২০১৫ সালের ফেব্রিয়ারি মাসে বই মেলাতে এসেছে বাংলা ভাষায় লেখা রাগিব হাসানের দুইটি বই। বই এর কিছু অংশ আমরা আমাদের এখানে শেয়ার করা হবে আপনাদের পড়ার জন্যে…হয়তো চট করে একটা অংশ পড়া দরকার, হাতের কাছে বইটি নেই তখন ঘুরে যেতে পারেন এখানে…অনলাইন এ বইটি কেনার সুজোগ ও রয়েছে(দেশে এবং বিদেশে)। বইটি কেনার জন্যেও অনুরোধ থাকলো কারণ তা থেকে লেখকের যথাযোগ্য সন্মান দেয়া হয় আর সেই সাথে ছাপানো বই পড়ার আমেজই আলাদা…সর্বপরি এই লেখাগুলো লেখার একটাই উদ্যেশ্য: লেখক চেয়েছেন যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা গবেষণা কি এবং কিভাবে করতে হয় তা সহজে শিখতে পারে। সেই উদ্যেশ্যকে সফল করার ইচ্ছা নিয়েই আমাদের এই বিশেষ প্রচেষ্টা।লেখক এবং প্রকাশক উভয়কে আমাদের ধন্যবাদ এই পোস্টগুলো শেয়ার দেয়ার অনুমতি দেয়ার জন্যে।


ভালো গবেষক হতে হলে গবেষণার কাজটা করার পাশাপাশি আপনাকে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এর দরকারটা কী? গবেষণার নানা কাজ ভালো ভাবে করার কিছু গোপন রহস্য আছে। জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন ভালো অভ্যাস আপনার জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করে, গবেষণার জগতটাও তার ব্যতিক্রম নয়। এই অধ্যায়ে আমরা দেখবো, ভালো গবেষকদের অভ্যাস কী কী। আপনি যদি একজন ভালো গবেষক হতে চান, তাহলে এই অভ্যাসগুলা রপ্ত করে ফেলুন এবং নিয়মিত চর্চা করুন।

লিখে রাখাআমাদের মনে রাখার ক্ষমতা কিন্তু অসীম নয়। একটা কিছু শুনলে বা আলোচনা করলে সেটা আপনার মনে ৫ মিনিট পরেও থাকবে, তার কোনোই গ্যারান্টি নাই। আবার ধরুন হঠাৎ মাথায় একটা আইডিয়া এলো, সেটা যে মনে রাখতে পারবেন পরে, তা তো নিশ্চিত করা লাগবে, তাই না?

এজন্য ভালো গবেষকেরা সব সময় হাতের কাছে একটা নোটবই রাখেন, সব সময়ে সব আইডিয়া মাথায় এলেই টুকে ফেলেন। অথবা কারো সাথে গবেষণার কাজে কথা বলার পরে দরকারী সব কথা লিখে ফেলেন।

এই নোটবই সাথে রাখা, আর সবকিছু লিখে রাখাটা রপ্ত করতে হবে আপনাকে। আবারও বলি জোর দিয়ে, মানুষ হিসাবে আপনি শ্রুতিধর নন, কাজেই সবকিছু হাতে কলমে লিখে রাখতে হবে।

মনোযোগ দিয়ে শোনা

আমাদের একটা বড় সমস্যা, আমরা শুনি কম, বলি বেশি। একজন গবেষক হতে হলে আপনাকে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনাটা শিখতে হবে, অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আপনি কোনো গবেষকের রিসার্চ প্রেজেন্টেশন যদি দেখতে যান, অথবা অন্য কোনো গবেষকের সাথে কথা বলেন, সেসময়ে মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনার ও বোঝার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, যত শুনবেন, আর উপরে লিখে রাখার পরামর্শ অনুযায়ী যত লিখবেন, ততোই শিখতে ও জানতে পারবেন।

পরাজয়ে ডরেনা বীর

ভালো গবেষকদের মতো ধৈর্যশীল মানুষ দুনিয়াতে মেলা ভার। গবেষণায় ভালো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের অধিকারী হতে হবে। অধিকাংশ গবেষণা সফল হবে না, অধিকাংশ কাজ আটকে যাবে, অনেক সমস্যার সমাধান নাও মিলতে পারে। আবার অনেক সময়ে আপনার কষ্টের গবেষণার ফলাফল কোনো জার্নাল বা কনফারেন্স থেকে রিজেক্ট হতে পারে। পেতে পারেন রিভিইউয়ারদের কড়া সমালোচনা। এসব দেখে মুষড়ে পড়লে চলবেনা, বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে, পরাজয়ে, পেপার রিজেকশনে ভীত না হয়ে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। দুনিয়ার সব সফল গবেষক এভাবেই পেয়েছেন সাফল্য। কাজেই ধৈর্য ধরুন, অপরিসীম ধৈর্য।

ভুল বোঝার ক্ষমতা

ভালো গবেষকেরা কিন্তু নিজেদের ভুল খুব সহজে স্বীকার করে নেন এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেন। গবেষণার কাজ করতে গিয়ে আপনার প্রচুর ভুল হবে। ভুল পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়ে কাজটা নাও হতে পারে। আবার আপনি যে তত্ত্ব বের করেছিলেন, সেটি হয়তো পরীক্ষালব্ধ ফলাফলের সাথে মিলে না, যার মানে আপনার তত্ত্বটি ভুল।

গবেষক হিসাবে আপনাকে খোলা মন নিয়ে কাজ করতে হবে। স্বীকার করে নিতে হবে, আপনি সর্বজ্ঞ নন, আপনার ভুল হতে পারে, এবং সেইক্ষেত্রে অত আগে ভুলটা স্বীকার করে নিয়ে সঠিক পথে চলে যেতে পারবেন, ততোই ভালো। সেজন্য এটিচিউড পাল্টান, এবং ভুল স্বীকার করে নিতে সব সময়েই থাকুন প্রস্তুত।

বই এর প্রকাশকের  পেজটি দেখতে করতে ক্লিক করুন আর ফেইসবুক পেজ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন এবং দ্বিতীয় লিংক

গবেষণা : জঘন্য প্রেজেন্টেশন বা লেকচার দিবেন ক্যামনে: রাগিব হাসান – পর্ব ২

গবেষণা: পিএইচডি করার রোডম্যাপ: রাগিব হাসান – পর্ব ৬