একাডেমিক ক্লাস এর জন্য গত মাস দুয়েক ধরে জার্মানি আর ফ্রান্স সীমান্তের রাইন নদীর তীরে অবস্তিত খেইল শহরে আসা যাওয়া করছি। আগেই জেনেছিলাম আনেক বাংগালী এর বসবার নদীর অপরের ফ্রান্সের শহর স্ট্রাসবুর্গ  এ।  ১০ মিনিটের ট্রেন জার্র্নি এর ব্যাপার মাত্র। যাব যাব করে যাওয়া হচ্ছে না।  কিন্তু গত কাল আমারই এক ফ্রেন্ড (সে ও এজেন্সি এর মাধ্যমে লাঙ্গুয়েজ কোর্স এর + ব্যাচেলর এর কন্ডিশনাল লেটার নিয়ে আমাদের লান্গুয়াগে স্কুলে এসেছিল ) এর মেসেজ এর রিপ্লাইয়ে তার বর্তমান অব্স্তানের শহরের নাম স্ট্রাসবুর্গ দেখে ওখানে যাবার ইচ্ছাটা আরো প্রবল হযে গেল।  তাই আজ দুপরে ক্লাস তাই গিয়েছিলাম সেখানে, তার বর্তমান অবস্তা  জানাতে । প্রায় ৯ মাস আগে ফ্রাইবুর্গ ছেড়ে আসার সময় তার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল।  সে তখন লান্গুয়াগে কোর্স করছিল। যেহেতু আমি তার আগে এসেছিলাম তাই প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় (স্টাডি , কাজ, বাসা ইত্যাদি ) নিয়ে কথা হত তার সাথে। ৯ মাস এর ব্যবধানে দুরত্বটা শহর ছাড়িয়ে দেশ এর পরিনত হয়েছে। তার সাথে সাথে স্বপ্ন গুলুও পরিবর্তন হয়ে গেছে।  স্টাডি তার পাশাপাশি জব করে দেশে রেখে আসা পরিবারকে ও সাপোর্ট দেবার চিন্তাটা আমার মত তার ছিল। কিন্তু বছর এর ব্যবধানে সেই স্বপ্ন যেন এখন দুঃস্বপ্নে পরিনত হতে চলেছে। 


আজ দুপুরে ক্লাস শেষে যখন আমার সেই বন্ধুকে কল দিয়ে জানালাম আমি কিছুক্ষন এর মধ্যে আসছি তার সাথে দেখা করতে।সে যেন স্ট্রাসবুর্গ স্টেশনে থাকে। এর আগে গত কাল সন্ধায় তার সাথে ফেসবুকে তার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম। ট্রেনে উঠে ভাবছি কত সহজই না এখানকার জীবনধারা মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে এক দেশ থেকে আর এক দেশে যেতে পারছি তাও লোকাল ট্রেনে করে , কোন হয়রানি ঝামেলাতো নেই ই এমনিকি কঠোর নিরাপত্তার নাম হয়রানি কর চেকপোস্ট পার ও হতে হয় নি।  অথচ ভিসা ইন্টারভিও দেব তার জন্য নিজের দেশের ভেতরে ইন্টারভিও ডেট নিতে গিয়ে কতনা ফরমালিটিস আর ঝামেলা পোহাতে হল।  যার অন্যতম কারণ ছিল এজেন্সি নামক সুবিধাবাদীরা। কতইনা কাহিনী  করেছিল আমার অফার লেটার নিয়ে।


গত লেখায় কিছু জিনিস মিস হয়ে গিয়েছিল।  এজেন্সি থেকে মাঝখান দিয়ে দাগ কাটা অফার লেটার এম্বেসীতে মেইল করার পর এম্বেসী শুধু এই কপিকে বাতিল পেপারই বলে নি ,এম্বেসী আমাকে কি উওর দিয়েছিল দেখুন

Dear Mr. Based Khan,

Sofar you send only the paper of the language course, but we need also a scan of your admission letter for German university.Please send it to this email address. Then we can give you an appointment date.

Kind regards,

Embassy of the Federal Republic of Germany

আমি কিন্তু আমার লান্গুয়াগে এডমিশন লেটার আর ইউনি এর লেটার দুটুই পাঠিয়েছিলাম।  এই বিষয় নিয়ে আমার প্রথমেই খটকা ছিল, কারন ইউনি এর অফার লেটার এ কোন সবজেট এর নাম লেখা নেই , সেমিস্টার এর নাম নেই, আর এমনকি আমার কন্ডিশনাল এডমিশন এর কথাও নেই।  তারই আবার একই ডকুমেন্ট সহ মেইল করার  পর এম্বেসী উওরে একই কথা বলল  . দেখুন নিচের ইমেলে :

———————————————————————————————————————————-

 Lien Jongkees-Ferf Jentink <@dhak.diplo.de>

Date: Sun, Jan 22, 2012 at 11:24 AM

Subject: Re: [Fwd: Appointment for Student Visa]

To: Based khan <[email protected]>

Dear Sir,

The document you send me is not an acceptance/admission letter of the university.

