Tabib Ibne Mazhar

প্রোফাইলঃ
B.Sc in Computer Science.
CGPA: 3.53
IELTS: 7.5
Job Experience: 1.5 year.
Data scientist at Grameenphone.

যেখানে যাচ্ছি।
Name: RWTH aachen
Subject: Data Science

সামারে University of Bonn থেকে অফার পেয়েছিলাম। নানা ঝামেলায় যাওয়া হয় নাই। এছাড়া RWTH থেকে software Engineering এ অফার পাইসিলাম।

RWTH এ আবেদনের টাইমলাইনঃ

ভার্সিটিতে আবেদনঃ ২৬-০২-২০১৯
অফার লেটার প্রাপ্তিঃ ০২-০৪-২০১৯
ভিসার ডেট নিয়ে রেখেছিলামঃ মে মাসের ৫ তারিখ।
ভিসার ইন্টারভিউ ডেটঃ ১৮-০৬-২০১৯
ব্লক একাউন্ট ওপেন এবং কনফার্মেশনঃ ১৩-০৬-২০১৯
পাসপোর্ট এর মেইল দিসেঃ ১৪-০৭-২০১৯
ইন্টারভিউ ড্রেস আপঃ হাফ হাতা ক্যাজুয়াল শার্ট, ক্যাজুয়াল প্যান্ট আর স্যান্ডেল। ফরমাল ড্রেস পরলে দম বন্ধ লাগে।

এম্বাসিতে ৯.৩০ এ ইন্টারভিউ ছিল। আমি ৮.৪৫ এর দিকে চলে গেসিলাম। বাইরে প্রায় ৩০ মিনিট ওয়েট করছি। ভিতরে ঢকার পর আরো ৪০ মিনিট বসে ছিলাম। ভিতরে জার্মান এম্বাসি আর ফ্রেঞ্চ এম্বাসি যে এক সাথে এটা জানতাম না। ভিতরে একদম সদরঘাটের বাস কাউন্টারের মত অবস্থা। ৬ টা কাউন্টারে কাচের ঐদিকে VO বসে আছে। ডাকলে কাচের সামনে যেয়ে দাড়ায়ে থেকে ইন্টারভিউ দিতে হয় সবার সামনে। ৩ টা কাউন্টার ফ্রান্সের, ৩ টা জার্মানির। ৩ টার মাঝে একটা শুধু স্টুডেন্ট ভিসার জন্য। বাকি সব ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য।
১০.২০ এর দিকে সবচেয়ে ডান পাশের কাউন্টারে ডাক দিল। আমি বেশ রিল্যাক্স ছিলাম। বেশি টেনশন করি নাই।
ইন্টারভিউ এর কথোপকথনঃ কথা ইংলিশে হইসে। আমি বাংলায় দিলাম।
আমি: গুড মর্নিং।
Vo: গুড মর্নিং।
Vo: 7000 টাকা দাও।
দিলাম।
সব কাগজ সামনে দিতে বলল।
VO: কোন ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছি?
আমিঃ RWTH aachen.
VO: RWTH দিয়ে কি বুঝায়?
আমিঃ T দিয়ে টেকনিক্যাল বুঝায়। বাকিটুকু মনে নাই। :p
Ssc, Hsc, Bsc এর সাল, কই উঠব, শহর সম্পর্কে,ফান্ডিং কে করতেসে জিজ্ঞেস করল। বললাম।
Vo:এই ভার্সিটি কেন?
বললাম ইউরোপে রিসার্চে এই ভার্সিটি খুব নাম করা।
Vo: ফার্স্ট সেমিস্টারে কি কি কোর্স করতে হবে?
আমি আগেই ওয়েবসাইট দেখে গেসিলাম। বললাম।
Vo: পাশ করার পর কি করব?
কইলাম দেশে এসে আমার আগের চাকরিতে জয়েন করব। Data science এ মাস্টার্স করলে আগের চাকরিতে আমার অনেক ডিমান্ড বাড়বে। (বানায়ে অনেক হাবিজাবি বলা লাগে। শুধু দরকার কনফিডেন্সের সাথে বলা।)
VO: বিয়ে করস দেখি ফর্মে লেখা। তোমার বৌ কই থাকবে তুমি গেলে?
আমিঃ আমার বউ আমার লগে যাচ্ছে একই ইউনিভার্সিটিতে একই সাব্জেক্টে পড়তে। কালকে সকালে ইন্টারভিউ।

(এই সব বিষয়ে মিথ্যা বলা উচিত না। মিথ্যা ধরা পরলে একদম শেষ।)

এই কথা বলার পর অনেকক্ষন দেখি কি সব টাইপ করল অনেকক্ষন৷ আমি ভাবসি, আর ভিসা দিবে না। পরে দেখি কয় তোমার ইন্টারভিউ শেষ। এরপর প্রায় ২৭ দিন পর বহু আকাংখিত মেইল আসল। এম্বাসিতে যেয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসলাম।


১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এমন ভার্সিটিতে এপ্লাই করা যারা আগে আগে ডিসিশান দিবে। একদম লাস্ট মোমেন্টে ডিসিশান পাইলে অনেক ক্যাচাল হয়।
২. অফার পাইলেই ভিসার ডেট নিয়ে নিবেন। দেরি করে নিলে অনেক সময় ডেট পাইতে খুব ঝামেলা হয়। আমি যখন ডেট নিসি তখন অনেক ডেট ছিল। আমার ফ্রেন্ড আমার ১৫ দিন পরে এম্বাসির ওয়েবসাইট ঢুকে আর ডেট পাচ্ছিল না। অনেক দিন অপেক্ষা করে আমার প্রায় ১ মাস পর ইন্টারভিউ দিসে।
৩. ব্লক একাউন্ট আমি অগ্রনি ব্যাংকে করছি। অগ্রনি ব্যাংকে একজন লোক করে। তার আচার ব্যবহার খুব খারাপ। আর একদম হেল্পফুল না। আর পরে দেখলাম সোনালী ব্যাংকের তুলনায় এখানে রেট অনেক বেশি। তাই আমার সাজেশন সোনালী ব্যাংক।
৪. একটা শপিং ব্যাগে সব কাগজ নিয়ে গেলে ভাল। বড় ব্যাগ নিতে দেয় না। মোবাইল মানিব্যাগ রাখার ব্যবস্থা আছে।
৫. ইন্সুরেন্স অবশ্যই গ্রীন ডেল্টাতে করবেন। আমি “ডেল্টা লাইফে” গেসিলাম। তারা বলে কমপক্ষে ৫০০০ টাকার করতে হবে এবং তারা স্টুডেন্ট করতে চায় না। স্টুডেন্ট দেখে তারা খুব বিরক্ত। পরে গ্রীন ডেল্টায় গেলাম।তারা খুব আন্তরিক ভাবে ১৭০০ টাকার করে দিল ২১ দিনের জন্য। ১৪ দিন করলেও চলে প্যারা নাই।
৬. ছবি তুলসি গুলশান-২ ভি আই পি স্টুডিও থেকে। জার্মানির ছবির নিয়ম কানুন নিজে দেখে যে কোন ভাল স্টুডিও থেকে করা যায়। ভি আই পিতে ৫ কপি ২৫০ নেয়। লাগে ৩ কপি এম্বাসিতে। ১/২ ঘন্টায় দিয়ে দেয়।