ভাইরে…বিদেশের জীবন বড়ই খারাপ। এখানে মা, বাপ্ কিংবা পরিবার, কিছুই কিন্তু নাই। আবার ক্লোজ বন্ধুবান্ধবও নাই। এখানে একটা বিপদে পড়লে, কাছে এসে দাঁড়ানোর মত মানুষও খুব-ই কম। আসেপাশে কিছু বাংগালী কিংবা দেশি বন্ধুবান্ধব থাকলেও, সবাই-ই তাদের জীবন নিয়ে আর পেটের দায়ে অনেক বিজি থাকে। সো বিপদের সময়, কেউ পাশে না থাকতে পারলেও, দোষারোপ করে লাভ নাই। (এই কথাটা এখন একটু কটু শোনাতে পারে। কিন্তু আপনি এখানে আসলেই বুঝে যাবেন, বাস্তবতা টা আসলে কি জিনিস !)

এই কঠিন জীবনে ইন্সুরেন্স যে কত বড় সপোর্র্ট, এটা আসলে বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার জার্মানিতে আসার পরে একটা বড় একসিডেন্ট হয়েছিল। ১ মাস লুলা অবস্থায় পড়ে ছিলাম।

বিদেশ জীবনে লুলা হওয়া যে কতটা কষ্টের, এইটা কেউ নিজে লুলা না হলে বুঝানো টাফ। ভাঙছিল ডান হাত। না পারতেছিলাম রান্না করতে, না পারতেছিলাম খাইতে। বাজার সদাই, টয়লেট করা তো বাদ-ই দিলাম।

রাতের বেলা বন্ধুবান্ধবের বাসায় যাইয়া যাইয়া খাইতাম। প্লেটটা ধোয়ারও অবস্থা ছিল না। সারাদিন, একটা দুইটা রুটি খাইয়া থাকতাম। আর রাতে কে যে খাইতে ডাকবে, এটার জন্য ওয়েট করতাম। কি যে কষ্টের দিন ছিল, বলার মত না।

তার উপরে তখন ছিল ভরা উইন্টার। মানে স্নো তে স্নো। এদিকে হাত প্লাস্টার থাকায়, জ্যাকেট পরতে পারতাম না। বন্ধু প্রদ্যুৎ, আমার শার্র্ট কেটে, কেমনে কেমনে জানি একটা কাস্টমাইজড শার্র্ট বানাই দিয়েছিল। ওই শার্র্ট পরে পরে, ডাক্তারের কাছে যাইতাম। শার্টের ফাক দিয়ে, হুহু করে মাইনাস ১০ ডিগ্রির ঠান্ডা হাওয়া ঢুকতো। কিন্তু কিচ্ছু করার নাই, পরিবার দেশে। আমি বিদেশ।

এই পুরা ১ মাসে, সার্জারি, এম্বুলেন্স, চিকিৎসা বাবদ সবকিছু মিলে আমাকে পে করতে হয়েছে মোট ২০ ইউরো !!! বাকিটা পে করেছে ইন্সুরেন্স।

আরো ২ বার ভিন্ন কারণে, ২ বার MRI করতে হয়েছিল। আমি তো ইন্সুরেন্স কার্ড দিয়েই শেষ। আদৌ কত খরচ হয়েছে, এসব জানার প্রয়োজনও বোধ করি নাই। কিন্তু পরে, ওয়েবসাইট চেক করে দেখি, প্রতিবার MRI বাবদ খরচ পড়ে ১২০০ ইউরো !!! মানে আমার ২ বারের MRI-তেই, আমার ২ বছরের ইন্সুরেন্স এর সব ইনস্টলমেন্ট এর টাকা উঠে গেছে।

আরেকবার বুকের বামে পাশে ব্যাথা উঠেছিল (প্রেমের ব্যাথা না !!!), হঠাৎ করে। তখন ডাক্তারসাহেব ECG , ECO, ETT থেকে শুরু করে, যাবতীয় সব টেস্ট করে ফেলেছিল। যদিও খারাপ কিছু পায় নাই। কিন্তু দেশেও এসব টেস্ট করতে, মিনিমাম ২০-৩০ হাজার টাকা লাগার কথা। এখানে তো আরো বেশি। কিন্তু সুখের কথা হল, আমাকে একটা পয়সাও পে করতে হয় নাই। বিশাল একটা মানসিক স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরেছি।

কার কখন বিপদ আসে, বলা টাফ। তাই জার্র্মান জীবনে দরকার হলে, অল্প খেয়ে, রোজা করে বা উপবাস করে টাকা সেইভ করেন, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ইন্সুরেন্স নিয়ে কোন প্রকার চুদুর বুদুর করবেন না প্লিজ। অনেকেই বলতে পারে, আমি জীবনেও ডক্টরের কাছে যাই নাই, আমি ইন্সুরেন্স দিয়া কি করব। কিন্তু একটা দুর্ঘটনাই আপনার এইসব কনসেপ্ট চেঞ্জ করে দিতে পারে।

অমুক ইন্সুরেন্স এর জন্য এপ্লাই করা ইজি, তমুক ইন্সুরেন্স করলে, সহজে কার্র্ড পাওয়া যায়, এই ইন্সুরেন্স এ খরচ কম, এইসব চিন্তা করে, ভুলেও কোন রকম ভুঙচুঙ প্রাইভেট ইন্সুরেন্স choose করবেন না। এতে করে, পরে অনেক পস্তাবেন। আর জার্মানিতে এসে ইন্সুরেন্স কোম্পানি চেঞ্জ করাও অনেক টাফ। অনেক রিজন দেখতে হয়।

তাই সময় থাকতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। AOK or TK টাইপের সরকারি ইন্সুরেন্স গুলোকে choose করুন। এবং health security নিয়ে নিচিন্ত থাকুন। ৯০-৯৫ ইউরো থেকে, জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

ধন্যবাদ।