জার্মানির প্রতি জানাশুনা শুরু হয় অনার্সের ৩য় সেমিস্টার থেকে। বেসিক প্যাটার্ন কোর্সে ফ্যাকাল্টি হিসাবে পাই জার্মান মহিলা হেলেন লমবকিন, দেখতে শুনতে সুন্দুরি এই ম্যাডাম কোর্স শেষের আগেই দেশে ফিরে আমাদের ভালোই বিপদে ফেলেছিলেন। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে আমাদের পাকনা CR জিজ্ঞেশ করছিলো – ” ম্যাডাম, সারা দুনিয়ায় সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি থাকলেও তোমার দেশে চ্যান্সেলর, কাহিনী কি?” উত্তরে ম্যাডাম সাদা মুখ লাল কইরা বললো, “এই ধরনের প্রশ্ন আর জীবনেও যেন না করা হয়।” ধারনা পাইলাম, ইহারা টাফ।

২০১৫ এর শুরুর দিকে ডিজাইনিং এ অনার্স কমপ্লিট করে প্রথম এক মাসেও যখন চাকরী খোঁজ পাইলাম না তখন, ভাবলাম যাইগা দেশের বাহিরে। সিনিওর অনেক ভাই ব্রাদার আছে জার্মানিতে। তাদেরকে ফেসবুকে এড করলাম। আমার ট্রেডে ইংলিশ মিডিয়াম মাস্টার্স অফার করে একটাই ভার্সিটিঃ হকশুলে নিদারাইন, ক্রেফিল্ড আর মুনশেগ্লাডবাখ এ ক্যাম্পাস। ওয়েবসাইটে রিকোয়ারমেন্ট দেখে মেইল করলাম। ওরা বললো, ৬ মাসের জব এক্সপেরিয়েন্স লাগবে! :/

খোঁঁজাখুঁঁজি করে দেখলাম, বাহিরের দেশে এক সেমিস্টার করা আছে, এমনরা জব এক্সপেরিয়েন্স ছাড়াও এপ্লাই করতে পারবে। ইন্ডিয়ার টেক্সটাইল মিনিস্ট্রির বৌদলতে ৭ম সেমিস্টার কমপ্লিট করেছিলাম, ন্যাশনাল ইন্সটিউট অব ফ্যাশান এন্ড টেকনোলোজি, দিল্লী, থেকে। এপ্লাই করার জন্য মেন্টালি প্রিপেয়ার হচ্ছিলাম, তখনই বাদ সাধলো ভার্সিটির সিনিওর এক ভাই। বললো, মিনিমাম ১ বছরের জব এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে না আসলে না খেয়ে থাকতে হবে! -_-

কি আর করা। বিদেশ যাওয়া ছেড়ে জবে ঢুকলাম।

us_visa_interview

অফিসের তৃতীয় দিনে দায়িত্ব পড়লো, জার্মান ব্র্যান্ড টম টেইলর এর মিল উইক কালেকশনের জন্য ডিজাইন করা। সেই শুরু, এরপর ইস্প্রি (ESPRIT), এস অলিভার (S.Oliver) এর মত জার্মান বেজড ব্র্যান্ড গুলো কে সাপ্লায়ার এন্ড থেকে ডিজাইন সাপোর্ট দিতে লাগ্লাম, ফলস্রুতিতে ওদের জার্মান অফিসের ডিজাইনার দের সাথে মিটিং, মেইলিইং জানাশুনা আগ্রহ বাড়তে লাগলো। চাকরীর আট মাস সময়ে কলিগ হিসাবে পেলাম জার্মান, ডেনিস ডেমিরসয়, ওম্যান্সওয়্যার ডিজাইন ডিরেক্টর হিসাবে। ওর সাথে কাজ করলাম ১০ মাস। ওই অভিজ্ঞতা এখানে নাই বললাম।
যাহোক ট্র্যাকে ফিরে আসি। চাকরীর বয়স যখন দেড় বছর, তখন বুঝে গেলাম, ইউরোপ এর জন্য ডিজাইন করতে হলে, ইউরোপ বুঝতে হবে, ওদের কালচার,ট্রাডিশন,ম্যান্টালিটি বুঝার জন্যও হলে যেতে হবে ইউরোপে। ২০১৭ সামার সেমিস্টারের জন্য এপ্লাই করার ডিসিশন নেই। দেখলাম কাগজ পত্র পাঠানোর জন্য ইউনি এসিস্ট এর সাহাজ্য নিতে হবে। এক্ মাসের প্রিপারেশনে আই এল টি এস দিয়ে দিলাম, রেজাল্ট হলো, যা দরকার ছিলো তাই পেলাম :3  ।

