অনেকেই চাকরির এপ্লিকেশন করছেন। এ ব্যাপারে বেশ কিছু পোস্ট এবং প্রশ্নের সাপেক্ষে আজকের এই মাইক্রো পোস্ট। আপনাদের অভিজ্ঞতা এবং সাজেশনও পোস্ট আকারে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

—————————————————-
যে কোন প্রশ্নে, বি এস এ এ জি : http://www.germanprobashe.com/forum
—————————————————-

১, চাকরির এপ্লিকেশন এবং কাভার লেটার অবশ্যই জার্মানে রাখবেন। ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার সেন্টার ফ্রিতে চেক করে দেয় এসব। এছাড়া আপনার জার্মান বন্ধু/বান্ধবী ও কাজে আসতে পারে। জার্মান সিভি ট্যাবুলার ফরম্যাট ফলো করে। গুগল করে সেই অনুযায়ী সিভি/লেবেন্সলাউফ প্রিপেয়ার করুন।

২, ইন্টার্নশিপ/থিসিস খুঁজছেন? মিনিমাম ৬ মাস আগে থেকে এপ্লিকেশন শুরু করুন। বিভিন্ন চাকরির ফেয়ার এ গিয়ে বোঝার চেস্টা করুন আপনার ফিল্ডের কোম্পানি কারা এবং তারা কী চায়। প্রফেসরদের অনেকসময় দায়িত্ব থাকে স্টুডেন্টদের এক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য। যোগাযোগ করুন এবং পারলে প্রফেসরকে বলুন আপনার সিভি ফরোয়ার্ড করতে। এরকমভাবে অনেকেরই ইন্টার্নশিপ/থিসিস হয়েছে।

৩, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টা এপ্লিকেশন করার চেস্টা করুন। অনেক কোম্পানিতে একাউন্ট খুলে এপ্লাই করতে হয়। তাতে প্রচুর সময় যায়। এছাড়া ইমেল করেও এপ্লাই করার ব্যবস্থা থাকে অনেক জায়গায়। যেখানে যেমন সেখানে তেমন হওয়া চাই। কিন্তু এপ্লিকেশন করা থামানো যাবে না।

৪, এপ্লাই করে মিনিমাম ১/২ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। যদি কোন রিপ্লাই না আসে তবে ফোন করুন কন্ট্যাক্ট পার্সনকে। এতে অনেক সময় কাজ হয়।

৫, শুরুতে রিজেকশন পাবেন প্রচুর। মনে করুন আপনি এপ্লাই করেছেন ১০০ টি। প্রথমেই ৫০ টা রিজেকশন এর জন্য রেডি থাকুন। ভাগ্য খারাপ হলে তা-ই হয়। এরপর টেলিফোন ইন্টার্ভিউর জন্য ডাক পাবেন। তা ভাল হলে ফিজিক্যাল ইন্টার্ভিউ এবং এরপর কনফার্মেশন/রিজেকশন। মনে রাখবেন, আপনার ৫০ টা চাকরির দরকার নাই। একটা হলেই কাজ শেষ!

৬, সব জায়গায় একই ধরনের সিভি পাঠাবেন না। চাকরির রিকোয়ারমেন্টস অনুযায়ী কাভার লেটার এবং সিভি তে পরিবর্ধন/পরিবর্তন আনুন। তবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকুন। যেমন ধরুন: আপনি লিখলেন যে আপনি “Microsoft Project” জানেন/পারেন। ইন্টার্ভিউতে কিন্তু তারা এই ব্যাপারে জানতে চাইবে এবং আপনাকে এক্সপ্লেইনও করতে হবে। তাই সাধু সাবধান।

৭, সিভিতে যা লিখছেন তার ব্যাপারে একটা ভাল প্রিপারেশন নিন। কারন ইন্টার্ভিউতে আপনার সিভিতে লেখা প্রতিটা শব্দের এগেইন্সটে প্রশ্ন আসবে/আসতে পারে। খুব ভাল প্রিপারেশন নিন সিভির উপর এবং এটা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। ট্রাস্ট আস।

৮, stepstone.de, indeed.de, monster.de ইত্যাদি ওয়েবসাইটে চাকরি/ইন্টার্নশিপ/থিসিস এর জন্য বেশ ভাল পোস্ট থাকে, দেখতে পারেন।

৯, সবসময় চেস্টা করবেন আপনার ইন্টার্নশিপ এবং থিসিস এর টপিক যেন কাছাকাছি হয়। তাহলে এটা আপনার চাকরির এপ্লিকেশন এর জন্য বিশাল প্লাস পয়েন্ট হবে। আপনি বলতে পারবেন আপনার এই টপিকে প্রায় ১ বছর এর এক্সপেরিয়েন্স আছে। যদিও আপনি ফ্রেশ গ্র‍্যাজুয়েট!

১০, সবশেষে যা জেনেছেন তা অন্যের সাথে শেয়ার করুন, বন্ধুকে ফোন করে বলুন বা গ্রুপে পোস্ট করুন। যেভাবেই হোক। এতে ভুল জানলে তা ঠিক হবে। বা কথা প্রসংগে আপনি আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ছোট অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। লজ্জা পেলে চলবে না। শেয়ারিং ইজ ক্যায়ারিং।

তবে একটা কথা না বললেই না, যে সাব্জেক্টেই লেখাপড়া করেন না কেন, জার্মান শিখুন। এর কোন বিকল্প নেই। জার্মানিতে ক্যারিয়ার চাইলে এর কোন বিকল্প নেই। ফেসবুকে বসেই জার্মান ভাষা শিখতে চাইলে, গ্রুপ: http://goo.gl/Byzi6j

ভাল থাকবেন। উল্লিখিত সকল তথ্য আমার নিজের মতামত এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। আপনার মতের সাথে নাও মিলতে পারে। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।

পরের পর্ব

চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ২ – এপ্লিকেশন এবং রিপ্লাই

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের বেতন কত বা কোন অঞ্চলে চাকরি বেশি? – চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ৩

ট্যাক্স(Income Tax) হিসাব করা – চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ৪

mm

By Rashidul Hasan

Founder and currently coordinator of the largest community platform of Bangladeshi people in Germany, named ''Bangladeshi Student and Alumni Association in Germany'' (www.facebook.com/groups/BSAAG) and GermanProbashe.

7 thoughts on “চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ০০ – এপ্লিকেশন প্রিপারেশন (১০টি টিপস)”
  1. জার্মান ভাষায় কথা বলার অভ্যাস থাকলে অবশ্যই অনেক সুবিধা পাবেন। ইংরেজি ভাষার ব্যবহার করার অভ্যাস পাশাপাশি থাকতে হবে। নিজের সাথে কথা বলেও অনুশীলন করতে পারেন।

  2. আমি LL.B কমপ্লিট করে জার্মানি তে মাস্টারস করতে চাই।কিন্তু জার্মান ল অনেক কঠিন শুনলাম।আমি এখন কোন সাবজেক্ট এ মাস্টারস করলে ইজি হবে এবং জবের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। সেই সাবজেক্ট এ কিকি জব পাওয়া যেতে পারে।প্লিজ জানাবেন।

Leave a Reply