بسم الله الرحماني الرحيم

FAQ:জার্মানীতে ইউনিভার্সিটিতে  এপ্লাই করতে সিজিপিএ মিনিমাম কতো লাগে?  আর চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা রাখে কোনটি? 

এই প্রশ্নগুলি প্রথমেই আসে যখন আমরা জার্মান ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করার জন্যে আগ্রহী হই। প্রথমেই বলা প্রয়োজন যে এই আর্টিকেলটি একান্তই আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর মতামতের ভিত্তিতে লেখা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে  ইংলিশ মিডিয়ামে মাস্টার্স (MS) এ যারা আগ্রহী তাদের জন্যে বেশি উপযোগী ।

কেউ যদি জার্মান ইউনিভার্সিটিগুলিতে এপ্লাই করতে আগ্রহী হন তাকে নিম্নের লিঙ্কের আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল।

জার্মানিতে এপ্লাই করার ধাপসমূহ (Steps To Apply At A German University )

একটা ইউনিভার্সিটিতে এ্যাডমিসন এর জন্যে এপ্লাই করার সময় আমাদের পোস্টের মাধ্যমে যে ডকুমেন্টগুলা পাঠাতে হই তার একটা লিস্ট সংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইটে দেয়া থাকে। পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই চেক লিস্ট অনুসরণ করবেন। তবে যে ডকুমেন্টগুলা সাধারণত তারা চেয়ে থাকে :

  1. পূরণকৃত এপ্লিকেশন ফর্ম
  2. ব্যচেলর লেভেলের সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
  3. লেটার অফ রিকমেন্ডেশন (LoR)
  4. স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SoP)
  5. IELTS/TOEFL/ Medium of instruction

এছাড়াও

  1. Reference of your published Research Paper
  2. Job experience Certificate

এখন আপনার পাঠানো ডকুমেন্টগুলি থেকেই তারা ধারনা পাবে যে আপনি যে বিষয়ে পড়ার জন্যে তাদের ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করেছেন তার জন্যে কি আপনি যোগ্য? আপনার থেকেও ভাল প্রোফাইলের কেউ এপ্লাই করেছে কিনা?

এখন প্রশ্ন হল কোন ডকুমেন্ট এ্যাডমিশন ডিসিশনে সবথেকে মুখ্য ভুমিকা রাখে?? মিলিয়ন ডলারের/ইউরোর প্রশ্ন!!
জার্মানিতে অধিকাংশ ইউনিভার্সিটিতে যেহেতু GRE বাধ্যতামূলক নয় তো এটা বলাই বাহুল্য CGPA এ্যাডমিশন ডিসিশনে অনেক বড় ভুমিকা রাখে।  কিন্তু আপনার CGPA 3.9+ হইলেই আপনি ভাববেন না আপনার TUM,KIT বা Aachen এ এ্যাডমিসন নিশ্চিত! তাহলে?

 কিন্তু আপনার CGPA 3.9+ হইলেই আপনি ভাববেন না আপনার TUM,KIT বা Aachen এ এ্যাডমিসন নিশ্চিত! তাহলে?

আপনি সাথে আরও যে ডকুমেন্টগুলি পাঠিয়েছেন সেগুলারও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

যেমন, LoR থেকে এ্যাডমিশন কমিটি আপনার সম্বন্ধে আপনার প্রাক্তন শিক্ষক কি মনে করেন তার মুল্যায়ন তারা বেশ বিশ্বাস ভরেই গ্রহণ করেন।

বিশেষত SoP কে অনেকেই খুব একটা গুরুত্ব দেন না কিন্ত এ্যাডমিশন ডিসিশনে এটা বেশ বড় ভুমিকা রাখে ।

আবার SoP থেকে আপনি নিজেকে কিভাবে তাদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, আপনার পূর্বের অভিজ্ঞতা আর ভবিষ্যত পরিকল্পনাও তারা জানতে পারছেন। বিশেষত SoP কে অনেকেই খুব একটা গুরুত্ব দেন না কিন্ত এ্যাডমিশন ডিসিশনে এটা বেশ বড় ভুমিকা রাখে । SoP বেশ সমই ধরে নির্ভুলভাবে লিখা উচিত। এটার লেখার প্যাটার্ন মুলত সব ক্ষেত্রেই একই কিন্ত তারপরও নিজের SoP কে স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরতে হবে এমনভাবে যেন এ্যাডমিশন কমিটি পড়ে বুঝতে পারে আপনার ভিতর অনন্য কিছু আছে যা আপনাকে অন্য এপ্লিক্যান্টদের থেকে আলাদা একটা পজিশন তৈরিতে সাহায্য করবে।


