Shah Newaz Sunny August 31 at 1:44 AM · tag GermanProbashe, Visa

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম জার্মানিতে এপ্লাই করা নিয়ে আমার এক্সপেরিয়েন্স সবার সাথে শেয়ার করবো। যেটা হরহামেশাই সবাই করে থাকে তবে আমার ক্ষেত্রে আমি চাইছিলাম বিভিন্ন স্টেপগুলোর ব্যাপারে একটু ডিটেইলস নিয়েই লিখবো যাতে ইউনিভার্সিটি এপ্লিকেশন থেকে শুরু করে ভিসা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর স্টেপটাও যেন টাইমলাইন থেকে বাদ না পড়ে কারণ বেশিরভাগ মানুষ মূলত ইম্পরট্যান্ট স্টেপগুলাই ইনক্লুড করে কারণ হয়তোবা প্রতিটা স্টেপ নিয়ে ডিটেইলস লেখা আলাদা আলাদাভাবে এমনিতেই আছে দেখে। যাই হোক এই লেখার মাধ্যমে আমি চেষ্টা করবো যেন অলমোস্ট এ থেকে জেড পর্যন্ত কাভার করা যায়। জরুরী অনেক তথ্যই আশা করি এই পোস্ট পড়ে জানতে পারবেন, বিশেষ করে সামনে যারা এপ্লাই করার কথা ভাবছেন।

মূলত এ বছরের মার্চ মাসে এসেই আমি আমার দুই একজন বন্ধুর জোরালো সাপোর্ট দেখে জার্মানিকে নিজের পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে চিন্তাভাবনা করার ব্যাপারটা মাথায় নি। অন্য একটি দেশে এপ্লাই করার জন্য আইইএলটিএস দেওয়ার চিন্তাভাবনা আগে থেকেই ছিল। সে চিন্তা করে মেন্টরস এ ১৫টি মক এক্সাম দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনও করেছিলাম বেশ আগেই যদিও ব্যস্ততা আর ক্ষেত্রবিশেষে আলসেমির কারণে কোনভাবেই মক দেওয়ার জন্য যাওয়া হচ্ছিলো না। এদিকে যখন জার্মান ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম তখন জানতে পারলাম অনেক ইউনিতে অল্রেডি এপ্লিকেশন প্রসেস শুরু হয়ে গিয়েছে এবং কিছু ইউনির ডেডলাইন খুবই সন্নিকটে। তার মধ্যে একটি কনফারেন্সে এটেন্ড করার জন্য আমার সেই মাসেই দেশের বাইরে যেতে হবে। তো সবকিছু ভেবেচিন্তে দেখলাম দেশে ফিরে এসে আইইএলটিএস দিতে গেলে আরো অনেক ইউনিতে এপ্লাই করার সুযোগ হারাতে হবে। তাই মার্চ মাসেই আইইএলটিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আগে ঢিলেঢালাভাবে অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে টুকটাক প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম আর আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে দুটো বই সংগ্রহ করে রিডিং সেকশন প্র‍্যাক্টিস করছিলাম। আইইএলটিএস রেজিস্ট্রেশন করে ফেলার পর রীতিমতো দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থায় পড়ে পড়াশোনার মাত্রা বাড়িয়ে আরো বেশি বেশি স্যাম্পল এক্সারসাইজ সলভ করা শুরু করলাম। আর মক দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষমেশ ৫টা মক এক্সাম দিতে পেরেছিলাম তাও সবগুলোতেই স্পিকিং সেকশন স্কিপ করেছিলাম কারণ আমি বিকালের সেশন মক দিতে পারতাম না বলে। যাই হোক রিডিং আর লিসেনিং এ ভালো স্কোর আসায় পরীক্ষা দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলাম। ২৪শে মার্চ রিটেন এবং স্পোকেন দুটো এক্সাম ই দিলাম। এর মধ্যে একজন বন্ধুকে বললাম আমাকে কিছু ইউনি সাজেস্ট করতে যেহেতু সেও আমার মত একি সাব্জেক্ট থেকে ব্যাচেলর্স শেষ করেছে এবং অল্রেডি কয়েকটা জার্মান ইউনিতে এপ্লাই করেছে। সে আমাকে ইউনি সাজেস্ট না করে বরং পথ( DAAD) দেখিয়ে দিলো কিভাবে ইউনিভার্সিটি বা সাব্জেক্ট খুঁজে নিবো সে ব্যাপারে। সত্যি বলতে সবার ই সেটাই করা উচিত। সবার পছন্দ, সবার স্ট্রেংথ, সবার ইন্টেরেস্ট এক হয় না তাই ইউনিভার্সিটি বলুন বা কোর্স বলুন, দুটোই নিজে দেখে নির্বাচন করা উচিত। আমিও সব বুঝে নিলাম তার কাছ থেকে তবে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে সেটা নিয়ে আর তেমন কাজ করা হলো না। এক্ষেত্রে ব্যস্ততার চাইতে আমি আলসেমিকে দায়ী করবো বেশি। যাই হোক ১০ই এপ্রিল দেশে ফিরে আসলাম এবং এসেই পুরোদমে এপ্লিকেশনের ব্যাপারে কাজ শুরু করলাম।

