1জার্মানি আসার পর থেকেই ন্যাশনাল ভার্সিটির (NU) স্টুডেন্টদের জন্য কিছু লিখবো বলে ভাবছিলাম। সেমিস্টার প্রেশারের জন্য সময় করে লিখতে পারিনি। সবাই ভালো আছেন নিশ্চয়। বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ১৫৪টি কলেজে ২১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী NU তে পড়েন (Prothm-alo; ৯ জানুয়ারি ২০১৫), কিন্তু বার্লিনে এখন পর্যন্ত কোন ফ্যালো বাঙ্গালি পাই নাই যিনি ন্যাশনাল ভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর কমপ্লিট করে জার্মানি পড়তে এসেছেন। না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ গুলোর মধ্যে প্রথমেই আসবে আমাদের গাইডলাইনের অভাব। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন সমস্যার ভুক্তভুগি ছিলাম। ১ ঘণ্টার কাজ করতাম ২/৩ দিনে কারও প্রোপার কাউন্সিলিং না পেয়ে, তবুও শঙ্কায় থাকতাম হল কি না ভেবে! তবে ব্যাচেলর করে আপনার যদি একান্তই নিজের ইচ্ছা থাকে বিনা খরচে জার্মানি পড়তে আসার(১) পাস করে বের হয়ে চাকরির পেছনে না দৌড়িয়ে(২) থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
ঢাকা কলেজে প্রায় ৬ বছরের অনার্স লাইফে মানুষ জনের (আত্মীয়-স্বজন সহ!) ইগ্নোর সহ্য করতে হয়েছে অনেক। ন্যাশনালে পড়ি বলে তো যাচ্ছেতাই অবস্থা আর কোথাও যেয়ে সাবজেক্ট সমাজবিজ্ঞানের কথা বললে তো যেটুকু দাম দিতো সেটাও শেষ। হাহা.. সেই স্মৃতি এখন সোনালী অতীত। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার দায়িত্ব হবে হাসিমুখে বিদ্বানগণের সব কথা হজম করে নেয়া  আর সাথে নিচের সাজেশনগুলো একটু হলেও ফলো করা।


১) যে যে সাবজেক্টেই পড়েন না কেন, সেই সাবজেক্ট সম্পর্কে ভালো ভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন, নিজের সাথে নিজে ফাঁকিবাজি করবেন না এবং ফ্যাকাল্টির সাথে সুসম্পর্ক রাখবেন। একসময় রিকমেন্ডেশন লেটার/ ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট/এটাস্টেড ইত্যাদির জন্য অবশ্যই বারবার তাদের শরণাপন্ন হতে হবে।
২) আমাদের অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টের মিডিয়াম অফ স্টাডি যেহেতু বাংলায়, সে ক্ষেত্রে নিজে থেকে আপনার ব্যাসিক কোর্স গুলোর ইংলিশ বই পড়তে পারেন। এটা অনেক কাজে আসবে। আর ট্রামপেপার/শর্ট থিসিস এর মত কাজগুলো নীলক্ষেত থেকে না বানিয়ে নিজে করার চেষ্টা করবেন (আমি নিজেও নীলক্ষেতবাসী ছিলাম!)  এখন বুজতে পাচ্ছি এটা কত বড় ভুল ছিল।
৩) জার্মানি হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারদের স্বর্গরাজ্য। সাইন্স (ইঞ্জিনিয়ারিং) স্টুডেন্টদের জন্য পার্টটাইম জবের অভাব নাই। তাই বলে আর্টস/কমার্সের স্টুডেনরদের জন্য যে সব অড জব করতে হবে তা কিন্তু না। ল্যাঙ্গুয়েজ জেনে যে কোন জব পোর্টালে এপ্লাই করলে জব হবেই। ভার্সিটির অনেক প্রজেক্ট/সার্ভে আপনাকে স্টুডেন্ট এসিস্টেন্ট হিসাবেও ডেকে নিতে পারে। ল্যাংগুয়েজ ভালো ভাবে না জানার জন্য আমার এখনো সে সৌভাগ্য হয় নাই। তাই আমি বলবো, যেহেতু আমরা অনেক সময় পাই দেশে, সেই সময়টাকে আমরা জার্মান শেখার পেছনে দিতে পারি। হেসে খেলে এক্সটেন্সিভ কোর্স করলেও ২ বছরের বেশি সময় লাগার কথা না B1 লেভেল পর্যন্ত শেষ করতে। থার্ড ইয়ার থেকে শুরু করলেই এনাফ। সেই সাথে তো ইংলিশে ফোকাস রাখবেনই। ফাইনাল দেয়ার পরপরই IELTS দিয়ে দিবেন।


৪) ভালো পাবলিক/প্রাইভেট ভার্সিটির মত আমাদের সেমিনার/প্রেজেন্টেশন/স্টাডি ফেয়ার ইত্যাদি করার কোন সুযোগ নাই । তাই সেইসব ভার্সিটি পড়ুয়া মেধাবী ফ্রেন্ড  দের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন কিছু শেখার জন্য তাদের কাছ থেকে। তাদের প্রেজেন্টেশন/এস্যে/পেপার বানানো দেখতে পারেন।
৫) ফাইনাল ইয়ার থেকেই www.study-in.de এবং www.daad.de এই দুইটা ওয়েবে চোখ রাখুন ও খুঁজে দেখুন কোন কোন ভার্সিটিতে আপনার রেলিভেন্ট কি কি কোর্স অফার করছে ও তাদের রিকোয়ার্মেন্ট কি। এই সম্পর্কে খুব ভাল একটা ধারণা রাখবেন যেন যেদিন রেজাল্ট হাতে পাবেন সেদিন থেকেই এপ্লাই শুরু করা যায়। কিভাবে uni-assist থেকে এপ্লাই করা যায় তা নিয়ে অনেক আর্টিকেল পাবেন এই গ্রূপে।
৬) দয়াকরে কোনো শর্টকাট রাস্তায় পা বাড়াবেন না এবং ডিমোটিভেটেড বোদ্ধাদের এড়িয়ে চলবেন। আমৃত্যু তারা কোন কাজে আসবেন না স্ট্যাম্প করে লিখে রাখেন। এর থেকে আর বেশি কিছু লেখার নাই। মনে রাখবেন ‘Allah helps those who help themselves’. কার কাছ থেকে কি সাহায্য পাবেন সেই ভরসায় বসে না থেকে নিজেই সব শুরু করে দেন আজ থেকেই। অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে। এগিয়ে চলুন। বিসিএস, পিএসসি, গতানুগতিক চাকরির পড়ার থেকে বাইরে আসার জন্য পড়া তুলনামূলক সহজ। আর ১০০ সিটের জন্য ১ জনের এমন প্রতিযোগিতাও করতে হয় না।

সবার জন্য অবিরাম শুভকামনা।

জার্মানিতে এপ্লাই করার ধাপসমূহ (Steps to Apply at a German University ) – জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা