যারা ফার্মেসি তে পড়াশোনা করে উন্নত ডিগ্রি এর জন্য অথবা বাইরে সেটেল হওয়ার জন্য চিন্তা করছেন তাদের জন্য জার্মানি একটা ভালো অপশন হতে পারে। পোস্টটি যারা ফার্মেসি থেকে ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স শেষ করে জার্মানিতে পুনরায় মাস্টার্স এর জন্য আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ডেডিকেটেড।

মাইন্ড সেটআপ

আমার মতো অনেকেই যারা বাংলাদেশ থেকে ফার্মেসি তে এমফার্ম বা বিফার্ম করে জার্মানি এর কথা ভাবছেন, প্রথমেই তাদের মেনে নিতে হবে এখানে যেকোনো ফার্মেসী সম্পর্কিত বিষয়ে পড়তে হলে আপনাদের বাংলাদেশ এর যে কোনো বিফার্ম বা এমফার্ম এর থেকে কমপক্ষে তিনগুণ বা চারগুণ বেশী আমি আবারো বলছি কমপক্ষে তিন/চার গুন বেশী ইফোর্ট দিতে হবে পড়াশোনায়। যারা মেনে নিতে পারবেন না তাদের জন্য জার্মানি হয়তো বেস্ট অপশন না।

আর বাংলাদেশ থেকে বিফার্ম আর এমফার্ম সম্মিলিত ভাবে ৫/৫.৫ বছরের কোর্স হলেও ইন্টিগ্রেটেড না। ফার্ম ডি তে যেটা ইন্টিগ্রেটেড। সো বিফার্ম, এমফার্ম করে আপনি ইউরোপে ফার্মেসী প্র্যাকটিস এর জন্য উপযুক্ত না। সেক্ষেত্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করা ছাড়া আপনি ডিরেক্ট জব নিয়ে এখানে আসতে পারবেন না।

ইউনিভার্সিটি শর্টলিস্ট

সিম্পল প্রসেস। গুগল তো অবশ্যই করবেন এবং/অথবা ডাড (bit.ly/2wvK9TF) এর ওয়েবসাইট এ যাবেন, Course Type (Master), Course Language (English), Field of study (Medicine) ফিল্টার গুলো ব্যাবহার করে আপনার পছন্দের কোর্সগুলো খুঁজে বের করবেন। Field of study পরিবর্তন করেও খুঁজে দেখতে পারেন। Field of study মেডিসিন চুজ করলে সেখানে মোটামুটি ৪০ এর কাছাকাছি কোর্স পাবেন যেগুলোর মধ্যে আপনার পছন্দের কোর্স হয়তো খুবে পাবেন। প্রতিটা কোর্স এর ডিটেল পেইজ এ কোর্স এর বেসিক রিকোয়ারমেন্টস সহ জেনারেল ইনফরমেশন গুলো পাবেন আর হাতের ডানে কন্টাক্ট পার্ট এ কোর্স ওয়েবসাইট এর হাইপার-লিঙ্ক পাবেন। সেখান থেকে ডিরেক্ট ইউনিভার্সিটি এর ওয়েবসাইট এ যেয়ে কোর্স রিকুয়ারমেন্ট/ডিটেল গুলো চেক করবেন। তবে টিউশন ফী আছে কিনা সেটি অবশ্যই চেক করে নিতে ভুলবেন না। ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং নিয়ে খুব একটা চিন্তা করার দরকার নেই আপনাদের। জার্মানি তে বেশীর ভাগ পাবলিক ইউনিভার্সিটি মোটামুটি ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং এ ভালো অবস্থানে আছে। তাছাড়া আমার মনে হয় ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং এর থেকে আমরা কি ধরনের কোয়ালিটি অর্জন করবো সেটার দিকে আমাদের মনযোগী হওয়া উচিত।

জার্মান ইউনিভার্সিটি গুলো সাধারণত প্রোফেসর বেইজড হয় না। সরাসরি ইউনিভার্সিটি তে অথবা ইউনি/মাই এসিস্ট এর মাধ্যমে ডকুমেন্ট পাঠাতে হয়। ইউনিভার্সিটি এর নিজস্ব অ্যাডমিশন কমিশন থাকে তারাই সম্মিলিত ভাবে অ্যাপলিক্যান্ট সিলেক্ট করে। স্পেসিফিক কোর্সের ওয়েবসাইটে এই সব ইনফরমেশন পাবেন। কিভাবে ডকুমেন্ট পাঠাতে হবে সেটা নিয়ে গ্রুপ এ যথেষ্ট পোস্ট আছে।

