একজন বইপ্রেমিক

সময়টা ১৯৯৮ বা ১৯৯৯ হবে, আমি তখন ৬ষ্ঠ অথবা ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। তখনকার সময় মানে যোগাযোগের মাধ্যম চিঠি আর ল্যান্ডফোন, এখনকার মতো মোবাইল ফোনের যুগ না। সেইরকম সময়ে কোন এক ঝড়ের রাতে আমার বড় আপু ভয়ানক এক অজানা পীড়ায় অসুস্থ হয়ে পরলো। এমন এক জীবন সংশয়ী মুহূর্তে আব্বু বিন্দুমাত্র দেরি না করে, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা মেডিকেল এর উদ্দ্যেসশে রওনা হয়ে গেল, সাথে গেলো মামনি। বাসায় থাকলাম আমি আর আমার ইন্টার পড়ুয়া ছোটো আপু। প্রসঙ্গত, আমরা থাকি সাভার এলাকায়, তাই ঢাকা মেডিকেল এ যাওয়া আসা কমপক্ষে পাক্কা ৩ ঘণ্টা, সাথে চিকিৎসার সময়। সুদীর্ঘ দুঃস্বপ্নকে আরও ভীতিকর করতে বিদ্যুৎ চলে গেল। আজকের মতো তখন আইপিএস এর প্রচলন ছিল না, ভরসা তাই মোমবাতি। আলো আধো ছায়ায় দুরুদুরু বুকে সেই অপেক্ষা, সেই অজানা ভয়ে কুঁকড়ে থাকা মনকে ব্যস্ত রাখতে তাই হাত বাড়ালাম পুরানো বন্ধুর দিকে। শেলফ থেকে “তিন গোয়েন্দা”‘র “নরকে হাজির” নিয়ে বসলাম। মোমবাতির ছল ছল নাচনের সাথে তাল মিলিয়ে পাতা উল্টে চললাম। রকিব হাসানের অদ্ভুত সুন্দর লেখনি আর কামড়ে থাকা কাহিনি আমাকে জাগতিক উৎকণ্ঠা থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলো ভিন্ন এক জগতে, বলতে গেলে সময়টা প্রায় উড়েই গেলো। বই শেষ হবার প্রায় সাথে সাথেই আব্বু মামনি, সুস্থ অবস্থায় বড় আপুকে নিয়ে বাসায় ফেরত আসলো। সেদিন ভয়াবহ এক অস্বস্তিকর রাতে বইকে বিশেষ করে “তিন গোয়েন্দা”কে বন্ধু হিসাবে পেয়ে অভিভূত হয়েছিলাম, যে ভালোবাসা আছে আজ অবদি নিখুঁত। সময়ের বাস্তবতায় বিদেশ বিভূঁইয়ে আজকাল হাতে নিয়ে বই পরা হয়না আগের মতো। তবে, বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো সে আছে আমার জগত জুড়ে, সর্বদা।