প্রথমেই আমি আমার কাজের টাইমলাইনটা শেয়ার করবো এবং বিভিন্ন স্টেপে অতিরিক্ত যেসব তথ্য সবার জানা দরকার সেসব আমি সাইডনোট দিয়ে জানানোর চেষ্টা করবো।

টাইমলাইনঃ
১২/৩-আইইএলটিএস এক্সামের জন্য রেজিস্ট্রেশন করলাম
২৪/৩-আইইএলটিএস এক্সাম
১১/৪-ডকুমেন্ট এটেস্টেশনের জন্য জমা দিলাম

এপ্লিকেশনের জন্য জার্মান অথরাইজড অফিস(এম্বাসি বা কন্স্যুলেট অফিস) থেকে এটেস্টেড করাতে হয় বা নোটারী করালেও চলে।এটেস্টেশনের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ এম্বাসি থেকে এটেস্টেড করালেও আমি করেছিলাম আমার নিজ শহর চট্টগ্রামে অবস্থিত কন্স্যুলেট অফিস থেকে। চট্টগ্রামে যারা থাকেন তারা কষ্ট করে এম্বাসি না গিয়ে এটেস্টেশনের কাজ এই অফিসেই সেরে নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য এই যে জার্মান কন্স্যুলেট সবসময় দেশে থাকেন না, তাই খবরাখবর নিয়েই যাবেন। আর যদি উনি না থাকেন কবে আসবেন সেটা জেনে আসবেন এবং সে সময় অনুযায়ী গিয়ে এটেস্টেশনের জন্য জমা দিয়ে আসবেন।গড়ে সাধারণত এক সপ্তাহের মত সময় নে তবে প্রসেসটা খুবই সিম্পল এবং ঝামেলা মুক্ত। আপনার সকল অরিজিনাল সার্টিফিকেট একটা এ-ফোর খামে ঢুকিয়ে, ৫সেট ফটোকপিসহ(সাধারণ ফটোকপি হলেই হবে,শুধু ক্লিয়ার হলেই হলো) আরেকটি বড় খামে ঢুকিয়ে জমা দিবেন। প্রতি সেট ডকুমেন্টের সাথে আইডেন্টিফকেশনের জন্য এক কপি করে পাসপোর্টের কালার কপি সংযুক্ত করে দিবেন। বড় খামটার উপরে(যেটার ভেতরে করে অরিজিনাল প্লাস ফটোকপি সব ডকুমেন্ট একসাথে দিবেন) কয়টি ডকুমেন্ট জমা দিচ্ছেন সেটা লিখে দিবেন আপনার নাম এবং মোবাইল নাম্বার সহ। চাইলে ডকুমেন্টের বিস্তারিত দেওয়া যাই তবে সেটা আবশ্যক না, কিন্তু কয়টা ডকুমেন্ট জমা দিচ্ছেন সেটা ভালোভাবে লিখবেন। এরপর যেদিন জমা দিবেন, সেদিন জমা নেওয়ার সময় আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারে, খুবই সাধারণ কিছু প্রশ্ন, সেটা জাস্ট ফর্মালিটি। তারা সব ডকুমেন্ট জমা রেখে(অরিজিনালসহ) আপনাকে ডকুমেন্ট রিসিভ করার একটা সময় দিবেন, সেই সময়ে গিয়ে আপনাকে ডকুমেন্টগুলো কালেক্ট করতে হবে। আমার ক্ষেত্রে ঠিক ৮ দিন পর যেতে বলেছিল, সাথে এটাও জিজ্ঞেস করেছিল ৮ দিন হলে বেশি দেরী হয়ে যাবে কি না, আরো আগে প্রয়োজন আছে কিনা, আমি সমস্যা নেই বলাতে আমাকে আগে দেওয়া টাইমেই যেতে বলেছিল। ওইখানে তাদের কো-অপারেশন খুবই ভালো লেগেছে, এত সুন্দর ব্যবহার,তাও ফ্রি একটা কাজে! যাই হোক, চট্টলাবাসী যারা আছেন তাদের অনেকের মনে এতক্ষণে একটা প্রশ্ন এসেছে হয়তো, অফিসটা ঠিক কোন জায়গায়? অফিসটা হলো, আগ্রাবাদ বনানী কমপ্লেক্সের বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের যে বিল্ডিংটা আছে(ইস্পাহানীর বিল্ডিং), সেটার বাম পাশের প্রবেশ দিয়ে ঢুকে ৪ তলায়(যতদূর মনে পড়ে আরকি)। সেখানে গিয়ে গার্ডকে আপনার যাওয়ার কারণটা বললেই আপনাকে আপনার করণীয় সম্পর্কে তিনিই বলে দিবেন সবকিছু।

এটেস্টেশন হয়ে গেলে উনারা রেকর্ডের জন্য এক সেট ফটোকপি রেখে বাকি চার সেট আপনাকে অরিজিনাল কপি সহকারে ফেরত দিবে। ম্যাক্সিমাম ৫সেট ই জমা নে,তাই এর বেশী করাতে পারবেন না। একজন ব্যক্তি একি সেশনে একবারের বেশি এটেস্টেড করাতে পারবেন না এই অফিস দ্বারা, সো ৫সেট ই দিবেন, বেশিও না, কমও না। ডকুমেন্ট ফেরত নেওয়ার সময় ভালোভাবে দেখে সব বুঝে নিবেন যাতে কোন অরিজিনাল ডকুমেন্ট তাদের কাছে ভুলে থেকে না যায়।

