অনেকদিন ধরে মনে হচ্ছিল লেখা উচিত কিন্তু লেখা আর হয়ে ওঠেনা। অনেকের সাথে কথা হয়েছে কিন্তু ঠিকমতন বলা হয়ে ওঠেনা। আশাকরি লেখাটি যদি আমলে নেন, আপনার আশেপাশে যারা থাকবেন তাদের জন্যে।1

১. কেউ যদি আপনার সামনে উদ্ধত (agrressive) আচরন করে, আপনি চুপ থাকুন তবে এমন কিছু যদি হয় যেখানে আপনার বিশ্বাস এবং নীতি জড়িত; চুপ করে না থেকে বলুন তোমার ধারনা ভুল এবং আমি তর্কে করলে কোনো লাভ হবে না। এই কথা বলে সরে যান, চলে যান যাতে ব্যাপারটা বাজে না হয়।
২. মুখে কিছুই বললেন না কিন্তু মনে ঘৃনা রেখে দিলেন, এই ব্যাপারটা কিন্তু ভয়াবহ। কিছু বললে তখনই বলুন নাহলে নাদান মনে করে ছেড়ে দেন। মনে রেখেন না।
৩. কাউকে দোষারোপ করার আগে তার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার চেষ্টা করুন। হয়তোবা তার শিক্ষা-বুদ্ধি কোনোটাই সেই পর্যায় পর্যন্ত যায়নি যেখানে তর্ক করা যায়।
৪. আচ্ছা আপনি নিজেই যে সঠিক, এই ব্যাপারটা আপনি কিভাবে জানেন? অন্যের কথাওতো ঠিক হতে পারে তাই না? তাকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখবেন কি?
৫. আপনার জন্যে যা ঠিক, তা অন্যের জন্যে নাও ঠিক হতে পারে। তা ধর্মীয় মূল্যবোধই হোক আর জীবন যাপনের ধারাই হোক। কি দরকার খামোখা তর্ক করার! থাকতে দিন তাকে তার মতন।

নিজের জিহবা এবং মনকে সামলে রাখুন। অল্পকিছু “লাইক” বা বাহবা পাবার আশায় কিম্বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশের কাছ থেকে কিছু সুবিধা ভোগের আশায় গালিগালাজ কে ফ্রিডম অফ স্পিচ বলে মনে করবেন না। বাক স্বাধীনতার মানে যদি এই হয় তবে আপনি আর যাই হন, শিক্ষিত না। এই দেশ , সেই দেশ যেখানেই থাকেন আপনি কিন্তু যা খুশি তাই করতে পারেননা।

ছোট্ট একটা নমুনা দেই,

ফেসবুক এর এক পোস্ট এ বার্লিনের বিদেশী এবং জার্মান বাসিন্দাদের প্রশ্ন করেছিলাম এই শহরে কুরবানির নিয়ম কি? মজার কাহিনী হলো কেবল ঈদ এর কথা আগে না বলে sacrifice এর কথা আগে বলাতে শুরু হয় ঝড়। আগেই জানা ছিল এমনটি হতে পারে, তাই তর্ক বন্ধ করে দিলাম… নমুনাটি দিচ্ছি এইখানে
1

1
কিন্তু তর্ক কিন্তু থেমে থাকলো না- পক্ষে বিপক্ষে শুরু হলো ঝড়….যার কিছু নমুনা তুলে ধরছি

1

1

এইভাবে তর্ক চলতে থাকলে এক পর্যায়ে প্রশ্নকর্তা তর্ক বন্ধ করে দেন…

আবার শুরু হয় নতুন ঝড়…

1

এবং দোষ পরে প্রথম প্রশ্নকর্তার ঘাড়ে

1

এইসব তর্কের মাঝে এক বান্দা আবার পোস্ট দেয় যেখানে লাইক এর নমুনা দেখলেই বুঝবেন সবাই ভালোভাবে ব্যাপারটা নিয়েছে। 1

1

1

1

এই পোস্টে অনেকেই সাহায্যও করেছেন আন্তরিক ভাবেই…দুই একজন তর্ক করলেও সেই তর্কের সংখ্যা খুবই নগন্য। মজার ব্যাপার হলো, এই প্রশ্নকর্তা ও কিন্তু একই প্রশ্ন করেছেন! তাহলে ভুলটা কোথায় ছিল?

১. একই কথা অনেক ভাবে বলা যায়…আমি সোজাসাপটা বলাতে সেন্টিমেন্টএ লেগে গেছে তথাকথিত ভেগান এবং এখানকার কট্টর বামপন্থীদের (এদের কিন্তু আপনি কখনো বুঝিয়েও কিছু ঠিক করাতে পারবেন না-যা বিশ্বাস করে, তাই বিশ্বাস করবে)
২. এমনই বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে যারা মধ্যপন্থী তারা সহমত পোষন করেছেন যে কাজটা ভালো। আর যারা মাথা গরম করে হুট করে তারা সাধারনত এতোকিছু পড়ার এনার্জি থাকে না। তাই তারা তেমন তর্কও করে না। আর ভাষার ব্যবহারও অন্যরকম করাতে তেমন কোনো  কথা ওঠেনি। আমার লেখার সবথেকে বড় সমস্যা ছিল একটি শব্দ “sacrifice” ওই শব্দ না থাকলে এই যাত্রায় বেচে যেতাম।
৩. সবকিছু পছন্দ সবার হবে না আর সবার সাথে তাল মিলিয়ে ভুলকে ঠিক মনে করার মধ্যেও কোনো যৌক্তিকতা নেই। নিজে ভাবুন এবং রেগে যাবার আগে একটু পরখ করে নিন….আপনি কাদের দলে থাকতে চান? অন্ধের মতন অন্যের কথায় চলা, নতুন সমাজ এবং সংস্কৃতিকে গ্রহন না করে নিজেকে গুটিয়ে রাখা নাকি সবার মতটি বুঝে নিজের নীতিতে চলাদের দলে?

আপনি যেখানে থাকেন সেই শহর আপনার এবং সেই শহরের মানুষগুলো আপনারই প্রতিবেশী। তাই সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি করবেন…তবে একখান কথা…মধ্যপন্থী হওয়া কিন্তু খারাপ নাহ। তাদের মতবাদ চিন্তাধারা অন্য হতেই পারে তারমানে কিন্তু তারা ভুল তাও না।

আরো পড়তে পারেনঃ