সোহেলের সাথে আমার পরিচয় এখানে আসার দুইমাস পুর্বে। সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশীয় এজেন্টের অফিসে বসে স্পন্সরশীপের জন্য কাগজপত্র জমা প্রস্তুত করার সময় তার আগমন ঘটে। শার্ট-প্যান্ট ইন করা ছেলেটির চোখেমুখে প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট। পরিচয় পর্ব শেষে জানা গেল, ঢাবিতে ফার্মাসিতে মাস্টার্স করে একটা ভাল কোম্পানিতে চাকরি করছে। আমার চেয়ে এক বছরের সিনিয়র, আমার মতই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। আমার কোর্সেই পড়তে আসতে চায়।

ক্লাস শুরুর এক মাস পরে একই ফ্লাইটে করে Frankfurt পৌছালাম। সেখান থেকে ভার্সিটির গাড়িতে করে আমাদেরকে ডর্মেটরিতে আনা হল। রুমমেট হিসেবে পেলাম তাকে। অস্থায়ী ক্যম্পাসটি গ্রামে হওয়ায় পুর্বে আসা দেশীয় ছাত্র/ছাত্রীরা হতাশাজনক কথা শোনাতে লাগল। আমি কয়েকমাসের খরচের টাকা এনেছিলাম, সেও ব্লক একাউন্টসহ সমস্ত খরচের ১১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১০ লাখের মত আত্মীয় স্বজনের কাছ ধার করে এনেছিল। একসপ্তাহ পরে একদিন সকালে আমাকে বলল, “আমি তিন চার দিনের মধ্যে দেশে চলে যাচ্ছি”।
কারণ জানা ছিল তবুও তাকে স্বান্তনা দিতে লাগলাম। তাছাড়া দেশে ফিরে গেলেও তার কমপক্ষে ২ লাখ টাকা ক্ষতি হবে যেটা পুরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অতল সাগরে হাবুডুবু খাওয়া আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের রুমে কোন নিরাশাবাদীদের জায়গা হবে না। যারাই হতাশার কথা বলত আমরা ভদ্রভাবে তাদেরকে টপিক পরিবর্তন করতে অনুরোধ করতাম। এতে অনেকেই আজীবনের জন্য প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হলেও আমরা সেটা পাত্তা দিলাম না।

কিছুদিন পরে আমি অন ক্যম্পাস জব পেলাম, এক সেমিষ্টার পরে সেও জব পেল। আমাদের লোণগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। পাশ করার আগেই আমার রিসার্চ জব আর বন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশীপসহ তার পিএইচডি নিশ্চিত হয়ে গেল।

তার সুপারভাইজার বায়োমিমেটিক ম্যাটেরিয়ালের একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী। প্রথম দিকে একটু পেইন দিলেও সম্প্রতি তার একটি পেপার খুব ভাল একটি জার্নালে গৃহীত হওয়ায় প্রফেসর খুশি হয়ে তার কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। মাস ৮ পরে তার পিএইচডি শেষ হওয়ার কথা। শুনেছি, পোষ্টডক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রফেসরের সাথে তার আলাপ চলছে।