Visa on Arrival (VOA)

বিদেশীদের এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের আগমন সহজতর করার নিমিত্তে সরকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের Visa on Arrival (VOA) প্রদান করে থাকে। Visa restricted দেশ ব্যতীত অন্যান্য দেশ হতে আগতদের দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং নৌবন্দরসমূহে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষান্তে নিম্নোক্ত শ্রেণীর পাসপোর্টধারীদের শর্ত সাপেক্ষে আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হয়ে Multiple Visa ব্যতীত সর্বোচ্চ ৩০ দিনের প্রবেশ ভিসা প্রদান করে থাকে…

১। যে সকল দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস নেই, সে সকল দেশ হতে আগত নাগরিকের ভ্রমনের উপযুক্ততা যাচাই অন্তে VOA প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে Visa restricted দেশের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হয়।

২। কোন বিদেশী তার নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশ, যেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস নেই, সে দেশ হতে বাংলাদেশে আগমন করলে ভ্রমনের উপযুক্ততা যাচাই করে তাকে VOA প্রদান করা হয়ে থাকে।

৩। যে কোন দেশের বিনিয়োগকারী/ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র এবং বিনিয়োগবোর্ড/বেপজার প্রত্যয়ণ পত্রের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ভিত্তিতে VOA প্রদানকরা হয়ে থাকে। তবে, আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশী ব্যক্তির আগমনের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে পূর্বেই অবহিত করতে হয়।

৪। যে সকল দেশে দূতাবাস/মিশন নেই, তাইওয়ানসহ এরূপ দেশ থেকে আগত বিনিয়োগকারী ও তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের বিমানবন্দরে PI/FPI শ্রেণীতে ৩ মাসের বহুভ্রমনসহ VOA প্রদান করা হয়। উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে আগমনের ৩ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা হতে কার্যানুমতি ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হয়।

৫। সরকারী কাজে, ব্যবসায়, বিনিয়োগ ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়ান ফেডারেশন, জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাইরাইন, মিশর, তুরস্ক, ব্রুনাই, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, এবং ইউরোপের দেশসমূহ হতে আগতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষান্তে VOA প্রদান করা হয়ে থাকে।

৬। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশী নাগরিক, তাদের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব সনদ/প্রমানপত্রের ভিত্তিতে VOA প্রদান করা হয়ে থাকে।

৭। পারস্পরিকতা (Reciprocity) বা চুক্তির ভিত্তিতে রিপাবলিক অব কোরিয়া, মালদ্বীপ, চীন, ভিয়েতনাম, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, তুরস্ক, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও মালয়েশিয়ার ডিপ্লোম্যাটিক এবং অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের এবং চীন ও নেপালের যে কোন পাসপোর্টধারীদের VOA প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ভিসা ফি প্রযোজ্য হয় না। এসব দেশও সমশ্রেণীর বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের (মালেশিয়া ব্যতীত) VOA প্রদান করে থাকে।

৮। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাস, জাতিসংঘ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়োগ/আগমন সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি পরীক্ষান্তে VOA প্রদান করা হয়ে থাকে। ইউএন পাসপোর্টধারীদের ভিসা ফি প্রযোজ্য হবে না।

৯। বিদেশী সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হয়।

VOA গ্রহণের ক্ষেত্রে..

ক) ভিসা ফি ৫০ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রদান করতে হয়।

খ) সরকারী কাজ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে আগত বিদেশীর নিকট ন্যূনতম ৫০০ মার্কিন ডলার/সমপরিমান বৈদেশিক মুদ্রা নগদ/ক্রেডিটকার্ডে থাকতে হয়।

গ) দীর্ঘ মেয়াদে আগমনকারী ব্যতীত অন্যান্য আগমনকারীর নিকট ফিরতি বিমান টিকেট থাকতে হয়।

(ঘ) আগমনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হয়।

ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি…

VOA এ আগত বিদেশীরা মালিবাগ ইমিগ্রেশন অফিসে এবং অন্যরা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে নির্ধারিত এক্সটেনশন ফি (বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন রকম) জমা দিয়ে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে ঝামেলা মনে করলে ওভার-স্টেও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ডিপার্চারের সময় এক্সটেনশন ফিসহ প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে জরিমানা দিয়ে বন্দরে ইমিগ্রেশন চেক সম্পন্ন করতে হবে।

Transit Visa on Arrival

“Next Connecting Flight” পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট যাত্রী বহনকারীএয়ারলাইন্সের অনুরোধে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টার Transit Visa on Arrival দিয়ে থাকে। এ জন্য সার্ভিস চার্জ হিসেবে মাথাপিছু ২০ ডলার জমা দিতে হয়।

***বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীগণ পৃথিবীর অনেক দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন এবং অনেক দেশে VOA পেয়ে থাকেন। এটা নির্ভর করে ঐ দেশের ইমিগ্রেশন ও ভিসা নীতের উপর। কিছু লিংক কমেন্টে দেয়া হল। অন্যরাও এড করতে পারেন।


No Visa Required (NVR) for Travelling to Bangladesh

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত, সার্কভুক্ত দেশসমূহ ব্যতীত, বিশ্বের যে কোন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি ও তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের এবং বাংলাদেশী নাগরিকের বিদেশী স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানদের বাংলাদেশে আগমন ও অবস্থান সহজতর করার জন্য তাঁদের বিদেশী পাসপোর্টে NVR সীল প্রদান করা হয়।

নিম্নলিখিত শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর NVR সীল প্রদান করে থাকেঃ

১। বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্যক্তির ক্ষেত্রে..

  • দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ অথবা বৈধ বাংলাদেশী পাসপোর্ট অথবা বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণের পূর্বেকার বাংলাদেশী পাসপোর্ট অথবা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটিকর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত জন্মসংক্রান্ত কিংবা নাগরিকত্বের প্রত্যয়নপত্র এবং
  • পুলিশ বিশেষ শাখার অনুকূলপ্রতিবেদন

২।  আদিসূত্রে বাংলাদেশী এবং বর্তমানে বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তির বিদেশী স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে…

  • স্বামী/পিতা/মাতার দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ অথবা বৈধ বাংলাদেশী পাসপোর্ট অথবা বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণের পূর্বেকার স্বামী/পিতা/মাতার বাংলাদেশী পাসপোর্ট অথবা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত স্বামী/পিতা/মাতার জন্মসংক্রান্ত/নাগরিকত্বের প্রত্যয়নপত্র
  • স্বামী/পিতা/মাতা কর্তৃক স্ত্রী/সন্তান মর্মে প্রদত্ত হলফনামা/কাবিন/জন্মসনদ ইত্যাদি এবং
  • পুলিশ বিশেষ শাখার অনুকূল প্রতিবেদন

৩। বাংলাদেশী নাগরিকের বিদেশী স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে..

  • স্বামী/পিতা/মাতার বাংলাদেশী পাসপোর্ট অথবা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত জন্মসংক্রান্ত/নাগরিকত্বের সনদপত্র
  • বিবাহের সনদপত্র (স্ত্রীর ক্ষেত্রে)
  • স্বামী/পিতা/মাতা কর্তৃক বিদেশী স্ত্রী/সন্তানদের অনুকূলে প্রদত্ত হলফনামা
  • পুলিশ বিশেষ শাখার অনুকূল প্রতিবেদন

বিশেষ বিধান

  • ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশীদের বিদেশী পাসপোর্টে ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয় না।
  • দূতাবাস থেকে তদন্তের জন্য প্রাপ্ত আবেদনপত্রের উপর ৪৫ দিনের মধ্যে পুলিশ বিশেষ শাখা হতে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোন আপত্তি নেই মর্মে ধরে নেয়া হয়।
  • দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ ব্যতীত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বিদেশী নাগরিকগণ কর্তৃক বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার বিধিসম্মত নয়।
  • পাসপোর্টের মেয়াদ যতদিন থাকবে NVR সুবিধা ততদিন বহাল থাকে এবং পাসপোর্ট বাতিল হলে উক্ত সুবিধাও বাতিল বলে গণ্য হয়। বিদ্যমান NVR সীল নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ৫০ মার্কিন ডলার অথবা সমপরিমাণ অর্থ ফি বাবদ প্রদান করতে হয়।

এছাড়া পড়তে পারেনঃ


অস্বীকারক/Haftungsausschluss/Disclaimer

GermanProbashe.com এ একজন লেখক শুধু তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে থাকেন।
তাই কোন কিছু করার আগে অবশ্যই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সাম্প্রতিকতম তথ্য দেখে, শুনে, বুঝে করুন। ধন্যবাদ।

এখানে প্রকাশিত যেকোন ধরণের বক্তব্য, আর্টিকেল, মন্তব্য ইত্যাদি লেখক বা মন্তব্যকারীর নিজস্ব। GermanProbashe.com এবং Bangladeshi Student and Alumni Association in Germany -এর সাথে সংশ্লিষ্ট কারো সাথে এসব অভিমতের মিল না-ও থাকতে পারে। লেখকের বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে GermanProbashe.com এবং Bangladeshi Student and Alumni Association in Germany আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।


নিচে দেখে নিন উইকিপিডিয়া কী বলে?