photo_latest14

 

আমি একটা চাকরির ওয়েবসাইটে শেষে একটা লাইন লেখা দেখলাম,

Please do not forget to find someone who will take care of your cat….

দেখে ভাবলাম এটা কেন লিখেছে!!!!

আমার পার্সিয়ান বান্ধবী ভিয়েনা যাবে তার মামার বাড়ি নতুন বছরে সবাই মিলে একসাথে আনন্দ করার জন্য। যাওয়ার আগে শহরে আমি আর সে খুব ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এখানে সেখানে। কোন দোকানে কি ছাড় চলছে এই সব খুঁজে দেখাও চলছিল সাথে। সে আমার ঠিক সামনের একটা ডরমিটরিতে থাকে।

আমাকে বাসে ও হঠাৎ জিজ্ঞেস করল তুমি কি পোষা বিড়াল বা কুকুর ভয় পাও??
আমি কিছু না ভেবেই বললাম ঃ হ্যাঁ।
সে বলল ভিয়েনাতে যাওয়ার আগে সে তার বিড়ালটাকে কোথায় রেখে যাবে সেটা নিয়ে খুব চিন্তিত দশদিন দেখাশোনার জন্য বাংলাদেশী টাকার দশ হাজার টাকা ও দিবে। কিন্তু কার কাছে রেখে যাবে?
আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি ওকে অনেক দাম দিয়ে কিনেছ।
বলল ঃ না যখন সিঙ্গাপুর ছিল তখন রাস্তায় পেয়েছিল। সে যখন মালয়শিয়া ব্যচেলরের জন্য এপ্লাই করেছিল সিঙ্গাপুর থেকে তখন তাকে তার বিড়ালের সিজ্ঞাপুরি পাসপোর্ট করতে হয়েছিল ভিসাও লেগেছিল আর তার টিকেট এর দাম ২০ হাজার টাকা লেগেছিল।

এরপরে মালয়শিয়া থেকে ব্যাচেলর শেষে সে মাস্টার্স এর জন্য যখন এপ্লাই করে বিড়ালের ভিসা হেলথ ইনস্যুরেন্স ও সাথে ১৫ হাজার টাকা লেগেছিল শুধু ব্লাড স্যম্পল পাঠাতে। এর পরে আবার নতুন করে মালয়শিয়ার পাসপোর্ট। বিড়ালটা সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট নিয়ে জার্মানির ভিসার জন্য দাড়াতে পারবে না।

বিড়ালেরও দুটি পাসপোর্ট হয়ে গেল। ব্লাড টেস্ট এর রিপোর্ট এর পরে ভিসা এর পরে আবার টিকিট। তার টিকিটের অর্ধেক টাকা মানে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সে বিড়ালটিকে জার্মানি নিয়ে এলো।

আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওর গোসল লাগে?
সে ঃ হুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করায়। তখন একটু কাঁদে মিউ মিউ করে। এর পরে বড় তোয়ালে পেঁচিয়ে কোলে নিয়ে রাখলে ঘুমিয়ে যায় ১০ পনেরো মিনিট পরে।
আমি: রাতে কোথায় ঘুমায়?
সে: আমার বিছানায় আমার সাথে।
আমি কৌতূহল চেপে না রাখতে পেরে জিজ্ঞেস করলাম আর টয়লেট??
সেঃ ওর খুব সুন্দর টয়লেট আছে, সেখানে……

আর আমি তো তাকে সুপার শপ গুলোতে খুব দাম দিয়ে বিড়ালের নানা রকম কুকিজ, বিস্কিট আর প্যাকেটের খাওয়ার কিনতে দেখেছি। এঁটো কাটা ওদের কক্ষনো দেয়া হয়না।

ইরানি মেয়েরা কিন্তু দেখতে অসম্ভব সুন্দর হয়। পারসিয়ান মেয়েরা খুব সুন্দরী এটা আরব্য রজনীর গল্পের বইগুলোতে পড়েছিলাম এখানে এসে বাস্তবে দেখলাম।

কালো চুল বড় বড় তুলি দিয়ে আঁকা চোখ সুন্দরের অপূর্ব প্রতিচ্ছবি। আমি এখানে এসে ওদের দিকে হা করে অপলক তাকিয়ে দেখতাম।
আর এত কিছুর পরে সে পড়ালেখায় সব সময় এ+ পায়। সেই সাথে এ বছর তার লেখে একটা বই বের হচ্ছে পার্সিয়ান ভাষায়। আমি সেটিকে বাংলায় অনুবাদ করে বাংলাদেশে প্রকাশ করব এরকম ইচ্ছা আছে।

সবাইকে নতুন বছরের অগ্রিম শুভেচ্ছা।

হোয়েনহেইম, জার্মানি।
৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৫

mm

By Rasha Binte Mohiuddin

স্টুডেন্ট অফ মাস্টারস ইন ইনভাইরনমেন্ট প্রটেকশন এন্ড এগ্রকালচারাল ফুড প্রডাকশন, ইউনি হোয়েনহেইম (স্টুটগার্ট জার্মানি)

One thought on “একটি বিড়াল ও পার্সিয়ান মেয়ের গল্প।।”

Leave a Reply