১. monster.de ও অন্যান্য জব সাইটগুলো দেখতে হবে।

২. বিভিন্ন সিটিতে বড় বড় জব ফেয়ারে যাবেন। ইউনিভার্সিটিগুলোতে এ সংক্রান্ত নোটিশ পোস্টার ইত্যাদি পাওয়া যাবে। ফ্রি অথবা নামমাত্র মূল্যে সেখানে যাওয়া ও আসার বাস সার্ভিস ইউনিগুলো পাওয়া যায়।

৩.সিভি লিখতে হবে ভালো করে। ইউরোপাস একটা স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট। সিভি লিখে সেটা ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার সেন্টার বা ক্যারিয়ার সার্ভিস দেয় এরকম কোম্পানী (যেমন এমএলপি) থেকে দেখিয়ে নিতে হবে। নিজে সবাত্তে বেশি বুজি এই ধারণা থেকে বেরিয়ে শেখার মনমানসিকতা নিয়ে আগাতে হবে।

৪.সিভি ও কভার লেটার হতে হবে ডয়েচে। প্রতিটা শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে ডয়েচ আলস ফ্রেমডস্প্রাখে সেকশনে কিছু বই থাকে স্যাম্পল (muster) সিভি, কভার লেটারের। ওগুলো একটু স্টাডি করে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৫.ইউনিতে জব ফেয়ার হয়। সেগুলোতে যেতে হবে। ফ্রি কলম, স্যুভেনিরের ধান্দা না করে ঘন্টাখানেক চেষ্টা করে কারো সাথে কথা বলতে পারলে সেটার লাভ বেশি। কথা বলা মানে তোমাদের ঐখানে আমি কেমনে ঢুকতে পারি টাইপ জেনেরিক আবালিয় প্রশ্ন না। ডিসকাশনটা ইন্টেলিজেন্ট হতে হবে। বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন যেটার উত্তর দিতে যারা ওখানে থাকবে তারাও যেন পছন্দ করে। ইউনির জব ফেয়ার বা অন্য জব ফেয়ারে কথা বলতে গেলে ডয়েচে শুরু করা ভালো। দরকার হলে কিছু মুখস্ত করে গেলে হলেও ডয়েচে শুরু করে পোলাইটলি ইংরেজিতে সুইচ করার অনুরোধ করলে ইম্প্রেশনটা ভালো থাকে।

৬.জার্মানিতে কিছু করতে হলে সবচাইতে বড় যে জিনিসটা লাগে সেটাকে এরা ভিটামিন বি বলে। এই B অক্ষরটা beziehungএর সংক্ষেপ। এই রিলেশনশিপ, যোগাযোগ ইত্যাদি তৈরি করার প্রথম ধাপ হলো আলাপি হতে পারা। ডয়েচিরা আলাপি না, আপনাকে তারা কী পছন্দ করে সেটা বুঝতে হবে, সেইমতো এগিয়ে আলাপ করতে হবে তাদের সাথে। ফ্যাকাল্টিতে কাজ করা পিএইচডি স্টুডেন্ট, সেক্রেটারিরা অনেক সময় তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে। তথ্যের আরেকটা সোর্স হলো লেহরবেআউফট্রাগতে অর্থাৎ লেকচারারদের কোর্সে পার্টিসিপেট করা। এরা ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে আসে। এদের ক্লাসে ভালো করা, এদের সাথে আলাপ রাখা ইত্যাদি আপনাকে ঐসব এক্সটারনাল যেখানে কাজ করে সেখানে কাজ পেতে সাহায্য করবে। এই লেহরবেআউফট্রাগতেরা সাধারণত যোগাযোগ করে ডেকান অফিস, অথবা প্রোগ্রাম স্পেসিফিক মিটআরবাইটারদের সাথে। তাদের কনভিন্স করতে পারলে আপনাকে হয়তো কোন ইমেইল এ্যাড্রেস তারা দিতে পারবে সিভি ড্রপ করার জন্য।

৭.  ইউনিতে ক্যারিয়ার টকগুলোতে এ্যাটেন্ড করা জরুরী। খেয়াল করবেন সেখানে মানুষ কীভাবে ড্রেসাপ করে, কীভাবে কথা বলে।

৮.  ক্যারিয়ার ফেয়ারগুলোতে একা হাঁটবেন। বাঙ্গালি স্টুডেন্টরা যেটা করে সেটা হলো এরা গ্রুপবেধে চলে। কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করতে হলে সাহস করে একজন প্রশ্ন করে বাকিরা ঘিরে ধরে প্রশ্নে জবাব খুব মন দিয়ে শোনে। এটা আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন এই ইম্প্রেশন তৈরি করে না।

