জার্মানিতে ভিসা এপ্লিকেশনের অন্যতম রিকোয়ারমেন্ট ব্লক একাউন্ট কনফার্মেশন। বাংলাদেশ থেকে যে কয়েকটা ব্যাংকের মাধ্যমে ব্লক একাউন্টের টাকা পাঠানো যায় তার মধ্যে Eastern Bank, Commercial bank of cylon, Sonali Bank উল্লেখযোগ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সকলেই সহজে ও কম খরচে সারতে চায়। মূলত সব ব্যাংকেই সুবিধা দ’টি একসঙ্গে পাওয়া কঠিন। রিলাক্সে টাকা পাঠাতে চাইলে খরচ একটু বেশি, অন্যদিকে খরচ কমাতে চাইলে সামান্য ঝামেলা পোহাতে হবে। এই লেখার উদ্দেশ্য সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ঝামেলা লাঘব হয়।

Block Account এ টাকা পাঠানোর সংশ্লিষ্ট কাজ ৩ টি। যে ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো হবে সেই ব্যাংকে একাউন্ট ওপেন করা, স্টুডেন্ট ফাইল খোলা, এবং ইউরো ট্র্যান্সফার করা।

ব্যাংক একাউন্ট ওপেনের ফি ব্যাংকভেদে ভিন্ন। সাধারণত প্রাইভেট ব্যাংকগুলিতে একটু বেশী হয়ে থাকে এবং একাউন্টে একটা নূন্যতম এমাউন্ট জমা রাখতে হয় যেটা উঠানো যাবেনা। সোনালী ব্যাংকে ১০০০ টাকা, উঠানো যাবেনা; EBL এ ৫০০০ টাকা; Cylon ব্যাংকে ৫০০০ টাকা, যা একাউন্ট ক্লোজ করার সময় উঠানো যাবে; জার্মানিতে অর্জিত ডিগ্রীর সার্টিফিকেট দেখানো সাপেক্ষে।Student File opening ফি এবং জার্মান ব্যাংকে ইউরো ট্র্যান্সফার ফি সব ব্যাংকে প্রায় সমান। মূল পার্থক্যটা হয় ইউরোর রেটে। Euro selling rate EBL= 96.65; Cylon= 97.24; Sonali= 96.80; Janata= 97.10। সব ব্যাংকের একটা স্টান্ডার্ড ব্যাংক রেট থাকে যার থেকে সেলিং রেট ২-৪ টাকা বেশী, বায়িং রেট ২-৪ টাকা কম। অন্যব্যাংকগুলো যেখানে Euro Selling rate এ ব্লক একাউন্টের টাকা হিসেব করে, সোনালী ব্যাংক Standard bank rate 94.79 টাকা ধরে হিসেব করে। তাই সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ইউরো পাঠালে ১৫-১৮ হাজার টাকা কম খরচ হয়।

সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াঃ

সকলের নিজস্ব ইউনিভার্সিটি কিংবা বাসস্থানের নিকটবর্তী সোনালী ব্যাংক শাখায় একাউন্ট খুলতে হবে। ব্লক একাউন্টের টাকা পাঠাতে হয় সোনালী ব্যাংকের ওয়াজ আর্নার্স, দিলকুশা শাখা থেকে। কিন্তু সেখানে একাউন্ট খুলতে দিবে না। একাউন্ট ওপেন করার জন্য, সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট আছে এমন পরিচিত কারো সিগনেচার, একাউন্ট নাম্বার, শাখার নাম প্রয়োজন হবে। এটা ছাড়া কোনভাবেই একাউন্ট ওপেন করা যাবেনা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কিংবা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে, পরিচয় দানকারী হিসেবে ডিপার্টমেন্ট শিক্ষকের সিগনেচার ও একাউন্ট নাম্বার নিলেই হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ২ কপি সত্যায়িত ছবি, নমিনির NID COPY, ২ কপি সত্যায়িত ছবি, বিদ্যুৎ বিলের কপি, Student ID copy লাগবে।

একাউন্ট ওপেন হলে Account number নিয়ে সোনালী ব্যাংকের ওয়েজ আর্নার্স শাখায় Student file ওপেন করুন। ইউরো ট্র্যান্সফার করার জন্য নগদ টাকা নিয়ে স্টুডেন্ট ফাইল যেখানে ওপেন করেছেন সেখানে চলে যাবেন। ২, ৩ টা ফরম ফিলাপ করে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে ইউরো ট্রান্সফারের কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। নগদ টাকা না আনলে ব্লক একাউন্টের সমপরিমাণ টাকা সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা করতে পারেন অথবা অন্যকোন ব্যাংকে টাকা থাকলে RTGS প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার একাউন্টে নিয়ে আসতে পারেন। টাকা পাঠানোর পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিবেন আপনার শাখায় RTGS আছে কিনা এবং ৮.৫ লক্ষ টাকা পাঠানো যাবে কিনা। অথবা, সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখা থেকে নগদ টাকা আপনার একাউন্টে TT করে পাঠানো যাবে। এটি সবচেয়ে সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

একাউন্টে টাকা জমা হলে ইউরো ট্র্যান্সফার করার সময় চেক ক্যাশ-ইন করা লাগবে। একাউন্ট খোলার ২-৩ সপ্তাহ পর চেকবই পাওয়া যায়। ২, ১ দিনের মধ্যে একাউন্ট ওপেন করে থাকলে আপনার শাখা থেকে ইমার্জেন্সি/ ম্যানুয়াল চেক বই ইস্যু করে নিবেন। এর মাধ্যমেও টাকা উত্তোলন এবং চেক ক্যাশইন করতে পারবেন। কিন্তু, ব্যাংক সাধারণত ইমার্জেন্সি চেকবই দিতে চায় না। অনেক ঝক্কি, ঝামেলা পোহাতে হয়। সেক্ষেত্রে ইউরো ট্র্যান্সফার করার ২-৩ সপ্তাহ আগেই ব্যাংক একাউন্ট ওপেন করা ভাল অথবা নগদ টাকা নিয়ে সরাসরি স্টুডেন্ট ফাইল ওপেনিং সেকশনে চলে যাবেন। এটাই সবচেয়ে সহজ, ঝামেলা বিহীন পদ্ধতি।

আপনার ফিন্টিবা একাউন্টে ইউরো ট্র্যান্সফারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফিন্টিবা থেকে কনফার্মেশন ইমেল পেয়ে যাবেন। এবার ভিসা এপ্লিকেশনের জন্য ফাইল প্রস্তুত করুন।