রেজাল্ট ফ্যাক্ট

হ্যাঁ, ভালো রেজাল্ট আপনার জন্য পজিটিভ। এখানে সায়েন্স এর কোর্স গুলো অনেক কম্পিটিটিভ। তবে প্রত্যেক টা ইউনিভার্সিটি এর কিছু সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া থাকে। দেশে পাবলিক নাকি প্রাইভেট থেকে পড়েছেন সেটা ম্যাটার না। মিনিমাম পাসিং গ্রেড টা ম্যাটার করে। বাকিটা যে ইউনিভার্সিটি টে ডকুমেন্ট পাঠাবেন তারা কনভার্ট করে নিবে অথবা ইউনি/মাই এসিস্ট কনভার্ট করে দিবে। সাধারণত ব্যাচেলর রেজাল্ট, মোটিভেশনাল লেটার/এস.ও.পি আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি ভেদে সাবজেক্ট রিলেটেড/এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি এর কম্বিনেশনে মারকিং করা হয়। কারো ব্যাচেলর এর রেজাল্ট এ কিছুটা কম মার্ক আসার সম্ভাবনা থাকলে সময় নিয়ে ইউনিক মোটিভেশনাল লেটার/এস.ও.পি (যেখানে যেটা প্রয়োজন) তৈরি করবেন যেটা আপনাকে কিছুটা হলেও ব্যাকআপ দিবে। অবশ্য অবশ্যই প্রতি সাবজেক্ট এর জন্য মোটিভেশনাল লেটার/এস.ও.পি আলাদা এবং সাবজেক্ট রিলেটেড হতে হবে।

আমার কোর্স (ডিজিটাল হেল্‌থ, পোটসডাম ইউনিভার্সিটি) এর ক্ষেত্রে মারকিং টা ছিলো এমন (কোর্স কো-অরডিনেটোর কে ইমেইল করে জেনেছিলাম)

  • ব্যাচেলর মার্ক্স ৫১%
  • মোটিভেশনাল লেটার/ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক টেস্ট ২৫%
  • সাবজেক্ট রিলেটেড এডিশনাল/এক্সট্রা কারিকুলার এক্সপেরিয়েন্স ২৪%

স্টাডি গ্যাপ

টাকা ব্লক করে পড়তে আসলে স্টাডি গ্যাপ ম্যাটার না। তবে স্টাডি গ্যাপ কেনো ছিলো তার ভ্যালিড রিজন লাগবে আর ডাড স্কলারশিপ এর কথা ভাবলে লেটেস্ট ডিগ্রির পর থেকে ৬ বসরের বেশী স্টাডি গ্যাপ থাকা যাবে না। সেক্ষেত্রে স্কলারশিপ এর জন্য আপনি ইলিজিবিল হবেন না। আরও কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে ডাড স্কলারশিপ এর জন্য। চেক করে নিতে পারেন এখান থেকে (bit.ly/2T1NNO7)।

ইনফর্মেশন হাব

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আপনার ইনফরমেশন সোর্স হওয়া উচিত আপনি যে প্রোগ্রাম/কোর্স পছন্দ করেছেন তার কো-অরডিনেটর। ইউনিভার্সিটি এর ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে তার ইমেইল এড্রেস খুঁজে বের করে নিতে হবে। প্রথমে কোর্স ওয়েবসাইট এ যা যা দেওয়া আছে সব চেক করবেন। সাধারণত সব ই পাবেন। সময় দিয়ে খুঁজে নিতে হবে শুধু। তারপর ও মনে যদি কোনো কিন্তু থেকে থাকে তাহলে নির্দ্বিধায় কোর্স কো-অরডিনেটর কে ফর্মাল ইমেইল করেন। ১০০% রেসপন্স পাবেন ২/৩ ওয়রকিং ডে এর মধ্যেই। প্রিসাইজ, এক্স্যাক্ট এবং অথেনটিক ইনফরমেশন সাথে প্রয়োজনীয় লিঙ্ক (যদি থাকে) ও পাবেন। তবে যে ইনফরমেশন গুলো সহজেই গুগল করে বা গ্রুপ থেকে পাওয়া যায় (IELTS রিকোয়ারমেন্ট, ডেডলাইন, কোন কোন ডকুমেন্ট লাগবে আর সেগুলো কিভাবে প্রসেস করতে হবে ইত্যাদি…) সেগুলোর জন্য রিকোয়েস্ট করবেন না প্লীজ।

