Sujan Ahmed
Yesterday at 12:06 PM

ইতিহাসঃ (চাইলে স্কিপ করতে পারেন) বড় ভাইয়ার ইচ্ছা আমি যেন বিদেশে পড়তে যাই, এই জন্য পাব্লিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রিপিয়ার্ড না করিয়ে আমাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে যাতে করে ৪ বছরের মধ্যে ব্যাচেলর শেষ করতে পারি। যথারীতি ভর্তি হয়ে গেলাম প্রাইভেটে। চতুর্থ বর্ষে এসে ভাইয়া বলল আইইলটিএস নামক এক জিনিসের কথা, না জেনে না বুঝে ভর্তি হয়ে গেলাম এক বিখ্যাত কুখ্যাত কোচিং সেন্টারে। ২ মাসের কোর্স হলেও ১ মাস পরে এটার সমাপ্তি ঘটলো।

এরপর ইউনিভার্সিটির পড়ালেখা চলতে থাকলো এবং সেটাও সমাপ্ত হল। এখন আর আমাকে ঠেকায় কে ফ্রেন্ডদের মধ্যে আমার ব্যাচেলর সবার আগে কম্পলিট হয়েছে। এই খুশিতে বাড়িতে কেটে গেল অনেকদিন। সাথে ভাইয়ার বিয়ে, নতুন বাড়ির কাজ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলে কথা) ইত্যাদি। কিন্তু এভাবে আর বেশিদিন চলল না। এবার ফিরতে হবে প্রাণের( এটা কিন্তু খাটি আমের জুসের কোম্পানি না) শহর ঢাকাতে। মেসে থাকি নিজে নিজে প্রিপারেশন নেই আইইলটিএস এর জন্য। সেটা প্রিপারেশন এর মধ্যেই সীমিত ( আমার ইংরেজি স্কিল আবার অন্য লেভেলের)। দিন যায় মাস যায় মাগার প্রিপারেশন আর শেষ হয় না। ভাইয়া বুঝে গেলেন এই প্রিপারেশন শেষ হবার নয়। এবার আবার ক্রাস (ইহা বর্তমান জেনারেশন এর ক্রাস না) কোর্স নামক একটা কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। এবার আমি খুব সিরিয়াস। কোর্স শেষ হলো। একে একে ১৪-১৫ টা মক টেস্ট ( খুব টেস) দিলাম। রেজাল্ট ৫.০,৫.৫,৬.০ কালে ভাদ্রে ৬.৫।

পরিক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরে টিউটর এর সাথে কথাবার্তা বলে দেখলাম আমার টার্গেটেড স্কোর ৬.০ আসবে না। ভাইয়াকে বললাম পরীক্ষা দিব না, এবার সে রেগে গেলেন। এই প্রথম আমার সাথে রাগ দেখালেন পড়ালেখার বিষয় (পিচ্চিকালে রাগ করলে তাকেই মাইর খেতে হত)। এবার আর ধানাই পানাই (নট সানাই) করলে হবে না, আমি সিরিয়াস, পরিক্ষা দিলাম ১ মাস পর। এবং সেই কাংখিত বস্তু হাতে পাওয়া গেল (৬.৫) (এক্সামিনাররা আমাকে কেন যেন (.৫) বেশি দিয়া দিল). আমি কিন্তু আবার বাংলালিংক এর ইউজার ছিলাম না।

আমার অতি ক্ষুদ্র প্রোফাইল: সিজিপিএ -৩.৮৭, আইইএলটিএস ৬.৫, পাবলিকেশন- সেটা আবার কি জিনিস? কাজের অভিজ্ঞতা: বেকার ছিলাম।

এবার পাতিহাসঃ অলস মানুষের সব কিছু একটু ধীরে ধীরে হয়। রেজাল্ট পাবার পর ১ মাস হেলায় ফেলায় দিন কেটে গেল। এরপরে এক ভাইয়া বললেন আমাকে স্টুটগার্ট ইউনিতে এপ্লাই করতে ( নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর)। যেহেতু অনলাইনে এপ্লিকেশন, কোনমত এটা সেটা স্কান করে আপলোড করে এপ্লিকেশন সাবমিট ( ট্রাই করলাম আর কি)। এর মাঝে মালায়শিয়া (এক ভাইয়া হেল্প করছিলেন), থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, হাংারি, চায়না, জাপান, তুরুস্ক ইত্যাদি এপ্লাই করলাম (নিজে নিজেঃ সুপার স্টুডেন্ট)। পজিটিভ রেস্পন্স আসতে শুরু করল আর আমি আকাশে উড়তে শুরু করলাম। মার্চে আসল স্টুটগার্ট থেকে অফার লেটার। এর সাথে হাংারি এর স্কলারশিপ এর প্রিলিমিনারি রেসাল্ট৷ ভাই ব্রাদার এর পরামর্শে জার্মানি & হাংগেরি দুইটা নিয়ে আগানো শুরু করলাম। মে মাসে জার্মান এম্বাসীতে এপোয়েন্টমেন্ট নিলাম (অতি উত্তেজিত হলে যা হয়) আমার ইউনিতে এনরোলমেন্ট সেপ্টেম্বরে।

