ঠিক সাড়ে চার বছর আগে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিলাম ফ্রাংকফুর্টের উদ্দ্যেশ্যে। আমার এক ধূমপায়ী বন্ধু সজল (ছদ্মনাম) আমার লাগেজে তিন কার্টন সিগারেট গুজিয়ে দিল। আগেই শুনেছি, এখানে এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ৫০০ টাকার মত। মিতব্যয়ী সজল আমাদের সাথে থাকা তিনজনের লাগেজেও মোট ৯ কার্টন সিগারেট রেখে দিল। বাহরাইনে ৫ ঘণ্টার মত ট্রানজিট ছিল। নেই কাজ তো খই ভাজ! ডিউটি মুক্ত দোকানে গিয়ে সজল আরো কয়েক কার্টন বেনসন কিনতে চাইল। প্রায়শই ইউরোপে যাতায়াতকারী ইউনি এজেন্ট ওকে আশ্বস্ত করল, “আরে যত খুশি কিনে ফেল। এর আগেও কতজন এমনটি করেছে। শুধু ইমিগ্রেশনে লাগেজ স্ক্যানিং করার সময় একটু জোরে হাটবে, তাহলেই কোন সমস্যা হবে না।”
সঙ্গে সঙ্গেই আরো ২০ কার্টনের মত কিনে ফেলল সে। আমি দুর্বল চিত্তের মানুষ, তাই ঝুকি নেওয়ার সাহস করলাম না।
নিজের লাগেজে ১০ কার্টন ও অন্যদেরকে ১০ কার্টন দিল সে।
ঘন্টা ছয়েক পরে আমরা নিরাপদে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে পৌছালাম। ইমিগ্রেশনের স্ক্যানিং সেকশনে আসতেই পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এজেন্ট ভোদৌড় দিল। বাকি দুজনও তার পদাংক অনুসরণ করল।
দুর্ভাগ্যবশত আমার ও সজলের পা যেন নড়তেই চাচ্ছিল না। সজলের আতঙ্কিত চেহারা দেখে দায়িত্বে থাকা অফিসার বলল, “এই ছেলে, এদিকে আসো।”
ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেল সে।
“তোমার কাছে কোন অতিরিক্ত বস্তু আছে, যেমন সিগারেটের প্যাকেট?” অফিসারের জিজ্ঞাসা।
“না, আমি আসলে তিন কার্টন সিগারেট এনেছি” কাঁপা কাঁপা স্বরে সজলের প্রত্যুত্তর।
ওকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে অফিসারটি আদেশ দিল, “তোমার লাগেজ খুলে দেখাও।”
লাগেজ খুলতেই ১৩টি কার্টন বেরিয়ে এল।
গাম্ভীর্যের সাথে অফিসার বলল, “অতিরিক্ত ১০ কার্টনের জন্য ২২৮ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।”
আমরা বিভিন্নভাবে সেই অফিসারকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেই ব্যাটা নাছোড়বান্দা।
শেষ চেষ্টা হিসেবে সজল বলল, “প্রভু! সব কার্টন রেখে দিন, শুধু আমাকে যেতে দিন। আমি এখানে নতুন পাবলিক, প্রভু।”
ভক্তের কথায় প্রভুর চিড়া ভিজল না। গুণে গুণে ২২৮ ইউরোর সমতুল্য প্রায় ২২ হাজার টাকা অফিসারের হাতে তুলে দিল সে।
সর্বস্বান্ত বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বললাম, “শালার ধুমপান আসলেই ক্ষতিকারক চিজ!”