জার্মানিতে যারা পড়াশোনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তাদের জন্য ডয়েচে ব্যাঙ্ক এ ব্লক একাউন্ট ওপেন করা একটি অত্যাবশকীয় বিষয়। ইতোপূর্বে প্রায় সকল দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য হলেও আমরা বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা এর বাইরে ছিলাম, কিন্তু কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে ঢাকাস্থ জার্মান এম্বেসী গত ১ অক্টোবর, ২০১৪ সাল থেকে এটা আমাদের জন্যেও বাধ্যতামূলকভাবে চালু করেছে । যাতে করে আমরা জার্মান এম্বেসীতে ‘ভিসার জন্য আবেদনের পূর্বেই’  ডয়েচে ব্যাঙ্ক এ একটা ব্লক একাউন্ট ওপেন করি এবং সর্বমোট ইউরো : ৮০৪০ (ডয়েচে ব্যাঙ্ক এর সার্ভিস চার্জ ইউরো : ৫০ বাদে) এক বছরের একোমোডেশন পারপাস এ ব্লক রাখতে পারি। যাহোক যারা এই বিষয়ে একেবারেই  নতুন তাদের জন্য আমার এই অতি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। এই লেখাটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে, তাই লেখার মধ্যে কোনো রকম ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর অভিজ্ঞদের যেকোনো পরামর্শ সাদরে গ্রহণযোগ্য।

(বি.দ্র.: ফর্মে দেয়া তথ্যগুলো কাল্পনিক তাই কোনো ব্যক্তি বিশেষের সাথে মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতালিয়)

* ব্লক একাউন্ট ওপেনিং এ যে দুটি ধাপ অনুসরণীয়:

১. সঠিক ও নির্ভুলভাবে ব্লক একাউন্ট ওপেনিং ফর্ম  পূরণ:

ডয়েচে ব্যাঙ্ক এর এই লিংক  থেকে প্রাপ্ত আপডেটেড পিডিএফ ফর্মের প্রথম দুই পৃষ্ঠাতে কোনো কাজ করতে হবেনা, তবে যেহেতু পৃষ্ঠা দুইটা গুরুত্বপূর্ণ তাই প্রিন্ট করে নিজের কাছে রেখে দিন। এবার দেখে নিন পৃষ্ঠা দুইটি দেখতে কেমন।

2

আসুন দেখে নিই এবার মূল ফর্মটি কিভাবে মোটামুটি নির্ভুলভাবে পূরণ করা যেতে পারে – মোট ছয়টি পৃষ্ঠার মধ্যে আপনাকে যে পয়েন্টগুলো (লাল কালিতে * চিহ্নিত) পূরণ করতে হবে তা দেখে নিন নিচের পূরণকৃত আপডেটেড ফর্ম থেকে।

01 (05)

 

2

2

2

2

(বি.দ্র.: ফর্মটি যেহেতু এডিটেবল পিডিএফ তাই কম্পিউটার এ ফিলআপ করেন যা ডয়েচে ব্যাঙ্ক ও সুপারিশ করে । হাতে লিখলে আপনাকে পুনরায় ফিলআপ করতে হতে পারে।)

২. এম্বেসী কর্তৃক নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট সময়ে সত্যায়িতকরণ এবং ডয়েচে ব্যাঙ্ক এ পাঠানো :

ফর্মটি পূরণ করা শেষ এবার এক সেট কালার প্রিন্ট করে এম্বাসিতে চলে যান (রবিবার-বুধবার) দুপুর ১:৩০ মিনিট এ সাথে পাসপোর্ট নিয়ে (আপডেট ইনফো দেখুন এই লিঙ্কে )। তারপর আপনার কাছ থেকে পূরণকৃত ফর্মটি এবং পাসপোর্ট জমা নেয়া হবে । কিছুক্ষণ পর মাইক এ আপনার নাম ঘোষণা করা হবে এবং নির্দিষ্ট কাউন্টার এ যেতে অনুরোধ করা হবে।  ঘোষণা অনুযায়ী কাউন্টার এ গিয়ে ‘সিও’ এর সামনে ফর্মের যেখানে যেখানে স্বাক্ষর দরকার সেখানে সেখানে পাসপোর্ট এর অনুরূপ স্বাক্ষর করতে হবে।  স্বাক্ষর শেষ এবার ঘন্টা খানেকের মত অপেক্ষার পালা শুরু, অপেক্ষা শেষে আবার মাইক এ আপনার নাম ডাকা হবে সত্যায়িত ফর্ম এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য। এভাবে সব কিছু শেষ হতে দুই-আড়াই ঘন্টা সময় লাগতে পারে। এবার দেখে নিন সত্যায়িত ফর্মের কভার পৃষ্ঠাটি দেখতে কেমন (আসলে তারা শুধু নতুন অতিরিক্ত একটা পৃষ্ঠা যোগ করে দেই সত্যায়িতকরনে)।

12025768_1185423388139926_923322359_o

সত্যায়িত ফর্মটির এক সেট ফটোকপি করে নিজের কাছে রেখে দিন ভবিষ্যতের জন্য (প্রয়োজন হবে যখন আপনি ব্লক মানি পাঠানোর জন্য লোকাল ব্যাঙ্ক এ স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করবেন)। এরপরে সত্যায়িত করা কাগজগুলো কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিন ব্যাংকের ঠিকানায়। নিচের ইমেজ থেকে দেখে নিন ডয়েচে ব্যাঙ্ক এর কোন ঠিকানায় কুরিয়ার করবেন । দুই-চারজন এক সাথেও কুরিয়ার (কুরিয়ার কোথা থেকে করলে খরচ কেমন পড়বে তা দেখে নিন  এই লিংক এ ) করতে পারেন একই খামের ভেতর (প্রত্যেকের আবার ভিন্ন ভিন্ন খামে) তাতে খরচ বাঁচবে।

12019214_1185423031473295_1899100682_o

বলে রাখা ভাল:

  • আপনি অ্যাডমিশন পাবার আগেই একাউন্ট খুলতে পারবেন তাতে কাজ কিছুটা এগিয়ে থাকবে ।
  • একাউন্ট খুলতে কোনো টাকা লাগে না ।
  • ফর্মের সাথে কোনো ছবি পাঠাতে হবে না ।

ধন্যবাদ