১২/৪-আইইএলটিএস সার্টিফিকেট রিসিভ করলাম আইডিপি অফিসে গিয়ে।

১৩/৪- জার্মান আ১ কোর্সে ক্লাস করা শুরু করলাম চট্টগ্রামের জামাল খানে অবস্থিত ডি স্প্রাখে নামক ল্যাংগুয়েজ ইন্সটিটিউটে।(মানে এইবার আমি ব্যাপক সিরিয়াস আরকি  ) তিন মাস ব্যাপী আ১ কোর্সটির ফি ছিল ১৪,৫০০। এখন কোর্স ফি কিছুটা বেড়েছে কারণ এখন আ১ এক্সাম দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে গোয়েথ ইন্সটিটিউট, তাই কোর্স ফি সহ মে বি এক সাথে নিয়ে নে। এইটার ব্যাপারে সঠিক আপডেট জানি না, তবে পরের সেশন থেকে এই নিয়ম চালু হবে বলে শুনেছিলাম আরকি।

১৯/৪-এটেস্টেড ডকুমেন্ট যথা সময়ে গিয়ে কালেক্ট করলাম।

এর মধ্যেই পাশাপাশি নিজের পরিচিত অনেক সিনিয়র ভাই,বন্ধুদের কাছ থেকে নানান জিনিসপত্র জেনে নিচ্ছিলাম এবং কোর্সের ব্যাপারে DAAD এর ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন ইউনির ওয়েবসাইট ঘেটে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। এরপর একটা শর্টলিস্ট বানালাম, এপ্লিকেশনের পন্থা(ডিরেক্ট নাকি ইউনি এসিস্টের মাধ্যমে, ডিরেক্ট হলে অনলাইন নাকি ডাকযোগে ডকুমেন্ট পাঠিয়ে), ডেডলাইন, রিকুয়ারমেন্ট কি, কি কি ডকুমেন্ট জমা দেওয়া লাগবে এইসবের একটা চার্ট বানালাম। যতদূর মনে পড়ে শুরুতে ৫টা কি ৬টা ইউনিভার্সিটির একটা লিস্ট বানিয়েছিলাম। এর মধ্যে নিজের প্রোফাইল সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জানিয়ে এইসব ইউনিতে আমার সম্ভাবনা কতটুকু সে ব্যাপারে কিছুটা যাচাই বাছাই করেছিলাম।তার মধ্যে কয়েকটা ইউনি ইউনিএসিস্টের মাধ্যমে এপ্লাই করার নিয়ম ছিল।তাই ইউনি এসিস্টের একাউন্ট খুললাম প্রথমে।

২৪/৪-ইউনি এসিস্টের একাউন্ট খুলেছিলাম এইদিন।

প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ ডকুমেন্ট হাতে থাকলেও একটা জিনিস ভুল করে, আলসেমির কারণে নেওয়া ছিল না, সেটা হলো রিকমেন্ডেশন লেটার। দ্রুত স্যারদের শরনাপন্ন হলাম এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে সময়মতো পেয়ে গেলাম।

২৯/৪-ইউনিভার্সিটি অফ জিগেনের( University of Siegen) ন্যানোসাইন্স এন্ড ন্যানোটেকনোলজিতে মাস্টার্স এর জন্য এপ্লাই করার সকল তথ্য সংগ্রহ করে এপ্লিকেশন ফিল আপ করে রাখলাম। উল্লেখ্য এই ইউনির এপ্লিকেশন ছিল পুরোটাই অনলাইন ভিত্তিক এবং এটার কোন এপ্লিকেশন ফি ছিল না।

৩০/৪-রিকোমেন্ডেশন লেটার হাতে পেলাম ঠিক এই দিন। এরমধ্যেই জিগেনের এপ্লিকেশন সাইন করে সব ডকুমেন্ট স্ক্যান করে রেডি করে রেখেছিলাম। ঠিক ৩০ এপ্রিল ই এই কোর্সটার এপ্লাই করার লাস্ট ডেট ছিল, আমি একদম শেষ মূহুর্তে এসে এপ্লিকেশন প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সহকারে নির্দিষ্ট ইমেইল এড্রেসে পাঠিয়ে দিলাম। শেষ মূহুর্তে তাড়াহুড়ো করে পাঠিয়ে কেন জানি মনে হচ্ছিলো কিছু একটা ঝামেলা করার কারণে এই ইউনিতে হবে না হয়তো।

১৬/৫-ইমেইল নোটিফিকেশন আসলো,ইউনি অফ জিগেন থেকে মেইল। ভাবলাম এপ্লিকেশনের ব্যাপারে আপডেট জানাচ্ছে। বাট খুলে দেখলাম কনগ্রেটস জানিয়ে লেটার অফ এডমিশন সুংযুক্ত করা একটি মেইল। দেখেই বেশ খুশী লাগল প্রথম তীর লক্ষ্য ভেদ করেছে এইটা ভেবে এবং আর কোথাও না হলেও জার্মানি যাওয়ার একটা টিকেট হাতে পেয়েছি এই ভেবে বেশ আনন্দিত অনুভব করলাম।

