বিঃদ্রঃ – শুরুতেই বলে দেই এইটা কোন অনুবাদ কিংবা পুরোপুরি সঠিক তথ্যবহুল পোস্ট না। বরং, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। সুতরাং, অনেক তথ্যের ঘাটতি থাকতে পারে যেটা শুরুতেই বলে দেওয়া ভালো। বিস্তারিত জানতে, এই সাইটটাতে ভিজিট করুন অথবা আপনার নিজস্ব ভার্সিটির ওয়েবসাইটে খুঁজে বের করুন।

Deutschlandstipendium সম্পর্কে আগেই কিছুটা জানা ছিল জার্মান প্রবাসের কল্যাণে (এখানে)। কিন্তু, আগ্রহটা আরো বাড়ল যখন Cologne Game Lab-এর অফার লেটার পাওয়ার পরে একটা আলাদা মেইল পেলাম TH Köln থেকে। মেইল থেকে ডিরেক্টলি আমাকে Deutschlandstipendium, TH Köln-এর ইন্টারনাল ওয়েবসাইটে নিয়ে গেল যেখানে বিস্তারিত কি লাগবে স্পেসিফিকভাবে বলে দেওয়া আছে। আগেই বলে দেই আমি ব্যাচেলর পড়তে আসছি। সুতরাং, কিছু জিনিস আমার ক্ষেত্রে লাগে নাই। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের লিস্ট নিচে দিয়ে দিলামঃ

  • Participation form: এইটা ওদের সাইটে লিঙ্ক দেওয়া থাকে। শুধু ফর্মটা পূরণ করে নিজ হাতে সাইন করে স্ক্যান করতে হয়।
  • Cover Letter: স্কলারশিপে অ্যাপ্লাই করার জন্য দরখাস্ত। সংক্ষেপে, কেন দরকার এবং কিভাবে স্কলারশিপটি আপনার পড়ালেখায় সাহায্য করবে সেটা সংক্ষেপে বলা। সাধারণত, এক পৃষ্ঠার বেশি না। গুগলে সার্চ দিলে এ ধরণের অনেকগুলো লেটার পাবেন। তবে, সরাসরি কপি না করে কিভাবে লিখতে হয় সেই ধারণা নিয়ে নিজের মত লেখায় ভালো।
  • CV(Curriculum Vitae): ট্যাবুলার ফরম্যাটে চায় সাধারণত। যেহেতু, অনেকেই কিভাবে সিভি বানাতে হয় সেটার উপরে পোস্ট দিয়েছে সেহেতু আর বিস্তারিত কথায় গেলাম না।
  • Acceptance letter from the university/Enrollment certificate: আমি জার্মানিতে এনরোল হই অক্টোবরের শুরুর দিকে। সেহেতু, আমার কাছে এনরোলমেন্ট সারটিফিকেট ছিল না। তাই আমি অফার লেটার দিয়ে অ্যাপ্লাই করি। পরবর্তীতে আমাকে বলা হয় যেন ডেডলাইনের আগেই আমি  যেন এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট জমা দেই। যেহেতু, আমি তখনো ভিসা পাইনি এবং জানতাম না কবে এনরোল হব, সেহেতু আমি তাদেরকে মেইল করি আমার অবস্থা বর্ণনা করে। তারা তখন আমাকে বলে আমি যেন এনরোল হওয়া মাত্রই সেটা জমা দেই।
  • Higher education entrance qualification certificate: সাধারণত জার্মানিতে পড়ালেখার যোগ্য কিনা এটা যাচাই করে। আমি এটার জন্য আমার এইচ.এস.সি. এবং আগের ইউনিভার্সিটির (কমপ্লিটেড টার্মগুলোর) সকল ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সার্টিফিকেট এক পিডিএফে জমা দিয়েছিলাম। তবে গ্রেডিং জার্মান নিয়মে ২,০ এর কম থাকলে ভালো। আমি ইউনি-এ্যাসিস্টের এভালুয়েশন সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম এর সাথে।
  • Proof of work experience/vocational training: এটা অপশনাল। যদি কারো আগে কোন প্রফেশনাল কাজের এক্সপেরিয়েন্স থাকে তাহলে জমা দেওয়া ভালো। অথবা, বিশেষ কোন ধরনের প্রফেশনাল ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট থাকে তাহলে জমা দিলে স্কলারশিপ পাওয়ার চান্স বেড়ে যায়। আমার PortBliss Inc (বর্তমানে “Heroes of 71” খ্যাত Mindfishers games) এবং WorldFish-এ কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। আমি তাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে রাখছিলাম সেটা জমা দেই।
  • Copy of previous study certificates: এটা মাস্টার্স স্টুডেন্টদের জন্য প্রযোজ্য। আমার লাগেনি যেহেতু আমি ব্যাচেলর স্টুডেন্ট। তবে তারা জার্মান গ্রেডে কনভার্সন চায়। এক্ষেত্রে তারা চায় যেন ব্যাচেলরের গ্রেড জার্মান নিয়মে ২,০ এর কম হতে হবে।
  • Up-to-date Transcript of records: যদি আপনি এখন জার্মানিতে এবং দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন তাহলে বর্তমান গ্রেড কেমন দেখতে চায়। ২,৩ থেকে ভালো হতে হবে (অবশ্যই জার্মান গ্রেডিং স্কেলে)। যেহেতু, আমার ফার্স্ট সেমিস্টার ছিল তাই আমার লাগেনি।
  • Proof of voluntary work/Personal Committment: আমি আসলে দুইটাই জমা দিয়েছিলাম। আমার পড়ালেখার বাইরের কিছু সার্টিফিকেট ছিল (বিভিন্ন প্রোগ্রামে কিংবা অলিম্পিয়াডে পার্টিসিপেশন সার্টিফিকেট) সেগুলো এক করে জমা দিয়েছিলাম। পাশাপাশি একটা লেটার অফ কমিটমেন্টও জমা দেই (অনেকটা মোটিভেশন লেটারের মত)। আপনাদের সুবিধার জন্য আপলোড করে দিলাম (এখানে) । তবে, দয়া করে কেউ কপি করবেন না। সাধারণত, এইটা লেটারটা অনেক মূখ্য এবং এইখানে কপি করা দেখলে ডিরেক্ট বাতিল করে দিতে পারে।