It is only saying that your qualification would be good for studying in Germany.

You need to contact an university and apply for a study, and when you receive from them the (conditional) acceptance letter and still have (if needed) your languagecourse arranged, then you can contact the embassy for an appointment.

Kind regards,

Embassy of the Federal Republic of Germany.

———————————————————————————————————————————

ইতি মধ্যে এম্বেসী এর সাথে ১০বার ইমেল আদান প্রধান করেছি যার বেশির ভাগই লিখতে হয়েছিল এই উপরের দেয়া প্রথম অফার লেটার এর জন্য। শেষেতো এমন হতে যাচিছল যে  এম্বেসী আর আমাকে ডেটই দিবে না।

কি আর করার ফোন দিলাম আমার কাউন্সিলরকে সে বলল এম্বাসি আমাকে যে ইমেল দিয়েছে তা তাদের আফিসিরে ইমেল এড্রেসে ফরওয়ার্ড করে দিতে। সেই ইমেল এর কপি উওর দেখুন

————————————————————————————————————————————————–

[email protected] via srs.bis3.ap.blackberry.com
1/23/12

to me

Dear

Thanks for your mail. We already forward your which you send with us before with embassy reply. As soon as we get reply from the university we will inform you.Regards

Milton

Sent from my BlackBerry® smartphone

————————————————————————————————————————————————–

পরের দিন আবার গেলাম ভিসা ওয়াল্ড এর অফিস এ ,সাথে এম্বেসি এর সাথে আমার মেইল আদান প্রধান এর প্রিন্ট আউট কপি সহ।  আমাকে বসিয়ে রেখে সেই কপি নিয়ে আমার কাউন্সিলর আবার তার বস এর রুমের দিকে গেল, কিছুক্ষন পর ফ্রেস অফার লেটার এর কপি দিয়ে ওটাকে স্কেন করে অভার এম্বেসিতে ইমেল করতে বলল।  ওদের কাছে গেছিলাম ঝামেলা এড়াতে ,  টাইম বাচাতে।  কিন্তু এর মধ্যে সার্টিফিকেত এটাষ্টেশন নিজে নিজেই করলাম এম্বেসিতে গিয়ে, দাগ কাটা অফার লেটার দিয়ে মেইল করে কিছুতেই ভিসা ইন্টারভিও এর ডেইট না পেয়ে আবার নতুন করে নতুন ফ্রেস অফার লেটার এর স্ক্যান করে আবার মেইল কর।  তাও তাদের অফিস এ একটা কম্পিওটার ও নাই যে এই  মেইলটা করব।এবার আর মিস্টার আলমগীর এর কাছে গেলাম না।  যেহেতু এম্বেসি এর সাথে ১০-১২ বার মেইল আদান প্রদান করা হয়েছে আর তার ও আমার মেইল হিস্ট্রি দেখে এখন একই কথা বার বার লিখছে তাই এবার  নতুন একটা ইমেল এড্রেস খুললাম , উল্লেখ্য  আগেল ইমেল গুলু করেছিলাম আমার নিক নামের মেইল এড্রেস থেকে।  আবার আর আগের মেইল এড্রেস থেকে মেইল না করে নতুন মেইল এড্রেস যেটি আমার আসল নাম দিয়ে খুলেছিলাম সেটা থেকে মেইল করলাম।

এইবার নতুন ফ্রেশ অফার লেটার দেবার পর এম্বেসী থেকে আবার নতুন ইমেইল পেলাম যাতে লেখা ছিল-

————————————————————————————————————————————————–

Dear Mr. Md.Anisul Hoque Khan, I am sorry for you, but at this moment, our schedule for appointments is completely full. The first possible option for your appointment at the Embassy will be on Wednesday 14 March at 9.00 AM. After that, it takes at least 4-5 weeks for the whole process of approving for visa. Perhaps you write to your university/language course and ask if you still can join on a later date. Please send me a mail to confirm if you will come for your application and interview on 14 March. To help to speed up the process a bit, there is one other thing you can do. Please ask the bank with whom you have your Blockaccount to send an email to the embassy with a scan of your Blockaccount. Kind regards, Embassy of the Federal Republic of Germany.