স্পেফিসিক প্রোফেসর দের ইমেইল না করাই ভালো আমার মতে। আমি করেছিলাম অনেক। রেসপন্স রেট কম থাকে আর বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তারা রেফার করে কোর্স কো-অরডিনেটর কে।

SOP (Statement of Purpose) / MOI (Medium of Instruction)

কিছু কিছু ইউনিভার্সিটি MOI দিয়ে অ্যাপ্লাই করার সুযোগ দেয়। সেক্ষেত্রে IELTS না থাকলে বা রেজাল্ট এরাউন্ড ৫.৫/৬ থাকলে তাদের বলার দরকার নাই। MOI দিয়েই অ্যাপ্লাই করে দেন আর IELTS টা শুধুমাত্র ঢাকাস্থ জার্মান এমব্যাসি কে দেখানোর জন্যই রেখে দেন। একটা কথা জেনে রাখা ভালো আপনি যে ইউনিভার্সিটি তে MOI দিয়ে অ্যাপ্লাই করবেন সেখানে IELTS বাধ্যতামূলক না হলেও ঢাকাস্থ জার্মান এমব্যাসি তে এটি বাধ্যতামূলক। আমি আমার কোর্স কো-অরডিনেটর কাছ থেকে একটি স্টেটমেন্ট নিয়েছিলাম এই মর্মে যে, আমি যেই কোর্সে অ্যাপ্লাই করেছি সেখানে IELTS বাধ্যতামূলক নয়, MOI ই এনাফ আমার কোর্স এর ল্যাঙ্গুয়েজ রিকোয়ারমেন্ট ফিল করার জন্য। কিন্তু এটি কাজে আসে নি জার্মান এমব্যাসি তে। পরে বাধ্য হয়ে কম্পিউটার ডেলিভারড IELTS দিতে হয়েছিলো তাড়াতাড়ি রেজাল্ট পাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে ভিসা ইন্টার্ভিউ এর পর মিসিং ডক হিবেসে IELTS এর সার্টিফিকেট কপি দিতে হয়েছিলো। আর ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং স্ট্যান্ডার্ড গুলোতে রেজাল্ট ভালো থাকলে অনেক সুবিধা পাবেন এখানে আসার আগে এবং পরেও।

আর যেসব ইউনিভার্সিটি তে IELTS/GRE/TOFFEL এর স্পেসিফিক রেজাল্ট চায় সেক্ষেত্রে তো সেটাই মেইন্টেইন করতে হবে। কোনো অল্টারনেট নেই এখানে।

ফিউচার প্রোস্পেক্ট

নির্ভর করে আপনার কি, কিভাবে চাচ্ছেন আর তার পিছনে কতোটা সময় দিচ্ছেন তার উপর। জার্মানি উন্নত দেশ হলেও স্বাস্থ্য খাতে খুব বেশী উন্নত নয় সমসাময়িক উন্নত দেশ এর তুলনায়। এদের নিজস্ব সেন্ট্রাল কোনো হেল্‌থ স্ট্যান্ডার্ড সেই অর্থে নেই। দেরিতে হলেও জার্মানি এটা বুঝতে পেরেছে এবং এটা নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের যাদের জার্মানি নিয়ে কিছুটা ঘাটাঘাটি করা আছে তারা হয়তো বুঝতে পারবেন বিষয়টা। এদের ইনসিওরেন্স সিস্টেম টা ঠিক আছে কিন্তু ওভারঅল চিকিৎসা ব্যবস্থা তে একটা কিন্তু রয়ে গেছে। হেল্‌থ ডোমেইন গুলোর মধ্যে পেশেন্ট প্রোফাইল এর লিয়াজু মেইনটেইন করার মতো স্ট্যান্ডার্ড এদের এখনো ডেভেলপমেন্ট স্টেজে। জার্মান গভর্নমেন্ট EHRs (Electronic Health Records), EMRs (Electronic Medical Records), FHIR (Fast Healthcare Interoperability Resources), ICD (International Statistical Classification of Disease)-10-GM (German Modification) এর মতো আরও ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড এবং এর ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে এখনো কাজ করে যাচ্ছে তাদের হেল্‌থ সিস্টেম কে স্মুথ করার জন্য। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন গত ৫ বছরে জার্মানি অনেকগুলো হেল্‌থ রিলেটেড মাস্টার্স কোর্স ওপেন করেছে যাদের মধ্যে টক্সিকোলোজি, ডিজিটাল হেল্‌থ, মেডিকেল ফোটোনিক্স, ফার্মাসিউটিকেল রিসার্চ অন্যতম। সো বোঝাই যাচ্ছে সামনের বেশ কিছু বছরের মধ্যে যখন এরা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড গুলো সারা জার্মান জুড়ে পুরোপুরি ইমপ্লিমেন্ট করবে তখন হেল্‌থ সেক্টর এ এদের প্রচুর পরিমাণ দক্ষ লোক লাগবে, যাদের তারা এখনি এই সমস্ত কোর্স এর মাধ্যমে রেডি করে নিচ্ছে।

