আমাদের এখানে(আখেন, জার্মানি) একটি মিরাকেল দোকান আছে। সেরনা নাম। মাঝেমাঝে মিরাকেলি এমন কিছু জিনিস পেয়ে যাই, যেটা পাবার আশা হয়ত কখনই করিনা। দোকানে ঢুকি, দেখি, বিস্মিত হই, কিনে ফেলি। তো হঠাৎ করেই কৈ মাছের দেখা পেলাম। বাংলাদেশের কৈ মাছ। আমার এক বন্ধু খুশিতে জিজ্ঞেসি করে ফেলল, “জেতা মাছ নাকি?” নাহ, ভাই, জেতা মাছ না। ফ্রোযেন, ফুল্লি প্রসেসড। কাটা বাছার ঝামেলা নেই। শুরুতে ভেবেছিলাম শুধু ভেঁজেই খাবো। কিন্তু পরে মিরাকেলি ওই একি দোকানে কাঁচা কলাও পেয়ে গেলাম। একটা কথা বলি, জীবনে প্রথম কাঁচা কলা কিনলাম। তাই ভাল-মন্দ বাধ-বিচার ছাড়াই চারটা কলা নিচ্ছিলাম। ঘটনা আঁচ করে আমার পাশে থাকা এক কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্র মহিলা ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংলিশে বললেন, “এই কলাটা ভাল না, বেশি পেকে গেছে।” আমার ধারনা ছিল কাঁচা কলা পাকলে পাকা কলার মত হলুদ হবে, কিন্তু আসলে ব্যাপারটা তা না। কাঁচা কলা (যেটা আমরা তরকারিতে খাই) পেকে গেলে পাকা কলার মত হলুদ হয়না। এটা ওই দিনই প্রথম জানলাম। যাই হোক, মহিলাটি নিজেই আমাকে কতগুলো কলা বেছে দিলেন। তার এই স্নেহ পেয়ে কি যে ভাল লাগল। তাকে আমার মায়ের মতই সুন্দর লাগছিল। মায়েরা সব সময়ই সুন্দর হয়। গায়ের রঙ দিয়ে কি আসে যায়?

কাঁচা কলা যে আসলেই পাকা কলার মত না, তা আরও একবার টের পেলাম রান্না করার সময়। কলার খোসা ছাড়াবার মত কত টানাটানি করলাম, খোসা না খুলে গোটা কলাটাই থেতলে গেল। শেষমেষ একটা কলা গচ্ছা দিয়ে শিখলাম কাচা কলার খোসা সবজির খোসার মত করে কেটে কেটে ছাড়াতে হয়। যদি কেও আমার মত প্রথমবার কাঁচা কলা রান্না করতে গিয়ে থাকেন, এই ভুল করেননা কিন্তু! 🙂

10644528_10154682198005161_854643211588284439_n

————————
আপনার প্রবাস জীবনের অনুভূতি লিখুন আমাদের পেইজ এর ওয়ালে! আমরা অবশ্যই তা পেইজ থেকে শেয়ার করব! আপনাদের পোস্ট করা এবং প্রাইভেসি পাব্লিক করা এলব্যামও শেয়ার করা হবে আপনার হয়ে এবং ভাগ করে নিব সুখ-দুঃখ সবার সাথে!
————————
আপনার ছবিও দিতে পারেন আমাদের পেইজে! বিস্তারিতঃ http://goo.gl/90IVlk
————————
জার্মান প্রবাসে বাংলাদেশিদের মিলনমেলাঃ
www.GermanProbashe.com