শিক্ষা জীবন প্রায় শেষ এখন দরকার একটা জীবন বৃত্তান্ত বা সিভি চাকরির আবেদনের জন্য অথবা উচ্চ শিক্ষার আবেদনের জন্য। বুঝতে পারছেন না কিভাবে লিখবেন আপনার সিভি তাই কোন বড় ভাই বা অন্য কারো কাছে খুঁজছেন যদি একটা টেমপ্লেট পাওয়া যায়, আর সেই টেম্পলেটে কপি পেস্ট করে বানিয়ে ফেলবেন নিজের একটা সিভি। এমনকি অনেকে কপি পেস্টও ঠিকমত করতে চান না, অর্ধেক থাকে আপনার আর অর্ধেক থাকে অন্যের তথ্য। দেশের নাম করা বিদ্যাপীঠ থেকে ভাল সিজিপিএ নিয়ে বের হয়েছেন কেন করবেন এত কষ্ট! চাকরি কিংবা এডমিশন সে তো এমনিতেই হবার কথা! আসলেই কি তাই?

আমরা অনেকেই এরকম ভেবে থাকি, সব কিছু সর্বচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করলেও নিজেকে উপস্থাপনের সময় কেন জানি ভাবি সিভিটা অপশনাল একটা হলেই হয়। কিন্তু বাস্তবতা আসলেই তা নয়। আপনি হাইলি কোয়ালিফাইড কিন্তু যে প্রোগ্রামের জন্য বা যে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন তা সম্বন্ধে খুব ভাল করে পড়ে দেখেননি। কপি পেস্ট করে আবেদন করে দিয়েছেন, একের পর এক আবেদন করতেছেন কিন্তু কোথাও কোন সুখবর নেই। হয়তো এক সময় ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে যাবেন কিন্তু বাস্তবতা হল সবাই আপনার সিভি দেখা মাত্র স্প্যামিং ভেবে ট্রাশে সেন্ড করবে।

সিলেকশন কমিটি অথবা হিউম্যান রিসোর্স যেই আপনার সিভি দেখুক না কেন তাদের প্রত্যেকেরই নিজেদের এক্সপেকটেশন থাকে তারা কেমন প্রার্থী চায়। সে অনুযায়ী তারা যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। একটা উদাহরণ দেই ওয়েব ডেভেলপার পোস্টের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু সিভিতে দিয়ে রেখেছেন নেটওয়ার্কিং স্পেশালাইজড বা ডেভেলপারের যে টলস চাইসে তা না দেখে দিয়েছেন অন্য কিছু তাহলে আপনি যতই মেধাবী হন না কেন ইন্টারভিউ এর জন্যও হয়তো ডাকবে না। ঠিক একি ঘটনা এডমিশনের জন্যও প্রযোজ্য প্রফেসর দেখছে আপনি ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্ট্যামে ইন্টারেস্টেড কিন্তু আবেদন করেছেন ইনফরমেশন সিস্টেমে তাহলে যত ভাল রেজাল্ট থাক না কেন আপনি চান্স পাবেন না।

এমন আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে কেন আপনার জীবন বৃত্তান্ত আপনার এপ্লিকেশন প্যাকেজে অন্যতম গুরুতবপূর্ন ডকুমেন্ট। যেখানেই আবেদন করুন না কেন তাদের নোটিশ ভাল করে পড়ে দেখুন তারা আসলে কি আশা করে, নিজেকে তাদের অবস্থানে রেখে চিন্তা করুন আপনি কি আশা করতেন? কোম্পানি হলে আপনার পোস্ট, প্রোডাক্ট, কাজের ক্ষেত্র এবং কোম্পানি কিসের উপর কাজ করে তার ছোট একটা রিসার্স করে ফেলুন। আর যদি একাডেমিক আবেদন হয়ে থাকে তবে তাদের প্রোগ্রাম সম্বন্ধে ভাল করে জানুন, ইউনি, রিসার্স ফ্যাসিলিটি, প্রোগ্রাম আউটকাম, ফিউচার ক্যারিয়ার সব কিছু দেখে এবার সে অনুযায়ী নিজেকে একজন পারফেক্ট ক্যান্ডিডেট হিসেবে উপস্থাপন করুন। একটা সিভি কখনই সব খানে ব্যবহার করা উচিত নয়, প্রতিটা আবেদনের জন্য আলাদা আলাদা সিভি ব্যবহার করুন। কারণ তারা কেউই আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনে না, আপনার সিভি দেখে আপনাকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে আর তাছাড়া প্রিতিটা ক্ষেত্রের পারস্পেক্টিভও নিশ্চয় আলাদা থাকে।

আপনি যদি সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে সবাই আপনাকে আপনার মেধাকে সম্মান করবে কিন্তু যদি তা না পারেন তা হলে আপনি যতই মেধাবী হন না কেন তা আপনার কোন কাজে আসবে না। (পরবর্তী পোস্টঃ- কিভাবে লিখবেন একাডেমিক সিভি)

‪#‎CV‬

এছাড়া পড়তে পারেনঃ

  1. চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ১ – এপ্লিকেশন প্রিপারেশন (১০টি টিপস)
  2. চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ২ – এপ্লিকেশন এবং রিপ্লাই
  3. জার্মান সিভি/লেবেন্সলাউফ/CV/Lebenslauf (২০ টি উদাহরণ)
  4. চাকরির জন্য সিভি/লেবেন্সলাউফ – এসো নিজে করি – ২ (জার্মানি)
  5. ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের বেতন কত বা কোন অঞ্চলে চাকরি বেশি? – চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ৩
  6. ট্যাক্স(Income Tax) হিসাব করা – চাকরি এবং জার্মানি – পর্ব – ৪
  7. জার্মান প্রবাসে কীভাবে চাকরি খুঁজতে হবে? (হাসিব মাহমুদ)
  8. প্রবাসের জীবন ও বাস্তবতা: পর্ব ২