ইউনি এসিস্ট বিষয়ে বিস্তারিত পেলাম  “এখান” থেকে। আমার মত কিছু লোক আছে যারা সহজে বুঝেনা :3 সবগুলো পোস্ট পড়ার পরেও অনেক খুঁটিনাটি  প্রশ্ন থেকে যায়,যেগুলোকে ফ্রিকুয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চান হিসাবে নিচে দিলাম।

১। ভাই আমি ** ভার্সিটিতে একসাথে ৩ টা কোর্সে এপ্লাই করবো? ইউনি এসিস্টে কি ৩ সেট ডকুমেন্ট পাঠাবো ?

  • শুধু এক সেট পাঠাবেন।

২। ইউনি এসিস্টে আপলোড করার জন্য কি নোটারি কপি স্ক্যান করতে হবে।

  • নাহ। অরিজিনাল কপি স্ক্যান করে আপলোড করেন। নোটারি কপি কুরিয়ারে পাঠাবেন।

৩। মোটিভেশন লেটার কি নোটারি করতে হয়?

  • নাহ।

৪। ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ডে কি প্যামেন্ট দেওয়া যাবে?

  • নাহ। ইন্টারন্যাশানল ক্রেডিট কার্ড অথবা ডি বি বি এল ভারচুয়েল কার্ড ইউজ করুন। ই বি এল নতুন করে প্রিপেইড কার্ড বের করেছে, সেটাও দিয়েও ট্রাই করতে পারেন, কার্ড মূল্য মাত্র ৫০০ টাকা।

৫। প্যামেন্ট ইনফো ফরম আর এডুকেশনাল ডকুমেন্ট কি একি খামে দিবো?

  • জি, একি খামে দিবেন।

৬। আমার কার্ড তো অনলি ইউ এস ডি কারেন্সি কনভার্ট করা, ইউনি এসিস্ট তো ইউরো তে ফী নিবে। কোন প্রব্লমে হবে কি?

  • নাহ কোন প্রব্লেম নাই। অটোম্যাটিক কনভার্ট হয়ে যাবে।

অক্টোবারের প্রথম সপ্তাহে এরামেক্সের মাধ্যমে সব ডকুমেন্টস পাঠাই দেই ইউনি এসিস্ট হেড কোয়ার্টারে। এর পর পরই ইস্প্রি থেকে ডিজাইন মিটিঙের ইনভাইটেশন পাই। যার জন্য যেতে হয় ডাসেল্ড্রপ। অবশ্য প্রবর্তিতে সেখান থেকে আমাস্টারডাম, ন্যাদারল্যান্ড টাও ঘুরা হয়। এসব গল্প সহ  বিজনেস ভিসা প্রিপারেশন নিয়ে লিখবো আলাদা পোস্টে।

How Do You Rank question on a webscreen asking how highly you appear in rankings on search engine results
How Do You Rank question on a webscreen asking how highly you appear in rankings on search engine results

যাহোক, ডিসেম্বারের শুরুর দিকে, ভার্সিটি থেকে মেইল পাই, বল্লো ভিসার প্রিপারেশন নেও। জার্মান এম্বাসির ওয়েবসাইটে ডুকে দেখলাম, ব্লক একাউন্ট সবার আগে। জার্মান প্রবাস ব্লগ থেকে ব্লক একাউন্টের উপর বিস্তারিত পেলাম এখান  থেকে। সব কিছু ডিটেইলস থাকার পরেও, সবাইকে প্রশ্ন করে জালানো শুরু করলাম :3 ঐযে বললাম একটু কম বুঝি।
ব্লক একাউন্ট খোলা এবং টাকা ট্রান্সফার নিয়ে অনেক পোস্ট থাকায় বিস্তারিত না গিয়ে শর্টকার্ট বর্ণনা দিলাম, আর পরে ফ্যাক অংশ তো আছেই :3

আগেই বলে নেই, আমি স্টুডেন্ট ফাইলে খোলার মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছি, তাই এটাই ভালো বুঝি, অনেকেই জনতা ব্যাঙ্ক, সোনালি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাইছে, ওই ব্যাপারে আইডিয়া কম। তবে এ নিয়ে অনেক পোস্ট আছে এই ব্লগে।

ব্লক একাউন্ট ওপেনিং এর  জন্য আপনাকে প্রথমে একাউন্ট স্টেটম্যান্ট রেডি করতে হবে।

১। কার একাউন্ট স্ট্যাটম্যান্ট দিবো?

