প্রারম্ভিক আলোচনা

কথায় বলে, নামে নয় কাজেই পরিচয়। এই কলাম পড়ার আগে ধরে নিন, নামেই অনেক কিছু হয়। আপনি যদি ইউরোপে, বা উত্তর আমেরিকাতে, বা অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড এমন কোনও দেশে থাকতে চান আর আপনার নাম যদি স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটে না থাকে, তাহলে বলতে হয়, নাম সংশোধন আপনার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তাই যতই পরিশ্রম, দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশাসনিক জটিলতা থাকুক না কেন; এই কাজে প্রচণ্ড সাহস আর ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আজই আপনার নেমে পরা উচিৎ। যতই দেরী করবেন, মনে করতে থাকবেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো চলে যাচ্ছে; আর এক একটি সনদ আপনার বর্তমান নামে ইস্যু হওয়ার সাথে সাথে আপনার কাজও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

এই পুরো আলোচনা একজন বাংলাদেশী জার্মান প্রবাসী কিভাবে নাম সংশোধন করবেন সেটা নিয়ে। তবুও অন্য অনেকের জন্যও অনেক কিছু সহায়ক হতে পারে। তবে যারা পরবর্তীতে বাংলাদেশী থেকে জার্মান হয়ে যাবেন, তাদের কিন্তু first name বা Vorname জীবনে একবার বদলে ফেলার অবকাশ থাকে। সেটা নিয়ে এখানে আলোচনা হবে না।

প্রথমেই বলে নেই, নামের গঠন কেমন হওয়া উচিৎ তা নিয়ে। নামের প্রথম আর শেষ দুটো অংশ থাকতেই হবে। এই ব্যপারে পৃথিবীতে মোটামুটি কারোও কোনও দ্বিমত নেই। শুধুমাত্র তৃতীয় আর কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নন স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাক্টিসের কারণে এইসব ব্যপারে জ্ঞানের অভাব থেকে যায়। তাহলে নিচে দেখে নিন নামের প্রথম আর শেষ অংশ নিয়ে মৌলিক আলোচনা :

প্রথম নাম (first name / Vorname = Rufname + zweiter Vorname / middle name)

এটি হল একটি বা একাধিক আলাদা শব্দের নাম দিয়ে, যেটা বা যেগুলো দিয়ে আপনাকে পরিবার, বন্ধুমহল বা কাছের লোকজন সম্বোধন করেন।

প্রথম নাম যদি শুধু এক শব্দের হয়, তাহলে আপনার জটিলতা অনেক কম। আপনার প্রথম নামই সেক্ষেত্রে আপনার ডাকনাম বা Rufname।

প্রথম নাম দুই শব্দের বা একাধিক শব্দের হলে হলে, শুধু প্রথম শব্দটিকে Rufname হিসেবে বাই ডিফল্ট জার্মানীতে ধরে নেয়া হয়। পরের শব্দটিকে বা শব্দগুলোকে zweiter Vorname (Germany) বা middle name (USA) হিসেবে ধরে নেয়া হয়। জার্মানীতে middle name বা zweiter Vorname কে officially আলাদা করা হয় না তেমন। পুরো Vorname কে Rufname এবং zweiter Vorname সহ একসাথে লিখা হয়।

বিদেশী হিসেবে আপনি আসার পরে রেজিস্ট্রেশন করার সময়ে Meldebehörde তে জিজ্ঞাসা করা হয়, Vorname / first name / প্রথম নামে আপনার Rufname বা ডাকনাম কোনটি। আপনার সম্মতিক্রমে তখন Rufname / ডাকনামকে আন্ডারলাইন করে দেয়া হয়। সে হিসেবে আন্ডারলাইন না করা Vorname এর পরের শব্দগুলো বাই ডিফল্ট হয়ে যায় zweiter Vorname বা middle name।

কিন্তু ব্যপারটা জটিল হয়ে যায়, যখন আপনি Vorname এর শেষের দিকের কোনো শব্দকে Rufname হিসেবে ঘোষণা করেন। এটা সাধারণত এখানের সংস্কৃতির সাথে যায় না এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন ভূলের সূচনা হতে থাকে। এটা নিয়ে বিভিন্ন উদাহরণে পরে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

কিছু আন্তর্জাতিক হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড নামের উদাহরণ নিচে দেয়া হল। যেহেতু zweiter Vorname বা middle name অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়, তাই সেটা বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রূপে কিভাবে নাম লিখা হয় সেটাও দেখানো হল:

আবদুল্লাহ আল-মামুন খান = খান, আবদুল্লাহ আল-মামুন = আবদুল্লাহ খান = খান, আবদুল্লাহ

পার্থ প্রতিম চৌধুরী = চৌধুরী, পার্থ প্রতিম = পার্থ চৌধুরী = চৌধুরী, পার্থ

Angela Dorothea Merkel = Merkel, Angela Dorothea = Angela Merkel = Merkel, Angela

Barack Hussein Obama = Obama, Barack Hussein = Barack Obama = Obama, Barack

পারিবারিক নাম / শেষ নাম / জন্মগত নাম (surname / family name / birth name / maiden name / Nachname / Familienname / Name / Geburtsname)

এটি হল আপনার পারিবারিক নাম বা বংশের নাম। এই নাম দিয়ে আপনাকে অফিসিয়ালি ডাকা হবে। যেমনঃ Mr. Khan, Ms. Chowdhury, Mr. Kazi, Ms. Torofdar, Ms. Merkel, Mr. Obama ইত্যাদি। জার্মানীতে Mr. Khan কে Herr Khan আর Miss Chowdhury কে Frau Chowdhury হিসেবে ডাকা হবে।

এর আগে বর্ণনা করা প্রথম নাম আর এখানে বর্ণিত পারিবারিক বা শেষ নাম উন্নত দেশের মোটামুটি সবগুলোতেই আলাদা করে লিখা হয়। বলতে গেলে এইসব দেশে, এমন কোনও ফরম নেই, যেখানে আপনি বাংলাদেশের মত শুধু একটা পুরো নাম লিখবেন। প্রায় সর্বত্র আপনাকে প্রথম নাম আর পারিবারিক নাম আলাদা করেই লিখতে হবে।

এখানে একটি বিশেষ ব্যপার লক্ষণীয়। সবাই সাধারণত পারিবারিকভাবে বাবা অথবা মা থেকে একটি পারিবারিক নাম বা family name পেয়ে থাকে। কিন্তু আপনি যদি বিয়ের কারণে স্বামীর বা স্ত্রীর পারিবারিক নাম পরবর্তীতে যোগ করে থাকেন, তাহলে নতুন যোগ হওয়া পারিবারিক নামটিই আপনার পারিবারিক নাম। আর ছোটবেলাতে বাবা অথবা মা থেকে পাওয়া পারিবারিক নামটি তখন হয়ে যাবে জন্মগত নাম বা birth name বা Geburtsname।

