আমি স্পাউস ভিসার প্রসেসিং করার সাহস পেয়েছিলাম জুয়েল ভাইয়ের আর্টিকেল থেকে |

জুয়েল ভাইয়ের মতন আমিও লাফাইতে লাফাইতে গেলাম লোকাল ভিসা অফিসে। প্রথম কথাই ছিল: তুমি স্টুডেন্ট; স্পাউস আনতে পারবানা। কিন্তু আমার তো তখন এক্সট্রা সাহস আছে। কইলাম, আমি তো অনেক আগেই শুভ কাজ সেরে ফেলছি, এখন কি করা যাইতে পারে? বিয়ের তারিখ দেখে সে কইল, ঠিকআছে চেষ্টা করে দেখ।

উল্লেখিত লিংক এবং জুয়েল ভাইকে এক্সট্রা প্যারা দিয়া শুরু করলাম ধীরে ধীরে।

প্রথমেই দরকার ছিল এ১ সার্টিফিকেট। এ১ মোটামুটি সোজাই আছে। Goethe Institute এর লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়াশুনা করলেই পারা যায়। ওখানের স্টুডেন্টরাও বেশ হেল্পফুল হয়। যাই হোক, আমি পুরা প্রসেসিং স্টার্ট করছিলাম এ১ সার্টিফিকেট পাওয়ারা পর।

যা যা লাগে:
অ্যাপ্লিক্যান্ট:

  1. পাসপোর্ট
  2. বার্থ সার্টিফিকেট
  3. ম্যারেজ সার্টিফিকেট (বাংলা, ইংলিশ)
  4. নিকাহ নামা (বাংলা, ইংলিশ)
  5. ল্যাংগুয়েজ কোর্স সার্টিফিকেট
  • (সবগুলার মেইনকপি+ ফটোকপি)

অ্যাপ্লিক্যান্ট এর স্পাউস (যে জার্মানিতে থাকে):

  1. পাসপোর্ট
  2. ভিসা
  3. সিটি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
  4. হেলথ ইন্সুরেন্স
  5. বার্থ সার্টিফিকেট
  6. হাউজ কন্ট্রাক্ট ডকুমেন্ট
  7. লাস্ট তিন মাসের স্যালারি স্টেটমেন্ট

বোনাস হিসাবে আরও কিছু ডকুমেন্ট লাগে:
* দুইজনের বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার হাতে আঁকা মানচিত্র।

* বিয়ের ছবি। আমার বিয়ের কোন অনুষ্ঠান করি নাই। একটূ চিন্তায় ছিলাম। অ্যাপ্লাই করার আগে দেশে উড়াল দিছিলাম। গিয়া উভয় পার্টির সব গুষ্ঠি দাওয়াত দিয়া বেশ ছবি-টবি তুললাম। ওগুলাই জমা দিছিলাম। সমস্যা হয় নাই।

পেপারস সাবমিশন:

ইন্টারভিউ ডেট: ১২ই মে, ২০১৬, সকাল- ৯:৩০

সকল কাগজ-পত্র নিয়া স্পাউস অ্যাম্বাসির ভিতরে গেলেন। আমি বাইরে দাড়ায় দাড়ায় আল্লাহ করতে থাকলাম। হাজব্যান্ডের কাছ থেকে যতটুকু উদ্ধার করতে পারছিলাম, তা থেকে বুঝলাম যে বেশি কিছু প্রশ্ন করে নাই। বিয়ের তারিখ টা তিনবার জিজ্ঞাসা করছিল। বিয়ের ছবি নাই কেন সে কথাও জিজ্ঞাসা করছিল। যখন বলছে যে অনুষ্ঠান করে নাই, তখন আর কোন ঝামেলা করে নাই। আমি পাকনামি কইরা গুগল কাকার কাছ থেকে ম্যাপ নিয়া আকাইছিলাম। ভিসা অফিসার বলছে হাতে আকাইয়া দিতে। তারা নিজের থেকেই কাগজ দিয়া দিছিল। পরে টাকা জমা দেয়ার সময় দুইজনে মিলে ম্যাপ আকাইয়া আবার সেগুলা জমা দেয়া হইছে।
আমার ফাইন্যানশিয়াল স্টেটমেন্ট ছিল দুইটা। তিনমাসের স্যালারি স্টেটমেন্ট আর ব্যাংকের স্টেটমেন্ট। আমার হাজব্যান্ড ভুল করে শুধু স্যালারি স্টেটমেন্ট গুলা জমা দিছিল। ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর দেয় নাই। পরে ভিসা ফি এর রিসিপ্ট এর সাথে যখন জমা দিতে চাইছে তখন আর নেয় নাই। ইহা থেকে আমি যেই হাইপোথিসিসি ডেভেলপ করছি তা হইল: সম্ভবত টাকার পরিমান বাংলাদেশের জার্মান অ্যাম্বাসি কেয়ার করে না। সেই খেলা শুরু করে এখানকার লোকাল অফিস।

