সবাই ভিসা নিয়ে অভিজ্ঞতা লেখে। আমি একটু ভিসার আগের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।

আমি যখন প্রথম এই গ্ররুপে আসি তখন আমিও বাকি সবার মত ইনফো খুজতেছিলাম কিভাবে কি করে। এবং এই গ্ররুপের এডমিন এবং মেম্বারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে এরকম তথ্য সমৃদ্ধ একটা গ্ররুপ বানানো হয়েছে এবং চালানো হচ্ছে যেটা আমার মত অনেকের জন্য খুবই ভালো একটা প্লাটফর্ম।

আমার ব্যকগ্রাউন্ড ছিল বিজনেস। বিবিএ শেষ করে চাকরি করেছি দুইটা মাল্টি ন্যাশনালে। ২০১৮ এর মার্চের দিকে যখন ঠিক করলাম বাইরে পড়তে যাবো তখন বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুঁজি করা শুরু করলাম। এরপর এই গ্ররুপের লিঙ্ক দিল একজন। পেলাম “জার্মান প্রবাসে” সাইটের লিংক। চমৎকার সাইট। এখনও কেউ জিজ্ঞাসা করলে এই সাইটের লিঙ্ক আমি দিয়ে দেই যাতে মানুস আগে নিজে বুঝে নিতে পারে তাদের কি কি করা লাগবে এবং কিভাবে করা লাগবে।

কিছুদিন পরে দেখি সামার সেশনের সময় চলে আসছে। ১৮ এর উইন্টারে আবেদন করলাম না কারন IELTS দেয়া ছিল না আর চাকরির চাপে তখন প্রায় স্যান্ডউইচ। সেপ্টেম্বরে দিলাম IELTS এক সপ্তাহের প্রস্তুতিতে। স্কোর আসলো 8.0

এরপর আরও জোরেশোরে প্রস্তুতি শুরু হলো। ঠিক করলাম কোনগুলাতে আবেদন করবো এবং কে কি চাচ্ছে। সাথে A1 ও চালালাম। একই সাথে মোটিভেশন লেটারও লেখা শুরু করে দিলাম। বেশ কিছুদিন সময় দিয়ে এটাকে ভালো মত একটা কিছু বানালাম যাতে সিলেকশন কমিটিকে বুঝাইতে পারি যে আমারেই নেয়া লাগবে 😛

এর মাঝে আবার বিবিএ এর ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে হইলো। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন নাই তারা এর প্যাড়া বুঝবেন না। সেটাও হইলো। ইউনি এসিস্টে সব পাঠানো হইলো। ফি দেয়ার ব্যবস্থা করা হইলো।

Profile-

BBA : FBS, University of Dhaka
CGPA : 3.49
Deutsche : A1
IELTS – 8.0
Job Experience : 2.9 years

৫ টাতে সময় নিয়ে আবেদন করেছিলাম-

1. Technische Hochschule Nürnberg : Admission offered

2. HTW Berlin : Admission offered

3.Technische Hochschule Ingolstadt : Admission offered

4. Otto-von-Guericke-Universität Magdeburg : Admission offered

5.Rhine-Waal University of Applied Sciences : Admission offered

যারা জার্মানিতে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে তাদের জন্য কিছু টিপস-

১. সবার আগে মাস্টার্স প্রোগ্রাম সিলেক্ট করেন যেটার সাথে আপনার ব্যাচেলরের কিছুটা হলেও মিল আছে। এবং আপনি পড়তে চান। যেটা পড়তে পারবেন না সেটা নেয়ার মানে নাই

২. কোন প্রোগ্রামে কি চায় সবই লেখা আছে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে। ভালমতো পড়ে নিন। সেগুলা একটা ফাইলে লিখে রাখুন। যাতে ডেডলাইনের আগে চেক করতে পারেন কোন কিছু বাদ গেছে কিনা

৩. মোটিভেশন লেটারে ভালো সময় দিন। আমি গার্লফ্রেন্ড পটাতে না পারলেও পাঁচটা সিলেকশন কমিটিকে পটায় ফেলছি যেটা আমার কাছেও কিছুটা বিস্ময়কর। ১ মাস ধরে ড্রাফট লিখেন এবং এডিট করেন। শেষে দেখবেন ভালো কিছু বের হয়ে আসছে।

৪. যাদের চাকরির অভিজ্ঞতা নাই তাদের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রেফার করে এমন মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করে বেশি আশা না করাই ভালো।

৫. IELTS এ অনেকে সময় না দিয়ে পরীক্ষা দেয় এবং স্কোর খুব বেশি আসে না। কমপক্ষে ১-২ মাস সময় দিন যদিনা আপনার বেসিক ভালো না থাকে। IELTS এর স্কোর ৭ এর উপরে থাকলে আপনার চান্স এমনিতেই বেড়ে যায় বাকি সব ঠিক থাকলে।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দিলাম কিছু টিপস। ভিসা হয়ে গেছে। ভিসা অফিসার তেমন কিছু জিজ্ঞাসাও করে নাই। কিছু খোশগল্প করে বলে আপনি এখন যান, লোল। কিঞ্চিত চিন্তিত হয়ে ফেরত আসলেও ভিসা ঠিকই আসছে। আলহামদুলিল্লাহ।

শেষ কথা, “ফোকাস” ঠিক রাখবেন। আপনি যদি চান এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন ঠিক সময়ে আপনার সাফল্য আসবেই। না আসার কোন কারন নাই।

সবার জন্য শুভকামনা থাকলো। বিজনেস গ্রাডদের জন্য এই পোস্টটা কাজে লাগবে এই প্রত্যশায় আজকের মত বিদায়।

সবাই ভালো থাকবেন।