ভিসা ইন্টারভিউ নাকি ব্যাংকে টাকা জমা দান?: কাগজ পত্র রেডি করে ( যা যা লাগে আর কি) নিয়ে চলে গেলাম এম্বাসিতে। স্যুট টাই পরে চলে গেলাম ২ ঘন্টা আগে। ওমা একি! ভিতরে যাওয়ার উপায় নাই আবার এইটার বাইরে একটা চেয়ারও রাখে নাই! অগত্যা এদিক ওদিক গিয়ে টাইম পাস করতে হল। অবশেষে ভিত্রে ডাক পরল। ভিতরে গিয়ে আবার টাস্কিঃ এটাতো দেখি ব্যাংক কাউন্টার ইন্টারভিউ নিবে কে? যাইহোক বসে বসে মনে সাহস যোগালম (ইন্টারভিউ দিমু)। ভিসা অফিসার অল্পকিছু প্রশ্ম ( এত সময় কই) করে টাকা পয়সা, পাসপোর্ট, হাতের ছাপ পর্যন্ত নিল! চলে আসলাম বাসায়।

অপেক্ষা: ( ভাই নয়টার ট্রেন কয়টায় আসে?) শুরু হলো অপেক্ষা। এর মাঝে অন্যান্য দেশে ইন্টারভিউ দিতে থাকলাম (বসে থাকলে মার্কেট নাও পাইতে পারি চিল্লাইতে হবে)। ৩৪ দিন পর আসল এম্বাসীর কল( ওয়াও) কিন্তু এ খুশি নিমিষেই চলে গেল। অফিসার সাহেব জানিয়ে দিলেন আপনার টিউশন ফি আছে (১৫০০ ইউরো) এটা দিতে হবে এবং তাদেরকে জানাতে হবে ১ সপ্তাহ মত টাইম দিল।( যদিও এটা জার্মানিতে এসে দেওয়ার কথা ছিল)। বাংলাদেশ বলে কথা, কি আর করা দুঃখে কষ্টে দিয়ে দিলাম এবং তাদের সুইফট কপি পাঠিয়ে দিলাম। এরপর বেশ কিছুদিন চলে গেল কোন খবর নাই, মেইল দিলাম রেসপন্স নাই। চলে গেলাম এম্বাসিতে, পাসপোর্ট কালেকশন এর সময়। রিসিপশনের গার্ড শুনে বললেন এতদিন আসেননি কেন। পাসপোর্ট কালেকশন রিসিপ্ট ভিতরে দিয়ে প্রব্লেমের বিষয়ে ক্লিয়ার করলাম। একটু পরে আমাকে রিসিপ্ট ব্যাক দিয়ে বললেন আপনাকে মেইল দিলে তখন আসবেন। কি আর করা কিছু সময় দাড়িয়ে থাকার পর তাদের কি যেন মনে হলো, আমাকে ভিতরে যেতে বলল। গেলাম টিউশন ফি এর বেপারে বলল, আমি বললাম আমি দিয়েছি এবং মেইলে তাদেরকে ডকুমেন্ট দিয়েছি (সুইফট কপি)। এটা দিয়ে হবে না তাদেরকে ইউনিভার্সিটি থেকে বলতে হবে যে আমি টিউশন ফি পাঠিয়েছি। ফিরে এসে ইউনিকে বললাম আপনারা এই ইমেইলে একটু বলে দেন যে আমি আপনাদেরকে টাকা পাঠিয়েছি। ইউনি অফিসার ঃ আমরা স্টুডেন্ট ছাড়া অন্য কাউকে কোন ইনফরমেশন দিতে পারব না কড়া ভাসায় জানিয়ে দিলেন এবং আমাকে একটা কনফার্মেশন পাঠালেন । আমি এবার সেটার কপিসহ আরো কিছু সাপোর্টিং ডকুমেন্টস নিয়ে দিয়ে আসলাম এম্বাসিকে।

ভিসা প্রাপ্তি: আর হ্যা এবার কিছুদিন পর আসল পাসপোর্ট কালেকশন এর ইমেইল। ভয়ে ভয়ে চলে গেলাম পাসপোর্ট রিসিপ্ট জমা দিলাম এবং অপেক্ষা। একে একে সবার পাসপোর্ট এল আমারটা ছাড়া (বুঝলাম এ যাত্রা এখানেই সমাপ্তি) । ভিতরে ডাকা হল কিছু সময় অপেক্ষা শেষে পাসপোর্ট হাতে পেলাম, দ্রুত পেজ ওপেন করলাম & হ্যাঁ ভিসুম নামক একখান স্টিকার ছিল সেটাতে। তারপর যা হবার তাই, চোখ দিয়ে এমনিতেই পানি আসতে লাগল। আজ এই পর্যন্তই আবার লিখব পরবর্তী বিষয় নিয়ে ( ভিসা প্রাপ্তি এবং ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন)

Sujan Ahmed
TU Dresden (19/20)