লেখালেখি করার অভ্যাস আমার কোনদিন ছিল না। কিন্তু যেরকম সাহায্য গ্রুপের কাছ থেকে নিলাম তার দায়বদ্ধতা এবং আপনাদের একটু হলেও কাজে লাগতে পারে এটা ভেবেই লিখতে বসা। কোন ভুল হলে ক্ষমা স্বরূপ দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করি আর কমেন্টে সাজেশন্স দিবেন যেন ভুলভ্রান্তি থাকলে ঠিক করতে পারি। ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রাইবুরগ এ মাস্টার্স অফ কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়তে আগ্রহী এমন উদ্দেশেই ভিসা আবেদন করেছিলাম। নিচের আর্টিকেলে সেই অভিজ্ঞতা এবং আমার নিজস্ব কিছু সাজেশন্স তুলে ধরলাম। ফ্রাইবুরগ থেকে এডমিশন লেটার পাই অনেক পরে। এটা ছাড়াও আমি আরও চারটা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাই যার প্রথমটা পেয়েছিলাম জুনের ৫ তারিখ। ওটা দিয়েই তার পরের দিন এমব্যাসিকে ইমেইল করি। তার ১০ দিন পর মানে জুনের ১৬ তারিখ রিপ্লাই ইমেইল পাই। তার ঠিক ১ মাস ২০ দিন পর আগস্টের ৬ তারিখ সকাল ১০ টায় ছিল আমার ভিসা ইন্টারভিও।

ভিসা এপ্লিকেশনের নতুন নিয়ামাবলী

ঘুমের ঘোরে কোনমতে এক চোখ খুলে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল সাতটা ছুঁই ছুঁই। সাথে সাথে মনে পরল আজ সেই কাঙ্ক্ষিত ৬ আগস্ট, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলার একটা। জানালার পর্দাটা একপাশে সরিয়ে বিস্ময়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি প্রচণ্ড বৃষ্টি। হায়রে আজ সকালেই এমন হতে হবে? যাইহোক টুথব্রাশটা হাতে নিয়ে ডকুমেন্ট গুলা আরেকবার চেক করতে বসলাম। হঠাৎ করেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। আরে ইয়ুথ হোস্টেলে বুকিং কনফার্মেশন ইমেইল এ আমার জেন্ডার ফিমেল হল কেমনে? পিসি অন করে আবার জেন্ডার ঠিক করে বুকিং দিলাম। সেটা প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে এখন তার মানে কাজ আরও বেরে গেল। তারাতারি রেডি হয়ে বৃষ্টির কারনে একটু বারতি সতর্কতার সাথে কাগজপত্র গুলো গুছিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। একটা সিএনজি নিলাম। গন্তব্য সোজা গুলশান-২।

এমব্যাসির ছোট গেটের সামনে যখন দাঁড়ালাম তখন দেখি ঘড়ির কাটা প্রায় ৯ টা । আগেই জানতাম ভেতরে ফোন ব্যাবহার করা যাবে না। তাই বাবা মা সহ কাছের মানুষদের ফোন করে দু’আ নিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন গার্ড গেইট খুলে ভেতরে নিয়ে গেল। সেখানে একদফা চেকিং শেষে ভেতরে আর একটা গেইট দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। সেখানে একজন মহিলা সিকিওরিটি গার্ড ছিলেন যিনি আমার পাসপোর্ট চেক করে ৩ টা ছোট ক্লিপ আর ১ টা বড় ক্লিপ দিয়ে ভেতরের রুমে যেতে বললেন আর বললেন ওখানে সিকুয়েনস দেওয়া আছে ওটা দেখে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সবগুলা ডকুমেন্ট সাজিয়ে উনার কাছে দিতে (যদিও আমি দশ মিনিট ধরে ভাল ভাবে সাজিয়েছিলাম এবং বার বার চেক করেছিলাম যাতে ওরা ভুল ধরতে না পারে)।

যতদূর মনে পরে সাজানোর ক্রমটা ছিল এইরকম-

১. পাসপোর্ট (ভেতরে আপনার একটা ছবি)

২. এমব্যাসি এপ্লিকেশন ফর্ম (দুই কপি প্রিন্ট করে দুটাতেই সাইন করুন)

৩. ইউনিভার্সিটি অফার লেটার

৪. জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

৫. বাসস্থান সংক্রান্ত কাগজপত্র

৬. ব্লক একাউন্ট সার্টিফিকেট

৭. হেলথ-ইনস্যুরেন্স পেপার

৮. একাডেমিক কাগজপত্র:

