এ লেখার সকল চরিত্র কাল্পনিক!!!!!!!!

আপনার কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলো ! মেরামতের জন্য নিয়ে গেলেন কম্পিউটার , গিয়ে দেখলেন নষ্ট কম্পিউটার মেরামত করা হয় না। ভালো ভালো কম্পিউটার গুলো খুলে খুলে দেখে দেখে বলছে আমরা শুধু ভালো কম্পিউটারই মেরামত করি।

অন্য ঘটনা বলি, সাইকেল নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু মেরামত করতে নেয়ার পর বলছে, মেরামত করতে পারবে না সে, শুধু ভালো সাইকেল আনলে মেরামত করতে পারবে !

ভালো সাইকেল, ভাল কম্পিউটার মেরামত করার কি দরকার?

কিন্তু আমাদের ক্লাস রুম গুলোতে ভাল ছাত্রদের মেরামত করে আরও ভাল করা, তাই নয় কি? খারাপ যে ছেলেটা তাকে কখনও স্যাররা ভালো চোখে দেখে না, কিন্তু সত্যিকার অর্থে স্যার এর মূল কাজ কিন্তু পিছনের বেঞ্চ এর ছেলেটাকে নিয়ে চিন্তা করা !

আমার জীবনে কখনও খুব ভালো ছাত্র নামক বিশেষণ লাগাতে পারি নি । তাই আমি খারাপ ছাত্র হওয়ার কষ্ট, অবহেলা গুলো সহজেই সয়ে গেছি। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে যখন আমার চাকুরী শুরু করি তখন আমি খারাপ ছাত্রদের কিভাবে ভালো করা সম্ভব তা নিয়ে চিন্তা শুরু করি। একটা জিনিস দিয়ে শুরু করেছিলাম, তা হল “জাগিয়ে তোলা”। ঘুম থেকে না ! নিজের ভিতরের সেই ‘আমিও পারব’ সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলা। একটু আপন করে তার দুর্বলতা শোনা এবং সহজ করে পড়ানো ও!

আমার এই লেখার কারণ হলো ,”আমার খালাতো ভাই বুয়েট অথবা ডি ইউ তে পড়ে, সেই রিডিং এ ৬ পেয়েছে, ভাইয়া আমি কি তাহলে পারব ? এই রকম অনেকের মেসেজ পাই আর চিন্তা করি, তারপর নিজে নিজে হাসতে থাকি । কারণ আমাদের স্কুল কলেজ থেকে আমরা আস্তে আস্তে হীনন্মন্যতায় ভুগতে থাকি আর এর ফলাফল এই রকম চিন্তাভাবনা ! ভাই আপনার ভাই বুয়েট অথবা যেখানে পড়ুক একটা কথা মনে রাখবেন, তার চার হাত আর তিন চোখ নেই , আল্লাহর দেয়া সুপার ব্রেন অথবা নেয়ামতটা কে সেই কাজে লাগাচ্ছে এবং পরিশ্রম করছে আর আপনি তার উপর হিংসা করছেন ! আপনার এবং তার মধ্যে তফাৎ হল সে নিজেকে নিয়ে হীনন্মন্যতা অথবা নিজেকে ছোট ভাবেনা আর আপনি নিজেকে ছোট মনে করছেন।

এখন আসেন আমার লাইন এ আসি ! মনে রাখবেন জন্ম থেকে কেউ কিছু শিখে আসেনা , তা নাহলে জন্মের পর দেখতেন বাচ্চারা স্কুল এ না গিয়ে সরাসরি ইউনিভার্সিটিতে শুরু করতো। আপনি দুর্বল হলে আস্তে আস্তে শুরু করেনঃ মজারকিছু , সহজ কিছু পড়েন। একটা ভাষা শিখা আর সাইকেল শিখা দুটাই সমান এবং রিডিং যদি প্রথমে না পারেন তাহলে চেষ্টা করতে থাকেন। কোন বই অথবা কোচিং আপনাকে রিডিং এর দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করবেনা যতক্ষণ না আপনি সচেতন হবেন।

ভাইরে, একবার শুরু করমু তারপর কেউ থামাতে পারবো না, এরকম কথা অনেক শুনি! কিন্তু,  তাড়াহুড়া করে তখন কিছুই পারবেন না। আমার হাতে অনেক সময় আছে , এই চিন্তা রেখে আজ থেকে ইংরেজি অল্প অল্প করে পড়ার চেষ্টা করেন। মজার মজার ম্যাগাজিন, ইংরেজি অনলাইন নিউজপেপার পড়েন। ক্রিক ইনফো এর লেখা গুলো পড়েন, দেখবেন কত সুন্দর লেখাগুলো । আর আপনার চেষ্টার ফলে যখন ভাল স্কোর পাবেন তখন একদিন আপনার বুয়েট এর ভাই অথবা বন্ধু আপনাকে নিয়ে গর্ব করবে …তাই,একটা কাজ আজ থেকে শুরু করুন, সেটা হচ্ছে “মিশন পসিবল”।

আর লেখার প্রথমেই উদাহরণ গুলোর কারণ হল, আমি সবসময় সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত এবং আমার কোন কথা না বুঝলে আমাকে জানাবেন, তাহলে আরও সহজ করে বলার চেষ্টা করবে। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার ভেতরের “আমি”কে আস্তে আস্তে জাগান, দেখবেন রিডিং কেন জীবনে কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করা লাগবেনা।

—রায়হান

Founder of IELTSOLOGY !!!