এক্ষেত্রে Angela Merkel এর উদাহরণ থেকে এটি সুন্দর বুঝা যাবে। তাঁর বাবা ছিলেন Kasner পরিবারের, নাম Horst Kasner। তিনি মেয়ের নাম রাখলেন Angela Dorothea Kasner। যেখানে Rufname বা ডাকনাম Angela নামটি দিয়ে বেশি ডাকা হয়, আর মাঝে মাঝে zweiter Vorname বা middle name হিসেবে Dorothea বলেও ডাকা যায়। বড় হয়ে তিনি বিয়ে করলেন Merkel পরিবারের ছেলে Ulrich কে, নাম Ulrich Merkel। সেই হিসেবে তিনি পারিবারিক নাম নতুন করে নিলেন Merkel। তাই তিনি হয়ে গেলেন Angela Dorothea Merkel। আবার জার্মানীতে Standesamt থেকে নাম পরিবর্তন ঠিকভাবে অনলাইন এ tracked আর documented থাকে। তাই প্রচলিত ব্যবহারের ID card, পাসপোর্ট, ATM card এইসব কিছু ছাড়া পুরনো সার্টিফিকেট আর জন্মসনদের কোনও পরিবর্তন হয় না। সেই হিসেবে তার আগের সব সার্টিফিকেটে আগের পারিবারিক নাম বা জন্মগত নাম) Geburtsname / name at birth) Kasner রয়ে গেছে। এইজন্য সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সবসময়ই Geburtsname এর ব্যপারে জানতে চাওয়া হয়।

তাই Angela Merkel যদি জার্মানীতে ফরম পূরণ করেন, তিনি লিখবেন এইভাবে :

Familienname : Merkel

Vorname(n) (vollständig) : Angela Dorothea

অথবা Rufname : Angela

Geburtsname : Kasner

আবার তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ফরম পূরণ করতে যান, তাহলে লিখবেন :

Surname : Merkel

First name : Angela

Middle name : Dorothea

Surname at birth / maiden name : Kasner

___________________________________________________________________________

নামের কোনও স্ট্যান্ডার্ড যদি ধরতে চান, তাহলে বলতে হবে এটা পুরোপুরি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। এখানে সংস্কৃতি, ধর্ম, দেশ, ভাষা অনেক প্রসঙ্গই চলে আসবে। আর অবশ্যই এগুলোতে নানা মুনির নানা মত আছে এবং এবং ওইধরনের বিতর্ক সাধারণত কখনও শেষ হয় না। তবে এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকাতে বর্তমানে যে নামকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয় তা নিয়ে। তাই এখানকার নামের ফরম্যাট খেয়াল রেখে যারা নাম সংশোধন বা পরিবর্তন করতে চান, এই লিখা শুধু তাদের জন্যই।

আলোচনার সুবিধার্থে পাঁচভাগে এই আলোচনাটিকে ভাগ করা হলঃ

১। বাংলাদেশে প্রচলিত নামের সংস্কৃতি

২। বাংলাদেশে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

৩। জার্মানিতে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

৪। নাম সংশোধনের কিছু প্রস্তাবনা

৫। শেষকথা


name correction GermanProbashe

১। বাংলাদেশে প্রচলিত নামের সংস্কৃতি 

বাংলাদেশী বেশীরভাগ নামেরই কোনও ফরম্যাট নেই। কোনও নিয়মেরও বালাই নেই। সরকার থেকে শিক্ষাবোর্ড অথবা জন্ম-নিবন্ধকের দ্বারা সবাইকে একটা নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেয়ারও কোন গরজ নেই।

.ক। ডাক নাম (Spitzname বা Rufname) 

বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সবাই তাকে চিনেন এক নামে, আর বাস্তবে কাগজে-কলমে তিনি পুরোপুরি অন্য এক ব্যক্তি। এটি অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত পরিচয় (double identities) অথবা পরিচয় সংকটের (identity crisis) তৈরি করতে পারে।

ধরুন, আপনার কাগজে-কলমে নাম “আফজাল হোসেন” । আবার আপনাকে সবাই চিনে, আপনার ডাকনাম “জনি” হিসেবে। এই আপনার যে কোনও ব্যপারে কেউ দাপ্তরিকভাবে (officially) কোথাও কিছু জানাবেন বা কোনও খোঁজ নিবেন, যে ব্যক্তি এই কাজ করতে যাবেন, তিনি মোটামুটি হাবুডুবু খেতে থাকবেন।

পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশে প্রথম নামই সাধারণত ডাকনাম। তাই কাউকে কাগজে-কলমে খুঁজে পেতে তেমন কষ্ট হয় না আর। কিছু কিছু ক্ষেত্রে Alexander কে Alex, Edward কে Eddie বলা হয়। এগুলো প্রথম নামের সংক্ষিপ্তরূপ এবং মোটামুটি সবার জানা থাকে, কোন নামের সংক্ষিপ্তরূপ কেমন হয়।

নামের শেষে আন্তর্জাতিক নিয়ম হিসেবে সবসময়ই বসে পারিবারিক নাম (চৌধুরী, খান, ভুঁইয়া, কাজী ইত্যাদি), ডাকনাম নয়। যদি একান্তই ইচ্ছা থাকে, আপনাকে সবাই আপনার ডাকনাম হিসেবে চিনুক, তবে আপনার প্রথম নাম রেখে অথবা বাদ দিয়ে নামের শুরুতে কাগজে-কলমে সেই নামটি লাগিয়ে নিন। যেই নাম আপনার কাগজে-কলমে নেই, সেটি কখনই আপনার নাম ছিল না, নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

এই undocumented ডাকনামের ব্যাপারটা আসলে অনেক ক্ষেত্রে এতই খারাপ দেখায় যে, এটা মাঝে মাঝে অনেকের মধ্যে সন্দেহেরও উদ্রেক করে। সাধারণত গুপ্তচর, গোয়েন্দা, সন্ত্রাসী, প্রাণহানির ভয়ে পলায়নকারি, এ ধরণের লোকেরা ছদ্মনাম গ্রহণ করেন, যেগুলো কোনও কাগজপত্রে কোথাও উল্লেখ থাকে না।   আমাদের দেশের অনেকের ডাকনামের ব্যাপারটি কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই ছদ্মনামের ব্যাপারটার সাথে মিলে যায়।

.খ। প্রথম নামে (first name / given name / Vorname) আরবি শব্দের ভুল ব্যবহার

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগ লোকই আরবি নাম রাখাকে ধর্মীয় দায়িত্ব (সেটা কারো মতে যৌক্তিক, আর কারো মতে অযৌক্তিক) বলে মনে করেন। কিন্তু আরবি ভাষা এবং প্রথম আর শেষ নামের সঠিক পৃথকীকরণ (separation) নিয়ে জানা না থাকায় এক্ষেত্রে অনেকেই বড় ধরণের অনেক ভুল করে থাকেন। এই কারণে অনেক বাংলাদেশিকেই সারাজীবন এই ভুলের বোঝা বয়ে নিতে হয়।

