ইউরোপ ট্রিপ দেয়া বাকেট লিস্ট এ কম বেশি সবারই থাকে, আমারও ছিল। তবে যেহেতু টাকায় আয় করে ইউরোতে ব্যায় করা অনেক এক্সপেন্সিভ এবং ইউরোপের ভিসা পাওয়াও সহজ ব্যাপার না, তাই ভেবেছিলাম অনেকদিন চাকুরী করে টাকা জমিয়ে তারপর হয়তো কোনদিন ইউরোপে যাওয়া যাবে। কিন্তু সেই প্ল্যান এর ওলট পালট করে কিভাবে কিভাবে যেন চলেই এলাম ইউরোপ!

কোথায় যাব?

ইউরোপের মাঝে ইকনোমিক পাওয়ার এর দিক থেকে এই মুহুর্তে সবচেইয়ে এগিয়ে জার্মানি, আর ভৌগলিক অবস্থান এর দিক থেকেও ইউরোপের মাঝামাঝি। এখনকার জব মার্কেটের কথা চিন্তা করলে জার্মানিকে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি সুযোগের ( opportunity ) জায়গা বললে একটুও ভুল হবেনা, বিশেষ করে টেকনোলজি সেক্টরে। নিজে যেহেতু কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি এবং ইন্ডাস্ট্রি তেই কাজ করার ইচ্ছা আর একাডেমিক দিক মাস্টার্স বা পিএইচডি নিয়ে আগ্রহও ছিল না, তাই সরাসরি জব এর জন্য জার্মানিতে এপ্লাই করব, এই সিদ্ধান্ত নিতে একটুও বেগ পেতে হয়নি।

কখন যাব?

আমার টার্গেট ছিল ২০১৯ পুরোটা ইন্টারভিউ দিতে থাকবো আর নিজেকে ইম্প্রুভ ও করতে থাকবো। ২০১৯ এর শেষে অথবা ২০২০ এর শুরুর দিকেই হয়তো কপাল ভাল থাকলে সুযোগ হবে। কেন এই সময় বেছে নিলাম? আমি যেহেতু ফ্রেশার হিসেবে জবের জন্য এপ্লাই করবো না, তাই তিন বছরের অভিজ্ঞটা হওয়া পর্যন্ত শুধু শিখে গেছি বিভিন্ন জিনিস। তারপর ২০১৯ এ এপ্লাই করা শুরু করি। তবে এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞটা, অনেকে আগে পরেও গিয়েছেন।

প্রিপারেশন?

ইন্টার্ভিউ সম্পর্কে খোজ খবর নেয়া, টার্গেট কিছু কোম্পানি সিলেক্ট করা। তাদের ইন্টার্ভিউ কেমন হয়, কি ধরনের প্রশ্ন থাকে এসব দেখে সেই অনুযায়ী প্রিপারেশন নেয়া। তবে আমার সাজেশন হচ্ছে একটু লো প্রোফাইল কিছুতেও এপ্লাই করা এবং ওগুলোতে আগে আগেই এপ্লাই করা এবং ইন্টার্ভিউ দেয়া। এতে ইন্টার্ভিউ এর প্রাকটিসও যেমন হয়, তেমনি নিজের উপর কফিডেন্স ও বাড়ে কারণ নিজের দুর্বলতা গুলো ঠিক করার সুযোগ পাওয়া যায়।

জব সার্চ

নিজের টার্গেট অনুযায়ী ফিল্মটার তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি। আমি যেমন ফিল্টার করেছিলাম এক্সপেরিয়েন্স => মিড-লেভেল, রোল => জাভাস্ক্রিট ডেভেলপার এবং লোকেশন => বার্লিন। আমার সবগুলো ইন্টার্ভিউতেই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যেমন – কেন জাভাস্ক্রিট, কেন বার্লিন, ইত্যাদি। এবং এই প্রশ্নগুলোর জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম কারণ এইগুলা অনেক ভেবে চিন্তে করা ফিলটার যেগুলো আমি কোন অনলাইন থেকে নেই নাই, নিজের রিয়েল কারণগুলোই বলেছি এবং এতে কমবেশি সব ইন্টারভিউয়ারই খুশি হয়েছিল বলা যায়। যদিও শেষমেশ আমি এসেছি কোলনে, কপালে থাকলে যা হয় আর কি

অনেক সাইটেই জব পোস্ট হয় তবে linkedin, xing, kununu, indeed, stackoverflow (tech) ইত্যাদি সাইট বেশ জনপ্রিয়!

ইন্টারভিউ

যদিও এটা অনেক কিছুর উপর ডিপেন্ড করে – কোম্পানি, রোল, এক্সপেরিয়েন্স ইত্যাদির উপর নির্ভর করে আলাদা আলাদা ফরমেট থাকে। তবে আমার ফেস করা কমন ফরমেট হচ্ছে চার স্টেপ –
১। ৩০ – ৬০ মিনিট ফোনকল বা ভিডিও কল। মূলত এইচ আর বা টেক টিম থেকে কেউ নিবে এবং খুব বেশি টেকনিক্যাল নয়। এখানে জেনারেল প্রশ্ন করা হবে এক্সপেরিয়েন্স, ডিসিশন মেকিং, ইত্যাদি নিয়ে। এখানে জাস্ট রোল এর সাথে আপনার প্রোফাইল ম্যাচ করে কিনা সেটাই যাচাই করা হবে।
২। টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ – এক বা দুইজন থাকবে আপনার এক্সপেরিয়েন্স এবং অনেক টেকনিক্যাল জিনিস জিজ্ঞেস করবে, ৬০-৯০ মিনিটের ইন্টারভিউ।
৩। কোডিং/প্রজেক্ট – লাইভ কোডিং যদি দেয়া হয় তবে সেটা সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় দেয়া হয়। টেকনিক্যাল কেউ যুক্ত থাকবে পুরোটা সময় এবং মাঝে বা শেষে প্রশ্নও করতে পারে কোডিং রিলেটেড।
আর যদি প্রজেক্ট হয় তবে সাইজ অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা থেকে শুরু করে ৭২ ঘণ্টা হতে পারে।
৪। কালচারাল ইন্টারভিউ – এই ধাপে একটু উপরের লেভেলের কেউ ছোট একটি ইন্টার্ভিউ নিবে কালচারাল ফিট কিনা, চিন্তা ভাবনার সাথে তাদের টিম বা কোম্পানির ফিলসফি যাচ্ছে কিনা এমন জেনারালাইজড কথাবার্তা হবে। এখানে এক্সপেক্টেড স্যালারিও জিজ্ঞেস করা হতে পারে জব পাওয়া – মিষ্টি খাওয়া ১ম পর্ব

ভিসা

জব ভিসার দিক দিয়ে ঢাকার জার্মান এম্বাসির সার্ভিস তুলনাহীন। আমি এপ্লাই করার পাঁচ দিনের মাথায় ভিসা পেয়েছি যেটা শুনে আমার জার্মান কোম্পানির মানুষজনও অবাক। সব পেপার রেডি করে জমা দিলেই ঝামেলা শেষ। তারপর ভিসা নিয়ে প্লেনের টিকিট কেটে মিষ্টি খাওয়া ২য় পর্ব।

জব ভিসা নিয়ে বিস্তারিত আগেই লিখা হয়েছে জার্মান প্রবাসেr ব্লগে তাই আর লিখালাম না https://www.germanprobashe.com/archives/18128
কারও কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে মেসেজ না পাঠিয়ে কমেন্টে লিখতে পারেন, জানা থাকলে চেষ্টা করবো উত্তর দেবার।

মূল লেখক: Al-amin Nowshad is in Cologne, Germany. October 14 at 10:52 AM · 

Image may contain: sky, tree, cloud and outdoor

[The below photo was clicked by myself of the great Cologne Cathedral]