এবার আবার নতুন প্রবলেম মাসখানেকের মধ্যে কোন ডেট খালি নেই। ডেট পেলাম 14 March at 9.00 AM. আর আমার লান্গুয়াগে ক্লাস শুরু ২৬ মার্চ , যেহেতু ভিসা এর ডিসিশন পেতে মাস খানেকে বেশি সময় লাগবে তার মানে আমার ক্লাস শুরু হযে যাবে ততদিনে। কি করব তার জন্য কল দিলাম আমার কাউন্সিলরকে। তার কথা যে করেই হোক ভিসা ইন্টারভিও এর নাও , ক্লাস কভে শুরু হবে তা নিয়ে চিন্তা নল করে। তাই এই দিতেই রাজি হয়ে গেলাম। ভিসা ইন্টারভিও দেবার আগের আরো কিছু ঘটনার কথা বলব আগামী লেখায়।


আমার ট্রেনে মাত্র ১১ মিনিট লাগল স্ট্রাসবুর্গ স্টেশনে পৌছাতে।  কথামত  ট্রেনে থেকে নেমে তকে খুঁজে না পেয়ে অগত্যা রুমিঞ্জ হইয়া মোবাইল এ ৩ গুন বেশি খরচে তাকে ফোন দিয়ে জানলাম সে স্টেশনের মেইন গেইট এর সামনে আছে।আমি যেন মেইন গেটে আসি। গেট দিয়ে বের হতে হতে জানতে পারলাম   জুনের এ সে ফ্রান্স এ এসেছে  , দেখতে ছোট খাট ও অল্প বয়স্ক হওয়ায়    আর সেখানে যাবার আগেই দেশ থেকে নতুন জন্মনিভ্ন্ধ্ন সার্টিফিকেট আনিয়েছে, যাতে নাম আর বয়স দুটুই আলাদা। এখন ফ্রান্স  এ  আন্ডার ১৮ হিসাবে সরকারের আশ্রয়ে রয়েছে। যদি ও সরকার থেকে সব সুবিধা পায় , তারপর  ও নিজের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই , এই শহরের বাইরে যেতে পারে না।  নিদ্রিস্ট সময় পর পর পুলিশ এর কাছে জবাব দিহি করতে হয়।  এখন আবার ফ্রেঞ্জ শিখতে হচ্ছে।  যেহেতু ওদের এখন পাসপোর্ট নাই  তাই দেশে যেতে ও পারবে না।  এমন ও নাকি অনেক আছে যারা ১০-১২ বছর হল দেশে যেতে পারে না। ওর মত এমন অনেকেই আসছে এই আসায় অন্তত্ব থাকা , খাওয়া এর টেনশন নাই আর এর মধ্যে  ফ্রান্স এর সরকার তদন্ত করে যদি দেখে যে আসলেই তার বয়স ১৮ বছর এর কম (যেটা আধুনিক মেডিকেল সাইন্স এর যোগে বের কার খুবই সহজ) তাহলে সরকারী সুবিধায় পড়া  লেখার সূবিধা পারে। এখন ও পাচ্ছে। সারাদিনে তার অনেক সুখ দুখের কথা শুনলাম , চলে আসার সময় স্ট্রাসবুর্গ স্টেশনে আসতে আসতে জানতে পারলাম স্টেশনের পুলিশ ঝামেলা করে তাই তারা স্টেশনের ভেতরে তেমন একটা যায় না। তার পর আমার সাথে ঢুকল সে কিন্তু তার উপর শুধু শুধু ঝামেল চাপাতে চাই নি  তাইই গেটের সামনে থেকেই বিদায় নিলাম। ট্রেন উঠে তার কথা ভাবতে ভাবতে মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল , এ যেন স্বাধীন থেকে ও পরাধীন।  একটা নিদ্রিস্ট গন্ডি এর ভেতরে থাকতে হয়, নিজের ইচ্ছা মত চাইলেও কিছু করা যায় না, এ যেন ছোট খাট একটা উন্মুক্ত জেল।সব থেকের যেন কিছুই নেই।  তার ও জানা নেই করে সে এ জেল থেকে মুক্ত হতে পারেন পারবে বা আদো  পাবে কিনা । আমার এক ইউনি ফেন্ড আজ থেকে প্রায় ৪ বছর এর ও বেশি হল প্যারিসে আছে ঠিক একই অবস্তায় , আজ তার কোন গতি হয় নি। কবে হয়ে কারো জানা নেই। তাদের জন্য শুভকামনা রইল।  

এজেন্সি- স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ১ )

এজেন্সি – স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব 2 ) – ফাঁদে পা দেয়া

এজেন্সি – স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ৩ ) -বিশ্বাস এখানে ও সেখানে

এজেন্সি – স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ৪)- খরচের আসল হিসাব

এজেন্সি – স্বপ্ন ও বাস্তবতা- (পর্ব ৫ )- ইনকাম এর হিসাব

এজেন্সি স্বপ্ন ও বাস্তবতা- পর্ব ৬ (ভুলের সূচনা)

এজেন্সি- স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ৭) -বন্ধুত্বতা

এজেন্সি- স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ৮ )- সম্মান আর ভালবাসা

এজেন্সি- স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব ১০ )- স্বপ্ন ভাঙ্গার প্রহর

এজেন্সি- স্বপ্ন ও বাস্তবতা (পর্ব১১ ) – বাংলাদেশি মেয়ের স্বপ্নভঙ্গ