বাংলাদেশ ভেরিফিকেশন:

যাই হোক, অ্যাপ্লাই করার দ্বিতীয় সপ্তাতেই আমাদের বর্তমান ঠিকানায় যাচাই-বাছাই শুরু হয়ে গেল। তার পর পরই আমার স্থায়ী ঠিকানায় যাচাই-বাছাই হইল (আমার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকায়;  তাই মনে হয় গেসে। হাজব্যান্ডেরটা ভেরিফাই করে নাই।) যখন আমাদের বর্তমান ঠিকানায় আসছিল তখন আমার হাজব্যান্ডের থেকেই কাজি অফিসের ঠিকানা নিয়ে নিসিল। কাজির সাহেব ভাল মানুষ; তার কাছে ভেরিফিকেশনে যাওয়ার পর সে আমাদেরকে জানাইছিল। এইসব হয়ে যাওয়ার পর দেখি এখান থেকে কোন সাড়াশব্দ নাই। অ্যাম্বাসিকে ই-মেইল করলাম, ৬ই জুন। ৭ই জুন রিপ্লাই দিল যে, জার্মান অথরিটি থেকে ডিসিশ্যান না আসলে কিছু বলতে পারবে না। বুঝলাম যে, বাংলাদেশে কাজ শেষ। পেপারস ফরওয়ার্ড হয়ে গেসে। এখন এখানে গুতাইতে হবে। মোটামুটি একমাসের মধ্যে বাংলাদেশের ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেসিল।

জার্মান ভেরিফিকেশন:

এখানকার লোকাল অফিস থেকে চিঠি পাইলাম কাগজ-পত্র নিয়ে দেখা করার জন্য। বাসার অরিজিনাল কন্ট্র্যাক্ট পেপার, জব কন্ট্র্যাক্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট সব দিয়ে আসলাম। এরপর সময় যায় কোন আপডেট নাই। পরে নিজের থেকেই গেলাম লোকাল অফিসে। আপডেট চাইলাম। ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে ফোন দিল করেস্পনডিং ভিসা অফিসারের কাছে। সে বলল, উপরে আসেন, কথা আছে। যাওয়ার পর কইল ম্যারেজ সার্টিফিকেট জার্মান ভাষায় ভাষান্তর করেন। সার্টিফাইড হইতে হবে, নাইলে হবে না। যত তাড়াতাড়ি এই কাগজ জমা দিবেন তত তাড়াতাড়ি প্রসেসিং হবে। আমার তখনতার অবস্থা আর ভাষায় প্রকাশ না করি। গুগল কাকার শরনাপন্ন হইলাম। ফোন দিলাম, একেকজন বলে ৭-১০ ওয়ার্কিং ডে লাগবে। শুইনা তো ……. । যাই হোক, ফেইসবুক গ্রুপ ঘাটাইলাম, এক মহিলার সন্ধান পাইলাম, সে নাকি তাড়াতাড়ি কাজ করে দেয় এবং সার্টিফাইড। দিলাম ফোন। কয় আসতে পারবা? আমি কইলাম আবার জিগায়। কয় কাগজ পত্র লইয়া আস। তখন গিয়া মনে পড়ল, বিয়ার কাগজ-ই তো নাই। ভাগ্য ভাল তখনও লোকাল ভিসা অফিসেই ছিলাম। আবার গেলাম ভিসা অফিসারের কাছে। গিয়া কইলাম, ভাষান্তর তো করব, কিন্তু আসল জিনিসই তো নাই। তারপরে সে আবার আমারে ফটোকপি কইরা দিল। তখন গিয়া আরও একটা জিনিস পরিষ্কার হইল। নিকাহনামা এবং বিয়ের সার্টিফিকেট দুইটাই ভাষান্তর করাইতে হবে। তো গেলাম ভাষান্তরিকের কাছে। সে ১২৭ ইউরো নিসিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় উপকার করছিল, আমাকে এক্সাক্টলি দুই দিন পর-ই কাগজ দিসিল। তো, দিলাম এগুলা আবার জমা। দিয়া আইসা বললাম, আমি আবার সামনের সপ্তাহে আসব খোজ নিতে।