আরো পড়তে পারেনঃ 


আর আপনার যদি পূর্বে রিসার্চ করার অভিজ্ঞতা যেমন থিসিস, প্রজেক্ট বা জার্নাল পেপার বা কনফারেন্স পেপার থাকে তাহলেও আপনি এ্যাডমিশন এর বিশাল প্রতিযোগিতাই কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারবেন। সবথেকে বেশি মুল্যায়ন পাবেন যদি যে বিষয়ে পড়ার জন্যে আবেদন করেছেন সে বিষয়ের কোন টপিকের উপর জার্নালে আপনার কোন পেপার পাবলিশ করা থাকে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা Job experience কেউ অনেক মুল্যায়ন করেন। এক্ষেত্রেও একই কথা যদি সেটা যে বিষয়ে পড়ার জন্যে আবেদন করেছেন সে বিষয় সম্পর্কিত জব হয়ে থাকে তাহলে বেশি মূল্যায়ন পাবেন।

মনে করুন কোন ইউনিভার্সিটিতে ১০০ এর ভিতর ৭০ বা ৭০+ পেলে আপনার এ্যাডমিশন হবার সম্ভাবনা থাকবে। এখানে একটা কাল্পনিক মার্কিং স্কেল এর নমুনা দিচ্ছিঃ

CGPA= 45 or 40

LoR= 10

SoP=20

Research Experience /+ Job Experience = 20

English Proficiency = 5 or 10

প্রত্যেক ইউনিভার্সিটির এ্যাডমিশন কমিটির নিজস্ব স্বতন্ত্র নিতিমালা থাকে। তারাই সিদ্ধান্ত নেন এবং পূর্বনির্ধারিত স্কেল অনুযায়ী আপনার পাঠানো ডকুমেন্ট এর মান অনুযায়ী মার্কিং করেন এবং আপনার সাথে অন্যরা যারা এপ্লাই করেছেন তাদের প্রাপ্ত মার্কিং অনুযায়ী সর্বোচ্চ নাম্বার থেকে ক্রমান্বয়ে তদের সিট সংখ্যার সমান এবং কিছু waiting list এ রেখে এ্যাপ্লিকান্টদের তালিকা পাবলিশ করেন এবং ই-মেইল এ এ্যাডমিশন প্রাপ্ত এ্যাপ্লিকান্টদের জানানো হই।

উচ্চশিক্ষায় উচ্চ CGPA অবশ্যই অবশ্যই আপনার জন্যে পজিটিভ।

উচ্চ শিক্ষাই উচ্চ CGPA অবশ্যই অবশ্যই আপনার জন্যে পজিটিভ।কিছু ভালো ইউনিভার্সিটিতে Application PreCheck করার সমই শুধুমাত্র CGPA কম থাকার কারনেই আপনাকে বাদ দিয়ে দিতে পারে , অন্য ডকুমেন্টগুলিকে কোনো আমলেই  না এনে। এরকম ইউনিভার্সিটিগুলার সংখ্যা কম। এরসাথে যোগ করা যাই প্রথম সারির ইউনিভার্সিটিগুলাতে উচ্চ CGPA ধারি বা সর্বপরি  High Profile এ্যাপ্লিক্যান্টরা এপ্লাই বেশি করেন তো সেখানে CGPA কম বা মাঝারি থাকলে চান্স পেতে বেশ বেগ পেতে হই বা চান্স না পাবার সম্ভাবনাও থাকে। কিন্তু আপনি যদি আপনার অন্য ডকুমেন্টগুলির ব্যপারে আত্মবিশ্বাসী হন তাহলে এপ্লাই করতে দোষের কিছু নাই। হইলে আলহামদুলিল্লাহ না হইলে move on । একটা বাস্তব উদাহরণ দেই , এবছর TU Dortmund এ Automation & Robotics বিষয়ে শুধুমত্র CGPA 3.5+ এ্যাপ্লিকান্টরাই এ্যাডমিশন পেয়েছেন (আমার জানামতে একটি Facebook Group থেকে প্রাপ্ত তথ্য )।

তারপরও কিছু উচ্চ, মধ্যম এবং নিম্ন র‍্যাংকের ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করবেন।

আর সর্বপরি আপনি যদি জার্মান ইউনিভার্সিটিতে পড়বেনই এই বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হন তাহলে আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী সেই মানের রাঙ্কের ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করলে সফলতা পাবার সম্ভাবনা বেশি। তারপরও কিছু উচ্চ, মধ্যম এবং নিম্ন র‍্যঙ্কের ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করবেন।

আশাকরি এই আর্টিকেল আপনাদের সামান্যতম হলেও কোন কাজে আসবে।

আর লেখাই কোন ভুলত্রূটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর আমার মতামতের সাথে আপনার মতের অমিল থাকতেই পারে।এই ব্যপারে আমি আপনার মতামতও জানতে চাই।

সবার জন্যে শুভ কামনা ।


এছাড়া পড়তে পারেনঃ