ধরুন, এক দম্পতির বড় ছেলের নাম “ইসহাক”। এই ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি হিসেবে আরবের সংস্কৃতি হিসেবে সেই বাবাকে ডাকা হবে “আবু-ইসহাক”। একইভাবে “ইসহাকের মা” হল “উম্মে-ইসহাক”। আবার আরেক দম্পতির বড় মেয়ের নাম “সালমা”। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে যারা “সালমার বাপ”, আরবে তারা হলেন “আবু-সালমা”। আর যারা “সালমার মা”, আরবে তারা হলেন” উম্মে-সালমা”।

বাংলাদেশে “সালমার মা” আর “ইসহাকের বাপ” যেমন একটি সম্বোধনের পদ্ধতি, তেমন “উম্মে-সালমা” আর “আবু-ইসহাক”ও আরবের সম্বোধনের পদ্ধতি। এটি নাম হিসেবে ব্যবহার করা কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা আমার জানা নেই। ধরুন, আপনার নবজাতক পুত্রসন্তানের নাম আপনি দিলেন “আবু-ইসহাক”। তাহলে আপনি একইসাথে আপনার সেই নবজাতকের অনাগত পুত্রের (মানে আপনার আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ বছর পরে জন্ম নেয়া সম্ভাব্য নাতির, শুধু নাতনি হলে আবার বিপদ) নামও দিয়ে দিলেন ইসহাক। যদিও বা দেখা যায় অনেক পুরুষ “আবু-ইসহাক” হয়ে ছেলের নাম আর “ইসহাক” দেন না। আর অনেক মহিলা “উম্মে-সালমা” হয়ে মেয়ের নাম আর “সালমা” দেন না।

আরেকটি বড় ভুল হল, “আবু-ইসহাক” কে “আবু” অথবা “ইসহাক” বলে ডাকা। ব্যাপারটি এমন, যেনো আপনি “ইসহাকের বাপ”কে “বাপ” অথবা “ইসহাক” বলে ডাকলেন। একই যুক্তিতে “উম্মে-সালমা”কে “সালমা” দিয়ে সম্বোধন করাও ভুল।

“আবু-ইসহাক”, “আবুল-হাসান” আর “উম্মে-সালমা” এ ধরণের সব নাম যুক্তশব্দ। এগুলো ছাড়া কোনও নাম থাকলে, পুরোটাই আপনার প্রথম নাম।  পরের শব্দটিকে আলাদা করে পাসপোর্টে surname বা পারিবারিক নামের জায়গায় বসানো পুরোই ভুল।

নিম্নবর্ণিত নামগুলো আরবি ভাষা হিসেবে যুক্তশব্দ এবং পুরোটাই আপনার প্রথম নাম (first name / given name)। এগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আলাদা করে লিখা বা সম্বোধন করা ভুল। কোনও ভাবেই এগুলো শেষ নাম, বা পারিবারিক নাম বা বংশের নাম নয় । হতে পারে, কেউ ভাবতে পারেন, নাম তো শুধু নামই, এখানে এইগুলোও এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে বলতে হয়, পুরো ব্যাকরণগত ভুল লিখে আরব দেশের জনগণের কাছেও যদি তিনি হাসির পাত্র হতে চান, তো সেক্ষেত্রে কিছুই বলার নেই।

নিচে, প্রথমে আমরা যেভাবে নাম লিখি সেটা, আর পরে বাস্তবে আরবি অর্থ বা শব্দবিন্যাস হিসেবে নামটি যা হবে, তা উল্লেখ করার চেষ্টা করলাম। আমার ভুল থাকলে অনুগ্রহপূর্বক ধরিয়ে দিবেন।

আব্দুল হাকিম >>> আব্দ-উল-হাকিম

আব্দুর রাহমান >>> আব্দ-উর-রাহমান

আব্দুল আউয়াল >>> আব্দ-উল-আউয়াল

সাইফুল ইসলাম >>> সাইফ-উল-ইসলাম

সাইফুদ্দীন >>>  সাইফ-উদ-দ্বীন

মুনির উদ্দীন >>> মুনির-উদ-দ্বীন

মুজিবুর রাহমান >>> মুজিব-উর-রাহমান

রাশিদুল হাসান >>> রাশিদ-উল-হাসান

হারুণুর রাশিদ >>> হারুণ-উর-রাশিদ

এথেকে এই ধরণের বাকি সব নামের ব্যপারেই একটি ধারণা চলে আসবে যে, কিভাবে এগুলো যুক্তশব্দ।

ধরুন, কারও বাংলা নাম “সাগর”। তাকে যদি এখন “সাগরের” বলে সম্বোধন করা হয়, তবে কেমন শুনায় বলুনতো! একই রকম হাস্যকর শুনায়, যদি কাউকে “সাইফুল” বা “মুজিবুর” বলে ডাকা হয়। এক্ষেত্রে যথাক্রমে “সাইফ” বা “সাইফ-উল-ইসলাম”, আর “মুজিব” বা “মুজিব-উর-রাহমান” বলে ডাকা শুদ্ধ হবে।

.গ। পিতার প্রথম নামের সাথে যোগ করে পুত্রকন্যার নামকরণের পুরুষতান্ত্রিক বা পিতৃতান্ত্রিক পদ্ধতি (Patronym)

“বিন”, “বেন”, “বিনত”, “বিনতি”, “ইবন”, “ইবনে”, “ইবনুল” ইত্যাদি দিয়ে সন্তানের প্রথম নাম আর পিতার প্রথম নাম যুক্ত করার পদ্ধতিটি Patronym এর আরব ধরণ। এটি বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। এছাড়াও পৃথিবীর অনেক দেশে Patronym এর পদ্ধতির ইতিহাস রয়েছে। উইকিপিডিয়াতে এ নিয়ে অনেক লম্বা বর্ণনা রয়েছে। যেমন : পিতা : William Johnson (John এর ছেলে William), পুত্র : Peter Wilson (William এর ছেলে Peter। Peter এখানে তার বাবার শেষ নাম Johnson না নিয়ে, বাবার প্রথম নাম William কে Wilson বানিয়ে নিজের শেষ নাম হিসেবে যুক্ত করেছে।)

পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পদ্ধতি চালু ছিল। আস্তে আস্তে নামের আন্তর্জাতিকিকরণের (internationalisation) আর প্রমিতকরণের (standardisation) সাথে সাথে Patronym বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। মানে উপরের উদাহরণ হিসেবে William Johnson এর ছেলে এখন Peter Wilson না হয়ে Peter Johnson হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু দেশে এখনো চালু রয়েছে।

ধরুন, আপনার নাম “আনাস বিন আবদুল্লাহ”। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম নাম হল “আনাস” আর আপনি হলেন “আবদুল্লাহ” এর পুত্র। “আবদুল্লাহ” হল আপনার বাবার প্রথম নাম, পারিবারিক বা বংশের নাম নয়। ধরলাম, আপনার পারিবারিক নাম “খান”। সেক্ষেত্রে আপনি পারিবারিক নাম যোগ করে “আনাস বিন-আবদুল্লাহ খান” হিসেবে আপনার নাম লিখতে পারেন, যেখানে “আনাস বিন-আবদুল্লাহ” আপনার প্রথম নাম, আর “খান” আপনার পারিবারিক নাম বা শেষ নাম। এক্ষেত্রে আর তেমন জটিলতা নেই। আপনাকে “আনাস” বলে informally ডাকা হবে, আর formally আপনি হলেন “জনাব খান”।

