আমার স্পাউস দুইদিন হল ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসা হাতে পেল। আমি এই পোস্টে চেষ্টা করব সম্পুর্ন প্রসিডিউরটা ব্যাখ্যা করতে।

১.কাগজপত্র:
এমব্যাসির ওয়েবসাইটেই দেয়া আছে কি কি পেপার লাগবে। তারপরও আমি উল্লেখ করছি। বিয়ের নিকাহনামা ও মেরেজ রেজিস্ট্রেশন এর ইংরেজি কপি যা আপনি কাজি অফিস থেকেই সংগ্রহ করবেন, আপনি যদি স্টুডেন্ট হন তাহলে স্পাউসের জার্মান ভাষার এ১ সার্টিফিকেট লাগবে, বাসার কন্ট্রাক্ট পেপার (দুইজন যাতে রাটহাউহজে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারেন এমন বাসা। ৩২-৩৫ বর্গমিটারের বাসা হলে ভাল হয়।), জার্মানিতে যদি পার্টটাইম জব করেন তার কন্ট্রাক্ট, ৩ মাসের ইনকাম স্টেটমেন্ট, স্পাউসের জন্য ব্যাঙ্কে আলাদা থাকা খাওয়ার জন্য টাকা যদি আপনার ইনকাম দুইজনের জন্য যথেষ্ট না হয়, আপনার পাসপোর্টের ইনফো পেইজের কপি, স্টুডেন্ট আইডি ও রেসিডেন্স পারমিট কার্ড, এপ্লিকেন্টের জন্মসনদ, বিয়ের ছবি, এম্বাসি থেকে আপনার বাসা, আপনার স্পাউসের বাসা ও কাজি অফিসে কিভাবে যেতে হবে তার স্কেচ ম্যাপ। ম্যাপটা এমনভাবে আঁকবেন যাতে একটা ছোট বাচ্চাকে দিলে সেও যাতে চিনে যেতে পারে।

২. এপ্লিকেশন:
সব পেপার হাতে চলে আসার পর এম্বাসি থেকে ডি টাইপ ভিসার জন্য এপোয়েন্টমেন্ট নিবেন। এপ্লিকেশন ফর্ম দুটো ফিলাপ করতে হবে। সব ডকুমেন্টের অরিজিনাল কপির সাথে দুইসেট ফটোকপি ও দুই কপি বায়োমেট্রিক ছবি লাগবে।

৩. ভিসা ইন্টার্ভিউ:
আমার ওয়েইফকে জার্মান ভাষায় কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। বেশিরভাগ প্রশ্ন করেছে বিয়ের সম্পর্কে, আমার সম্পর্কে (নাম, দেশে কোথা থেকে গ্রেজুয়েশন করেছি, জার্মানিতে কোন শহরে থাকি, কোন ইউনিতে আছি, কোন সাবজেক্টে পড়ছি ইত্যাদি), ট্রাভেল করলে কোন শহরে ল্যান্ড করব। এরপর রশিদ দিয়ে বলবে ভিসা ফি পে করে আসার জন্য। আমার স্পাউস জুলাই এর ১ তারিখ ভিসা ইন্টার্ভিউ দিয়েছিল। তখন ফি ছিল প্রায় ২৭০০০ এর মত।

৪. ভ্যারিফিকেশন:
ভিসা ইন্টার্ভিউ দেয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এম্বাসি থেকে আপনার বাসায়, আপনার স্পাউসের বাসায় ও কাজি অফিসে লোক যাবে সব পেপার ভ্যারিফিকেশনের জন্য। আপনার ও আপনার স্পাউসের বাসায় যখন যাবে তখন ডিরেক্ট আপনাদের বাসায় যে যাবে তা না। আশেপাশের বাসার লোকজনকেও বিয়ের ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে যে এদের চিনেন কিনা, কবে বিয়ে হয়েছে এইসব হাবিজাবি। আর কাজি অফিসে বিয়ের পেপার ভ্যারিফাই করবে।