ইতিমধ্যে একটা ইউনি থেকে অফার লেটার পেয়ে আমি ডিসিশন নিলাম, যেসব কোর্স আমার জন্য বেস্ট স্যুটেড না, মানে পড়বো ঠিক, কিন্তু আমার ইন্টেরেস্টে সাথে একদম খাপে খাপ না, সেসব বাদ দিবো লিস্ট থেকে। শুধু ইন্টেরেস্ট যে কোর্স নিয়ে, সে কোর্সেই শুধু এপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম। শর্টলিস্ট আরো শর্ট করতে গিয়ে ভাবলাম, ইলেক্ট্রনিক্স রিলেটেড কারিকুলামেই যেহেতু পড়ার ইচ্ছা, তাই শুধু সে সংক্রান্ত কোর্স ই রাখবো। পরে দেখলাম, লিস্টে শুধু টিইউ ড্রেসডেন ছাড়া বাকি সব নাম বাতিলের খাতায় পড়ে যাচ্ছে। যাক, মনে সাহস নিয়ে শুধু টিইউ ড্রেসডেনের ন্যানোইলেক্ট্রনিক সিস্টেমসে এপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

১৭/৫-ইউনি এসিস্ট একাউন্টে টিইউ ড্রেসডেনের এপ্লিকেশন সাবমিট করলাম, যে এপ্লিকেশন জেনেরেট হয়েছে সেটা ডাউনলোড করে সাইন করে প্রয়োজনীয় বাকি সব ডকুমেন্টসহ পাঠানোর জন্য রেডি করলাম।

১৮/৫-ডিএইচএলের অফিসে গেলাম ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য এবং সেদিন ই পাঠিয়ে দিলাম। এইক্ষেত্রে আমার কিছু টাকা সেইভ হয়েছে(২৪০০/২=১২০০ টাকা লেগেছিল)। আমার এক বন্ধু দ্বিতীয়বার তার কিছু ডকুমেন্ট ইউনি এসিস্টে পাঠাচ্ছিলো। আমার একটা মাত্র ইউনির ডকুমেন্ট হওয়াতে খুব বেশি ওয়েইট ছিল না, আর ওর ও দ্বিতীয়বার হওয়াতে ডকুমেন্ট কম ছিল, তাই দুইজনের ডকুমেন্ট নিজ নিজ খামে ভরে, এপ্লিকেন্ট নাম্বারসহ যাবতীয় তথ্য ঠিকমতো লিখে ডিএইচএলের একি খামে করে পাঠিয়েছিলাম। মানে দুইজনের ডকুমেন্ট এক সাথে, ডিএইচএলের একি খামে করে।এতে করে খরচটা অর্ধেকে নেমে আসলো। শুধু দুজন না, ইউনি এসিস্টে একি খামে করে ৩-৪ জন একসাথে পাঠালেও কোন সমস্যা হয় না। শুধু ডিএইচএলের খামের ভেতরে থাকা নিজ নিজ ছোট ছোট খামের উপর প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে দিলেই হয়, ইউনি এসিস্ট ডকুমেন্ট হাতে পেলে আলাদা করে নিবে নিজ দায়িত্বে।

২৪/৫-ইউনি এসিস্ট ডকুমেন্ট হাতে পাওয়ার ব্যাপারে কনফার্মেশন মেইল দিলো।এরপর ওইদিন ই ইউনি এসিস্টের ৭৫ ইউরো এপ্লিকেশন প্রসেসিং ফি(আমার যেহেতু একটাই এপ্লিকেশন ছিল) পরিশোধ করলাম জার্মানিতে থাকা আমার এক বড় ভাইয়ের সাহায্যে। জার্মানি থেকে পে করতে পারলে সুবিধা হলো, টাকাটা ইউনি এসিস্ট তাড়াতাড়ি পাই, প্লাস বাংলাদেশী ব্যাংকের নানান চার্জ আর নানান ঝক্কিঝামেলার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না।

২৮/৫-ইউনি এসিস্ট পেমেন্ট পাওয়ার কনফার্মেশন দিলো। কোন মিসিং ডকুমেন্টের কথা না বলাই ধরে নিলাম ইনিশিয়াল চেকিং এ কোন কিছু মিসিং তারা পাই নাই। আল্লাহ বাঁচাইসিলো, কারণ এই কোর্সে এপ্লাইয়ের ডেডলাইন ছিল ৩১শে মে। মিসিং ডকুমেন্ট বললেই ওইখানেই কাহিনী খতম হয়ে যেতো। আমার শর্টলিস্টের মেইন টার্গেট ই ছিল এই কোর্সটা, এইটাতে এপ্লাই করা না হলে খুবই খারাপ লাগতো। জিগেনে অফার লেটার পেলেও সকল চিন্তাভাবনা ছিল টিউ ড্রেসডেন নিয়ে।