তাই যারা কষ্ট মেনে নিয়ে ফার্মেসি রিলেটেড সাবজেক্ট এ আসতে চান তাদের ভবিষ্যৎ ভালো। তবে সাথে কিছু প্যারামিটার মাথায় রাখতে হবে, মাস্টার্স ডিগ্রি অবশই কমপ্লিট করতে হবে এবং সাথে ল্যাঙ্গুয়েজ ও অবশ্য অবশ্যই জানতে হবে অন্তত কনভারসেশনাল লেভেল এ। লুপহোল এর কথা না ভাবাই ভালো। ম্যাক্সিমাম কেস এ লুপহোল ব্যাবহার করে সফলতা পাওয়া যায় না বা পেলেও অনেক দেরী হয়।

লাইফস্টাইল

এক কথায় পজিটিভ। সমস্যা সব জায়গায় তেই পাবেন, তবে এখানে তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। আপনার অঢেল টাকা এবং পড়ার ইচ্ছা থাকলে ইনভেস্ট করেন। এখানে এসে কোনো কাজ করার দরকার নাই। যথাসময়ে পড়া শেষ করে জব এ ঢুকেন অঢেল ইউরো ইনকাম করেন। সিম্পল হিসাব। বেশী চিন্তা করবেন না, বায়াস্ট হবেন। পড়ার মতো পড়লে আর জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ মোটামুটি জানলে জব পাবেন ই।

যদি ঋণ করে বা পিছুটান নিয়ে আসেন তাহলেও চিন্তা করার কিছু নেই। আগেই বলেছি ফার্মেসি থেকে যে কোনো সাবজেক্ট এ আসলে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। তবু যা সময় পাবেন মোটামুটি শহর ভেদে একটা মিনি বা পার্ট টাইম জব করলে ম্যানেজ হয়ে যাবে। স্টেট ভেদে জব এর আভেইলেবেলিটি এর ভিন্নতা থাকে। তাই এই ব্যাপারটা চিন্তা করে কোর্স পছন্দ করবেন সেক্ষেত্রে। খুব বেশী যদি পিছুটান থাকে তাহলেও উপায় আছে। সেটা সবকিছু মেনে নিয়ে জার্মানি পর্যন্ত আসতে পারলে নিজেই তখন জানতে পারবেন। আপনার প্রয়োজন ই আপনাকে উপায় বের করে দিবে। ট্রাস্ট মি।

জার্মানি অল্টারনেট

যদি কোনো কারনে জার্মানি ভালো না লাগে তাহলে আপনাদের কষ্ট বিফলে যাবে না। বরং এই ভালো না লাগাও আপনাদের জন্য সাফল্যের কারন হতে পারে। জার্মান তথা একটা ইউরোপিয়ান ডিগ্রি অবশ্যই ভ্যালুয়েবল। এটা ইউটিলাইজ করে যে কোনো ইংলিশ স্পিকিং কান্ট্রি অথবা আপনার পছন্দের যে কোনো কান্ট্রি তে চাইলেই আপনারা মুভ করতে পারবেন। সেটা কোর্স শেষ করে জব এর আগেও হতে পারে পরেও হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে একটা জব মেনেজ করে কিছুদিন জব করে পরে সুইচ করা ভালো। এক্সপেরিয়েন্স ডাজ ম্যাটার।

