Akhter Sharmin

February 2 at 11:59 AM . . . . #মেয়েদেরশপিংপ্রস্তুতি

বিদেশে আসার জন্য প্রস্তুতিস্বরুপ শপিংয়ে মেয়েদের যা যা লাগবে তার একটি তালিকা করার চেষ্টা করেছি আমি। কারন ছেলেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর পাশাপাশি মেয়েদের আলাদা করে কিছু জিনিস প্রয়োজন হয় যেমন: কসমেটিক্স, স্যানিটারি প্রোডাক্টস, কিছু স্পেসিফিক মেডিসিন ইত্যাদি! আপনারা চাইলে এর সাথে নিজেরাও কিছু জিনিস যোগ করে দিতে পারেন!

১.কসমেটিক্স : এইখানে যেহেতু বাংলাদেশ এর তুলনায় আবহাওয়া একটু বেশী ঠাণ্ডা থাকে তাই উইন্টারে ব্যবহার করা হয় এমন ক্রিম, লোশন ইত্যাদি কিনতে হবে! অবশ্যই ছোট সাইজ কিনতে হবে কারন এখানে বেশীদিন ওগুলি কাজ করবেনা! আমি গারনিয়ার এর উইন্টার ক্রিমটা এনেছিলাম ছোট সাইজ! দুই সপ্তাহ পরে এখানে নতুন কিনেছি! কারন স্কিন অনেক রুক্ষ হয়ে যায় এখানে তাই এখানকার ওয়েদার এর জন্য এখানকার প্রোডাক্টসই ভাল হয়! আর লোশনের ক্ষেত্রেও তাই! নিভিয়া লোশনটা আমার জন্য ভাল ছিল!
শ্যাম্পুর ক্ষেত্রে, দেশে যা ব্যবহার করতেন সেটিই আনুন! এখানে এসে অনেকের মাথার স্কালে খুশকি বেড়ে যায়, অনেকের চুল ঝরে যায়, চুল তেলতেলে হয়ে যায়! তাই এখানে এসে চুলের অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে মানে শ্যাম্পু সিলেক্ট করতে হবে! গোছলের জন্য শাওয়ার জেল/সাবান একটা নিয়ে আসুন প্রাথমিক অবস্থায় ব্যবহারের জন্য।
চুলের তেল পাওয়া যায় এখানে। কিন্তু দেশ থেকে বড় সাইজের প্যারাসুট তেল,জুঁই অথবা যে যেটি ব্যবহার করেন সেই নারিকেল তেল নিয়ে আসবেন। এখানে এসে বেশী দামে কেনা এবং খোঁজাখুঁজির ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন তাহলে।
আর কসমেটিক্স প্রোডাক্টস দেশের গুলোর তুলনায় এখানেই ভাল পাওয়া যায় বলে আমার মনে হয়! মেকাপ প্রোডাক্টস দেশে যেটুকু আছে ওইটা নিয়েই আসুন। বাকিটা এসে কিনলে ভাল হয়!

২.স্যানিটারি প্রোডাক্টস : এখানে ন্যাপকিন এর কোয়ালিটি ভাল। দেশ থেকে আসার সময় পিরিয়ড এর ডেট কাছাকাছি থাকলে এক বা দুই প্যাকেট ন্যাপকিন নিয়ে আসুন। এরচেয়ে বেশী প্রয়োজন হবেনা কারন এখানে দেশের তুলনায় কম দামে ভাল কোয়ালিটির ন্যাপকিন পাওয়া যায়।

৩.মেডিসিন : কারো কোনো স্পেসিফিক অসুখ থাকলে সেটির ওষুধ পর্যাপ্ত আনুন। এখানে এসে ইংলিশ স্পিকিং ভাল ডাক্তার পেতে একটু বেগ পেতে হয় তাই ততদিন চলবে এমন পরিমাণ ওষুধপত্র সাথে আনবেন। উদাহরণ, হরমোনজনিত সমস্যা যেমন কারো থাইরয়েড এর সমস্যা থাকতে পারে,কারো এজমা থাকতে পারে, কারো পিরিয়ড এর সময়ে অত্যধিক লোয়ার এবডমিনাল পেইন থাকার কারনে পেইন কিলার নিতে হতে পারে। এর সাথে অবশ্যই জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা, পেট খারাপ আর এসিডিটির ওষুধপত্র আনতে ভুলবেন না।

৪.লিনজেরি/লনজেরি/লিনগেরি প্রোডাক্টস : এখানে অন্তর্বাস নিয়ে বেশ সমস্যায় পরতে হয়। কারন এখানে দাম কম গুলোর কোয়ালিটি ভাল না। আর বেশী দামের গুলো একটার দাম দিয়ে দেশ থেকে ২-৩ টা কিনে আনা সম্ভব। তাই দেশ থেকে আসার সময় পর্যাপ্ত ব্রা, পেন্টি সাথে আনুন। দেশে ঢাকা কলেজের উল্টোদিকে নুরজাহান মার্কেটে রিজনেবল দামে ভাল ব্রা, পেন্টি পাওয়া যায়।

৫.জুতা: একজোড়া জুতা পরে আসুন। এখানে এসে জুতা কিনতেই হয়। দেশের জুতা পরে হাঁটলে পা ব্যথা হয়। দেশের জুতা আরামদায়ক হয় না, আর এখানে প্রচুর হাঁটতে হয় তাই এখানে এসে একটু আরামদায়ক জুতা কিনে নেয়াই ভাল। জুতার ক্ষেত্রে পয়সা বাঁচানোর চিন্তা বাদ দেয়াই ভাল নয়ত পা নিয়ে কান্নাকাটি করতে হবে।

৬.বদনা: টয়লেটের বদনা নিয়ে অনেক লিখা আছে গ্রুপে। কিন্তু বদনা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই। এখানে ইউরোশপ, টেডি, কোডি, ওলওরথ এসব দোকানে এক ইউরোতে বদনা শেপের গাছে পানি দেয়ার একটা জিনিস পাওয়া যায়। ওইটা দিয়েই আজীবন বদনার কাজ চালানো যায়।

৭.মশলা: এইটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এক জিনিস এই প্রবাস জীবনে। তাই বেশীবেশি মশলা আনবেন।

৮.সুইসুতা: এখানে যদিও সূঁচ ও সুতা পাওয়া যায় টেডি ও কোডিতে তবু দেশ থেকে আনাই ভাল কারন এখানে দামটা বেশি পরবে।

৯। জামা-কাপড়: শাড়ি, সামারে পরার ফতুয়া, স্যান্ডেল। এইখানে সুতি কাপরের দাম দেখলে হার্ট এটাক হবে। আর সামারে পরার মতো সুন্দর স্যান্ডেলও চিনেনা এরা। এইসব জিনিষ দেশ থেকে আনলে ভালো।ওয়েস্টার্ন জামা কাপর এখান থেকেই কেনা যায়। c&a বা H&M এ ডিস্কাউন্টে সব কিছুই কম দামে পাওয়া যায়। টিশার্ট, জিন্স, টপস।

কিছু বাদ পরলে মন খারাপ করার কিছু নেই। এখানে সবই মোটামুটি পাওয়া যায়, দেশের তুলনায় দাম একটু বেশি পরবে কিন্তু পাবেন। তাই সব চিন্তা বাদ দিয়ে যত পারেন রস গোল্লা, রস মালাই, জিলাপি, বিভিন্ন শাক ইত্যাদি গলা পর্যন্ত খেয়ে আসুন। সবার বিদেশ যাত্রা শুভ হোক!