জার্মানিতে প্রায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই টুইশন ফি নেই। কিন্তু এরপরও প্রতিটি শিক্ষার্থীর কিছু খরচ থাকে। যেমনঃ বাসস্থান, খাওয়া-দাওয়া, ভ্রমণ ইত্যাদি। এসকল খরচের নিমিত্তে জার্মানিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে ফ্রিডরিশ এভার্ট ফাউন্ডেশন। ব্যাচেলর্স, মাস্টার্স, ডক্টরেট প্রভৃতি লেভেলে এটি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। যারা জার্মানিতে নতুন পড়তে এসেছেন বা আসবেন তাঁদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ! কেন? এজন্য বিস্তারিত পড়তে হবে! 🙂


ফ্রিডরিশ এবার্ট

যাঁর নামে এই বৃত্তি তিনি জার্মানির রাজনীতিতে প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। ফ্রিডরিশ এবার্ট জার্মানির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ১৯২৫ সালে তাঁর নামে এই সংগঠনটি তৈরি করা হয়। এটি জার্মানির অন্যতম পুরনো একটি সংস্থা। যদিও এরা জার্মান রাজনৈতিক দল SPD এর সাথে সংযুক্ত, তদুপারি তাঁরা স্বায়ত্বশাসিত। ১৯৩৩ সালে নাৎসি সরকার এই সংগঠনটি বন্ধ করে দেয়। তবে ১৯৪৭ সালে সংগঠনটি আবারো সক্রিয় হয় এবং তারপর থেকে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য হল মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, যার মূলে থাকবে “সোশিয়্যাল ডেমোক্রেসি”। আর এটা অর্জিত হবে শিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে। বাংলাদেশেও FES এর অফিস রয়েছে। লিঙ্কঃ http://www.fes-bangladesh.org/


সোশিয়্যাল ডেমোক্রেসি

.


ফাউন্ডেশনের ব্যাপারে হালকা ধারণা


ফ্রিডরিখ এবার্ট ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রায় ১৫৩ মিলিয়ন ইউরো (২০১৩ সালের হিসাব)৷ সব মিলে প্রায় ১০০টির বেশি দেশে সংস্থাটির কার্যক্রম আছে। ২৮৬৮ এর মত শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সংগঠনটি (২০১৪ সালের হিসাব)। এবার এদের বৃত্তি বা স্কলারশিপ কার্যক্রমের দিকে নজর দেয়া যাক। 🙂

টার্গেট গ্রুপঃ জার্মানিতে লেখাপড়া করছে এরকম যেকউই। তবে প্রার্থীকে সোশিয়্যাল পলিটিক্যাল ব্যাপারে সজাগ এবং অগ্রগামী হতে হবে।

কোন কোন বিষয়ে দেয়া হয়?: প্রায় সকল বিষয়েই। তবে মেডিক্যাল সাইয়েন্সের উচ্চশিক্ষায় এদের কোন বৃত্তি নেই। বিস্তারিত এখানে

স্কলারশিপের সংখ্যাঃ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়।

বৃত্তির পরিমাণঃ মাস্টার্স/ব্যাচেলর্স লেভেলে ৬৫০ ইউরো/মাস + আনুসাঙ্গিক ভাতা, পিএইচডি লেভেলে ১০০০ ইউরো/মাস + আনুসাঙ্গিক ভাতা

ডেডলাইনঃ কিছুক্ষেত্রে ৩১.১০ (উইন্টার) ৩০.০৪ (সামার), কিছুক্ষেত্রে ৩০.১১ (উইন্টার) ৩০.০৫ (সামার)। বিস্তারিত এখানে

যেভাবে আবেদন করতে হয়ঃ নিচের এই ছবিতে ধাপগুলো সংক্ষেপে বলা আছে। পিডিএফটি এখানে পাওয়া যাবে।

এখানে প্রধানত চারটি ধাপ আছে।

১ম ধাপঃ অনলাইন এপ্লিকেশন

২য় ধাপঃ যদি কমিটি প্রার্থীকে পছন্দ করে তাহলে আরো কিছু আনুসাংগিক ডকুমেন্ট/সার্টিফিকেট ইত্যাদি পাঠাতে বলবে।

৩য় ধাপঃ এই ধাপে শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। এখানে একজন টিউটর ও সিলেকশন কমিটির মেম্বাররা থাকেন।

৪র্থ ধাপঃ এই শেষ ধাপে, সিলেকশন কমিটির মেম্বাররা মিটিং করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করেন। বছরে বেশ কয়েকবার এই মিটিং হয়ে থাকে।

অনালাইনে আবেদন করা যাবে এই লিংক ক্লিক করে।

আবেদন প্রণালী নিয়ে বিস্তারিত আছে এখানে

অফিশিয়াল ওয়েবসাইটঃ http://www.fes.de/ এবং http://www.fes.de/studienfoerderung/information-in-english

কোন ছাত্র বা ছাত্রী যদি তার স্বামী বা স্ত্রীকে জার্মানিতে নিয়ে আসতে চান তাহলে ফ্রিডরিশ এবার্ট ফাউন্ডেশন গোটা পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে৷ প্রতিমাসে স্বামী বা স্ত্রী এবং বাচ্চাদের জন্য আলাদা খরচ এই সংগঠনটি বহন করবে৷ কোন প্রার্থী মাসে কত টাকা পাবে তা নির্ভর করবে তার প্রোগ্রামের ওপর৷


90 Jahre Friedrich-Ebert-Stiftung


বিদেশী শিক্ষার্থীরা যেকোন প্রশ্নে যোগাযোগ করুনঃ


initials contact phone number
A – Z Elisabeth Schulze Horn 0228 883 – 7932

ফ্রিডরিশ এবার্ট ফাউন্ডেশনটির দুটি অফিস জার্মানিতে, একটি বার্লিনে এবং আরেকটি বন-এ৷ ঠিকানা:

FES Studienförderung

Friedrich-Ebert-Stiftung
Studienförderung
Godesberger Allee 149
53175 Bonn

Tel.: 0228 883 – 0 (FES-Zentrale)
Fax: 0228 883 – 9225
[email protected]


আরো পড়তে পারেনঃ

তথ্যসূত্রঃ FES.de, dw.com, DAAD.de