে দেখছি মনে পড়ছিল না। না হয়, সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম বাসায় এসে নগদে ওরে ব্লক দিমু আরও বোনাস হিসেবে কয়েকটা গালিও দিমু।

এদিকে দেখি পুলিশ গেছে খেপে আমার উপর, আমারে উল্টা জিগায়, “তুমি নিজে জার্মান না পারলে তোমারে কেডা বলছে অনুবাদক হিসেবে এখানে আসার জন্য ?? “। আমি অপমানের মাথা খেয়ে সগৌরবে বললাম, “আপনি কি জানেন, এখানে দেশি যারা আছে এদের মধ্যে আমিই জার্মানে সেরা”। পুলিশ দেখি এটা শুনে অবাক হয়ে একটু মুচকি হাসল। নিশ্চয় ও ভাবতেছিল, সেরার জার্মান এর যদি এই অবস্থা বাকি বলদগুলোর জার্মানের কি অবস্থা !

এরপর দেখি পুলিশ একটু ঘুরাঘুরি করে আসল, নিশ্চয় মাথা ঠাণ্ডা করতে গেছিল। এসেই দেখি বড় বড় জানালা সব খুইলা দিল, আর বলল একটু বাতাস আসুক, বাতাস আসলে হয়ত ভালো জার্মান বেরুবে। এইবার পুলিশসহ তিনজনে মিলে যৌথভাবে নতুন করে শুরু করলাম হাত পা ছোড়াছুড়ি। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার পর একটা দুই পৃষ্ঠার রিপোর্ট তৈরি হল, ততক্ষনে আমার অবস্থা “ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি” ।।

গল্প থেকে শিক্ষা: হোক সে পুলিশ অথবা ফুলিশ, হোক দেশি বা বিদেশি খামোকা পেইন দিতে এরা অতুলনীয় !!


জার্মান পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটঃ

 

আরো পড়তে পারেন- 

জার্মান আদব শিক্ষা 🙂

জাতীয় পতাকা ইস্যু

আজব পৃথিবী তার চেয়েও আজিব এই পৃথিবীর মানুষ।

আজব ব্যাপার!