  • যার একাউন্ট থেকে টাকা পাঠাবেন, তার একাউন্ট স্টেটমেন্ট দিবেন। আপনি, মা, বাবা যে কেউই হতে পারেন। ফর্ম ফিলাপের সময় নির্দিষ্ট ঘরে এটা উল্লেখ করে দিবেন।

২। কতদিনের স্টেটমেন্ট দিবো?

  • আমি বুধবারে টাকা জমা দিয়ে বৃহস্পতি বারে স্টেটম্যান্ট নিয়ে জমা দিসিলাম। কোন প্রব্লেম হয়নি।

৩। যেই একাউন্টের স্টেটমেন্ট দিবো, পরবর্তীতে  ওই একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করতে হবে?

  • উত্তর টা দুই রকম। আমি জানতাম এখন যে একাউনট থেকে স্টেটমেন্ট দিবো, সেখান থেকেই টাকা ট্রান্সফার করতে হয়। যারফলে, আমার টাকা আম্মুর সোনালী ব্যাঙ্ক, মফস্বল ব্রাঞ্চের একাউন্টে থাকায়,আমি সেই টাকা ইবিএল এ নিজের একাউন্টে ট্রান্সফার করে আনি। এর একদিন পর নিজের একাউন্ট থেকে স্টেটমেন্ট নেই। যাহোক, পরবর্তীতে ফেসবুক গ্রুপে ২/৩ জন বল্ল তারা এক একাউন্টের স্টেটমেন্ট দিয়ে একাউন্ট খুলে অন্য একাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করে কনফার্মেশন পাইছে।
  •  ডয়েচ ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইট থেকে লেটেস্ট ফরম টা ডাউনলোড করে নিতে হয়। যার প্রথম ২ পৃষ্টা থাকে রিটার্ন পলিসি। ইন্সট্রাকশন ওয়াইজ ফিল আপ করে ফেলুন।

৪। ফর্ম কিভাবে পাঠাবো?

  • দয়া করে জার্মান এম্বাসির ওয়েবসাইটে আপডেট ইনফো দেখুন, এখন পর্যন্ত অফার লেটার, স্টেটম্যন্ট, পাসপোর্ট এর সাথে বনানী ফেডেক্স শাখা থেকে প্রি পেইড খাম নিয়ে এমব্যাসি তে জমা দিতে হয়। ফি ২ হাজার টাকার মত।

৫। একাউন্ট ওপেন হতে কত দিন সময় লাগে?

  • আমি ফর্ম এমব্যাসিতে জমা দেওয়ার ১০ দিন পর ডয়েচ ব্যাঙ্কে পোছাইসে, ওরা এর ৪ দিন পর, কনফার্মেশন পাঠাইসে।  যদিও মেইল স্প্যাম ফোল্ডারে যাওয়ায় আমি আর ৮ দিন পর দেখসি -_- । একাউন্ট ওপেনিং কনফার্মেশন পাওয়ার পর দ্রুত ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাঠানোর প্রচেস শুরু করেন।

৪। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাবো?

  • আপনার মনের ইচ্ছা। জনতা ব্যাঙ্ক, সোনালী ব্যাঙ্ক প্রাইভেট ব্যাঙ্ক গুলো থেকে ১৫-২০ হাজার কম নেয়। আমি ইস্টার্ন ব্যাঙ্কের ধানমণ্ডি ব্রাঞ্চ থেকে পাঠাইসিলাম। অফিসের ঝামেলায় আসলে অন্যদিকে ট্রাই করিনি, এরা টাকা বেশী নিলেও ইজিলি করা যায়।

৫। টাকা পাঠানোর কয়দিন পর কনফার্মেশন আসে?

  • আমি ৩/৪ দিনের মধ্যেই পাইছিলাম, যদিও অনেকের আর বেশি টাইম লেগেছিলো। তবে এ ব্যাপারে উপদেশ থাকবে, বেহুঁশ হওয়ার কিছু নাই। আজ পর্যন্ত টাকা টাকা পাঠাইয়া কনফার্মেশন পায় নাই, এমন কাউকে দেখি নাই।

৬। কোন কারণে কিভাবে ডয়েচ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করবেন?