যাই হোক, ডকুমেন্টস তো যোগাড় করা হল এরপর কি? সাধারণত, ওরা একটা নির্দিষ্ট ডেটে একটা নির্দিষ্ট পোর্টাল ওপেন করে দেয় আবেদন করার জন্য। পোর্টালের লিঙ্ক ইমেইলে কিংবা ভার্সিটির ওয়েবসাইটেই থেকে। সবগুলো ফর্ম পূরণ করে, ডকুমেন্টগুলো আপ্লোড করে তারপর আবেদন করলে একটা পিডিএফ দেয়। পিডিএফ সহ বাকি সব ডকুমেন্টস (যেগুলো নোটারি করা লাগে, সেগুলো নোটারি করে দিলে ভালো যেমন – একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট) প্রিন্ট/কপি করে ওদের একটা অ্যাড্রেস থাকে ওইখানে পার্সেল করে পাঠিয়ে দিতে হয় ডেডলাইনের আগে।

আবেদন করে দিলেই স্কলারশিপ পাবেন কিনা তার গ্যারান্টি নাই। কারণ, পরে আরো একটি ধাপ আছে। ওরা প্রথমে সকল আবেদনকারি থেকে কিছু বাছাই করে দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ ইন্টারভিউয়ের জন্য কল করে। সাধারণত, এটা সামনাসামনি দিতে হয়। জার্মানি এসে এনরোল করে ওদেরকে আমার এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট পাঠানোর দুইদিনের মাথায় দেখি ওদের মেইল, দ্বিতীয় ধাপের জন্য অর্থাৎ ইন্টারভিউয়ের জন্য। ইন্টারিভিউটা জাস্ট আমি কে বা কি করি অথবা করব ধরনের না। ওরা মেইলে দুইটা টপিক পাঠিয়েছিল – যার মধ্যে যেকোন একটা পছন্দ করে ৫-৮ মিনিটের একটা প্রেজেন্টেশন তৈরী করার জন্য (কোন কম্পিউটার প্রেজেন্টেশন না, বক্তৃতা টাইপ। তবে শর্ট নোট ব্যবহার করতে পারবেন)। আমার ক্ষেত্রে দুইটা টপিক্স ছিলঃ

১। NRW-তে টিউশন ফী চালু নিয়ে আমার বক্তব্য কি? এটার পলিটিক্যাল অথবা সোস্যাল ইম্প্যাক্ট কি হতে পারে। আমি এটার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কিনা এবং কেন?

