জার্মান ব্যুরোক্রেসিঃ অফিসের HR থেকে একটা ফর্ম দিসে। বলছে আর্জেন্টলি ফর্ম ফিলাপ করে পাঠাতে হবে।ফর্ম ওপেন করে দেখি লেখা “ফর্মের কন্টেন্ট দেখার জন্য আমার অনুমতি নাই।”

বসরে ফর্মটা দিলাম। সেও ওপেন করতে পারে না।

“তুমি HR কে বল ফর্ম ওপেন হয় না।”

HR কে বললাম।

HR বলে আইটির সাথে যোগাযোগ কর।

আইটিকে মেইল দিলাম।

পরের দিন এন্সার দিল ফর্ম নামায়ে এক্রোব্যাট রিডার দিয়ে ওপেন কর।

আমি বললাম “আমার ল্যাপটপ লিনাক্সে চলে। উইন্ডোজ না। এক্রোব্যাট রিডার নাই।”

“এইটা আগে বলবা না!! আমরা ভাবছি তোমার উইন্ডোজ।ওকে টার্মিনালে যেয়ে এই কমান্ড দাও। রিডার কাজ করবে।”

টার্মিনালে যেয়ে কমান্ড দিলাম। বলে “কমান্ড এক্সিকিউট করার অনুমতি আমার নাই।”

আইটিরে বললাম।

কয় “আচ্ছা তোমার এডমিন রাইট নাই। কালকে সকালে আমরা তোমার কম্পিউটারে লগিন করে এডমিন প্রিভিলেজ দিয়ে দিব।”

পরের দিন এডমিন প্রিভিলেজ দিল। তারপর কয় “এই ফর্ম লিনাক্সে ওপেন হবে না। তোমাকে একটা উইন্ডোজ রিমোট কম্পিউটারে লগিন করে এই ফাইল ওপেন করতে হবে।”

তারপর রিমোট উইন্ডোজে লগিন করে দেখায়ে দিল কেমনে ফর্ম ওপেন করতে হবে।ফর্ম ওপেন করে দেখি ৭ পেজ ফর্ম জার্মান ভাষায় লেখা। পিডিএফ যে অনলাইনে ট্রান্সলেট করব সেই সুযোগও নাই। এনক্রিপ্টেড করা। মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ধরে ধরে ট্রান্সলেট করলাম ৪ পেজ। এই ৪ পেজ ফিলআপ করতে যেয়ে প্রায় ১ ঘন্টা লাগল। অলরেডি এই ফর্ম নিয়ে ১ সপ্তাহ মেইল চালাচালি করতেসি। অফিসের কাজও জমে যাচ্ছে এই ফর্মের জন্য।আরো ২ পেজ বাকি!!

আমি বুঝলাম আমাকে দিয়ে আর হবে না!! আমার ধৈর্য শেষ!!!

আমি HR রে মেইল দিয়ে কইলাম “জার্মান ভাষার এই ফর্ম পূরন করতে যেয়ে আমার মাথার তার খুলে যাচ্ছে। প্লিজ প্লিজ তোমাদের ইংলিশ ভার্শনের এই ফর্ম থাকলে আমাকে দাও।”

পরদিন মেইল দিল ” আরে আগে বলবা না? অবশ্যই ইংলিশে আছে। এই নাও ফর্ম।”

ইংলিশ ফর্ম নামায়ে দেখি সেম ইনফো দিয়ে একটা ফর্ম ফিলাপ করে কিছুদিন আগে ওদের পাঠাইসি!!!!
কিছুক্ষন এই ফর্মের দিকে তাকায়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফর্ম ফিলাপ শুরু করলাম।

-তবীব ইবনে মাযহার
আখেন, জার্মানি।