  • প্রথমে ওদের কন্টাক্ট ফর্ম ট্রাই করবেন, সাধারনত রিপ্লাই দেয়, না হলে কল দিতে পারেন। আমি রিপ্লাই না পেয়ে কল দিসিলাম, কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। ওরা নিজেদের গতিতে চলে। ব্যাসিক কোন প্রশ্ন থাকলে ওদের ফেসবুক পেজে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

৭। ব্লক কনফার্মেশন ও পাচ্ছি না, ভার্সিটি রেজিস্ট্রেশন ও সন্নিকটে, এক্ষেত্রে কি করা যায় ?

  • এক্ষেত্রে এই পোস্ট টি পড়েন। অনেক আইডিয়া পাবেন। আমার মতে টাকা পাঠানোর ব্যাঙ্ক রিসিপ্ট নিয়ে এমব্যাসি ভাইবা দিয়ে আসেন। কনফার্মেশন আসলে পরে জমা দিয়ে আসবেন।

টাকা পাঠানোর ৪/৫ দিনের মধ্যেই পেয়ে গেলাম কনফার্মেশন, নেক্সট স্টেপ ভিসা ইন্টার্ভিউ।  অফিসে এসে মেইলে দেখি সুইডেন থেকে বায়ারের ডিজাইনাররা মিটিঙে বসতে চাচ্ছে, তাও আবার এন্ড অফ জানুয়ারি। অফিসের প্রোটকল অফিসার খোঁজখবর না নিয়েই সুইডেন ভিসার জন্য ডেট নিলো জার্মান এম্বাসি থেকে -_- -_- । পোড়া কপাল হলে যা হয় আর কি।  সাথে সাথে এম্বাসি ওয়েবসাইটে ডুকে এপয়ন্টম্যান্ট ক্যান্সেল করলাম। এর ২ দিন পর মিটিং শিডিউল চ্যাক করে, নিউ ডেট নিলাম ৬ ফেব্রুয়ারী। আপাতত জার্মান বাদ দিয়ে তখন সুইডেন ভিসা নিয়ে পড়লাম। ৩/৪ দিনের মাথায় ভিসা ও হয়ে গেলো। বেঁচে থাকলে সে অভিজ্ঞতাও লিখবো ইনশাল্লাহ। যাহোক ২ তারিখে স্টকহোম থেকে দেশে ফিরে প্রথমেই গেলাম ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করতে।

bank-blocked-account-germany

১। ভিসা ইন্টারভিউ ডেট কি একবার ক্যান্সেল করলে ব্লক করে দেয়?

  • জি না। তবে কয়েক বার নিলে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

২। কত দিনের ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করবো? কবে থেকে কবে?

  • আসেন ব্যাপারটা আগে বুঝি। ট্রাভেল ইন্সুরেঞ্চ হচ্ছে আপনি যে বাংলাদেশ থেকে ডাচল্যান্ডে যাবেন, এই জার্নি সময়কার জন্য বীমা। ভিসা যেদিনই হোক, আপনি প্লেনে উঠার দিন খন ক্লাস শিডিওল এর সাথে মিলিয়ে থিক করে নিবেন। এম্বাসির ঘোষণা অনুযায়ী মিনিমাম ১৫ দিনের করলেই হবে। আমার ক্লাস শুরু হবে ৩ এপ্রিল থেকে, আমার প্ল্যান, প্লেনে উঠবো ২৫ মার্চ। যেহেতু ভিসা পাইনাই, তাই আমি ২২ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনস্যুরেন্স করেছি। যাত্রা করলে এই সময়কার ভিতরেই করবো।

যাহোক, আমার অফিস নারায়াঙ্গঞ্জ। ৬ তারিখ সকাল ৮.৩০ এ ভাইবা থাকায় আগেরদিন রাতের বেলায় চলে আসলাম বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে নিকুঞ্জে। (জীবনের সব চেয়ে বড় ভুল ডিসিশন)। সারারাত গল্প গুজব করে  নির্ঘুম রাতই পার করছিলাম। সকাল বেলা ডুলু ডুলু চোখে মাঞ্জা মাইরা উবার থেকে কার নিয়ে চলে আসলাম গুলশান। বন্ধুকে ওর অফিসে ড্রপ করে এমব্যাসিতে আসলাম। যথা সময়ে কাউন্টারে ১ এ  ডাক। ম্যাডাম পেয়ে মনে মনে খুশিই হইছিলাম, কারন এর আগে কাউন্টার ৩ এর ভদ্রলোক আমাকে দিয়ে ডিজাইন স্কেচও করাইছিলো -_- । ভিসা ইন্টার্ভিউয়ের সারসংক্ষেপ নিচে দিলাম।

ম্যাডাম – কি প্রোগ্রামে যাচ্ছেন?