২। সোস্যাল ইনোভেশন কি? এটা কোনভাবে আমার পড়ালেখার সাথে সংযুক্ত কিনা? থাকলে কিভাবে? এবং ভবিষ্যতে পড়ালেখার পরে আমি কিভাবে সোস্যাল ইনোভেশন করতে পারি?

যেহেতু, আমি জার্মান পলিটিক্স এবং নিয়ম কানুন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না সেহেতু আমি দ্বিতীয়টা পছন্দ করি (ওদেরকে আগে থেকে জানানো লাগে না)। হাতে ছিল দুই সপ্তাহ তাই নিজে নিজে প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করলাম। প্রিপারেশন বলতে ইনফরমেশন যোগাড় করা, একটু পড়াশোনা করা সোস্যাল ইনোভেশন নিয়ে, এবং আমার সাব্জেক্টের সাথে কানেক্ট করা ইত্যাদি। মোটকথা, কি বলব সেটা গুছিয়ে নিলাম। তো নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হাজির হলাম। যদিও বেশ টেন্সড ছিলাম ইন্টারভিউ নিয়ে। তাছাড়া, আমি জার্মান ওইভাবে পারি না। যাই হোক, যেহেতু আগের প্রার্থীর ইন্টারভিউ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সেহেতু আমাকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কল করে। ভিতরে ঢুকে দেখি তিনজন বসে আছে আমার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য। যেহেতু অনেকদিন আগে ছিল ইন্টারভিউ সেহেতু যতটুকু মনে আছে ততটুকু তুলে ধরলাম নিচেঃ

Interviewer1: Guten Tag!

Me: Guten Tag!

Interviewer2: Do you speak Deutsche?

Me: Ich spreche ein biscchen Deutsch.

Interviewer2: Okay, then we should take this interview in English. I am…[she introduced herself and others – one sponsor, one academic and the last one from university management]So can you introduce yourself?

Me: (Told my name. where I am from and what I am studying in TH Köln)

Interviewer2: We have read your motivation letter that’s inspiring. What do you think about the topics that we have given in email?

Me: I would like to thanks first for considering me for this scholarship. I had two topics to present here. I like both of them, but I like to focus on the second topic that was given. Before, starting my presentation I would like to ask if I can use my mobile for short notes?

Interviewer2: Yeah, sure.

Me: Thank you…..(আমি আমার প্রেজেন্টেশন শুরু করলাম। ৫মিনিটের মত সময় লেগেছিল। আমি সোস্যাল ইনোভেশনের সংজ্ঞা, উদাহরণ হিসেবে মাইক্রো-লোনের কথা উল্লেখ করি যেহেতু এটা আমাদের দেশের সাথে সম্পর্কযুক্ত, সেই সাথে আমার পড়ালেখার বিষয় এবং কিভাবে এটা সোস্যাল ইনোভেশনের সাথে রিলেটেড এগুলো উল্লেখ করি। তবে, আমি অনেকগুলো উদাহরণ এবং যুক্তি তুলে ধরেছিলাম যেগুলো সোস্যাল ইনোভেশনের পাশাপাশি আমার personal commitment-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।)

Interviewer1: What do you think about the “gamification” as a social innovation?

Me: [answered with some example as “gamification”. Quoting from “Ted talk” and some example]

Interviewer3: Will video game be a tool for education specially for children?

Me: [answered with example how game can motivate a person along with possible structure to teach by gaming]

Interviewer2: How gaming can be effect the society?

Me: [answered with positive and negative effect of gaming with some suggestions.]

Interviewer 3: What do you want to do after your study? Will you go back to your country or stay here?

Me: Basically, gaming industry in Bangladesh is not established yet. I like to stay here after my study and earn more experience. My goal is to make a tool for easy and affordable access to games for developing country like Bangladesh which does not require me to go back. Maybe, after 40, I will like to go back to implement my ideas with experiences gained from here.

