আগের পর্বঃ চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ০০ – এপ্লিকেশন প্রিপারেশন (১০টি টিপস)

চাকরির জন্য কাভার লেটার – এসো নিজে করি – ১ (জার্মানি)

জার্মানিতে চাকরির দরখাস্তে একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ হল কাভার লেটার। অনলাইনে চাকরির আবেদন করার সময় এটা লিখতে হয়। অথবা ইমেল পাঠানোর সময় ইমেল এর বিষয়বস্তুও হতে পারে এই কাভার লেটার! মোদ্দাকথা এটা ছাড়া ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে আপনার চাকরির আবেদন সম্পূর্ণ হবে না।

মজার ব্যাপার হল সেদিন নুরেনবার্গ প্রবাসি Mojammal(শিশির ভাই) ভাই এর সাথে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম একজন “মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক”(Human Resource Manager) গড়ে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট সময় নেন কোন একজন আবেদনকারীর “জীবনের ঘটনাক্রম”(CV বা Lebenslauf) পর্যালোচনা করতে এবং নির্ধারণ করেন সেটি আস্তাকুঁড়ে(Trash Can) যাবে নাকি?! তাই একটু সাবধানতা হয়ত আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে!

তাহলে ভাই, কেম্নে কী? হুম, এসো নিজে করি! 

১, কাভার লেটার এ কী থাকবে: এখানে আপনি সংক্ষিপ্তভাবে আপনাকে উপস্থাপন করবেন এবং কখনই এক পৃষ্ঠার বেশি হবে না। যেই চাকরির জন্য আবেদন করছেন তার বিজ্ঞাপনটি দেখুন। সেই অনুযায়ী কাভার লেটারে লিখুন আপনি কিভাবে এই চাকরির জন্য উপযুক্ত!

২, ইংরেজিতে লিখব নাকি জার্মানে?: জার্মান ভাষাতে লেখাই ভাল। যদি একেবারেই না পারেন তবে ইংরেজিতেও লিখতে পারেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের “Career Centre” থাকে। সেখানে আপনি আপনার লেখা কাভার লেটারটি দেখিয়ে নিতে পারেন। যেমনঃ RWTH Aachen এর ক্যারিয়ার সেন্টারটি হলঃ এখানে ক্লিক করে দেখুন।

তাদের উধাহরণঃ এখানে ক্লিক করে দেখুন।

৩, কাভার লেটার এর বিভিন্নভাগে কি কি থাকবে?:

প্রথমেই যেখানে আবেদন করছেন তার “মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক” এর নাম খুঁজে বের করুন। এটা করতে পারলে খুবই ভাল হয়। ফলে তাকে সম্বোধন করে কাভার লেটার শুরু করতে পারবেন।

প্রথম ভাগে থাকবে, আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন আপনার চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি যার পরিপ্রেক্ষিতেই আবেদন করছেন।এই অংশটুকু তেমন প্রভাব ফেলে না কোন কিছুতেই। তবুও I বা Ich লিখে শুরু করা থেকে বিরত থাকুন।

দ্বিতীয় ভাগে আপনি দেখুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তারা কি কি চেয়েছে। এরপর, ৩ থেকে ৪ লাইনের মাঝে আপনি নিজে তার কি কি করেছেন বা জানেন এবং কিভাবে জানেন তা লিখে ফেলুন।

তৃতীয় ভাগে এখানে আপনি যোগ করবেন আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং আপনি কি কি প্রজেক্ট এর সাথে যুক্ত ছিলেন। অবশ্যই অবশ্যই তা চাকরির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এটা ৭ থেকে ৮ লাইন হতে পারে।

চতুর্থ ভাগে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে হাল্কা করে লিখতে পারেন। আপনি তাদের ব্যাপারে কি জানেন। তবে এটাও তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। মনে রাখবেন, চাকরির বাজারে আপনি নিজেই হলেন “পণ্য”! তাই নিজেকে কিভাবে বিকোবেন তাতেই মনযোগ দিন। ক্রেতার প্রশংসা করে তো আর চিড়ে ভিজবে না!

পঞ্চম ভাগে আপনি কখন থেকে শুরু করতে পারবেন চাকরি তা লিখে জানাতে ভুলবেন না এবং মুখোমুখি সাক্ষাৎকার এর আমন্ত্রণের আশা রাখছেন ফাঁকতালে তাও জানিয়ে দেয়া চাই!

সবশেষে, ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করবেন।

লেখাটি সবসময় Active voice এ লিখতে হবে, Passive voice এ না। কাভার লেটার লেখার সময় আপনি এমন কিছু যোগ করতে চেষ্টা করুন যা চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ছিল না, কিন্তু আপনার কাছে মনে হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। এটা বোঝাবে আপনার আগ্রহ কতটুকু!