৩০/৫-এর মধ্যেই আমি চেষ্টা করছিলাম ভিসা এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখার, প্রায় ৩-৪ দিন সেহরির সময় চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোনাভাবেই অনলাইনে স্লট পাচ্ছিলাম না। মাঝে বিরক্ত হয়ে জিগেনের অফার লেটার এটাচ করে মেইল ও দিয়েছিলাম ২৮ কি ২৯ তারিখ। সেটাতে কোন রিপ্লাই পেলাম না। পরে শেষমেশ ৩০ তারিখ ব্রেক থ্রু, পেয়ে গেলাম ৮ই আগস্টের এপয়েন্টমেন্ট, এবং সেটা অনলাইনেই পেলাম। হিসাব করে দেখলাম, ডেটটা পারফেক্ট ই আছে, এর মধ্যেই হয়তো ড্রেসডেনের ডিসিশন পেয়ে যেতে পারি। পেলে সে অনুযায়ী এম্বাসি ফেইস করা যাবে। এর পরেই এম্বাসিকে মেইল দিয়ে জানালাম যে আমি ইতিমধ্যে অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট পেয়েছি, সুতরাং আগের রিকুয়েস্ট প্রসেস যেন না করে।

এই সময়ে ইউনি এসিস্ট একাউন্টে খবরাখবর রাখছিলাম ড্রেসডেনের জন্য করা এপ্লিকেশনের স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয় কিনা দেখার জন্য।

৬/৬- ইউনি এসিস্ট একাউন্টে দেখলাম ইউনিভার্সিটিকে এপ্লিকেশন ফরওয়ার্ড করা হয়েছে। যাক, আমার আবেদন ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত গেলো এই ভেবে শান্তি পেলাম।

৮/৬- ইউনি এসিস্ট রেজাল্ট ইভালুয়েশন রিপোর্ট পাঠালো৷ মানে জার্মান স্কেলে কনভার্ট করে সেটার অফিশিয়াল একটা পেপার পাঠালো আরকি।

১৪/৬- টিইউ ড্রেসডেন থেকে মেইল পেলাম। না এইবারও ডিরেক্ট সুসংবাদ নিয়ে কোন মেইল দে নাই, জাস্ট ওদের পোর্টালে লগিন করার ডিটেইলস দিলো, আর বলা হলো সেখানেই আমার আবেদনের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবো(ফাইল বা ডকুমেন্ট সেকশনে আপডেট জানানো হবে)। লগিন করে দেখলাম আমার এপ্লিকেশন তারা প্রসেস করা শুরু করেছে এর ঠিক দু দিন আগে,মানে ১২ই জুন।

৬/৭- ড্রেসডেন থেকে আরো একটা মেইল পেলাম পোর্টাল চেক করার জন্য। ইউরেকা! ইউরেকা!ঢুকে দেখলাম সু-সংবাদ। এডমিশন লেটার সহ সাপোর্টিং আর কিছু ডকুমেন্ট। যাক, আশা তাহলে পূরণ হলো, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে মেইন টার্গেটে হিট করতে সমর্থ হলাম। টিইউ ড্রেসডেন!!!

৯/৭- স্টুডেন্টেনবার্গ এ ডর্মের জন্য এপ্লাই করলাম। ডর্মের রুম দেরীতে এলোকেট করা হয় জানা ছিল বলে ভিসা ফেইস করার সময় রুম না পেলেও ব্যাকআপ হিসেবে দেখানোর জন্য ১০ দিনের জন্য একটা হোটেল রুম বুক করলাম বুকিং ডট কম সাইট থেকে, যেটাতে ফ্রি ক্যানসেলেশন আর কার্ড ইনফো ছাড়া বুকিং এর সুবিধা ছিল ওইরকম হোটেলে।

১২/৭-ডয়েচল্যান্ড স্টিপেন্ডিয়ামের(ডয়েচ স্কলারশিপ) জন্য পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করলাম। আগেই বলে রাখি, এইটা জেনারেল একটা স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হলেও সিলেকশন প্রসেসের ক্রাইটেরিয়া সেট করা হতে শুরু করে সিলেকশন পর্যন্ত সবকিছু ইউনিভার্সিটি ডিল করে। ইউনিভার্সিটির মনোনীত স্টুডেন্টদের লিস্ট অনুযায়ী স্কলারশিপটা দেওয়া হয়। তাই একেক ইউনিতে একেক রিকুয়ারমেন্ট থাকে, একেক রকম প্রসেস থাকে, ডেডলাইনও ভিন্ন ভিন্ন। বিস্তারিত জানতে আপনার ইউনির নামের সাথে “Deutschland Stipendium” লিখে সার্চ দিলেই আপনার ইউনির ওয়েবসাইটে এই স্কলারশিপ সংক্রান্ত যে পেইজ আছে সেটার লিংক আশা করি পেয়ে যাবেন। বাকি প্রসেস ওইখানকার ডিস্ক্রিপশন অনুযায়ী সম্পন্ন করবেন। আমার ক্ষেত্রে টিইউ ড্রেসডেনে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় ছিল এপ্লাই করার, ২রা জুলাই থেকে ১৬ই জুলাই পর্যন্ত। এই স্কলারশিপ বছরে একবার ই এপ্লাই করা যায়,সিলেক্টেড হলে স্কলারশিপও দুই সেমিস্টারের জন্য দেওয়া হয়, পরবর্তী বছর আবার একি উপায়ে স্টুডেন্ট সিলেক্ট করা হয়। প্রতিটা ইউনি তাদের মোট স্টুডেন্টের ম্যাক্সিমাম ১.৫% স্টুডেন্টকে মনোনীত করতে পারবে, তবে এক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রম নিয়ম ও আছে। যদি একি স্টেটে অন্য কোন ইউনির কোটা অব্যবহৃত থেকে যায়, সেক্ষেত্রে ওই স্টেটের অন্য ইউনি সে কোটা ব্যবহার করার উপায় আছে। আরো বিস্তারিত জানতে হলে এই স্কলারশিপের একটি সাইট আছে, সেই সাইট ঘেটে দেখতে পারেন।