Interviewer 1: You seem very motivated about this. I like your attitude and commitment. By the way, do you see this sign in your acceptance letter? I am the guy who signed it.

Me: Thank you for the consideration and giving me such an opportunity.

Interviewer1: You are welcome. I think you have made an impression here today. I like to ask you some question about your financial status. How do you manage your living here? (এটা ছিল আমার পাওয়া জীবনের অন্যতম সেরা কমপ্লিমেন্ট)

Me: Actually, my father gave me money for the first year. I am looking forward to do student job. It will be very helpful for me if I get this scholarship. If I get it I will not look for a part-time job, I would do some minijob so that I can concentrate on my study. Besides, I like to work in the field related to my study to improve my skills.

Interviewer2: That sounds good.

Interviewer 1: Will it be a problem for you if we gave you the scholarship from November as it takes few days to proceed the scholarship.

Me: No. It will be not a problem for me.

Interviewer1: That’s good. We will send you an email with the confirmation….Sorry, I should say you will get an email about our decision. Thank you very much for coming here.

Me: You are welcome.

সত্যি বলতে, এই ইন্টারভিউ ছিল আমার জীবনে দেওয়া সেরা ইন্টারভিউ। তখনই আমি আভাস পাই যে আমার স্কলারশিপটা হয়ে যাবে, যেটা আরো দুই সপ্তাহ পর কনফার্ম হই। তারপর থেকে প্রতি মাসে ৩০০ ইউরো করে পেতে থাকি। এই স্কলারশিপ পাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা ছিল – আমার সাবজেক্ট সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান এবং জানার ইচ্ছা। পাশাপাশি কনফিডেন্স এবং বোল্ড অ্যাটিট্যুড বেশ কাজে লেগেছিল। আমি যতটুকু বুঝি ঠিক ততটুকুই উত্তর দিয়েছিলাম, এর বাইরে কিছু না জানলে বলে দিয়েছি যে আমি এর থেকে বেশি জানি না। ফাপড়বাজি কিংবা মিথ্যা কথা বললে আসলে লাভ হয় না, তারা ধরতে পারে। যেমন- আমি দেশে ফেরত আসব কিনা জিজ্ঞেস করলেও আমি বলিনি যে পড়ালেখা শেষে দেশে চলে আসব। এ ব্যাপারে সত্যটাই বলেছিলাম যে – “আমি এখনো ঠিক করিনি।” আশা করি, অনেকেই আমার ইন্টারভিউ থেকে ভালো একটা ধারণা পাবেন।

পরবর্তীতে তারা আমাকে “Meet and greet” অনুষ্ঠানে ডাকে যেটা ছিল অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কারণ, সেখানে এক-দুইজন ছাড়া বাকি সবাই জার্মান পারে। জার্মান না জানার কারণে একদিকে যেমন নিজেকে অন্যরকম লাগছিল, তেমনি খারাপও লেগেছিল। আমার স্পন্সর kölner gymnasial- und stiftungsfonds-এর প্রতিনিধি ডিরেক্টলি বলেছিল,”সাধারণত যারা আমাদের কাছে সরাসরি বৃত্তির আবেদন করে তাদের জার্মান পারতে হয়। তুমি খুব ভাগ্যবান যে তুমি জার্মান না পেরেও স্কলারশিপটা পেয়ে গেছ। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ তুমি Deutschlandstipendium এর মাধ্যমে আবেদন করেছিলে।” এবং পুরো অনুষ্ঠানে আমি একরকম দর্শক হয়েই ছিলাম যেহেতু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবং প্রতিনিধিই ইংলিশ পারে না। অবশ্য, Deutschlandstipendium কমিটির এক প্রফেসর আমার জন্য একজন শিক্ষার্থী খুঁজে এনে দিয়েছিল যে ইংলিশ বলতে পারে। যার ফলে, সময়টা কাটাতে সুবিধা হয়েছিল। আর খাবারটা ছিল বেশ ভালো।

এরপরে, কাজ খোঁজা শুরু করি এবং পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সিং-এর অনুমতিও মিলে যায়। বৃত্তির পাশাপাশি যেটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং পারমিট নিয়েছিলাম সে অভিজ্ঞতা আরেকদিন লিখব।