আমি – মাস্টার্স …।

ম্যাডাম – আপনার মাস্টার্স কোর্সের সাথে ব্যাচলর কোর্সের কি সামঞ্জস্য আছে ।

আমি – বললাম। বিস্তারিত।

ম্যাডাম- এই কোর্স টি কয় সেমিস্টার আর কয় ক্রেডিটের ?

আমি – সেমিস্টার সংখ্যা বলতে পারলেও ক্রেডিট ভুলে গেসিলাম। বললাম- মনে নাই।

ম্যাডাম- ফাইবার কাকে বলে ?

আমি – ৪ বছর আগের স্মৃতি খুঁজে মিলাইয়া ঝিলাইয়া বললাম।

ম্যাডাম – ফাইবার কয় প্রকার?

আমি – বললাম ২ প্রকার। (আসলেই ২ প্রকার )

ম্যাডাম- ফাইবার তো তিন প্রকার, জানেন না?

আমি – আমতা আমতা -_-

ম্যাডাম – কয়েক্টা ডাইয়িং ক্যামিকেল এর নাম বলেন -_- ?

আমি – ( এই প্রশ্ন শুনে তো আমি পুরাই টাশকিত -_- ফ্যাশন ডিজাইনার ডাইয়িং ক্যামিকেল এর নাম ক্যামনে বলবে? ) সোডিয়াম, ওয়াটার, পিগ্মেন্ট, রিএক্টিভ মনে যা আসছে বললাম।

আঙ্গুলের চাপ নিয়ে,ব্যাংক রিসিপ্ট দিলো, ভাবলাম সেশ। আসার সময় বলে ওয়ান মোর কুয়েশ্চান।

-আপনি এর আগে জার্মানি, সুইডেন কেন গেলেন।

আমি – বিজনেস নিয়ে ডিটেলস বললাম।

বুঝেনইতো এরকম একখান ইন্টার্ভিউ দেয়ার পর খুব একটা আশা ভরসার কিছু থাকে না, তাও অপেক্ষা করতেসিলাম, আমার প্রোফাইলের উপর নিজের আস্তা ছিল, ভাবলাম দেখি কি হয়। এর মাঝে গ্রুপে মানুষের ভিসা পাওয়া দেখি।

যাহোক ৩০ দিনের মাথায় ফোন দিয়ে বলল আপনার মোবাইল নিয়ে এমব্যাসিতে আসেন। নির্দিষ্ট ডেটে গিয়ে দেখি আমার মত অনেকেই এসে বসে আছে, এমন কি ওরা বসার জায়গাও দিতে পারতেছেনা। অবশেষে বিকাল বেলা প্রথমে ডেকে মোবাইলে মেইল দেখলো, এর ২০ মিনিট পর ডেকে ভিসা সহ পাসপোর্ট দিলো।

এবার প্লেন টিকেটের পাল্লা, অফিসের কাজে এমিরেটস ছাড়া না গেলেও নিজের জন্য টার্কিশই বেচে নিলাম  :p ওরা লাগেজ এলাউন্স বেশি দেয়, তাই আর কি :p 😉

যাহোক স্টুডেন্ট ইউনিভার্সের কথা এই ব্লগ থেকে আগেই জেনেছিলাম, একাউন্ট খুলে আগেই ভেরিফিয়াইড করে রাখসিলাম। নিজের ক্রেডিট কার্ড দিয়েই, টার্কিশ এয়ারের অফসিয়াল প্রাইস থেকে ১৩০ ডলার কমে কিনলাম। আরো আগে কাটলে ৪০০ ডলার কমেও নেওয়া যেত।

কয়েকদিন পরেই ফ্লাইট সবাই দোয়া করবেন। সব কিছুর জন্য এই ব্লগের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভালবাসা রইলো।

mm

By Mirza Mannan

আমি মির্জা। ফ্যাশন ডিজাইনার। আমাকে ফেসবুকে পাবেন - https://www.facebook.com/MirzaMannan13 মেইল - [email protected] ওয়েবসাইয়ট - www.mirzamannan.com

One thought on “স্টুডেন্ট ভিসা, সামার ২০১৭ (প্রথম থেকে শেষ ধাপ)”

Leave a Reply