১৬/৭- ডয়েচল্যান্ড স্টিপেন্ডিয়াম স্কলারশিপের এপ্লিকেশন সফলভাবে সাবমিট করলাম এবং একই দিন এপ্লিকেশন সাবমিটের একটা কনফার্মেশন পেলাম(এপ্লিকেশন নাম্বার সহ) মেইলের মাধ্যমে।মেইলে বলা হলো, এটি ফরমাল রিভিউ শেষে পরবর্তীতে যার যার নির্ধারিত ফ্যাকাল্টিতে এপ্লিকেশন পাঠানো হবে এবং এটাও জানানো হলো যে অক্টোবরের মাঝখানে এই স্কলারশিপের রেজাল্ট জানানো হবে।
২৪/৭-ফিন্তিবাতে ব্লক একাউন্ট খুললাম।
২৫/৭-ব্লক একাউন্ট খোলার কনফার্মেশন পেলাম ফিন্তিবা থেকে একাউন্ট ডিটেইলস সহকারে।
৬/৮-ট্রেভেল ইন্স্যুরেন্স করালাম ২১ দিনের জন্য(১৬৭০টাকা নিয়েছিল)। ২৫শে সেপ্টেম্বর থেকে ইন্স্যুরেন্স শুরুর ডেট দিয়েছিলাম। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাসপোর্টটা লেগেছিল আর একটা ফর্ম পূরণ করতে হয়েছিল। এক ঘন্টার মধ্যেই এই কাজ শেষ করেছিলাম। ইন্স্যুরেন্স অফিসে যাওয়ার পথে একটা স্টুডিওতে বায়োমেট্রিক ছবি তুলে গিয়েছিলাম। ম্যাট পেপারের প্রিন্ট দিয়েছিলাম(এইটাই ভালো), ১২ কপি ৩০০টাকা নিয়েছিল। এরপর ইন্স্যুরেন্স এর কাগজপত্র নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ছবি নিয়ে আসলাম।
৭/৮-ভিসা এপ্লিকেশন পূরণ করলাম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রিন্ট আর ফটোকপি করে নিলাম পরেরদিন ভিসা ইন্টারভিউর জন্য। এম্বাসিতে যে লিস্ট দে সেটা আগে থেকেই দেখায় যেভাবে সব কাগজ সাজানো লাগে সেভাবে আগে থেকেই সেট করে রেখেছিলাম, জাস্ট তিন সেটে(একটা অরিজিনাল আর দুই সেট ফটোকপি) তিনটা জেমস ক্লিপ দিয়ে সব রেডি করে রাখলাম।জেমস ক্লিপ বেশি ব্যবহার করলে ভিসা অফিসাররা একটু বিরক্ত হয়।

উল্লেখ্য আমার একটা জিনিস বাকি ছিল, সেটা হলো ব্লক মানি ট্রান্সফার করা। তাই ব্লক একাউন্ট ওপেনিং এর যে কনফার্মেশন পাঠিয়েছে সেটাই শুধু ইনক্লুড করলাম ব্লকের ডকুমেন্ট হিসেবে।

৮/৮-বিগ ডে এরাইভড। সব কাগজপত্র একটা ট্রান্সপারেন্ট ফাইলে ঢুকিয়ে সাথে শুধু পাসপোর্ট,মোবাইল এবং প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে এম্বাসির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ৯ঃ৩০টার স্লটে আমার এপয়েন্টমেন্ট ছিল। ৯টার দিকে এম্বাসির সামনে হাজির হলাম। রিপোর্ট করার পর লিস্ট দেখে আমার এপয়েন্টমেন্টের ইনফো ভেরিফাই করে আমার মোবাইল জমা দিতে বলল। জমা দেওয়ার পর একটা আইডি কার্ড দেওয়া হলো। একটু পরেই এম্বাসিতে ঢুকলাম। তল্লাশি করে আমাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া হলো। এরপর ইন্টারভিউ হলে ঢুকলাম যেখানে ৬টা কাউন্টার ছিল, যার মধ্যে ১,২,৩ ফ্রান্স এম্বাসির, ৪,৫,৬ জার্মান এম্বাসির। একজন মহিলা একটা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে ডকুমেন্ট সেট করে তারপর উনাকে দিতে বলল। উনার ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী সবকিছু করে উনাকে কাগজপত্র জমা দিলাম, তিনি সেগুলো নিয়ে ৬ নাম্বার কাউন্টারে জমা দিলেন। ওই স্লটে আমরা মোট ৬জন ভিসা এপ্লিকেন্ট ছিলাম। দুইজনের পর আমার ডাক আসলো, গেলাম।