বি এস সি সার্টিফিকেট

বি এস সি মার্কশিট

এইচ এস সি সার্টিফিকেট

এইচ এস সি মার্কশিট

এইচ এস সি রেজিস্ট্রেশন কার্ড

এইচ এস সি এডমিট কার্ড

এস এস সি সার্টিফিকেট

এস এস সি মার্কশিটএস

এস সি রেজিস্ট্রেশন কার্ড

এস এস সি এডমিট কার্ড

৯. জব অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

(নিচের গুলা লিস্ট এ উল্লেখ করা ছিল না। এগুলা অন্যান্য কাগজপত্র ক্যাটাগরিতে দিতে হয়)

১০. আইইএলটিএস সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

১১. নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (যদি দরকার হয়)

১২. বি এস সি মিডিয়াম অফ ইন্সট্রাকশন সার্টিফিকেট (যদি দরকার হয়)

আরও কোন ডকুমেন্ট থাকলে এখানে দিয়ে দিতে হবে।

প্রথমে ২ থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত সব অরিজিনাল কপি ক্রমানুসারে সাজাবেন। তারপর ছোট একটা ক্লিপ দিয়ে আটকাবেন। একই ক্রমানুসারে ২ সেট ফটোকপি আলাদা করে সাজাবেন। প্রতি সেট ফটোকপির উপর পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের ফটোকপি বলতে শুধুমাত্র পরিচিতি পেজটার ফটোকপি লাগবে) দিয়ে আলাদা দুইটা ছোট ক্লিপ দিয়ে আটকাবেন। উপরে অরিজিনাল কপির সেট আর নিচে নিচে ২ সেট ফটোকপি রেখে সবার উপর পাসপোর্ট রেখে সব গুলাকে একসাথে বড় ক্লিপটা দিয়ে আটকাতে হবে। পাসপোর্টের ভেতরে ছবি ঠিক আছে কিনা আবার চেক করুন।

যাইহোক ডকুমেন্ট গুলা সাজিয়ে সেই মহিলা গার্ডকে দিলাম। সে একবার চোখ বুলিয়ে ভেতরে নিয়ে গেল আর আমাকে বলল ওনারা মাইকে আমার নাম যখন খুশি ডাকতে পারে। ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে।

তারপর শুরু হল অপেক্ষার পালা। আমি সহ ওখানে প্রায় বিশ পঁচিশ জন ছিল যদিও বেশির ভাগ ছিল শর্টটাইম টুরিস্ট ভিসা। প্রায় দুই ঘণ্টা বসে থাকার পর মাইকে আমার নাম ডাকল আর বলল ৩ নং কাউন্টারে যেতে। ভেতরে ঢুকে দেখি কাঁচঘেরা একটা কক্ষের ওপাশে পঞ্ছাশঊর্ধ্ব একজন ভদ্রলোক বসে আমার ডকুমেন্টগুলা দেখছেন। উনি আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন। প্রথমবার মনে হয় শুনতে পাননি। তারপর আমি ঝুঁকে গিয়ে মাইক্রোফোন এর কাছে গিয়ে জোরে বললাম। মনে হল উনি শুনতে পেয়েছেন যদিও উনার কথা শুনতে আমার বেশ বেগ পেতে হইছে। এই ব্যাপারে পরে বাইরে এসে কথা বলার পর বুজলাম সমস্যাটা আরও অনেকের হইছে। কেন বাপ একটু জোরে বললে কি হয়? যাই হোক উনি যথেষ্ট নম্রভাবে আমাকে প্রশ্ন করা শুরু করলেন।

১. আপনি কোন সাবজেক্ট এ পড়তে যাচ্ছেন?

২. কোন ইউনিভার্সিটি?

৩. আপনার কোর্স মডিউল সম্পর্কে বলুন।

৪. ফ্রাইবুরগ সম্পর্কে কিছু জানেন?

৫. আপনি কি কোন জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করেছেন?

৬. আপনার ফ্যাকাল্টি তো ইনফরমেটিক। আপনি কি জানেন এটা কি?

৭. আপনি ব্যাচেলর কবে শেষ করেছেন? মানে আপনার ব্যাচেলর কোর্স কবে থেকে কবে পর্যন্ত ছিল?

৮. ব্যাচেলর শেষ করার পর এতদিন কি করেছেন?

৯. মাস্টার্স শেষ করার পর কি করবেন?

১০. রিসার্চ কোথায় করবেন?

১১. দেশে এসে কি করবেন? এখানে কোথায় রিসার্চ করবেন ঠিক করেছেন?