জটিলতা আসে সাধারণত তখন, যখন নামে কোনও পারিবারিক নাম থাকে না। অনেকেই এক্ষেত্রে প্রথম আর শেষ নামের পৃথকীকরণ (separation) সঠিকভাবে করেন না। পাসপোর্টে দেখা যায় অনেকে প্রথম নাম লিখেন “আনাস বিন”, আর শেষ নাম লিখেন “আবদুল্লাহ”। ব্যপারটা এই ক্ষেত্রে কিছুটা সঠিক হত, যদি শুধু “আনাস” প্রথম নাম, আর “বিন-আবদুল্লাহ” (আবদুল্লাহর পুত্র) শেষ নাম হত। একই ব্যপার প্রযোজ্য হবে, নিম্নোক্ত ধরণের নামগুলোর ক্ষেত্রেও :

কাদের ইবনে-কালাম

শাহিদা বিনতে-করিম

.ঘ। পারিবারিক বা শেষ নাম (family name / surname) এর ভূল ব্যবহার

পারিবারিক নাম (চৌধুরী, খান, ভুঁইয়া, শেখ, কাজী, সৈয়দ, তালুকদার, তরফদার, মিয়া, মুন্সি, পাটোয়ারী, ব্যপারী, চাষী, খন্দকার, সিকদার ইত্যাদি) বসবে সব সময়ই নামের শেষে। এই নিয়ম মোটামুটি পৃথিবীর সবখানেই একরকম। শুধুমাত্র এশিয়ার অল্প কিছু দেশে (চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি) ব্যতিক্রম রয়েছে এবং তারা সবসময় শুরুতে পারিবারিক নাম লিখে। কিন্তু তারা পাসপোর্টে শুরুর নামটিকে পারিবারিক নাম হিসেবে ঘোষণা করে, যে কারণে পাশ্চাত্যের দেশে আসলেও নাম automatically উল্টে যাওয়ার কারণে তাদের সমস্যা নেই তেমন।

আমাদের দেশে কিছু পারিবারিক নাম অনেকে লিখেন শেষে, যেমন খান, চৌধুরী, তালুকদার ইত্যাদি। কিছু কিছু অনেকে লিখেন শুরুতে, যেমন সৈয়দ, কাজী, শেখ ইত্যাদি। এখানেই বুঝা যায় এক্ষেত্রে আমাদের কোনও নির্ধারিত পদ্ধতি (standard) দুঃখজনকভাবে নেই।

নামের শেষে অনেকে আবার বসিয়ে দেন ডাকনাম, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে পুরোপুরি ভুল। ধরুন, আপনার নাম আউয়াল রহমান সবুজ। পাসপোর্ট করতে গিয়ে surname বা family name এর জায়গায় বসিয়ে দিলেন সবুজ। এক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের দেশে আপনাকে ডাকা হবে জনাব সবুজ (Mr. Shobuj)। এর মানে হল আপনি সবুজ বংশের বা পরিবারের লোক। অন্য কথায় আপনার যদি বলি, এর অর্থ হল, আপনার দাদা, দাদী, বাবা, মা, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাই পারিবারিক নাম হিসেবে সবুজ। একই ব্যপার সাদিয়া সুলতানা চৈতি এর ব্যপারে কল্পনা করুন, যেখানে চৈতিকে পাসপোর্টে বসানো হয় হয়েছে পারিবারিক নাম বা surname এর জায়গায়। সেখানেও আপনি চৌধুরী বংশের না হয়ে, হয়ে গেলেন চৈতি বংশের।

রহমান, হাসান, হোসাইন, উদ্দিন, ইসলাম, উল্লাহ, বিল্লাহ, আহমেদ, আলম, আখতার, সুলতানা, জাহান ইত্যাদি অনেক শব্দ বাংলাদেশে পারিবারিক নাম বা surname হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেগুলো উৎপত্তিগতভাবে আদৌ কোনও surname নয়। যুক্তশব্দ হওয়ার কারণে এখানে অনেকগুলোকে surname হিসেবে লেখাও ভূল।

পারিবারিক নাম বা বংশের নাম কখনই আপনার পদবি নয়। পেশাগত কারণে কেউ কেউ নামের শুরুতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, advocate, attorney, professor ইত্যাদি বসান, এগুলোই পদবি। এই পদবিগুলো কখনই নামের অংশ নয়। যে কোনও রকম সনদ (certificate), জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টে পেশাগত পদবি যোগ করা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

.ঙ। নামের শুরুতে MD বা মুহাম্মাদ লাগানোকে অত্যাবশ্যক মনে করা 

MD দিয়ে বাস্তবে অনেক জায়গায় Doctor of Medicine বুঝায়। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশী ভাই অনেকে নামে এই উপাধি রাখতে বদ্ধ পরিকর। নিজেকে হয়তো ডাক্তার পরিচয় দিতেই ভালো লাগে অনেকের।

বাংলাদেশী অনেক পরিবারে আবার দেখা যায়, নামের সাথে মুহাম্মাদ বা আহমাদ লাগানো অত্যাবশ্যক ধরা হয়। আরবে মুহাম্মাদ বা আহমাদকে কখনও নামের টাইটেল হিসেবে ধরা হয় না, বরঞ্চ নাম হিসেবেই ধরা হয়। যেমন ধরুনঃ মুহাম্মাদ আল-সাব্বানি, আহমাদ ইবনে সাইদ। এই দুই নামের ক্ষেত্রে; প্রথম জনের নাম মুহাম্মাদ আর তার পারিবারিক নাম আল-সাব্বানি। দ্বিতীয় জনের ক্ষেত্রে; তার নাম আহমাদ আর তার বাবার নাম সাইদ।

তবুও কেউ যদি ভাবেন, মুহাম্মাদ আপনাকে রাখতেই হবে, তবে middle name বা zweiter Vorname এর জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন। তা নাহলে আপনাকে মুহাম্মাদ বলেই এখানে সম্বোধন করা হবে। আর আপনার যেটা ডাকনাম মাঝখানে রয়ে যাবে, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই সংক্ষিপ্তকরণের সময়ে বাদ দেয়া হবে।

যেমন, মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ খান কে আপনি আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ খান করে দিতে পারেন। তাহলে এক্ষেত্রে আপনাকে আবদুল্লাহ বলে সম্বোধন করা হবে। আর middle name যখন বাদ দিয়ে সংক্ষেপে নাম লেখা হবে, তখন আবদুল্লাহ খান লেখা হবে। আর যদি পুরোনো ফরম্যাটে রেখে দেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে মুহাম্মাদ বলেই ডাকা হবে, আর সংক্ষিপ্ত হিসেবে মুহাম্মাদ খান লেখা হবে।