একোমোডেশন ইস্যু (শুধুমাত্র পোটসডাম এর জন্য)

জার্মানির অন্য শহরে যাওয়ার এখনো সৌভাগ্য হয় নি তাই এই অংশটুকু শুধুমাত্র পোটসডাম কেন্দ্রিক। জার্মানি ঘুরার প্ল্যান ছিলো কিন্তু করোনা এর জন্য হয়তো আর হবে না।

এখানে স্টুডেন্ট ডরম ছাড়া বাসা পাওয়া খুব কঠিন। পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবে সময়মত ডরম এর জন্য অ্যাপ্লাই করলে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। ডরম এর জন্য অ্যাপ্লাই করার সময় ২ টা বিষয় মনে রাখতে হবে এখানে।

  1. সার্টিফিকেট এ আপনার বয়স ৩০ এর উপরে হলে আপনি এখানে স্টুডেন্ট ডরম কোনো ভাবেই পাবেন না। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই অল্টারনেট চিন্তা করতে হবে।
  2. এবং যদি জার্মানিতে এটি আপনার দ্বিতীয় মাস্টার্স হয়।

সেক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি কে মাস্টার্স সম্পর্কে বললেও ডরম এ অ্যাপ্লাই করার সময় অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম এ না বলাই ভালো। তবে কেউ এই ভুল করে ফেললেও উপায় হতে পারে। যেমনটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছিলো। আমি ডরম এ অ্যাপ্লাই করার সময় বাংলাদেশে আমার মাস্টার্স এর কথা বলেছিলাম। যথারীতি রিজেক্টেড হলাম। এখানে আসার পর একটা লুপহোল (লজিক্যাল) এর ইনফরমেশন পেলাম এক ভাই এর কাছ থেকে। বিষয়টা এমনঃ বাংলাদেশ এ আমার মাস্টার্স ছিলো ১.৫ বছর এবং ক্রেডিট সংখ্যা ছিলো ৩০। সো আমি আমার মাস্টার্স এর মার্ক-শিট নিয়ে আমার কোর্স কো-অরডিনেটর এর কাছে গেলাম এবং বললাম বাংলাদেশে আমার মাস্টার্স ৩০ ক্রেডিট আর তোমাদের এখানে মাস্টার্স ১২০ ক্রেডিট। বাংলাদেশ এর মাস্টার্স এর ক্রেডিট সংখ্যা তো কোনো ভাবেই জার্মানির মাস্টার্স এর ক্রেডিট এর ইকুইভ্যালেন্ট না। তারপর সে আমাকে একটি লিখিত স্টেটমেন্ট দেয় এই বিষয়টি নিয়ে যেটি আমি পরবর্তীতে Potsdam Studentenwerk এ সাবমিট করি এবং সাথে সাথেই ডরম পাই।

২০২০ এর মার্চ পর্যন্ত আমরা এখানে প্রায় ৪০ জন এর মতো বাংলাদেশী রয়েছি (কমবেশি হতে পারে) পোটসডাম এ যারা মোটামুটি সবাই সবাইকে চিনি। আর আমার এই প্যারা (একোমোডেশন ইস্যু) টার মুল উদ্দেশ্য এই বলা যে, এখানে যারা আসবেন তাদের অন্তত থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা ফেইস করতে হবে না। এখানে যারা সিনিয়র আছে তারা আমাদের জন্য যথেষ্ট করেছেন এই থাকার সমস্যা সমাধানে। সো তার ধারাবাহিকতায় আমরা যারা হেল্প পেয়েছি তারাও হেল্প করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক। আপনারা যারা এখানে আসবেন তারা ডরম এর জন্য অবশ্যই অ্যাপ্লিকেশান করবেন। তবে ডরম পেতে কিছুটা দেড়ি হলেও নিশ্চিন্তে চলে আসতে পারেন। এখানে আমাদের এই গুটিকয়েক বাংলাদেশীর ইউনিটি আপনাদের ধারনার ও অতীত। উই ফর আস ফ্যাক্ট।