যেই কথা সেই কাজ। গেলাম আবার পরের সপ্তাহে। তখন বলে, আরও কিছু কাগজ লাগবে।

  1. ডিক্ল্যারেশন পেপার এই মর্মে যে, সে আমার হাজব্যান্ড এবং সে আমার সাথে থাকবে।
  2. ইউনিভার্সিটি থেকে লেটার এই মর্মে যে, আমার আরও কত সেমিষ্টার লাগবে। আমি কো-অর্ডিনেটরের কাছ থেকে চার সেমিষ্টার এর কাগজ আনসিলাম। তারে কইছিলাম যে ইন্টার্নশিপ করব, আরও একস্ট্রা কোর্স করব। সেমিস্টার লাগবে। এক্সট্রা কোর্সের ব্যপারে রাজি হয় নাই। বাট ইন্টার্নশিপের কথা শুনে নিজেই হিসাব করে বলসে যে, চার সেমিস্টার দিতে পারব, হবে কিনা? আমি কইলাম, দৌড়াবে, দিয়ে দেন।

এই দুই কাগজ নিয়া আবার দৌড় লাগাইলাম। আবারও পাকনামি কইরা, ডিক্ল্যারেশন পেপার ইংলিশে নিয়া গেসিলাম। আমার ভিসা অফিসার খুউউউব ভাল ছিল। বলল যে, জার্মান ভাষায় লাগবে। আর এটাও বলল যে ই-মেইল করলেই হবে। গুগল কাকারে দিয়া ভাষান্তর কইরা দিলাম (সময়- ৮:১৬)।  পাকনামির তো শেষ নাই। সাইন না কইরাই দিয়া দিছি। ফিরতি ই-মেইলে কইল, দয়া কইরা সাইন করতে (সময়- ৮:৪২)। সাইন কইরা আবার পাঠাইলাম (সময়- ৮:৪৮)। ১৪ই জুলাই ২০১৬, সকাল ৯:১৫ তে নিম্নোক্ত রিপ্লাই পাইলাম:

“danke alles Gut, ich habe dem Visum zugestimmt “

মনে হইল যেন আসমানে উড়তেসি 😀 😀

দিলাম জুয়েল ভাইরে নক। কইল চুপচাপ বইসা থাকেন। এক সপ্তাহ লাগবে বড়জোর। পরের সপ্তাহ, অ্যাম্বাসি নক করে না। আমি-ই ই-মেইল করলাম। ২০ তারিখ জানাইল যে ডিসিশ্যান নেয়া হইলে নোটিফাই করবে। ২১ তারিখ ফোন দিয়া বলসিল নেক্সট ওয়ার্কিং ডে-তে পাসপোর্ট পিক করতে। পরে সম্ভবত রবিবার বা সোমবারে পাসপোর্ট পিক করে বুধবার সকালে ফ্লাই করসিল টার্কিশ এয়ারলাইন্সে। লাকিলি ভিসা শুরু-ও হইসিল ২৭ তারিখ থেকেই। পাকনামির তো শেষ নাই।
এই ছিল মোটামুটি আমাদের জার্নি। মে মাসের ১২ তারিখ থেকে জুলাই ২৭ পর্যন্ত।

Timeline:

Reference:

http://www.germanprobashe.com/archives/9363

 

 

mm

By Tarjina Islam Annie

Studying Nanoelectronic Systems at TU Dresden. Currently working as a werkstudent in GlobalFoundries, Dresden. Former student of AIUB, Viqarunnisa Noon College, Viqarunnisa Noon School. I like to sleep all day :D And Deutsch is a tough language to learn :(

6 thoughts on “স্পাউস ভিসা – মাস্টার্স স্টুডেন্ট, ড্রেসডেন অভিজ্ঞতা”
  1. Apu, Nikahnama and Marriage certificate Bangladesh theke German language e translate korle ki hobe? r translate korar por ki embassy theke attested kore nite hobe?
    Kindly janale khub upokrito hobo.

  2. Dear Concern,

    Thanks for keeping all information in this website. I am very glad to read all the information. I have one information that can not find here so far.

    Is there any possibility of visa rejection if husband and wife apply at same time for student visa at German embassy to study in same University?

  3. আপু যদি জব না থাকে ব্লক একাউন্ট্ এ টাকা দেখিয়ে কি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। যদি কেউ এই ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন।

  4. Hello,

    Thanks for shearing. My husband is a MS student. I applied for family reunion visa.
    Could you please tell me from where in Germany he can translate marriage certificate to Deutsche.
    Thanks in advance.

Leave a Reply