আরেকটা মজার ব্যপার বলি। ধরুন, আপনি মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ খান। আর আপনার ভাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ খান। এখন দুজনেরই যখন middle name বাদ দেয়া হবে তখন দুজনই হয়ে যাবেন মুহাম্মাদ খান। বুঝে নিন, তাহলে ঝামেলা কেমন।

আরেকটা উপায়ও আছে। ধরুন আপনি ছেলের নাম রাখবেন আর মুহাম্মাদ আপনাকে শুরুতে রাখতেই হবে, আর এই ব্যপারে আপনি কারো কথা শুনবেন না। তো এখন বড় ছেলের নাম যেহেতু রেখে দিলেন, মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ খান, ছোট ছেলেকে আলাদা নাম দেয়াও আপনার জরুরী। তাহলে তাকে দিতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে আহমাদ সাইফুল্লাহ খান। তাহলে একজন মুহাম্মাদ আর আরেকজন আহমাদ হয়ে গেলো। মিশে যাওয়ার ভয় আর নেই।


২। বাংলাদেশে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

আপনার যদি এখনও কোনও পাসপোর্ট না থাকে এবং আপনি যদি এখনও এসএসসি/ ও-লেভেল এর জন্য রেজিস্ট্রেশন না করেন, তবে শুধু জন্ম-সনদ পরিবর্তন (বর্তমানে online birth certificate করাই উত্তম) করে নিলেই হবে। আর অন্য কোনও কিছু না করলেও হয়তো নাম পরিবর্তন নিয়ে ঝামেলা হবে না। এক্ষেত্রে নিজেদের সাথে বিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষের বোঝাপড়ার উপরই সব নির্ভর করবে। অন্যথায় নিম্নলিখিত কর্মপন্থা অনুসরণ বাঞ্ছনীয়ঃ

২ক। নামের এফিডেভিট (name affidavit)
এফিডেভিট যদিও উন্নত দেশগুলোতে এক পাতাতেই দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী ১০০ টাকার ২ টি স্ট্যাম্পে তার মানে ২ পাতাতে লিখে আবেদন করতে হয়। এফিডেভিট এর স্যাম্পল দরকার হলে এখানে কমেন্টে জানাতে পারেন, দেয়ার চেষ্টা করা হবে। যদি দেশের বাইরে থাকেন বা পরবর্তীতে যেতে চান, তাহলে এফিডেভিট ইংরেজিতে করাই ভালো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আপনি ১৮এর নীচে বা ১৮এর উপরে যাই হোন না কেন, এফিডেভিট আপনার অভিভাবকের দ্বারা করাতে হবে (ব্যাপারটা যদিও যুক্তিতে মেলে না)। তাছাড়া এর বাইরে, আপনার বয়স ১৮ বছরের উপরে হলে, এফিডেভিট আপনি নিজেই করতে পারবেন। এ ব্যাপারে ভালো জানার জন্য, অভিজ্ঞ কোনও উকিলের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এফিডেভিটের জন্য লাগবেঃ
 ১০০x২=২০০ টাকার স্ট্যাম্প
 স্ট্যাম্পে (legal size page) প্রিন্ট নেয়ার জন্য, কম্পিউটারে বাংলা বা ইংরেজি আবেদনের ফরম্যাট
 ১৮এর নীচে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে সংযুক্ত করার জন্য আপনার অভিভাভকের এক কপি বায়োমেট্রিক ছবি
 ১৮এর উপরে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে সংযুক্ত করার জন্য আপনার এক কপি বায়োমেট্রিক ছবি
 ১৮এর নীচে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে আপনার অভিভাভকের স্বাক্ষর
 ১৮এর উপরে আপনার বয়স হলে, এফিডেভিটে আপনার আপনার স্বাক্ষর
 উকিলের স্বাক্ষর, সিল, আর উনার ফি
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল (আর উনার সহকারীর ফি!! দুঃখজনক হলেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সত্য!)
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিল আপনার ছবির উপরে থাকবে, অন্য পাতাতেও উপরে থাকবে। সবশেষে আরেকটি সিলে আপনার নথিভুক্তির নাম্বার ও তারিখ দেয়া হবে। নথিভুক্তির নাম্বারটি প্রথম পাতাতেও লিখা হয়।

২খ। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি
যেকোনোও জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ইংরেজি পত্রিকা হলে দেশের বাইরে প্রমাণ দেখানো সহজ। যেদিন ওই পত্রিকা বের হবে, সেদিনই যত বেশী সম্ভব ওই পত্রিকাটি কিনে নিন। এটার ফরম্যাট দরকার হলে কমেন্টে জানাতে পারেন, দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

২গ। জন্মসনদ সংশোধন
জন্মসনদ সংশোধন করতে গেলে, জন্ম-নিবন্ধকেরা সাধারণত নতুন একটি সনদ দিয়ে দেয়। এখানের কাজ তুলনামূলক সহজ। আপনার এলাকার জন্ম-নিবন্ধকের (ওয়ার্ড কমিশনার অফিস / চেয়ারম্যান অফিস) সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করে নিন। একটি আবেদন-ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং সাথে আপনার এফিডেভিটের ও পত্রিকার বিজ্ঞাপনের কপি সাধারণত চাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

খুব খেয়াল রাখতে হবে, ইংরেজি birth certificate এ যেনো place of birth এ শুধু জেলার নাম থাকে, যেটা পাসপোর্টে আছে। গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা এইসব থাকলে যথাসম্ভব নতুন করে করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। তা নাহলে পরবর্তীতে জার্মান Standesamt আপনার Einbürgerung এর পরে আপনার গ্রামকে place of birth হিসেবে ঘোষণা করে দিতে পারে। তখন বাংলাদেশী অবস্থায় একটা place of birth (District) আর জার্মান অবস্থায় আরেকটা place of birth (Village) নিয়ে হয়তো ডুয়াল আইডেন্টিটির ঝামেলায় পরে যেতে পারেন।

আরেকটু ভালো হয়, first name আর surname কে যদি আলাদা করে লেখানো যায়। কিন্তু তাদের ফরম্যাট না থাকলে হয়তো ওইভাবে দিতে রাজিও হবে না।

birth certificate অনলাইন করে নিতে পারলে আরও ভালো হয়। অনলাইনে জন্মসনদ হয়েছে কিনা এখানে দেখে নিতে পারেনঃ http://bris.lgd.gov.bd/pub/?pg=verify_br