৫. জার্মান পর্ব:
ভ্যারিফিকেশন হয়ে যাওয়ার মাস দেড়েকের ভিতর যদি আপনার সিটির ইমিগ্রেশন অফিস থেকে কোন মেইল বা চিঠি না পান তাহলে তাদের সাথে দেখা বা মেইল করবেন যে তারা বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টস পেয়েছে কিনা আর আপনাকে এখন কি করতে হবে। আমার ইমিগ্রেশন অফিস আমার কাছে ৬-৭ টা ডকুমেন্ট চেয়েছিল। আমার পাসপোর্টের কপি, রেসিডেন্স পারমিটের কপি, বাসার কন্ট্রাক্ট যেখানে বাসার মাপ উল্লেখ থাকবে, ২০১৮ সালের বিদ্যুৎ ও পানির বিল, কাজের কন্ট্রাক্ট, ৬ মাসের ইনকাম স্টেটমেন্ট, আমার পড়াশোনা কতদূর ও আর কতদিন লাগবে তার ইউনিভার্সিটি থেকে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট ও আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট। এরপরও যদি ওদের কিছু লাগে তাহলে আপনাকে তারা মেইল দিবে। এভাবে ৪-৫ দিন মেইলে যোগাযোগ করার পর তারা আমাকে জানায় যে তাদের ফাইনাল ডিসিশন নেয়া শেষ এবং তারা আজই বাংলাদেশে জানিয়ে দিবে।

৬. ভিসা ডিসিশন:
জার্মানি থেকে জানানোর ৩/৪ দিনের মধ্যেই এম্বাসি থেকে মেইল চলে আসবে। আমার স্পাউসকে পাসপোর্ট আর যেদিন ট্রাভেল করতে চায় ওইদিন থেকে ১৪ দিনের ট্রাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে যেতে বলেছিল। ইন্স্যুরেন্স আমরা ধানমন্ডি তে গ্রিন ডেল্টা থেকে করিয়েছিলাম। ১৪ দিনের জন্য ১৬০০ টাকা আর ২৮ দিনের জন্য ১৯০০ টাকা নিবে ওরা। যদি ভিসা না হয় সাধারণত তারা ইন্স্যুরেন্স নিয়ে যেতে বলে না। তাই যদি মেইল পান ইন্স্যুরেন্সসহ যেতে তাহলে মোটামোটি শিউর থাকবেন যে ভিসা হয়েছে। আমার স্পাউসের ডিসিশন আসতে বরাবর ৩ মাস সময় লেগেছিল।

৭. অন্যান্য:
রিকোয়ারমেন্টস কোন একটা ফুলফিল করতে না পারলে ভিসা রিফিউজ হবে শিউর। আমার মাসিক ইনকাম প্রায় ১০০০ এর উপর। তারপরও আমার স্পাউসের জন্য ৮৬০০ ইউরো দেখাতে হয়েছে। টাকাটা আমাকে ব্লক করতে হয়নি। তবে এটা সম্পুর্ন নির্ভর করে আপনি কোন শহরে থাকেন তার উপর। আমার পরিচিত এক ভাই ডর্টমুন্ডে তার স্পাউসকে নিয়ে এসেছেন। তারও ইনকাম আমার মতই কিন্তু তাকে মাত্র ৫০০০ এর মত দেখাতে হয়েছিল।

আপনি যদি ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের স্টুডেন্ট হন আর জার্মানিতে আসার আগে বিয়ে করে আসেন তাহলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জার্মানিতে চলে আসার পর বাংলাদেশে গিয়ে বিয়ে করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কেন দিতে চায় না তা আমি শিউর না। এটা তাদের ইন্টার্নাল পলিসি হয়ত। ফান্ডেড পিএইচডি বা ফুল টাইম জব থাকলে যখনই বিয়ে করেন না কেন নিয়ে আসতে পারবেন।

মুযযাম্মিল ই হামীম
ইউনিভার্সিটি অফ কিল
কিল, জার্মানি