Taraj Kabir

October 27Dresdentag GermanProbashe


প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় পেইন সম্ভবত রান্না-বান্না করা।দেশ থেকে একটা ডিম ভাজি করাও শিখে আসি নাই কিন্তু এইখানে এসে পেটের ঠ্যালায় ৩ সপ্তাহের ভিতর গরুর মাংসও রান্না করা শিখে ফেলেছি।ড্রেসডেন আসলে বাসায় আসবেন,আমার রান্না গরুর মাংস খাওয়ার দাওয়াত।

যাই হোক আমার মনে হয় এপ্লাই করার সময়টায় আমাদের রান্না শিখার উপর জোর দেয়া উচিত।আসলেই এটা সবার শিখে আসা উচিত কারণ এইবার যতো বাংলাদেশি নতুন আসছে দেখলাম বেশিরভাগই কখনো কিচেনে ঢুকে নাই।দেশ থেকে রেগুলার রান্না করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসলে লাইফটা শুরু থেকে একটু পেইনলেস লাগবে।ইন্ডিয়ান এক মেয়ে দেখলাম সে কিছুই রাধতে পারে না,ডেইলি রাতে ২ টা পাউরুটি আর ডিম টোস্ট করে খায়।এইগুলা খাইয়া যে কেমনে হয় আল্লাহ জানেন।

আর ক্যাফেটেরিয়া বা রেস্টুরেন্ট এ খাওয়া দাওয়া করলে পকেটের অবস্থা দিন দিন করুণই হবে।

বাই দ্যা ওয়ে একটা আর্টিকেল এ পড়েছিলাম দেশ থেকে কাপড় চোপড় পড়ে আসলেই হবে,এখানে সব পাওয়া যায়।কথা সত্য,কিন্তু দু:খজনক দিক হলো কিছু কিছু জিনিসের দাম দেখে শখ চলে যাবে কিনার।

আপনারা নতুন যদি কেউ আসেন আর সাথে করে অবশ্যই একটা বালিশ নিয়ে আসবেন। ডর্ম এর যে বালিশ দেয় সেটায় ঘুমানো খুবই কষ্ট।আমি দেশ থেকে একটা কোলবালিশ নিয়ে আসায় দিনশেষে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারি।আর কিবোর্ড দেশ থেকে অবশ্যই নিয়ে আসবেন।এইখানে সব জার্মান কিবোর্ড আর দামও বেশি।যা যা সফটওয়্যার লাগে দেশ থেকে না আনলে এইখানে প্যারা খাবেন। পাইরেটেড জিনিস এইখানে নাই।আমি ফিফা ১৮ কিনতে গেছিলাম,৬০ ইউরো দাম দেখে খেলার শখ চলে গেছিলো।শেষ পর্যন্ত এক বাংলাদেশি ভাই দেশ থেকে নিয়ে আসার আশ্বাস দেয়ায় একটু শান্তি পাইলাম।

বদনা যে কি জিনিস তা এইখানে আসলে টের পাওয়া যায়।আমি নিয়ে আসায় টের পাইনাই তবে যারা নিয়ে আসে নাই তারা কিছুদিন পেইন খাইছে। আর হলো মাল্টিপ্লাগ। এইটা যদি না আনেন তাইলে চোখে অন্ধকার দেখবেন।ছুরি,কাচি,নেইলকাটার এইগুলা দেশ থেকে না আনলে এইখান থেকে মনমতো খুজে বের করা কষ্ট।

আর হলো মশলা।দরকার হলে কাপড় কম আনেন তাও যতো পারেন মশলা নিয়ে আসেন।এইটা যে কি জরুরী জিনিস তা হাতের কাছে না পাইলে বুঝা যায়।দেশ থেকে ভারি কাপড় চোপড় তেমন না আনাই ভালো।এখানে সস্তায় ভালো ব্র‍্যান্ডেড কাপড় মিলে।পাউডার মিল্ক এর দাম এখানে খুব বেশী,দুধ চা যদি খান তাহলে দেশ থেকে পাউডার মিল্ক নিয়ে আসবেন।

আর এখন কিছু মনে পড়তেছে না, আগামীতে যারা আসতেছেন তাদের জন্য শুভকামনা।

গুড নাইট!