৯. শেষ কথা, আপনাকে এফোর্ট দিতে হবে। চাকুরি পাওয়া মানে আপনার দৈনিক ৮ঘন্টা খাটার একটা চুক্তি করা কারো সাথে। সেই কাজ পেতে দৈনিক আট ঘন্টা খাটার প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের জন্য এক্সকিউজ তৈরি করবেন না কখনো। আপনি যদি দেখেন আপনার কোথাও খামতি আছে সেটা শোধরানোর ট্রাই করেন। কমপ্লেইন করবেন না। আপনি অসংখ্য রিফিউজাল পাবেন। একটা রিফিউজাল পেলে দুইটা এ্যাপ্লাই করবেন। এভাবে আগাবেন। বহু স্টুডেন্ট একসময় হাল ছেড়ে সময় পাস করতে থাকে অনর্থক। ধৈর্য্য ধরে এ্যাপ্লাই করতে হবে। বাঙ্গালিদের ভাষা, টেকনিক, এ্যাপ্রোচ খুব বড় সমস্যা। আপনি ভাষা পারেন না ঠিক আছে। কিন্তু আপনি ভাষা শেখার জন্য জেনুইনলি ট্রাই করেছেন এবং করে যাচ্ছেন এটা যদি উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে এম্প্লয়াররা আপনি সময় নিয়ে জিনিসটা শিখে যাবেন এরকম একটা ধারণা পাবে। কিন্তু আপনি ডয়েচল্যান্ডে তিনবছর পার করেছেন কিন্তু এক বাক্য ডয়েচ বলতে পারেন না এটা খুব নেগেটিভ একটা ব্যাপার। এই খামতিগুলো শুধরাতে চেষ্টা চালিয়ে যান।

আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। আমি নানাদিক থেকে মেইল পাই প্রতিদিন। আমার অবজারভেশন হলো ঠিকঠাকমতো মেইল করতে জানে না বেশীরভাগ স্টুডেন্ট। কীভাবে একটা মেইল লিখতে হবে এটা জানাটা খুব দরকারি। যেই সমস্যাগুলো প্রায়শ পাওয়া যায় সেগুলোর একটা তালিকা দেই,

১. এইটা বাংলাদেশ/ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট স্পেসিফিক সমস্যা। মেইলে ঠিকঠাক শুদ্ধ করে নিজের নামের বানানটা লিখবেন। সেটাপে/সেটিংসে গিয়ে এটা ঠিক করতে হবে। আপনার নাম যদি H.g. Mahmud দেখা যায় তাহলে সেটা ভুল। সঠিকভাবে লিখলে H. G. Mahmud। অথবা HG Mahmud। আপনি ফেইসবুকে একটু এদিক দেখলেই এইরকম স্পেসিং ছাড়া, ক্যাপে গন্ডগোল করা নাম দেখবেন। নামটা অন্তত শুদ্ধ করে লিখতে জানতে হবে

২. প্রফেসরদের মেইল করলে ইউনির মেইল এ্যাড্রেস থেকে করবেন। চাকুরি খোঁজার জন্য নিজের ব্যক্তিগত মেইল ব্যবহার করতে পারেন। তবে উভয় ক্ষেত্রে যথাযথ সিগনেচার ব্যবহার করবেন। প্রফেসরদের কাছে আপনি কোন ব্যাচ, প্রোগ্রাম, ম্যাট্রিকুলেশন নাম্বার ইত্যাদি থাকবে। চাকুরির জন্য মেইলে আপনার ঠিকানা, ফোন নাম্বার এগুলো থাকবে। সিগনেচার ফিল্ডে কারিকুরির অদরকারি। স্ট্যান্ডার্ড ফন্টই ব্যবহার করবেন। Arial হলো সবচাইতে পারফেক্ট। লালনীল রঙ করা থেকে বিরত থাকবেন। প্লেইন এ্যান্ড সিম্পল রাখবেন।

৩. ডয়েচে যেটাকে Höflichkeitsform বলে সেই পদ্ধতিতে বাক্য রচনা করবেন। Könnten Sie bitte mir sagen, could you please tell me ইত্যাদি ফর্ম ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। সরাসরি ডিরেক্ট সেনটেন্স ব্যবহার এড়িয়ে যাবেন।

