Jamal Uddin Adnan

আজকে উইন্ডোজের লগিন স্ক্রিনে হঠাৎ দেখি এই ছবি আসলো – মিউনিখের মারিয়েনপ্লাতজ ট্রেন স্টেশন এইটা।জীবনের একটা কঠিন সময় মনে করানোর জন্যে এই ছবিটা আসলো বোধহয় চোখের সামনে। এই মারিয়েনপ্লাতজ স্টেশন ছিলো সেইটার কেন্দ্রে। সারাজীবন পড়ালেখা আর যে কোনো কাজ আইলসামি করে করতাম – কোনো একটা ধাক্কার দরকার ছিলো। সেইটা পাইলাম ২০১১-১৩ সালে মিউনিখে যখন ছিলাম তখন। ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা, এসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট করতে করতে কখন যে পার্টটাইম করুম দিশা পাইনা, তাই দিনে ভার্সিটির সবকিছু আর রাতে জবের কাজ। জবটা কি?

বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ আলিয়েঞ্জ এরেনায় থালাবাসন মাজা। একেকদিন খেলা থাকে তো ৭০ হাজারের বেশি দর্শক হয় – আর খানাদানার জন্যে কত আকার-প্রকারের বাসনকোসন যে দুনিয়ায় আছে তা ঐখানেই দেখলাম। ১২-১৪ ঘন্টা এই অমানুষিক কাজ করতে করতে রাত কখনও ৪-৫টা বেজে যাইতো বের হইতে হইতে – স্টেশনে এসে কোনো কোনোদিন ঘন্টাখানেক বসে থাকতাম আমি, Shahabuddin Alam, শরীফ ভাই, সাকিব ভাইসহ আরো কয়েকজন। ২-৪ ঘন্টা ঘুম দিয়েই আবার কোনো কোনোদিন ক্লাস করতে চলে যাইতাম। পুরা ট্রেনস্টেশনে আমরা কয়েকজন মাত্র বসে মাঝে মাঝে মনে করতাম – এই টানেলের মতই কি লাইফের অনিশ্চয়তা? আগা-মাথা পাইতামনা কিছু। মাঝেমধ্যে তাই একটু ডিফারেন্ট আকারের প্লেট পাইলে ঐগুলা ভেঙ্গে ঝাল ঝাড়তাম আমরা। তারপর কিছুদিন করলাম আবেরক্রম্বি এন্ড ফিচ ব্রান্ডের দোকানে কাপড় ভাঁজ করে শেলফে রাখার কাজ।

May be an image of text

সারাজীবন বাইরে থেকে এসে দলাই-মোচড়াই করে রাখার মানুষগুলা আমরা কাপড় ভাঁজ করে রাখার কত কলাকৌশল যে শিখলাম! এখন বৌ যখন কাপড় ভাঁজ করে ওয়াড্রোবে রাখতে যায় তখন বিপদে পড়ে যায় একটু এদিক ওদিক হইলেই। কোনো একদিন বায়ার্ন মিউনিখের খেলার সময় কাজের এক ফাঁকে লুকাই লুকাই গ্যালারির অংশটাতে গিয়ে ছবি তুললাম আর ফেসবুকে দিলাম – কেউ কেউ বললো – “ভাই আপনে কত লাকি!”। লাইফ এমনই – সবাই লাকি পার্টটাই দেখবে, থালাবাসন ধোয়ার সময় মানুষের এটোঁ সাফ করা, সেইটা মুছে সুন্দর করে সাজাই রাখা, কাজ শেষে ময়লা শরীরে বাসায় ফেরাটা চোখে পড়বেনা।

তবে এই এক্সপেরিয়েন্সটাও হাম্বলিং – এখন আল্লাহর কাছে এমন অভিজ্ঞতার জন্যেও শোকর করি। সূরা আশ-শারাহ তে আল্লাহ দুইবার করে বলছেন – “ফা ইন্না মা আল উছরি উছরা” – “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে”। সেদিনগুলোর অভিজ্ঞতা না হইলে এখনও অনেক কিছুই কঠিন লাগতো, অনেক কিছুতেই ভয় পাইতাম – এখন অনেক বড় বড় ঝামেলাও মনে হয় ম্যানেজেবল। আলহামদুলিল্লাহ।