আমরা বাঙালিরা কতটা অথর্ব এক জাতি!

“পাগলও নিজের ভালো বুঝে” এই কথাটা মিথ্যা হয়ে যায় যখন কোটা বিরোধী আন্দোলন কিংবা রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত জাতীয় ইস্যুতে আমরা আওয়ামিলীগ-বিএনপি-রাজাকারে বিভক্ত হয়ে যাই। আফসোস আমাদের এই বাঙালী জাতিকে নিয়ে যারা ভাবেনা আমি কিংবা আমার নেক্সট জেনারেশন চাকুরি না পেলে আওয়ামিলীগ-বিএনপি-রাজাকার এসে মুখে ভাত তুলে দিবেনা।

এটা ঠিক যে “আপনে আমাত্তে বেশি বুঝেন” কিন্তু আমরা যেটা বুঝতে চাই তা হচ্ছে আমাদের মেধাবীরা ইচ্ছা থাকা সত্তেও সরকারী চাকুরি করে দেশের সেবা করার সুযোগ না পেয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নিবে না। বেসরকারি চাকুরি করলে দেশের সেবা করা যাবেনা তা নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে একটি সরকার এবং তার অধিনস্থরাই দেশকে সামনের দিকে পরিচালনা করে থাকে।

মুক্তিযাদ্ধারা দেশ স্বাধীন না করলে এই লাল সবুজের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা হতোনা। কিন্তু মুক্তিযাদ্ধারা কি আমাদের একটি স্বাধীন-পংগু রাস্ট্র উপহার দিয়ে গেলেন? আমরা কোন মুখে মুক্তিযাদ্ধাদের সন্তান কিংবা নাতি-পুতিদের অধিকার আদায়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে যাচ্ছি যখন অধিকাংশ সত্যিকারের মুক্তিযাদ্ধারা এবং বীরশ্রেষ্ঠদের সন্তানেরা রিক্সা চালিয়ে কিংবা চায়ের দোকান দিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন চালাচ্ছেন?

বলার অপেক্ষা রাখেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। তবে সবার সব সিদ্বান্ত সব সময় সঠিক এমনটি নাও হতে পারে। উন্নত দেশে জনগনের স্বার্থে

অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবচনা করা হয়। হাজার বছরের পূরোনো নিয়ম ভেঙে সংস্কার করা হয়। আমরা আম-জনতা আমাদের স্বার্থে তেমনি একটি সংস্কার চাইছি।

আমরা জানতে চাইনা কোটাবিরোধী আন্দোলনের পিছনে কাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে কিংবা আন্দোলনেকারীদের কারা নির্বিচারে মারছে। আমরা চাই আসল মেধাবীরা দেশ চালাবে।

বি:দ্র: আমি ভারত কিংবা পাকিস্তান পন্থি নই, আমি একজন বাংলাদেশপন্থি।

৭ জুলাই ২০১৮

আবু সাঈদ মাহিন

সোয়েস্ট, জার্মানি