পুরা ইন্টারভিউ টা মাত্র মিনিট পাঁচেক হয়েছিল। এক্ষেত্রে তারা আমাকে বেশি পেঁচায় নাই বলে নিজেকে ভাগ্যমান বলব। তবে আমিও সব দিক দিয়ে রেডি ছিলাম। উইকিপিডিয়া, ভার্সিটির সাইট আর এই গ্রুপের ডকুমেন্টগুলো পরে সব দিক দিয়েই নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলাম।

তারপর উনি আমাকে একটা ব্যাংক স্লিপ দিয়ে বললেন টাকাটা জমা দিয়ে আবার ৩ নং কাউন্টারে আসতে। তখন পর্যন্ত আমার ফিঙ্গার নেওয়া হয় নাই। যদিও অনেকের মুখে শুনেছি এটা নাকি আগেই হয়। অন্যদের জিজ্ঞাস করার পর জানলাম অনেকের নিছে আবার অনেকের নেয় নাই। যাদের নেয় নাই তাদের ব্যাংক রশিদ জমা নেওয়ার সময় নিবে।

এম্বাসি থেকে বের হয়ে হাতের ডান দিকে পাঁচ মিনিট হাটার পর দেখলাম রাস্তার অন্য পাশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ওখানে টাকা জমা দিয়ে আবার এম্বাসিতে গেলাম। ওয়েটিং রুম আবার ওয়েট করতে লাগলাম। এর মধ্যে লাঞ্চ শুরু হয়ে গেল। লাঞ্চ এর ঠিক পরেই আবার মাইকে নাম ডাকল। এবার ৩ নং কাউন্টার এ গিয়ে দেখি অন্য একজন। ওনাকে ব্যাংক রশিদ জমা দিলাম। তিনি আমার দুই হাতের ছাপ নিলেন (প্রথমে ডান হাতের ৪ আঙ্গুল, তারপর বাম হাতের ৪ আঙ্গুল, শেষে দু হাতের বুড়ো আঙ্গুল একসাথে) উনি তারপর একটা রিসিট দিলেন আর রেজাল্টের জন্য এম্বাসির ওয়েবসাইটে খোঁজ রাখতে বললেন।

ডকুমেন্ট সংক্রান্ত কিছু কথাঃ

*ভিসা ফরমঃ ভিসা ফরম ফিলআপ করা এমন অনেক উদাহরন গ্রুপ এ আছে। সেইগুলা ফলো করেন। লাস্ট পেজে সাইন আর তার নিচে ইমেইল আর ফোন নাম্বার দিতে ভুলবেন না। আর ফাইনাল প্রিন্ট দিয়ে পারলে অভিজ্ঞ কাওকে দিয়ে একবার চেক করান।

*আপনার ছবিঃ ছবি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। সোজা গুলশান-২ এর ফটোপার্ক চলে যান। তারা ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই ছবি তুলে আপনাকে ১০ কপি দিয়ে দিবে। শুধু বলবেন জার্মান এম্বাসির জন্য। ওরা এই ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞ। আর যদি অন্য কোথাও করতে চান তাহলে এম্বাসির ওয়েবসাইট এ ছবি সংক্রান্ত যে আর্টিকেলটা আছে সেটা ফলো করেন।

*বাসস্থান সংক্রান্ত কাগজপত্রঃ বাসস্থান সংক্রান্ত কাগজপত্র অবশ্যই দেখাবেন। হতে পারে ইয়ুথ হোস্টেলে বুকিং অথবা ডরম এ অ্যাপ্লাই করার কনফারমেশান এর ইমেইল। যাই হোক কিছু একটা দিতে হবে যাতে করে ওরা বুঝে যে আপনি চেষ্টা করেছেন। আমি ইয়ুথ হোস্টেলে পাঁচ দিনের বুকিং ডকুমেন্ট, ডরম এ অ্যাপ্লাই করার কনফারমেশান এর ইমেইল আর আমার ইউনিভার্সিটির জরুরী আবাসন এর ডকুমেন্ট গুলা দিয়েছিলাম।

*ব্লক একাউন্ট সার্টিফিকেটঃ ব্লক একাউন্ট সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। অনেকে এটা নিয়ে এম্বাসিতে প্রবলেম ফেইস করেন। এমনকি আমি যেদিন ইন্টারভিউ দিলাম সেদিনও এমনটা দেখেছি। আমার মনে হয় এই ব্যাপারে ১০০ ভাগ শিওর থাকবেন। আমি সিটি ব্যাংক এর বনানী শাখা থেকে এটা করিয়েছিলাম। আমার কাছে তাদেরকে ভাল মনে হয়েছে কারন তাদের আন্তরিকতা আর এই ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞতা দেখে। আর বনানী ব্রাঞ্চ এর স্টুডেন্ট কর্নারটা বিশেষত এগুলাই ডিল করে। পুরা প্রসেসটা কন্টাক্ট নাম্বারসহ আমার জানা। কারও যদি এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত লাগে তাহলে আমাকে ইনবক্স করলেই বলে দিব।