৪. এইটাও আমাদের উপমহাদেশ স্পেসিফিক সমস্যা। ডয়েচলান্ডে মানুষজন এক্সপেক্ট করে আপনি কিছু জিজ্ঞেস করার আগে এই বিষয়ে জানার জন্য নিজে কিছু চেষ্টা করেছেন। যেমন প্রফেসরের কাছে গিয়ে যদি বলেন আমি কিচ্ছু বুঝি নাই এটা বিরক্তিকর। আপনি যদি এভাবে শুরু করেন যে আমি এই এই ভাবে চেষ্টা করলাম, হচ্ছে না। এখন আপনি যদি আমাকে আমার কোথায় ভুল হচ্ছে এটা দেখিয়ে দেন তাহলে আমি জিনিসটা আয়ত্তে নিতে পারি – এরকমভাবে আগাবেন। এটা এখানকার স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি। এখানে এই জিনিসটা বুঝতে পারবে তারাই যারা মানুষজনকে এটাওটা দিয়ে সাহায্য করে। একেকজনকে দেখি হুট করে গ্রুপে জয়েন করে জিজ্ঞেস করে বসে আমি ডয়েচল্যান্ড যাইতে চাই, কীভাবে যাবো? আরে আগে নিজে তো একটু রিসার্চ করতে হবে! কেউ তো তোমারে সার্ভ করার জন্য এখানে বসে নাই!

৫. মেইলে সিগনেচার ফিল্ডের মতো বডিতেও কোনপ্রকার এক্সট্রা রঙের ব্যবহার, বিবিধ ফন্টের ব্যবহার এড়িয়ে যাবেন। এরিয়াল গুড এনাফ। কোনপ্রকার এডিট ছাড়াই প্লেইন মেইল করবেন।

৬. ব্যক্তিগত তথ্য খুব স্পর্শকাতর ইস্যু এখানে। Cc ও BCcর পার্থক্য জেনে নিন গুগল করে। গণমেইলে সবার কাছে নিজের মেইল এ্যাড্রেস উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে অনেকেই পছন্দ করবে না।

৭. মোটাদাগে ডয়েচল্যান্ডে মানুষজন মেইল অপছন্দ করে। মেইল যারা রিসিভ করে তাদের সাথে ক্যান্টিনে বসলে মেইল বিষয়ে তারা রেগুলারলি কমপ্লেইন করে। দৈনিক ৫০-৬০টা মেইল রিসিভ করা এবং সেগুলো ফলোআপ করা সহজ কথা না। ধরা যাক আপনি চাকুরির এ্যাপ্লিকেশন করেছিলেন এবং এ্যাপ্লিকেশনের আপডেট জানতে চাচ্ছেন। আপনি যদি প্লেইন জিজ্ঞেস করেন যে আমার এ্যাপ্লিকেশনের আপডেট কী তাহলে এরকম সম্ভাবনা আছে যে সেই মেইলের জবাবই পাবেন না। কারণ আপনি কবে কোথায় কী পোস্টে মেইল করেছিলেন সেটা তখন ঐ কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করতে হবে যেটা একটা এক্সট্রা ওয়ার্ক। এটা করতে কেউ রাজী না। এর বদলে আপনি যদি তারিখ উল্লেখ করেন, বলেন কোন পোস্টে এ্যাপ্লাই করেছিলেন তাহলে এই এক্সট্রা কাজ থেকে ঐ কাজ থেকে মেইল রিসিভ যিনি করছেন তিনি রেহাই পাবেন।

আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বোকাবোকা মেইলের এ্যান্সার করি না। একজন স্কুলপাশ  ছাত্র যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে তার সঠিকভাবে একটা মেইল লিখতে পারা উচিৎ। এই  থ্রেডটা যারা পড়বেন তাদের সবারই হয়তো ধারণা তারা ঠিকমতো মেইল করতে পারেন।  বাস্তব আসলে ভিন্ন। অনেকেরই এই বিষয়টা ঠিকঠাক করা দরকার। নতুন জিনিস শেখা ও নিজেকে রেগুলার আপডেট করার প্রক্রিয়া আসলে সারাজীবন করে যেতে হয়।

সোর্স থ্রেড ফেসবুক লিঙ্ক

লিখছেনঃ Haseeb Mahmud

আরো পড়তে পারেন

জার্মানিতে স্টুডেন্ট এসিস্টেন্টশিপ বা HiWi

জার্মান কোন কোম্পানিতে চাকরি পেতে হলে কোন লেভেল পর্যন্ত জার্মান শেখা উচিত?

জার্মান ভাষায় চাকরির ইন্টার্ভিউর জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিবেন

জার্মান প্রবাসে কীভাবে চাকরি খুঁজতে হবে? (হাসিব মাহমুদ)

স্বপ্ন এবং বাস্তবতার জার্মান জীবন-যাপন – স্টুডেন্ট জব

খন্ডকালীন চাকরি, ডায়ামলার(মার্সিডিস-বেঞ্জ) – Ferienjob In Daimler

খন্ডকালীন চাকরির নিয়মকানুন – Laws of Part-Time Work in Germany

জার্মানিতে স্টুডেন্ট জবের ধরণ ও কাজের আইন

স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় জার্মানিতে পয়সা উপার্জন করার পন্থাসমূহ