২ঘ। এসএসসি/ এইচএসসি সনদ সংশোধন
নাম সংশোধনের যত কাজ আছে, ভালো করে মনে রাখবেন, এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। কাজেই যথেষ্ট পরিমাণ ইচ্ছাশক্তি থাকলেই এই কাজে নামা ভালো। আরেকটি কথা, পাসপোর্ট সংশোধন করতে গেলে যথাসম্ভব চেষ্টা করুন, এসএসসি সনদ ছাড়াই করা যায় কিনা। একটু চেষ্টা করলেই সম্ভব। আর পাসপোর্ট সংশোধন হয়ে গেলেই জার্মানিতে আপনার নাম সংশোধনের অন্য সব কাজ হয়ে যাবে। কাজেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন অথবা অন্য কারণে যদি দরকার না হয়, তবে এই শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজে বুঝে শুনে নামাই ভালো। আমি নিজে যেহেতু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশোধন করিয়েছি, তাই ওখানকার ব্যাপারেই উল্লেখ করব।
এসএসসি বা বোর্ডের অন্য সনদ সংশোধন করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই নাম ও বয়স সংশোধন কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে আপনার নাম সংশোধনের কারণ অথবা যুক্তিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। নাম সংশোধন কমিটিতে থাকেন সাধারণত বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, বিদ্যালয় পরিদর্শক, কলেজ পরিদর্শক এবং বোর্ডের বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ অথবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।

শিক্ষা বোর্ডে যা যা দরকার হয়ঃ
(প্রতি নাম সংশোধনের জন্য একটি করে, যেমনঃ এসএসসির জন্য একটি, এইসএসসির জন্য একটি কপি)
 এফিডেভিটের সত্যায়িত কপি
 পত্রিকার বিজ্ঞাপন (মূল কপি দিতে পারলেই ভালো)
 পূর্বনামের এসএসসি / এইসএসসি সনদের কপি
 পাসপোর্ট সাইজের ছবি
 ৮০০ টাকা (যেই ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে, সেই ব্যাংকের সময়সূচী জেনে গেলেই ভালো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক বহদ্দারহাট শাখার একটি বিভাগ আছে, যারা প্রতিদিন অনেক আগে ভাগেই লেনদেন বন্ধ করে দেয়।)
 পূরণকৃত ও আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত নাম সংশোধনের আবেদনপত্র। আর সাথে এসএসসির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এইসএসসির ক্ষেত্রে কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর। (বিদ্যালয়ে এবং কলেজে জমা দেয়ার জন্যও অতিরিক্ত এফিডেভিটের ও পত্রিকার বিজ্ঞাপনের কপি রাখুন)

নাম ও বয়স সংশোধনের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মূলত দায়িত্বশীল। সাধারণত একজন অফিস সহকারী তার অধীনে এগুলো তত্ত্বাবধানে সবসময় নিয়োজিত থাকেন। তার কাছ থেকেই মোটামুটি সব তথ্য পাওয়া যায়। আপনার নাম সংশোধন যদি বানান ভূল জাতীয় কিছু হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিছুটা সহজতর হয়। তা নাহলে কমিটি থেকে ‘না’-উত্তর আসার সম্ভাবনা অনেক বেশী। আপনার নাম পরিবর্তন যদি বড় ধরণের হয়, সেক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বেশী কাজ করতে হতে পারে। আর দেশের আইন অনুযায়ী যেহেতু আপনার নাম সংশোধনের অধিকার আছে, তাই আপনিও আইনের আশ্রয়ের পথ তৈরি করে রাখুন। আপনি যদি জার্মানি থেকে দেশে গিয়ে নাম সংশোধন করতে চান, তাহলে আপনার হাতে সময় অবশ্যই খুবই কম থাকার কথা। আর একবার দেশে বেড়াতে গেলে একবারের বেশী নাম সংশোধনের মিটিং পাওয়ার কথাও না। শিক্ষা বোর্ডে এই মিটিংগুলো সাধারণত দেড় থেকে আড়াই মাস পরপর একবার হয়। আপনি তাই বোর্ডে অফিস সহকারীকে জানিয়ে রাখতে পারেন যে, নাম সংশোধন কমিটি যদি আপনার নাম অনুমোদন না করে, সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে যাবেন। তখন হয়তো ব্যাপারটা সহজ হতেও পারে। কারণ মামলা-মোকদ্দমাকে তাদেরও একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করার কথা। আরেকটি সাবধানতা, অচেনা দালাল ধরে প্রতারিত হবেন না। বাইরের কারও এখানে আদৌ কিছু করার সামর্থ্য আছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

নাম সংশোধনের কমিটিতে একটি নির্ধারিত দিনে সবাইকে ডাকা হয়। আপনার ক্রমিক নাম্বার হিসেবে সেখানে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে। কমিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে আপনার নামের পরিবর্তনের পক্ষে সবগুলো যুক্তি তৈরি করে নিন। আর অবশ্যই আপনার সব প্রামাণিক মূল কাগজপত্র একটি ফাইলে করে নিয়ে যেতে পারেন, যেন কমিটিকে দেখানো সহজ হয়। এই আর্টিকেলের ১, ৪, ও ৫ নম্বর অংশ পড়ে নিলে আশা করি যুক্তি দিতে আপনার কষ্ট হবে না। বিভিন্ন রকম যৌক্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতে পারে। তাই নিজেকে পুরোপুরি তৈরি রাখুন। তবে অবশ্যই ভদ্রতা ও শালীনতার সাথে কমিটিকে উত্তর দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কমিটি আপনার নাম সংশোধন অনুমোদন করেছে কিনা, তা পরের দিনই সাধারণত আপনি জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের নোটিশে অথবা অফিস সহকারীর কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারবেন। যদি ‘না’ হয়, তাহলে পুনর্বিবেচনার জন্য আবার আবেদন করতে পারবেন। আমার ক্ষেত্রে প্রথমবার ‘না’ ছিল এবং দ্বিতীয়বারে সফল হয়েছি। আপনি যদি জার্মানির অধিবাসী হন এবং দ্বিতীয়বার যদি আবেদন করেন, তাহলে এর সুবিধা আর অসুবিধা দুটোই আছে। অসুবিধা হল, পরের মিটিং ধরতে হলে পরের বার আপনাকে জার্মানি থেকে ওই অফিস সহকারীর সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের তারিখ ওভাবে ঠিক করে আসতে হবে। আর সুবিধাটা হল মধ্যবর্তী সময়ে আপনার একবার জার্মানিতে আসার কারণে এখানকার অনেক কাগজপত্রই নতুন নামে হয়ে যাবে। সেগুলো দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় দেখাতে পারবেন এবং তা ভালই কাজে দেয়।
কমিটির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে এবার এসএসসির / এইসএসসির নতুন সনদ, ট্রান্সক্রিপট, রেজিস্ট্রেশান কার্ড, আর প্রবেশ পত্র প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা আবেদন করতে হবে এবং ব্যাংকে আলাদা আলাদা ফি জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রগুলোও এক একটি এক এক অফিসে ক্ষেত্রবিশেষে জমা দিতে হয়।

এবার দীর্ঘ প্রতিক্ষা! রেজিস্ট্রেশান কার্ড যদি চলে আসে, তবে আপনার নাম সংশোধনের যে নোটিশ শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে পাবলিশ হয়েছে অথবা বোর্ড থেকে দেয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর আপনার রেজিস্ট্রেশান কার্ডে নিয়ে নিন। এক কপি আপনার কাছে রেখে আরেক কপি বোর্ডে জমা দিয়ে দিন এবং একই সাথে শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আপনার নাম সংশোধনের আবেদনও করে দিন।
এই অনলাইন সার্ভারে আপনার নাম সংশোধন হলেই, আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য সাধারণত আবেদন করতে পারবেন।