*হেলথ-ইনস্যুরেন্স পেপারঃ যত দূর জানি মতিঝিলের ঢাকা ইনসিওরেন্স সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং ভাল। কিন্তু এটা আমার জন্য অনেক দূর হয়ে যাওয়ায় আমি হেলথ-ইনস্যুরেন্স পেপার করিয়েছিলাম মেঘনা লাইফ ইনসিওরেন্স এর মহাখালী ব্রাঞ্চ থেকে। যদিও শেনজেন ভিসায় জার্মানি যাবার জন্য ওখান থেকে ৪৫০০ টাকায় ইনসিওরেন্স করালেই যথেষ্ট কিন্তু আমি একটু বারতি সতর্কতা হিসেবে স্টুডেন্ট দের জন্য ৭২২১ টাকায় যেটা আছে সেটাই করিয়েছিলাম। আমার মতে এই কয়েকটা টাকার জন্য নয় ছয় না দেখাটাই ভাল কিন্তু এটা আমার একান্তই নিজস্ব মতামত।

*জব অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেটঃ আপনি যদি কখনো জব করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জব অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট দিবেন আর যদি দিতে না পারেন তাহলে এর পেছনে গ্রহনযোগ্য একটা কারন ঠিক করে রাখবেন যাতে জিজ্ঞেস করলে মেনেজ করতে পারেন।

ইন্টারভিও প্রশ্ন নিয়ে কিছু কথাঃ

সবগুলা প্রশ্নের উত্তর খুব কনফিডেন্স সহকারে দিবেন। কোন স্টাডি গ্যাপ থাকলে সেটা কেন এবং এই সময়টায় কি করেছেন সেটার গ্রহণযোগ্য কারন দেখান। বিশেষত এইচ এস সি অথবা ব্যাচেলর শেষ করার পর এটা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হতে পারে সেটা IELTS প্রস্তুতি অথবা অন্য যেকোনো কোর্স করে। ব্যাচেলর এবং আসন্ন মাস্টার্সের কোর্স মডিউল সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখবেন। আপনার ইউনিভার্সিটি আর শহর নিয়ে ধারনা রাখবেন। এই ইউনিভার্সিটি কেন পছন্দ করেছেন সেটারও একটা সুন্দর ব্যাখ্যা তৈরি করে রাখবেন। আরও যে প্রশ্নগুলা আসতে পারে সেগুলা গ্রুপে খুঁজে বের করুন। আর ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স করার পর প্ল্যান কি সেটা আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন এটা শিওর। উত্তরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার উত্তরটা যেন হয় আত্মবিশ্বাসী। পড়া শেষ করেই দেশে চলে আসবেন এটাও বলা যাবে না (শুনলাম ওদের কাছে এই উত্তরটা তেমন পছন্দ না) আবার ওই দেশেই সারাজীবন পার করে দিবেন এমন কিছু বললেও বিপদে পরতে পারেন। তাই উত্তরটা হতে হবে উভয় কূল রক্ষা করে গ্রহণযোগ্য একটা। এখনি এটা নিয়ে ভাবতে বসে যান আর ঠিক করে ফেলুন কি বলবেন। আমি যেমন আমার কোর্সের একজন প্রফেসরের নাম উল্লেখ করে বলেছিলাম যে আমি ভাল ফলাফলের মাধ্যমে উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে উনার সাথে Artificial Intelligence এর উপর রিসার্চ করতে চাই। শুনলাম উনি এই বিষয়ে ইউরোপে বেশ স্বনামধন্য। তারপর দেশে এসে আমার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে এখানে স্থানীয় প্রফেসরদের সাথে কাজ করতে চাই। মানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনাকে ওদের বিশ্বাস করাতে হবে যে আপনার জার্মানিতে যাবার উদ্দেশ্যটা সৎ এবং আপনি পুরোপুরি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এক কথায় আপনি ওখানে গিয়ে ওদের বোঝা না বরং এসেট হিসেবে নিজেকে প্রমান করার সব উপাদান আপনার মধ্যে আছে।

এটা ছিল মোটামুটি ভিসা ইন্টারভিউ এর পুরো অভিজ্ঞতা এবং পুরোপুরি আমার নিজস্ব কিছু সাজেশন। এগুলাকে ষ্ট্যাণ্ডার্ড গাইডলাইন ভাবার কোন কারন নাই। যেমনটা বললাম এটা শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট দিনের কিছু অভিজ্ঞতা আপনি যেদিন ইন্টারভিউ দিবেন তার সাথে এটার অনেক কিছুই নাও মিলতে পারে। তাই সবদিক বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে সবাই আমার জন্য দু’আ করবেন। ধন্যবাদ

 

Md. Mahadi Hasan

Email: [email protected]

facebook: https://www.facebook.com/mahadi.dream

Twitter: https://twitter.com/mahadi_hasan21

Date: August 16, 2014. Dhaka, Bangladesh

ভিসা এপ্লিকেশনের নতুন নিয়ামাবলী