ভিসা ইন্টারভিউ ছিল নিম্নরূপঃ

Me:Hello madam!
VO:Hello. Your name please?
Me:Told.
VO: Where did you born?
Me:Told.
VO:Okay now please give your finger prints.
After finishing those steps….
VO: When did you finish your bachelor?
Me:Told.
VO:Which subject it was?
Me:Told.
VO: What did you do after that?
Me:Told.
VO:Do you have a block account?
Me: Yes I do have one but I didn’t transfer the block money yet. I have only submitted the account opening details.
VO: Okay no problem, you can submit the transfer confirmation later in the counter outside. So, when do you want to fly for Germany(expected date of travel)?
Me:Told.
VO:Okay, you have to pay 7200 as visa fee.
Me:Here it is.
After that she printed the slip and handed it to me.
VO: You will be notified through email or phone.
Me:Okay madam,thanks. I have a question. I am supposed to have missing document list. You didn’t give me that.
VO: No, there is no missing document.
Me:Madam, I didn’t submit the block transfer confirmation yet, isn’t it missing?
VO: You do have a block account, nothing is missing. As I have told earlier, you can submit that paper later on.
Me: Okay madam, then what’s the process, what do I need to write or include while submitting it?
VO: Look,there is an application number in your slip, please write it on the envelope in which you will submit the document. And other details, you add the ones you feel necessary but that number is important.
Me: Okay, thanks a lot madam.

হল থেকে বের হওয়ার আগে যে মহিলাটাকে ডকুমেন্ট দিয়েছিলাম কাউন্টারে জমা দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে নিলাম মিসিং ডকুমেন্ট আমার হয়ে অন্য কেউ জমা দিতে পারবে কিনা, তিনি বললেন,কোন সমস্যা নেই, দেওয়া যাবে। এনভেলপের উপর সব ইনফো ঠিক থাকলেই হবে।

১৩/৮- বিকেলে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুললাম কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিইলন থেকে।টাকা জমা দিলাম।
১৪/৮-বিকালে ব্লক মানি পাঠিয়ে দিলাম, আমাকে সুইফট কপি দেওয়া হলো।
১৬/৮-সকালে টাকা ব্লক হওয়ার কনফার্মেশন সংক্রান্ত ডকুমেন্ট পেলাম ফিন্তিবা থেকে ওইদিন দুপুরে আমার এক বন্ধুর ভিসা ইন্টারভিউ ছিল, তার সাহায্যে আমি আমার মিসিং ডকুমেন্ট সাবমিট করলাম।
২৯/৮-ডয়েচল্যান্ড স্টিপেন্ডিয়ামের আমার করা এপ্লিকেশন ফ্যাকাল্টিতে ফরওয়ার্ড হওয়ার কনফার্মেশন পেলাম।

এখনো ভিসার কোন আপডেট পাই নাই। আশা করি আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে নোটিফিকেশন পেতে পারি।

শেষ করার আগে সবাইকে মুরব্বি সুলভ কিছু কথা বলতে চাই(লেকচার মনে হতে পারে, তবে আপনার কাজে আসতে পারে যদি শুনেন)। আমরা সবাই একদম জিরো থেকে শুরু করি, যে আমি মার্চ মাসের আগ পর্যন্ত জার্মানি নিয়ে ভাবি নাই, সেই আমি দুই এক মাস ঘাটাঘাটি করে অনেকগুলো প্রসেসের সহজতর উপায়টা খুঁজে নিয়েছি এবং নানা ধাপে অনেক অনেক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও আমি আসলে নিজে খুব একটা পোস্ট করি নাই সমস্যার কথা জানিয়ে। কেন জানেন? আমি এই কয়েক মাস গ্রুপের ডক সেকশন থেকে শুরু করে, আগের পোস্ট, সদ্য করা পোস্ট, ব্লগের থাকা পোস্ট, এইরকম শত শত পোস্ট পড়েছি, যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে নোট করে রেখেছি। অনেক ব্যাপারে আলসেমি করলেও এই ব্যাপারটাতে আমি আলসেমি করি নাই, এবং সেটার সুফলও কিন্তু পেয়েছি।তাই আমি সবাইকে বলবো,কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে আগে একটু কষ্ট করে সার্চ অপশনটা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন,তাতে একটু অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলেও অতিরিক্ত অনেক কিছু জানতে পারবেন যেগুলো আপনার ওই মূহুর্তে কাজে না লাগলেও কোন না কোন সময় কাজে লাগবে।

