অনেকদিন পর আবার লিখতে বসলাম, হয়তো এই লেখাটি আমার শেষ দুটি লেখার মধ্যে একটি লেখা । কারণ, প্রথমত সময় এবং দ্বিতীয়ত ‍আমি অভিজ্ঞ ব্যক্তি নই, তাই লিখতে ভালো লাগে না । ভনিতা নয়,  headline দেখে বোঝা যাচ্ছে আজকের লেখার বিষয়বস্তুু কি। আজকের লেখাটি অনেকটা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। হ্যা উচ্চশিক্ষায় কিভাবে গণিত আসতেছে । লেখাটি মূলত প্রথম, দ্বিতীয়বর্ষের ইন্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট, টেকনিক্যাল লাইনের মানুষ এবং যারা জার্নাল বা কনফারেন্স পেপার বের করতে চায় যাদের জন্য লেখা ।

শুরু করি আমার অভিজ্ঞতা থেকে । ভার্সিটির প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষে আমাদের ম্যাথের ৪-৫ টি সাবজেক্ট ছিল । তখন স্যাররা অনেক কিছু পড়িয়েছেন । গধবাধা ক্লাস লেকচার তুলেছি । পরীক্ষা দিয়েছি । সবগেুলো কোর্সেই এ প্লাস পেয়েছি । আজ ভাবি, আসলে এই এ প্লাস পাওয়ার কোন যোগ্যতা আমার নেই । কারণ আসলে, আমি এইসব কোর্সে পড়ানো গণিতের বিষয়গুলো অন্ধের মত না বুঝে মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় বমি করেছি  এবং এ প্লাস পেয়েছি । কিন্তু গণিতকে কখনো আত্মস্থ করতে পারি নি । আর পারে নি বলে গণিতের প্রয়োজনীতা এই বয়সে এসে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি । গণিতের চেয়ে  practical application কি হতে পারে তা অচিন্তনীয় এবং কল্পনার বাহিরে । আমার রিসার্চের প্রতি পদক্ষেপে লাগছে গণিত । গণিত হলো যে কোন বিষয়ের  basement আর  technical  বিষয়গুলা হলো তার প্র্যাকটিক্যাল  application । উচ্চশিক্ষায় বাহিরে আসার ক্ষেত্রে গবেষণাপত্র একটি বিশাল নিয়ামক । আর সে ভালো গবেষণাপত্রের অত্যাবশ্যকীয়  শর্ত হলো গণিত । আপনার একটি গবেষণা, কোন ভালো জার্নালে সাবমিট করলেন কিন্তু তাতে কোন Mathematical Modelling নেই ।  ৯৯% ক্ষেত্রেই জার্নালটি রিজেক্ট হওয়ার সম্ভবনাই বেশি । আর রিভিউয়ারে কমেন্টটি হবে এরকম, তোমার গবেষণাটি  unauthentic, এর কোন mathematical validation নেই ।

যা হোক, গবেষণার প্রতিটি পরদে পরদে লাগে গণিত । প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ডে কোন সিস্টেমকে  optimize করবেন , কোন পয়েন্টে কার্ভ ফিটিং করবেন লাগবে ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন এবং ইন্ট্রিগ্রেশন সম্পর্কে বিস্তর ধারনা । কমিনিকেশন, সিগন্যাল , মুভমেন্ট  এর বিষয়বস্তু  validate করতে যাচ্ছেন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই লাগবে probability এবং এর distribution সম্পর্কে স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার ধারণা । কোন সিস্টেমের behavior, characterize এবং classify  করতে চাচ্ছেন, আপনার পরিষ্কার জ্ঞান থাকতে হবে statistics  এবং এর skewness, kurtosis, rank, correlation এইসব বিষয়ে।   Linear algebra, Complex,  Vector, Matrix and statistical concepts আর কত কি , কোথাও এমন কোন জায়গা যাবে না যে এগুলোর ব্যবহার নেই।  সবচেয়ে  versatile software  যেমন MATLAB ,  COMSOL  ইত্যাদিতে ভালো কাজ করতে হলে আপনার জানা থাকতে হবে কিভাবে গণিতের কোন জিনিসগুলো ভালভাবে কাজে লাগিয়ে unique modeling করতে পারবেন । আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে আমি যত ভালো Researcher দেখেছি, তাদের সবাইকে দেখেছি বিষয়ভিত্তিক ব্যাপারগুলোতে যত না জ্ঞান তার চেয়ে বেশি জ্ঞান Mathematics এ । আমার যদি কোন সুযোগ থাকতো আমি সেই undergrad  এর ম্যাথের কোর্সগুলাতো ভর্তি হয়ে যেতাম, যেগুলাতো আমি শুধুমাত্র মুখস্থ করে এ প্লাস পেয়েছি কিন্ত নিজের মাঝে গণিতের জ্ঞানকে অর্ন্তধান করতে পারি নি । তাই আমার অনুরোধ দুটি।

প্রথমটি সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি, স্যার আপনার ক্লাসে দয়া করে এমনভাবে গণিত পড়াবেন যে তাতে গণিত এবং গণিতের প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন দুটোই থাকে । তাতে শিক্ষার্থীরা যেমন মজা পাবে, তেমনি অনেক উপকৃত হবে ।

দ্বিতীয়ত শিক্ষার্থীদের প্রতি, স্যাররা ক্লাসে যে সব বিষয় নিযে পড়াবেন সেগুলো আমার মত না বুঝে মুখস্থ করিও না। গণিতকে নিজের মাঝে গড়ে তোলো আর যদি না তোলো তুমি অনেক কিছু করতে পারবা কিন্তু একজন ভালো গবেষক হতে পারবা না ।

আজ আর না। আমার সর্বশেষ পর্বে থাকবে উচ্চশিক্ষা, আমার পদার্পণ এবং কিছু কথা।

বি:দ্র: প্রবন্ধটি লেখায় বিলম্ব হওয়ায় এবং তথ্য দিয়ে সাহায্য করায় আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক উজ্বল কুমার দেব স্যারের কাছে একই সাথে দুঃখিত এবং কৃতজ্ঞ।

উচ্চশিক্ষার ইতিকথা-পঞ্চম পর্ব

উচ্চশিক্ষার ইতিকথা –চতুর্থ পর্ব

উচ্চশিক্ষার ইতিকথা-তৃতীয় পর্ব (অষ্ট্রেলিয়া, স্কলারশিপ এবং সুযোগ-সুবিধা)