জার্মানির উচ্চ শিক্ষা কিছু ভাল দিকঃ অনেকেই জানতে চেয়েছেন জার্মানির কি ভালো কোন দিক নাই? অনেক আছে। খারাপ অল্প কিছু দিক। ভালো দিকই বেশি। সেগুলার মধ্যে অল্প কিছু আমি সিরিজ আকারে তুলে ধরলাম।

১। কোন টিউশন ফি নাইঃ জার্মানির হাতে গোনা অল্প কিছু ভার্সিটি ছাড়া কোথাও টিউশন ফিস নাই। প্রতি সেমিস্টারে (৬ মাসে) ২০০-৩০০ ইউরো সেমিস্টার কন্ট্রিবিউশান ফিস দিতে হয় যেটা খুবই নগন্য এবং পড়াশোনার জন্য না। এই ফি এর বিনিময়ে বিশেষ কিছু সুবিধা দেয়া হয়। তারমধ্যে একটা হল পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট টিকেট, লইয়ার ফিস(যেকোন আইনগত সমস্যায় ফ্রিতে লইয়ারের হেল্প পাবেন) ইত্যাদি। ফ্রি ইউনিভার্সিটিতে আপনি ওয়ার্ল্ড ক্লাস শিক্ষা পাচ্ছেন। পৃথিবীর সেরা সেরা ল্যাবে গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। RWTH কে ইউরোপের MIT বলা হয়। আমার মেধা আর অর্থসাধ্যও ছিল না MIT মত ভার্সিটিতে পড়ার অন্য কোন দেশে। জার্মানি সেই সুযোগ করে দিয়েছে। গডফাদার অফ ডাটা সায়েন্স এবং প্রসেস মাইনিং এর উদ্ভাবক প্রফেসর ভ্যান ডার এলাস্টের ক্লাস এবং তার টিমের আন্ডারে কাজ করার সুযোগ আছে এখানে। মেশিন লার্নিং, ভারচুয়াল রিয়ালিটি, সিমেন্টিক ওয়েব, এলগরিদম এর বসরা এখানের প্রফেসর। RWTH ইইউনিভার্সিটির বিশাল ক্লাস্টার কম্পিউটারে কাজ কাজ করার সুযোগ আছে এখানে। বিশ্ববিখ্যাত গাড়ির কম্পানির ল্যাবে আছে গবেষণার সুযোগ।

২। ফ্রি পাব্লিক ট্রান্সপোর্টঃ আপনি প্রতি সেমিস্টারে যে কন্ট্রিবিউশান ফি দেন সেটা আসলে আপনাকে ফ্রি কিছু সার্ভিস দেয়। তার মাঝে একটা হল আপনার স্টেটের (স্টেট ভেদে ভিন্ন) যে কোন পাব্লিক বাস, লোকাল ট্রেন, ট্রামে ফ্রিতে ঘুরতে পারবেন। কোন কোন ইউনিভার্সিটি অল্প জায়গার দেয়। RWTH আবার সম্পূর্ণ NRW স্টেট সহ নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়াম একটা বড় শহর কভার করে ফ্রি টিকেটের আন্ডার। ফ্রিতে ইচ্ছা করলেই নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ঘুরে আশা যায়। এই টিকেটটা স্টুডেন্ট না হলে কিনতে গেলে কয়েক হাজার ইউরো খরচ পরত।

৩। অসাধারণ পাবলিক ট্রান্সপোর্টঃ দেশে আমাকে সবচেয়ে বেশি বদার করত পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট। কখন আসবে, যাবে কোন ঠিক নাই। আর বাসের কন্ডিশনের অবস্থা নাই বলি। জার্মানির পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আসলেই অসাধারণ। চকচকা বাস মোটামুটি টাইম মেইনটেইন করে চলে। দেশের মত বাসে উঠলেই মনে হয় না “এই গেলাম গেলাম!!” জার্মানি আসলে মনে হয় “আসলেই তো পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট এমন হওয়া উচিত।” বাসের app থাকে। app দেখে বাসা থেকে টাইম ধরে বের হওয়া যায়। হেল্পারের সাথে ভাড়া নিয়ে কামড়াকামড়ি করতে হয় না।