এই যেমন আমার নিজের ক্ষেত্রে অনেকগুলো জিনিস আমি একটু অন্যভাবে করেছি, মানে তুলনামূলক সহজভাবে করা আরকি। এম্বাসি ছাড়াও যে এটেস্টেশনের কাজটা করা যায়, ইউনি এসিস্টে ডকুমেন্ট পাঠানোর সময় কয়েকজন মিলে একিসাথে একি খামে পাঠানো যায়, ইউনি এসিস্টের পেমেন্ট জার্মানি থেকে অন্যজনের সাহায্যে করা যায়, অনলাইনে ভিসা এপয়েন্টমেন্ট যে অফার লেটার পাওয়ার আগেই নিয়ে রাখা যায়(হ্যাঁ ভাই, অনেকেই জানে না যে অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট নিতে অফার লেটার লাগে না। তবে,এটাও বলে রাখছি, তার মানে অযথা এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখবেন, এতে আপনার নিজের ব্যাড ইম্প্রেশন যেমন ক্রিয়েট হবে, আপনি কোন কারণে সে ডেটে যেতে না পারলে ওই স্লটটাও নষ্ট হবে। এমনিতেই এত এত মানুষের ভীড়ে, স্লট পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়, সে প্রসেসটাকে আরো কমপ্লিকেটেড করবেন না, একদম নিশ্চিত হয়ে, তারপর ই এপয়েন্টমেন্ট নিবেন, যদি যেতে পারবেন না বলে মনে হয়, তাহলে এপয়েন্টমেন্টটা দয়া করে ক্যান্সেল করবেন), ব্লকের ডকুমেন্ট হোক বা অন্য কিছু, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যে মিসিং ডকুমেন্ট হিসেবে রেখে ভিসা ইন্টারভিউ ফেইস করা যায়(এইটা যদিও কম বেশি সবাই জানে) কোন সমস্যা ছাড়াই, মিসিং ডকুমেন্ট যে চাইলে অন্য কারো সাহায্যে সাবমিট করা যায়, ডয়েচল্যান্ড স্টিপেনেডিয়াম নামে যে একটা স্কলারশিপ আছে, এইসব জিনিসগুলা আমাকে কেউ নিজে থেকে বলে নাই। কেউ বলেবে এইটা এক্সপেক্ট করাটাও আসলে উচিত না। এই ধরণের বিষয়গুলা সম্পর্কে জানতে হবে আপনার নিজের তাগিদে, গ্রুপের পোস্ট পড়ুন, রেলেভেন্ট নানান সাইট পড়ুন, যেসব ইউনিতে এপ্লাই করছেন সেসব ইউনির সাইটে একটু ভালোভাবে ঘাটাঘাটি করুন, সিনিয়রদের(অবশ্যই ওদেরকে বিরক্ত না করে, ওদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে) সাথে নানান বিষয়ে কনসাল্ট করুন, সাজেশন নিন তাদের কাছ থেকে, মনে রাখবেন, আপনি যে পথ ধরে চলছেন সে পথ তারা আগেই পাড়ি দিয়েছে, তবে তাই বলে অন্ধের মত ফলো করবেন না কাউকে।

যেমন অনেককেই পোস্ট করতে দেখি, সাব্জেক্ট বা ইউনিভার্সিটির লিস্ট দিয়ে কোনটাতে পড়া উচিত সেটা জানতে চাই। জিনিসটা কোন অপরাধ না, তবে একটু ভেবে দেখবেন, ব্যাপারটা কতটা যৌক্তিক। ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম, বিয়ে করবেন আপনি, অথচ সম্ভাব্য পাত্র/পাত্রীদের ছবি আপ্লোড দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন কাকে বিয়ে করা উচিত। আপনার পছন্দ কি সেটা আপনিই ভালো জানবেন। কেউ মতামত জানালে তিনি তার ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ীই মতামত দিবেন যেটা আপনার জন্য সুইটেবিল নাও হতে পারে। কাকে নিয়ে সুখী থাকার সম্ভাবনা বেশি(মানে কোন সাব্জেক্টে ভালো করা সম্ভব, কোন সাব্জেক্টে আপনার গ্রিপ ভালো), সেটা অন্য কেউ কিভাবে বুঝবে? একটা কথা ক্লিয়ারলি বলি, জার্মানিতে খারাপ ইউনি বলতে কিছু নাই তাই ইউনিভার্সিটির চাইতে কোন সাব্জেক্ট সেটাই মূখ্য বিষয় হওয়া উচিত আমার মতে। যদি একি বিষয় হয়, তখন নাহই বেটার রেপুটেশনের ইউনির কথা ভাবতে পারেন। আর পার্ট টাইম জব প্রস্পেক্টের কথা ভেবেও অনেকে সাজেশন চাইতে পারেন, সেক্ষেত্রেও বলবো, আগে যেটার জন্য যাচ্ছেন(পড়াশোনা) সেটা ঠিক রেখে তারপর পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে ভাবেন। জব পেলেন ঠিকই কিন্তু সাব্জেক্ট আপনার আয়ত্ত্বের না হওয়াতে পাশ করতেই হাবুডুবু খেতে হচ্ছে এমন অবস্থা কারো হোক, সেটা আসলেই কাম্য না। স্ট্রাগল করতে পারার মেন্টালিটি থাকলে যেকোন জায়গায় আশা করি একটা চাকরি জুটিয়ে নিতে পারবেন।সো, সবার মতামত জানবেন অবশ্যই, কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিজেই নিবেন।

কেউ অফার লেটার পেলে, অথবা ভিসা পেয়ে পোস্ট দিলে,মোট কথা এই সংক্রান্ত পোস্ট দিলেই কমেন্ট সেকশনে একটা কমন প্রশ্ন থাকে, ‘ভাই আপনার প্রোফাইলটা যদি একটু শেয়ার করতেন?’।তাই কমেন্টে বারবার রিপ্লাই দেওয়ার ঝামেলা থেকে বাঁচতে আগেভাগেই এই তথ্যটা পোস্টের সাথেই সংযুক্ত করে দিচ্ছি।

ব্যাচেলরঃ বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং
রেজাল্টঃ ৩.৮২/৪.০০ বাংলাদেশী স্কেলে(আর জার্মান স্কেলে ১.৪)
পাব্লিকেশনঃ ২টি
আইইএলটিএসঃ ৭.৫
জার্মান ল্যাংগুয়েজঃ আ১ শিখেছি কিন্তু পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

অনেক লম্বা লেখা, তাই অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ রইলো সবার কাছে।

সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।