by Md.Asif Adnan

অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করে লিখা হচ্ছে না। লিখার ক্ষমতা আমার একেবারেই নাই তারপরেও দায়িত্ববোধ থেকে লিখতে বসা। আমি খুবই সাধারণ একটা ছাত্র। BUET এ পরিক্ষা দেয়ার মত GPA আমার ছিল না।
স্টুডেন্টকলেগ এর পর ব্যাচেলর শেষ করে এখন আমি জব করি। এই লিখাটি সে সকল ভাইদের জন্য যারা আমার মত উচ্চ মাধমিকের পর জার্মানি তে আসতে চাই। সবাই দেখি উচ্চ মাধমিকের পর এখানে আসাটাকে অনুতসাহিত করে।আমি এর পুরাপুরি বিপক্ষে।
আমি লিখাটাকে বেশি লম্বা করব না শুধু মাত্র আমার মতামত জানাবো।

১. একটা পৃথিবীর সেরা শিক্ষা ব্যবস্হায় গ্রাজুয়েট করার সুযোগ । ব্যাচেলর এ স্টুডেন্টরা শুধু পড়াশুনাই করে না সাথে এদের culture এবং ভাষাটা ভালো ভাবে শিখতে পারে। যেটা মাস্টার এ একটু কঠিন কারণ সহপাঠিরা হই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান পাকিস্তানি বা আফগানি। যাদের সাথে কথা বলার মাধ্যম ইংরেজি বা হিন্দি। ভার্সিটি তে সপ্তাহে এক ঘন্টার জার্মান কোর্স করে আর যাই হোক একটা বিদেশী ভাষা রপ্ত করা সম্ভব না।

২. চাকরির নিশ্চয়তা : আমার প্রথম এপ্লিকেশন এ ইন্টারভিউ এর দাওয়াত পাই এবং এর ২ সপ্তাহের মধ্যে joining লেটার। আমার সহপাঠীদের মধ্যে একজনের ও ১ মাসের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি জব পেতে যাদের মধ্যে অনেকেই অন্য দেশ থেকে আমার মত স্টুডেন্টকলেগ করতে এসেছিল। । কারো কারো তো কোর্স শেষ হওয়ার আগেই জব হয়েছে ।

৩. খরচপাতি : অনেকেই বলে ব্যাচেলর শেষ করতে অনেক ইউরো লেগে যায় । আমি দেশ থেকে আসার সময় সাথে ছিল শুধুমাত্র ২০০ ইউরো। এরপরে দেশ থেকে একটা টাকা ও আনি নাই।
এখন যেহেতু নতুন নিয়মের কারণে সকলের জার্মান ভাষাটা একটু শিখে আসতে হবে সেক্ষেত্রে পার্ট টাইম জব পেতে কারো সমসসা হবার কথা না। ইচ্ছে থাকলে শুধুমাত্র ছুটির মধ্যেই জব করে সারা বছরের খরচ জোগার করা সম্ভব।

৪. ৭-৮ বছর : অনেকেই লিখে জার্মানি তে ব্যাচেলর শেষ করতে করতে ৭-৮ বছর লেগে যায়। কথাটা ঠিক আবার ঠিক ও না। রেগুলার স্টুডেন্ট দের জন্য আসলে লাগার কথা স্টুডেন্টকলেগ ১ বছর + ৩/৩,৫ ব্যাচেলর = ৪/৪,৫ বছর। ৩ সেমেস্টার বেশি লাগতে পারে। ধরলাম খুব খারাপ করলে ৬,৫ বছর লাগতে পারে। তারপরে ওই স্টুডেন্ট এর একটা জব পেতে সে পরিমান বেগ পেতে হবে না যেটা ২-৩ বছর জব এর অভিজ্ঞতাপূর্ণ শুধুমাত্র মাস্টার শেষ করা একজন  বাংলাদেশী স্টুডেন্ট এর হয।
অনেকে পড়াশুনা শেষ করে জব পাবার পর জার্মান নাগরিকত্ব নিতে চায়। ব্যাচেলর পর কেও জব পেলে ৭ বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। শুধুমাত্র নেগেটিভ দিক গুলো না দেখে সুবিধার দিকগুলো কেও দেখানো উচিত।

লিখতে চাইলে আরো অনেক অনেক কিছু লিখা সম্ভব ব্যাচেলর এর পক্ষে। আমি যদি ব্যাচেলর শেষ করতে পারি অন্যরা কেন পারবে না। যারা আসলেই জার্মানি তে পড়াশুনা করতে আসতে চাই তারা আসুক এবং জীবনে সফল হোক এটাই আমার কামনা। এটাই তো চ্যালেঞ্জ নেয়ার বয়স।

Md.Asif Adnan

January, 2015


ব্যাচেলর স্টাডি – Application steps and reality

Bachelor Study in Germany-বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে ব্যাচেলর করতে আসবেন কিভাবে?