অ্যাপ্লিকেশান টাইমিং

এখানে বেশীর ভাগ ফার্মেসি রিলেটেড কোর্স এর ইনটেক উইন্টার (অক্টোবর) এ। এপ্রিল থেকেই অ্যাপ্লিকেশান পোর্টাল ওপেন হয়। স্পেসিফিক ডেট জানতে ডাড এর সাইট অথবা ইউনিভার্সিটি এর ওয়েবসাইট চেক করতে পারেন। প্ল্যান থাকলে এখন থেকেই প্রিপারেশন শুরু করে দিলেও সামনের উইন্টার আপনারা ধরতে পারবেন। গত বছর ঠিক এই সময় থেকেই একদম জিরো থেকে প্রিপারেশন শুরু করে অক্টোবর এ আমি এখানে পৌঁছতে পেরেছিলাম।

সামারি

  • যারা ফার্মেসি থেকে এখানে মাস্টার্স করতে আসতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই স্টাডি টাই মেইন পারপাস হতে হবে। মানি আর্নিং ফাস্ট প্রাইয়োরিটি থাকলে কোর্স কমপ্লিট করতে কষ্ট/ডিলে হয়ে যাবে, ফলশ্রুতিতে পরবর্তী প্রতি স্টেপ এ আপনি সাফার করবেন, ফাইনালি হয়তো হেরেও যেতে পারেন।
  • জার্মানিতে আইটি এর মতো হেল্‌থ সেক্টর এর ও প্রসপেক্ট ভালো (জার্মান ডিগ্রি আর ল্যাঙ্গুয়েজ মাস্ট)।
  • রেজাল্ট (CGPA>3) ৩ এর যতো বেশী ততো ভালো। পাবলিকেশন থাকলে ভালো (অথর অথবা কো-অথর), স্টাডি গ্যাপ থাকলে এই সময়টাতে কি কি করেছেন সেটা ক্লিয়ারলি জানাতে হবে (গ্যাপ এ আপনি জব করতে পারেন, ডিফারেন্ট ট্র্যাক এর কিছু করতে পারেন সেটা বিজনেস হতে পারে, ফ্রীলাঞ্চিং হতে পারে …)।
  • যাদের ব্লক মানি তে কারো কন্ট্রিবিউশন রয়েছে সেক্ষেত্রে টাকা দেশে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকলে মোটামুটি বড় শহর এ আসতে পারলে ভালো। জব আভেইলেবেলিটি ফ্যাক্ট। (কোন শহর পছন্দ করবেন সেটা আপনাকেই সার্চ করে বের করে নিতে হবে)।
  • আসার প্ল্যান থাকলে অবশ্যই আপনাকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হতে হবে। নিজে নিজেই সব কিছু করার এবিলিটি থাকতে হবে কারন এখানে এসে সব কাজ নিজেকেই করতে হবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে।
  • অ্যাপ্লিকেশান করার প্ল্যান থাকলে পারিপার্শ্বিকতা চিন্তা করে ঝটপট ইউনিভার্সিটি আর সাবজেক্ট চুজ করে ফেলেন কারন এপ্রিল থেকেই পোর্টাল ওপেন হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি লিস্ট সহ অনেক স্পেসিফিক ইনফো আমি ইচ্ছা করে দিলাম না। সেগুলো আপনারা নিজেরাই খুঁজে বের করেন। বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এতে আপনাদের অনেক উপকার হবে। সেটা এখন না বুঝলেও/কষ্ট হলেও পরে ঠিক এর উপকারিতা বুঝতে পারবেন। ইন্ডিপেনডেঞ্চ ফ্যাক্ট।

কৃতজ্ঞতা বিসাগ গ্রুপ এবং তাদের সবার প্রতি যারা এখানে আসার আগে ও পরে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। ২ জন এর কথা আলাদা করে না বললেই নয় –

আসার আগে – সুপ্ত সিকদার ভাই। যিনি তার শত বেস্ততার মাঝেও আমাকে এখানকার বাংলাদেশি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া/গ্রুপ এ অ্যাড করা থেকে শুরু করে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন।

আসার পরে – জি.এম সোয়েব আদনান ভাই। যিনি এয়ারপোর্ট পিকআপ, ডরম পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার রুমে থাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন একাডেমিক কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। <3

সবার জন্য শুভকামনা।

ধন্যবাদ

পিকচার কার্টেসী
সার্চ ইঞ্জিন