ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করার জন্য যখন আপনি ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করছেন তখন একটা জায়গাতে আপনি আটকে যেতে পারেন। যেমনঃ আবেদন করার যোগ্যতার ঘরে ওরা নিচের ৩টির মধ্যে যেকোনো একটি শর্ত দিয়ে দিতে পারে :

১. উল্লেখিত চারটা /পাঁচটা কোর্স এ নূন্যতম ১০০ ক্রেডিট /ECTS (European Credit Transfer and Accumulation System) পড়া থাকতে হবে। যেমন : আপনি sociology সম্পর্কিত কোনও বিষয় এ আবেদন করবেন সেখানে উল্লেখ করা থাকতে পারে statistics , economics , geography কোর্স এ আপনার ১০০ ECTS পড়া থাকতে হবে।

২. কিছু ক্ষেত্রে , আপনার আবেদন ফর্ম এ, আপনি অনার্স এ ECTS ক্রেডিট সিস্টেমে মোট কত ক্রেডিট শেষ করেছেন সেটা জানতে চাইতে পারে । যেমন :

৩. অথবা, জার্মান স্কেলে আপনার অনার্স এর CGPA কত সেটা জানতে চাইতে পারে।

সাধারণত, বন ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করার সময় আবেদন ফর্মে এর যেকোনো একটা ওরা জানতে চায়।

আমার আবেদন ফর্মে ইউনিভার্সিটি জানতে চাইছিল, আমি অনার্স এ ECTS ক্রেডিট সিস্টেম এ মোট কত ক্রেডিট শেষ করেছি।

সে জন্য আমি ফার্স্ট এ যেটা করছি, সেটা হলও ইউনিভার্সিটি তে ই-মেইল করছি। ই-মেইল এ লিখছি , আমি ইউনিভার্সিটি তে এপ্লাই করতে চাই কিন্তু আমাদের ক্রেডিট সিস্টেম এর সাথে তোমাদের ক্রেডিট সিস্টেম এর ডিফারেন্স আছে। …. সেটা সমন্বয় করার ক্ষেত্রে তোমার সাজেশন কি ?

ইউনিভার্সিটি থেকে উত্তর দিছে , ইউনিভার্সিটি থেকে সত্যায়িত করা একটা ইংলিশ ট্রান্সক্রিপ্ট পাঠাও আর সাথে একটা পেপার পাঠাও ideally with some info from the University on how your grading system is structured (usually Universities do have something like this).

তারপরে , দুইটা কাজ করছি ,

১. ইউনিভার্সিটি থেকে আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর অর্ডিন্যান্স কালেক্ট করছি (ডিপার্টমেন্ট এ থাকে রিকোয়েস্ট করলে দিবে ), স্ক্যান করছি

২. ইউনিভার্সিটি আবেদন ফর্ম নিয়ে ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান এর কাছে গেছি তাকে দেখাইছি ….বলছি আমাকে একটা লেটার ইস্যু করে দেন যেখানে লিখা থাকবে , অর্ডিন্যান্স অনুসারে CGPA কিভাবে হিসাব করা হয় , আর আমাদের ক্রেডিট সিস্টেম টা কেমন। লিখে দিছে । এই দুইটা ডকুমেন্ট ইউনিভার্সিটি তে পাঠায় দিছি, অন্যান্য ডকুমেন্ট এর সাথে। কাজ গুলা একটু ঝামেলা মনে হলেও , করা সম্ভব। আমাদের দেশের টিচাররা কোনও কাজে সহযোগিতা করে না সেটা জানি। তবু , উচ্চ শিক্ষার জন্য আপনি তাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে তারা সাধারণ সময় এর থেকে একটু বেশি সহযোগিতা করে থাকে ।

এত কিছু না করে , শুধু ট্রান্সক্রিপ্ট আপনি পাঠালেও ওরা সম্ভবত আপনার ক্রেডিট কনভার্ট করে নেয়। Course-Coordinator  কে ই-মেইল করে নিতে পারেন নিশ্চিত হবার জন্য।

জার্মান স্কেলে আপনার CGPA কত সেটা জানার জন্য : http://www.germanprobashe.com/archives/2550

ECTS সম্পর্কে আর একটু ধারণা :

জার্মানির ক্ষেত্রে,

1 credit = 30 hours of work (including exam, seminar, class lecture, own-study)

1 semester = 30 credits

বাংলাদেশ এর ক্রেডিট সিস্টেম এর সাথে ECTS সিস্টেম এর মিল করার চেষ্টা :

জার্মানি তে ১ বছরে পড়তে হয় ৬০ ECTS ,

বাংলাদেশ এ ১ বছরে পড়তে হয় (BBA এর ক্ষেত্রে ) ৩০.৭৫ ক্রেডিট , সে হিসেবে ১ BD CREDIT = ৬০/ ৩০.৭৫ = ১.৯৫ ECTS

(সূত্র = Nahid Al Sharhad, https://www.facebook.com/groups/BSAAG/search/?query=Nahid%20Al%20Sharhad%20ECTS&hc_location=ufi)

আমি, এখানে ECTS সম্পর্কিত সমস্যা গুলার সমাধান সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। অনেকগুলা সমাধান এর মধ্যে এটা একটা সমাধান হতে পারে। আমি এইভাবে এপ্লাই করেছি , কোনও সমস্যা হয় নাই।


বাংলাদেশে যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন তাঁদের ফলাফল অনেকসময় গ্রেডিং সিস্টেমে থাকে না। কিন্তু আপনি উপরের পদ্ধতি মত করে কাজ করে গ্রেডিং সিস্টেমের সার্টিফিকেটও বের করতে পারবেন। নিচে বাংলাদেশের ন্যাশনাল(National) বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং এর একটি উদাহরণ দেয়া হলঃ (ছবি কৃতজ্ঞতাঃ লৌহে মাহফুজ)


এছাড়া পড়তে পারেনঃ