২ঙ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন
এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম এক এক রকম হওয়ার কথা। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে কয়েকবার দেখা করেছিলাম। এসএসসির সনদ সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও লাভ হয় নি। ব্যাচেলর যেখানে করেছেন, সেখানেরও নাম সংশোধন করলে বড় সুবিধাটা হল, এক্ষেত্রে আপনাকে পরবর্তীতে সিভিতে birth name / Geburtsname আর যোগ করতে হবে না। তবে আপনি জার্মানিতে বসবাসরত হলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সনদ সংশোধন বাধ্যতামূলক নয়, কারণ পাসপোর্ট সংশোধনে এটি বাঞ্ছনীয় নয়।

আমাকে প্রথমে রেজিস্টার বরাবর আবেদন করে একাডেমিক শাখা থেকে নাম সংশোধনের নোটিশ জারি করাতে হয়েছিল। নোটিশ জারি হওয়ার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবর আবেদন করে পরীক্ষা শাখা থেকে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন করা যায়। এগুলোর জন্যও ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়েছিল।

২চ। পাসপোর্ট সংশোধন
পাসপোর্ট সংশোধন করতে গেলে তারা স্বভাবতই এসএসসির সনদের সংশোধন দেখতে চাইবে। আর বাংলাদেশের সিস্টেম অনুযায়ী শিক্ষাবোর্ডে যেহেতু ১৮ মাসে বছর হয় (আর দুর্নীতির কথা নাহয় নাই বললাম), তাই ওই প্রতীক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, জন্ম সনদ, এগুলো পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদনের সাথে যুক্ত করে জমা দিয়ে দিতে পারেন।

পাসপোর্ট অফিসের লোকজনেরা কেউ কেউ আপনাকে এই সুযোগে ঘুরাতেও পারে। এই অবস্থায় আপনি দালালের কাছে যেতে বাধ্য হবেন, আর এতে তাদেরও লাভ। তবে শুরুতে সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করাই ভালো, তাহলে পাসপোর্টে সব সঠিকভাবে আসার সম্ভাবনা ভাল থাকে। কিন্তু নিতান্তই নিরুপায় হলে, যা করার তাই আপনাকে হয়তো করতে হবে। খেয়াল রাখবেন আবার, সব দালালকে দিয়ে কিন্তু সব কাজ হয় না।
পাসপোর্টের নাম সংশোধনে পুলিশ তদন্ত হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হলে পাসপোর্ট ও ইস্যু হয়ে যাবে। আর পাসপোর্ট তদন্তকারী পুলিশদের দুর্নীতিও আশা করি সবার জানা আছে। জরুরী পাসপোর্ট হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। আর পাসপোর্ট হয়ে গেলেও আপনার আগের নামের পাসপোর্টও আপনার কাছেই ভ্যালিড অবস্থায় থাকবে। তাছাড়াও আগের পাসপোর্ট দিয়েই আপনার জার্মান ভিসা এবং আর ওই পাসপোর্ট দিয়েই আপনাকে জার্মানিতে ফেরত আসতে হবে।

২ছ। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন
আমার নতুন পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জার্মান রেসিডেন্স কার্ড, health insurance card, EC cards, credit cards, office ID card, university ID card, IELTS certificate কোনও কিছুই বাকি রাখিনি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে এখানে। আগারগাও এর ইসলামিক ফাউনডেশনের সাত তলায় নির্বাচন কমিশনের অফিসে বেশ কয়েকবার নিজে গিয়ে সব প্রমাণ দেখানোর চেষ্টাও করেছি। এসএসসি সনদ ছাড়া কোনও লাভ হয় নি। কাজেই এসএসসি সনদ অনলাইনে সংশোধন হওয়ার পরেই আপনি এখানে আবেদন করতে পারবেন। আপনার নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনী অফিসে গিয়েই আবেদন করতে হবে। সেখানে প্রমাণস্বরূপ নিদেনপক্ষে নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, এসএসসির নতুন সনদের কপি জমা দিতে হবে। আর হ্যাঁ, সুযোগ-সন্ধানী লোক অবশ্যই এখানেও আছে।

তবে জাতীয় পরিচয়পত্র দেশের বাইরে কখনই দরকার হয় না। পরে যদি আপনি বাংলাদেশী নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন, এটার আপনার আর দরকারও নেই। তাই এটার সংশোধনের তেমন প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না।

২জ। ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশোধন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে থাকে আর সংশোধন করাতে চান, তাহলে হয়তো তেমন কঠিন কাজ নয়। আমার নামের এফিডেভিট, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, আর নতুন পাসপোর্ট, এ তিনটি দিয়েই কাজ হয়ে গিয়েছিল। একটা নির্ধারিত ফি আর আবেদন ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযোজিত করে দিন।


৩। জার্মানিতে নাম সংশোধন বা পরিবর্তন

জার্মানিতে নাম সংশোধন করতে গেলে, শুধু আপনার (২চ)পাসপোর্ট সংশোধনই যথেষ্ট। আর তার কারণেই (২ক)নামের এফিডেভিট, (২খ)পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, (২গ)জন্মসনদ সংশোধন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে (২ঘ)এসএসসি সনদ সংশোধন দরকার হতে পারে। নাম সংশোধন হলেও আপনার পূর্বের social insurance number / Sozialversicherungsnummer এবং tax ID / Steuer ID পরিবর্তন হবে না। আর ভাল হয়, যদি নাম পরিবর্তনের জন্য দেশে ভ্রমনের আগে একবার Meldeamt, Auslaenderbehoerde, health insurance, আর আপনার সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানিয়ে নিন। তাহলে পরবর্তীতে সেক্ষেত্রে সন্দেহের উদ্রেকটা কম হবে। আর এখানে শেষ নাম পরিবর্তন খুবই সাধারণ ব্যাপার। কারণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা বিয়ের পরে স্বামীর পারিবারিক নাম নিজের নামে যুক্ত করে নেয়।

৩ক। প্রথমে যেতে হবে Meldeamt বা Buergerbuero তে। সেখানে গিয়ে প্রথমে আপনার নাম সংশোধনের সব প্রমাণ দেখাতে হবে। তারা সবকিছুর ফটোকপি করে রাখবে। এরপর নতুন নামের একটি Meldebescheiningung আপনি পাবেন।

৩খ। এরপর যেতে পারেন Auslaenderbehoerde তে। সেখানে নতুন পাসপোর্ট আর Meldebescheinigung দেখালে, আপনার Aufenthaltstitelkarte নতুন করে দেয়ার জন্য তারাই উদ্যোগ নিবে। এখানে নতুন তেমন কিছুই নেই। স্বাভাবিকভাবে যেভাবে আগে Aufenthaltstitelkarte নিয়েছিলেন, সেভাবেই হবে এবারও।