৪। খাবার খরচ কমঃজার্মানির খাবার খরচ অনেক অনেক কম। এখানে গরুর গোস্ত দেশের টাকায় ৫০০-৬০০ টাকা শুরু শুরু। আলু, পেয়াজ হাবিজাবি সবই বেশ সস্তা। এখানে একজন স্টুডেন্ট হিসেবেও আপনি খাবার দাবারের যে স্ট্যান্ডার্ড পাবেন, সেটা দেশে এভারেজ স্টুডেন্ট পায় না।

৫। ফ্রি চিকিতসাঃ ইয়েস!!এখানের চিকিৎসা ফ্রি। প্রতি মাসে ১১০ ইউরোর বিনিময়ে আপনি হেলথ ইন্সুরেন্স নিবেন। কোন ইমার্জেন্সি বা ডাক্তার দেখানো একদম ফ্রি। মাঝে মাঝে অল্প কিছু চার্জ কাটে। যেমন এখানে আসার পর পায়ে ব্যাথার জন্য ডাক্তার দেখাইলাম একদম ফ্রিতে। হাতের আংগুল ভেংগে গেল, সকল চিকিৎসা একদম ফ্রি। আমার শুধু হাতের একটা প্লাস্টিকের জিনিসের জন্য ১০ ইউরো দেয়া লাগসিল।

৬। ওয়েদার অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায়ঃ জার্মানির ওয়েদার ইউরোপের অনেক দেশ থেকে বেশ ভাল। প্রচন্ড ঠান্ডা নাই। ইউরোপের অন্য দেশের মত মাঝে মাঝেই ২০ ঘন্টা দিন/২০ ঘন্টা রাত থাকে না। সামারে সারাদিন হাফপ্যান্ট পরে পার্কে কাটায়ে দেয়া যায়। জার্মানি আসলে বা শীতের দেশে আসলে বোঝা যায় সামারের মর্ম কি!!

(ইনবক্সে গতকাল অনেকেই মেসেজ দিয়ে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। সবার মেসেজের এন্সার দেয়া সম্ভব না। বিশেষ করে মানুষজনের ভার্সিটি চুজ করে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। মানুষজনকে বাইরে এপ্লাই করার বেসিক ইনফো ২০ জনকে বলাও সম্ভব না। এগুলা সব গ্রুপে লেখা থাকে।

১। আমি জানি না আপনার প্রেফারেন্স কি। গ্রুপে কিছু নাম শর্ট লিস্ট করে সাজেশন চাইলে আমার থেকে ভাল হেল্প পাবেন।

২। ফাইল সেকশানে সব দেয়া থাকে। ফাইল সেকশান না দেখে আমাকে ডাইরেক্ট জিজ্ঞেস করলে তো লাভ নাই। আমি আসছি প্রায় ২ বছর আগে। ২ বছরে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়েছে। বিশেষকরে করোনার জন্য।

৩। সবচেয়ে বাজে হল ভাই ভার্সিটি চুজ করে দেন, বললাম কিভাবে করতে হবে, ভাই স্টেট চুজ করে দেন,বললাম কি করতে হবে, ভাই শহর চুজ করে দেন,তখন বললাম আইডিয়া কম। কারন হল স্পেসিফিক শহর নিয়ে গ্রুপে জিজ্ঞেস করলে যারা থাকে তারাই ভাল বলতে পারবে। এর পরে বিশাল মেসেজ “শহর নিয়ে আইডিয়া না থাকলে কেন পোস্ট দিসেন?” লিখে ব্লক।এইগুলা করবেন না।)

-তবীব ইবনে মাযহার
আখেন, জার্মানি।