ফিনটিবা হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে সোটর ব্যাংক এর মাধ্যমে ব্লক একাউন্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়, ফিনটিবা এম্বাসি থেকে রিকমান্ডেড তাই এটা নিয়ে দিধা থাকার কোন কারন নেই।ফিনটিবা একটি অনলাইন বেইসড প্রতিষ্ঠান যেটা শুধু আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা দিয়ে থাকে। কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয়? ফিনটিবা তে একাউন্ট করার জন্য তেমন কোন কাগজপত্র দরকার হয় না,অনেকেই বলে অফার লেটার না পাওয়া পর্যন্ত একাউন্ট খোলা যায় কিনা? উত্তর হচ্ছে ফিনটিবাতে একাউন্ট করতে শুধু পাসপোর্টই যথেষ্ট। অনলাইনে ফিনটিবা ডটকম এ যাবেন সেখানে দুইটা অপশন থাকবে ফিনটিবা বেসিক এবং ফিনটিবা প্লাস। আপনি কোনটা বাছাই করবেন? আপনি যদি শুধু ব্লক একাউন্ট করতে চান তাহলে ফিনটিবা বেসিক বাছাই করবেন আর যদি ব্লক একাউন্ট এর পাশাপাশি হেল্থ ইন্সুরেন্স অথবা অন্য কোন সুবিধা নিতে চান তাহলে ফিনটিবা প্লাস বাছাই করবেন। আমার পরামর্শ হলো ফিনটিবা বেসিক দিয়ে শুধু ব্লক একাউন্ট করবেন অন্যকিছু পরেও করা যাবে। ফিনটিবা বেসিক এ যাওয়ার পর ওখানে যা যা তথ্য চাইবে সেগুলা পুরন করবেন,শুরুতে আপনি একটা অপশন পাবেন যে,

1. I am an international student( student visa)

2. I am an international student(student applicant visa)

এখানে আপনি যদি অফার লেটার পেয়ে থাকেন তাহলে প্রথমটি বাছাই করবেন আর অফার লেটার না পেয়ে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে দিতীয়টি বাছাই করবেন। নাম, পাসপোর্ট নাম্বার এবং অন্যান্য তথ্যগুলো পাসপোর্ট এর তথ্য অনুযায়ী হবে। আপনি যেহেতু ব্লক একাউন্ট করবেন সেহেতু ওখানে একটা অপশন পাবেন যে আপনি কত টাকা করে প্রতি মাসে রাখতে চান আপনি ঐটা ৭২০ ইউরো করে ১২ মাসের জন্য রাখতে পারেন। তাহলে আপনার সর্বমোট পরিমাণ আসবে ৮৬৪০ ইউরো। কিন্তু আপনাকে সর্বমোট ৮৮২৯ ইউরো রাখতে হবে ফিনটিবা থেকে ৮৬৪০ ইউরোর কনফার্মেশন পাওয়ার জন্য। আমি একটা আনুমানিক হিসেব করে দিচ্ছি: ৭২০*১২ =৮৬৪০ ইউরো শুরুতেই খরচ হবে ৮৯ ইউরো প্রতিমাসে খরচ হবে ৪.৯ ইউরো।

এখানে ১০০ ইউরো বেশি নিবে কন্তু ওরা আপনাকে প্রথম মাসের পেমেন্ট এর সাথে এটা দিয়ে দিবে। তাহলে আপনার মোট খরচ হবে ৮৮২৯ ইউররো। পরের পেজ এ যাওয়ার পর আপনাকে পাসপোর্ট এর স্কেনকপি আপলোড করতে হবে আর আপনার হাতে পাসপোর্ট নিয়ে একটা ছবি আপলোড করতে হবে যেখানে আপনার ছবি এবং পাসপোর্ট এর ছবি পরিষ্কার বুজা যাবে। সাবমিট করার আগে আপনাকে কিছু বাধ্যতামূলক যায়গা দেওয়া হবে জেগুলা আপনি ডাউনলোড করতে হবে, না করলে আপনার দরখাস্ত সাবমিট হবে না। এগুলো হচ্ছে টার্ম এন্ড কন্ডিশন তাই এগুলোকে পড়ে বুজা উচিত তারপর সাবমিট করে দেন। আপনি সাথে সাথে একটা মেইল পাবেন কিন্তু এটা একাউন্ট কনফার্মেশন না ওরা আপনার কাগজ পত্র দেখে দুই তিন দিন এর মধ্যে কনফার্মেশন দিবে যেখানে আপনি একাউন্ট নাম্বার পাবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ গুলো কি কি হবে?

আপনি যখন কনফার্মেশন পাবেন তারপর আপনি ফিনটিবার একাউন্ট থেকে ডাউনলোড করে নিবেন ওখানে আপনার কন্টাক্ট পেপার,একাউন্ট নাম্বার,একাউন্ট নাম এবং আই বি এ এন নাম্বারও দেয়া থাকবে সবকিছু পাসপোর্ট এর সাথে মিলিয়ে নিবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনি যে কোন ব্যাংক থেকে ফিনটিবাতে টাকা পাঠাতে পারেন | ই বি এল এবং সিটি ব্যাংক এর জন্য জনপ্রিয়। একটা প্রশ্ন অনেকেই করতে দেখলাম রিফান্ড পলেছি কোথায় পাওয়া যায়? আপনি কন্টাক্ট পেপার ভালো করে পড়লেই রিফান্ড পলেছি জানতে পারবেন ( পেইজ নাম্বার ৯,১০) ফিনটিবাতে আমার অভিজ্ঞতা:

শুরুতে আসলেই কিছু জানতাম না,বিসাক এর বড় ভাইদের থেকে অনেক সাহায্য পাইছি, আমি আসলেই সব কিছু বলে দিয়েছি নতুন করে বলার কিছুই নাই,কিন্তু ব্যাংক নিয়ে একটু ভালো ধারনা দিচ্ছি.. আমি আমার একাউন্ট থেকে স্টুডেন্ট ফাইল করেছি তাই আমাকে কোন স্পন্সর দেখাতে হয়নি আর এটা সিটি ব্যাংক থেকে করা যায় ই বি এল এ করতে গেলে আরো বেশি কিছু পেপার চাইবে। সব টাকা নিজের একাউন্ট এ রেখে চলে যান সিটি ব্যাংক এর বনানী শাখায়। ওখানে সবাই অনেক সাহায্য করে। যে কাগজ গুলো লাগবে…..

১/ অফার লেটার।

২/ পাসপোর্ট

৩/ ফিনটিবার একাউন্ট কনফার্মেশন

৪/ ছবি

৫/ ব্যাচেলর এর সার্টিফিকেট এবং মার্কসিট আমি একদিনেই পেমেন্ট কনফার্মেশন পাইছি ইনশাআল্লাহ আপনারাও পাবেন।

পরামর্শ : ১/ফিনটিবা একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ে দিধা থাকার কিছু নেই। ২/ সময় নষ্ট না করতে চাইলে ফিনটিবাতে একাউন্ট করেন। ৩/ কাগজ পত্র কি কি লাগবে তা বলেই দিলাম তারপর ও কিছু লাগলে তা নিয়ে টেনশন করার কিছু নেই, কারন একটা কাগজের জন্য আপনার কাজ বন্দ থাকবে না ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন কারন আমি লিখালিখিতে অভ্যস্ত না।