৩গ। এরপর যাওয়া যেতে পারে Krankenversicherung এ। সেখানে ও নতুন পাসপোর্ট আর Meldebecheinigung দেখালে কাজ হয়ে যাওয়ার কথা।

৩ঘ। এরপর যাওয়া যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে। একইভাবেই পাসপোর্ট দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও আপনার নাম সংশোধন হয়ে যাবে। Students’ office এ গিয়ে সাধারণত যোগাযোগ করতে হয়। তবে নাম সংশোধনের আগে থেকেই আপনার কোর্স কো-ওরডিনেটর প্রফেসরকে জানিয়ে রাখা ভাল। নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই হয়তো আরও একবার জানিয়ে দিতে পারেন। আর অবশ্যই আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড নতুন করে বানিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।

৩ঙ। আপনার কর্মস্থলেও আপনার পাসপোর্ট দেখিয়ে নাম সংশোধন করিয়ে নিতে পারবেন।

৩চ। ব্যাংকে আর ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিতে সংশোধনের জন্য তাদের চাহিদামত কাগজপত্র দেখিয়ে নিন।


৪। নাম সংশোধনের কিছু প্রস্তাবনা 

নাম পরিবর্তন যত সাধাসিধা হবে, আপনার প্রশাসনিক ঝামেলায়ও তত কম জড়াতে হবে। আবার ন্যূনতম পরিবর্তনও দরকার, যেটাতে আপনার নাম সঠিক ফরম্যাটে আসে। এখানে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হচ্ছে। অনেকের হয়তো এখনও অপরিষ্কার থাকতে পারে, নামকে কিভাবে সংশোধন বা পরিবর্তন করা উচিৎ। তাই নীচের উদাহরণগুলো দেখে আপনিও কিছু ধারণা নিয়ে নিন। প্রতি লাইনের প্রথমে বর্তমান নাম এবং পরে প্রস্তাবিত নাম দেয়া হল। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শুরুর প্রস্তাবনা middle name বা zweiter Vorname সহ এবং দ্বিতীয় প্রস্তাবনা middle name ছাড়া দেয়া হয়েছে।

কাজী জাফর উদ্দিন > জাফর উদ্দিন কাজী > জাফর কাজী

শেখ মোহাম্মাদ সাইদ > সাইদ মুহাম্মাদ শেখ > সাইদ শেখ

নাসরিন ভুঁইয়া শিল্পী > শিল্পী নাসরিন ভুঁইয়া > শিল্পী ভুঁইয়া

সৈয়দ রাশিদ বিন কামাল > রাশিদ বিন-কামাল সৈয়দ > রাশিদ সৈয়দ

মুস্তাক চৌধুরী নির্ঝর > নির্ঝর মুস্তাক চৌধুরী > নির্ঝর চৌধুরী

হুমায়ুন আজাদ নীরব > নীরব হুমায়ুন আজাদ > নীরব আজাদ

আবু হেনা মোঃ রফিকুল্লাহ > (দুঃখিত, কোনও প্রস্তাবনা দেয়া সম্ভব না, পারিবারিক কোনও নাম থেকে থাকলে সেটা আপনার নির্বাচিত প্রথম নামের সাথে যুক্ত করে নিন।)

মোঃ আবদুল্লাহ > আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ খান > আবদুল্লাহ খান (যদি আপনার পূর্বপুরুষের কেউ খান হয়ে থাকেন)

মোজাম্মেল হক শান্ত > শান্ত মোজাম্মেল হক > শান্ত হক

মোঃ শামসুদ্দিন > শামস মুহাম্মাদ তালুকদার > শামস তালুকদার (যদি পূর্বপুরুষের কারও নামে তালুকদার থেকে থাকে)

মোসাম্মাৎ সাদিয়া আফরিন শম্পা > শম্পা আফরিন > শম্পা সাদিয়া তরফদার > শম্পা তরফদার (যদি পূর্বপুরুষের কেউ তরফদার হয়ে থাকে)

রায়হানা বিনতে জামাল > রায়হানা বিনতে-জামাল খান > রায়হানা খান (যদি পারিবারিক নাম খান হয়ে থাকে)


৫। শেষ কথা

স্ট্যান্ডার্ড নামের গুরুত্ব আর প্রক্রিয়া এখন মোটামুটি পরিষ্কার। এ কাজটিতে অনেক দীর্ঘসূত্রিতা আছে মনে করে অনেক আরামপ্রিয় জনগনই পিছিয়ে পরবেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তারপরও যারা এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আর জার্মানিতে থাকেন বা আসতে চান, তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

৫ক। আপনি এখনও দেশে থেকে থাকলে কাজ আজই শুরু করে দিন। দেশ ছেড়ে চলে আসার পর কাজটি আরও কঠিন হয়ে পরবে। এসএসসির সনদের কাজ কঠিন মনে হলে, শুধু পাসপোর্ট পর্যন্ত সংশোধন করেই থেমে যেতে পারেন, আপনি যদি চান। আর যদি আরেকটু ইচ্ছাশক্তি থাকে তো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদও (যদি এর জন্য এসএসসির সনদ বাধ্যতামূলক না হয়) সংশোধন করিয়ে নিতে পারেন।

৫খ। আপনি বর্তমানে জার্মানির অধিবাসী হলে, শুধু পাসপোর্ট পর্যন্ত সংশোধনই কিন্তু যথেষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ সংশোধন করতে না পারলেও সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে চাকরী বা যেকোনোও জায়গায় সিভি জমাদানের ক্ষেত্রে, আপনার পূর্বের নামকে উল্লেখ করে দিন। তাহলে, আপনার ব্যাচেলর এক নামে আর মাস্টার্স আরেক নামে হলেও ব্যাপারটা তারা ধরতে পারবে। অবশ্য, আমার জার্মান মাস্টার্স সনদে আমার বর্তমান নাম ও পূর্বনাম দুটোই আলাদা করে উল্লেখ করা ছিল।

৫গ। ইচ্ছাশক্তি আরেকটু বেশী থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদও সংশোধন করিয়ে নিতে পারেন। এসএসসির সনদ বাধ্যতামূলক না হলে তো দারুণ। কিন্তু সেটা প্রয়োজন হলে, আরও মোটিভেশন নিয়ে ওই কাজেও নামতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ হয়ে গেলে আপনাকে সিভিতে পূর্বনাম উল্লেখ না করলেও চলবে। তবে পূর্বনাম উল্লেখ করার সাধারণত মোটেও কোন নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া নেই, তাই মনে সে ব্যাপারেও অভয় রাখতে পারেন। জার্মানিতে বিয়ের পরে অনেকেই তাদের শেষ নাম পরিবর্তন করে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক।


আবেদ

১ম সংস্করণ : জানুয়ারি ২০১৭

২য় সংস্করণ : অক্টোবর ২০২০

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লিখাতে কারও ধর্ম বা বিশ্বাসে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয়। এবং কারও নামকে কটূক্তি করাও উদ্দেশ্য নয়। কাজেই এখানকার কোনও কিছুকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। যেকোনও ধরণের গঠনমুলক সমালোচনা স্বাগতম।