যা একেবারেই করবেন নাঃ

১, উপন্যাস লিখে ফেলবেন না। ছোট এবং কৌতুহল উদ্দীপক চিঠি হওয়া চাই।
২, “চোথা”(নোট/ওয়েব) থেকে হুবুহু মেরে দেবেন না, দয়া করে! 
৩, মিথ্যা তথ্য প্রদান করবেন না।
৪, Superlative(Best, most, fastest, quickest etc.) এ কথা বলা পরিহার করুন।
৫, সকল ধরণের নেতিবাচক শব্দ বা নিজের নেতিবাচক দিক প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।

পাদটীকাঃ

১, অনেকেই প্রথম ভাগে এই ধরণের লেখাগুলো লিখতে মানা করেন যেমনঃ “Hiermit bewerbe ich mich কিংবা, mit großem Interesse habe ich Ihre Anzeige gelesen und möchte mich hiermit auf die ausgeschriebene Stelle als XYZ bewerben কিংবা, Ihre Stellenanzeige hat sofort mein Interesse geweckt”। কারণ আপনি ইমেল/আবেদনের বিষয়বস্তুতেই তা লিখছেন। তাই আবার একই জিনিস লেখা আবশ্যক নয়।
২, এখানে লেখা প্রতিটা অক্ষর, শব্দ এবং বাক্য আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে লেখা। তাই এটাকে বাইবেল মানা যাবে না কিছুতেই। শুধু আইডিয়া নিতে পারেন। বাকিটার জন্য “গুগল মামা” তো আছেই! 
৩, আশা করি, সবাই নতুন নতুন তথ্য যোগ করবেন এবং লেখাটি সম্পূর্ণ হবে একদিন! 
৪, সকল অনিচ্ছাকৃত বানান ভুল মার্জনা করা হোক!

—————————————-
দুটি উধাহরণঃ
—————————————-
Mag. Julia Müller
Fürstendamm 18
5020 Salzburg
Tel: (++43) 662-874455

XYZ AG
Personalabteilung
Herr Heinz Maier
Hauptstrasse 65
5020 Salzburg

Salzburg, 20 April 2002

Bewerbung auf Ihre Anzeige “Junge Systementwickler gesucht”

Sehr geehrter Herr Maier,

in den Salzburger Nachrichten las ich, dass Sie zum 15. Mai 2002 eine junge Systementwicklerin mit der Aufgabe einstellen wollen, Systeme zur laufenden Anpassung des internen Großrechners an die Bedürfnisse der Marketing-Spezialisten zu entwickeln. Ich bewerbe mich bei Ihnen, weil ich glaube, die dafür notwendigen Voraussetzungen mitzubringen.

Nach dem Abitur studierte ich an der Universität Salzburg Informatik. Ich lernte in den ersten vier Semestern die Grundlagen des Programmierens. Anschließend verbrachte ich zwei äußerst interessante Auslandssemester an der Eidgenössischen Technischen Hochschule in Zürich, wo ich eine Vorliebe für kreative Systementwicklung entwickelte. Nach Salzburg zurückgekehrt, schloss ich mein Informatikstudium mit dem Diplomthema “Die Probleme der Bedarfsabklärung bei Systemanpassungen” ab.

Meine ersten Praxiserfahrungen sammelte ich während eines zweijährigen Praktikums als Programmierer in der Firma ABP AG in Innsbruck. Nach dem Praktikum blieb ich weiterhin in dieser Firma als teilzeitangestellter Programmierer tätig. Zur Zeit gehört es zu meinen Aufgaben, Kundenwünsche im Bereich Textverarbeitung praxisnah zu realisieren.

Ich bewerbe mich, um meine Vorliebe für Systementwicklung beruflich umzusetzen. Deshalb würde ich gerne im Bereich Systementwicklung in einem bedeutenden Unternehmen wie Ihrem selbständig arbeiten.

Über Ihre Einladung zu einem Vorstellungsgespräch würde ich mich freuen.

Mit freundlichen Grüssen

Mag. Julia Müller

Anlagen:
1 tabellarischer Lebenslauf
3 Kopien von Arbeitszeugnissen
1 Kopie des Diplomzeugnisses

—————————————-

Sehr geehrte Frau Strasen,

herzlichen Dank für das gestrige Telefonat. Unser Gespräch hat mich in meinem Wunsch, in ihrem Unternehmen zum Einsatz zu kommen, bestärkt. Besonders angesprochen hat mich die Aussicht auf eine verantwortungsvolle Position und die enge Zusammenarbeit mit internationalen Partnern.

Das Studium der Elektrotechnik habe ich 2001 mit einem Diplom erfolgreich abgeschlossen. Seitdem konnte ich bei meinem jetzigen Arbeitgeber vielfältige Erfahrungen in der Projektierung von MSR-Anlagen und Automatisierung im industriellen Anlagenbau sammeln.

Als Ansprechpartner für Kunden und Lieferanten stehe ich in allen projektrelevanten und elektronischen Fragen zur Verfügung. Ich bin verantwortlich für die selbstständige Abwicklung von Engeneering-Projekten im Bereich Mess-, Steuer- und Regelungstechnik für Industrieanlagen. Ebenso zählt die technische Spezifikation und Projektierung von elektrischen Anlagen mittels CAD-Software zu meinem Aufgabenbereich.

Da sich bei meinem jetzigen Arbeitgeber auch langfristig keine Aufstiegschancen ergeben, orientiere ich mich nun beruflich neu. Meine Vorgesetzten schätzen mich als teamfähigen, kreativen und kommunikativen Mitarbeiter. Umfangreiche Kenntnisse in SPS sowie ein sicheres Englisch in Wort und Schrift runden mein Profil ab.

Über die Einladung zu einem persönlichen Gespräch freue ich mich. Auf Grund meines ungekündigten Anstellungsverhältnisses bitte ich um Diskretion beim Bewerbungsverfahren. Sie erreichen mich am besten in den frühen Abendstunden.

Mit freundlichem Gruß

Andreas Näher


আরো পড়তে পারেনঃ