গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র :

এবারে কিছু কাজের কথা বলবো । নিজের অস্তিত্ব জার্মানিতে টিকিয়ে রাখতে হলে যা সর্বাধিক প্রয়োজন । ভাত না খাইলেও চলবে কিন্তু এসব না হলে চলবে না । 😛 জার্মানিতে আসার পরে থেকে দেখি এরা শুধু চাইতে থাকে । এটা কই? ওটা কই ? বড়ই বেমানান । 😛

সিটি রেজিস্ট্রেশান :

পরিচিত এক ভাইয়ার মতে এইটা ছাড়া নাকি টয়লেটে যাওয়া যায় না । যাই হোক , তো আসার পরেই সবার আগে যা করতে হবে তা হল এই জনাবকে পেতে হবে । কিন্তু এই জনাবকে পেতে হলে আবার আপনার বাড়ির মালিকের দেয়া এক টুকরা কাগজের প্রয়োজন যেখানে তিনি লিখবেন এই বান্দা এখানেই তার বস্তা নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন । এখন আবার বলবেন যে বাসা কিভাবে পাব। এই প্রশ্নের জবাব করতিপক্ষ জানে । 😛 তো আমি বাসার মালিকের দেয়া কলিজার টুকরো নিয়ে ইন্টারনেটে বসে পরলাম এপয়েন্টমেন্ট নিতে। অনেক সিটিতে নাকি সরাসরি গেলেও চলে । এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে ৪০ মিনিট আগেই হাজির। অনেকে বলেছিল আগে গিয়ে বসে থাকতে আমি একটু বেশি আগেই চলে গেছিলাম । বুঝতেই তো পারছেন প্রথম বলে কথা । 😛 যাওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে এ১ করে যাওয়া আমি কিছু বাক্য ঠাডা মুগস্থ করে গেছি । কিন্তু কর্তব্যরত ব্যক্তি আমার সাথে ইংলিশে কথা বলা শুরু করল । মনে মনে ভাবলাম এটা কি হইলো ! তারপর আমার পাসপোর্ট আর কলিজার টুকরা (বাড়ির মালিকের) নিয়ে ঠাস ঠাস করে টাইপ করে আমাকে একটা কাগজ দিয়ে বলবো এখন বিদায় হও । আমিও সাথে সাথে ডানকেসুন, চাও চাও ( জার্মানিতে ধন্যবাদ, বিদায়) বলে বেরিয়ে এলাম ।

কাগজখানা দেখে ভাবলাম এই সব কাগজ তো ১০ টাকায় নীলক্ষেতে ৫ মিনিটে ২ টা বানানো যায় 😛

খেলা শুরু হল তারপরে- বাসার লেটার বক্সে নিজের নাম গাম দিয়ে লাগাতে না লাগতে চিঠি এসে হাজির । ভাবলাম এত তাড়াতাড়ি লাভ লেটার পরে দেখি ট্যাক্স নাম্বার । কি যে অবস্থা এখনো ব্যাংক একাউন্ট খুললাম না আর ট্যাক্স নাম্বার পেয়ে গেলাম । তারপরে আরও চিঠি এলো – স্বাস্থ্য বীমা (এইটা বাংলাদেশ থেকে করে এসেছিলাম), সামাজিক বীমা (এইটা স্বাস্থ্য বীমা কম্পানি থেকে দিয়েছিল) আরও কত কি । এই সুযোগে দেখি পাশের এক রেস্টুরেন্ট মালিক তার পিজ্জা মেন্যু দিয়ে গেছে । চিঠির প্যারায় আপনার যদি ক্যালরি খরচ হয় সেই ক্যালরি জোগাতে একটা কল করে পিজ্জা খেয়ে দিতে পারেন আর কি 😛

তো এই জনাবকে আমার কোথায় কোথায় লেগেছে তার কিছু কথা বলি। ব্যাংক একাউন্ট করতে হবে এই জনাবকে লাগবে । জব করবেন এই জনাবকে লাগবে । আসলে এই জনাব ছাড়া জার্মান সরকারের ভালাবাসা দিয়ে পাঠানো রেডিও বিল সহ আপনার কোন কীর্তিকলাপ এর জরিমানা কোথায় কিভাবে পাবেন বলেন 😛

রেসিডেন্স পারমিটঃ

এই জিনিস পাওয়ার পরে সবার প্রথম মনে হয়েছিল – “যাই এখন একবার বাংলাদেশ থেকে ঘুরে আসি”

তো এই বড় জনাবকে পাওয়ার জন্য আবার সেই এপয়েন্টমেন্ট কিন্তু ঝামেলাটা লাগলো অন্য যায়গায় এপয়েন্টমেন্ট পেলাম দেড় মাস পরে । এর মধ্যে আমার ভিসা শেষ কারণ করোনা আমাকে ৫ মাস বাংলাদেশে পরিবারের সাথে থাকতে সহায়তা করেছিল । এখন তো মহাবিপদ ! পুলিশ ধরলে বলবো কি, তার উপর ভাষার কাহিনি তো আগে থেকেই আছে । বন্ধু বলল আবার মেইলদে। বাংলা সিনেমা “ভাত দে”এর মত করে আবার মেইল দিলাম কোন কাজ হল না । তারপরের ১.৫ মাস পকেটে পাসপোর্টের ফটোকপি আর মোবাইলে এপয়েন্টমেন্ট এর ইমেইল নিয়ে চলতে লাগলাম । সামনে কোন পুলিশ দেখলে আমি আগে থেকেই ইমেইল বের করে রেডি 😛

এভাবে কেটে গেল বাকি সময় তারপর গেলাম ওদের অফিসে এপয়েন্টমেন্ট এর দিনে । আবার শুরু হল এটা কই? ওটা কই? সব দেয়ার পরে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে সাইন করার পরে একটা ফিকশান ভিসা ধরায় দিয়ে বলল এখন থেকে এইটা নিয়ে ঘুরবা । কি যে অশান্তি । এবার আবার নতুন কাগজ কিন্তু সিটি রেজিস্ট্রেশানের থেকে ভাল ছিল কারণ ১৩ ইউরো দিয়ে নিতে হয়েছিল ওইটা । 😛 তারপর বড় জনাবের জন্য এত অপেক্ষা করেছি যে একটা সময় বলতাম –এরা এমন কেন ???

প্রায় ৩ মাস কিছু দিন পরে আবার চিঠি এলো তখন আর ভাবিনি যে লাভ লেটার কারণ ততদিনে বুঝে গেছি এসব লেটার বক্সে পাওয়া যাবে না । 😛 অফিসে যাওয়ার সাথে সাথে বলল ১০০ ইউরো জমা দিয়ে আসো । একবার ভাবলাম বলি যে- কিছু কম করা যায় না ? আপনার কথা থাক আমার কথাও থাক একদাম ৭৫ ইউরো । তারপর নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ইউরো জমা দিয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত বড় জনাবকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম ।

কেউ বলতে পারেন যে এইটা কোথায় কোথায় লাগে ?? আরে ভাই এইটা ছাড়া ঘুমানো যায় না । 😛

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমার কাহিনি এখানে কিছুটা রসাত্মক ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি । রস বাদে বাকিটা মগজে রাখতে পারেন বলা তো যায় না কাজে লাগলেও লাগতে পারে।

ধন্যবাদ 🙂