27aad4418ffa1a8aa00b589859f307da-Philipp-Lahm

উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকার জীবনগল্পটা জানা আছে নিশ্চয়। বিলাসিতা, ক্ষমতার অতি বা অপব্যবহার কোনো কিছুই তাঁর সঙ্গে যায় না। অনাড়ম্বর জীবনধারার এ রাষ্ট্রনায়কের পিঠে পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্টের তকমা সেঁটে গেছে। রাজনীতিবিদদের আরাম-আয়েশ আর চাকচিক্যময় জীবন যে তাঁকে টানে না! মুজিকার সঙ্গে ফিলিপ লামের মিলটা এখানেই।
মুজিকা যেমন উরুগুয়েকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, লাম নেতৃত্ব দিয়েছেন জার্মান ফুটবল দলকে, এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে। ২৪ বছর পর জার্মানদের বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ করে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন কদিন আগেই। একজন ফুটবলারের এক জীবনে যা পাওয়ার, তার প্রায় সবই পেয়েছেন। মাঠে যেমন অসাধারণ, ব্যক্তিজীবনে ঠিক ততটাই সাধারণ।
তারকা ফুটবলাররা বিলাশবহুল জীবনে অভ্যস্ত। লাম সেখানে অতিসাধারণ। তারকা খেলোয়াড় হিসেবে হামেশাই আসতে হয় ক্যামেরার সামনে। নিজেকে তখন উপস্থাপন করেন খুব সাধারণভাবেই। ফটোশ্যুটের সময় চুলে ব্যবহার করেন না কোনো কেশ-বিন্যাস সামগ্রী। পরেন না কোনো ব্র্যান্ডের জাঁকাল পোশাক। কথাবার্তায় নেই অহমিকার লেশ। নেই কোনো দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। একজন তারকা যেভাবে জীবনযাপন করেন, তার সবকিছুই অনুপস্থিত লামের জীবনে। আদ্যপান্ত লাম বিনয়ের অবতার।
দলের প্রতি লামের নিবেদনে নেই বিন্দুমাত্র ঘাটতি। পেপ গার্দিওলা বায়ার্নের দায়িত্ব নেওয়ার পরই বদলে ফেলেন লামের খেলার পজিশন। ফুলব্যাক থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন মধ্যভাগে। খেলার ছন্দ হারিয়ে ফেলতে পারেন—এমন শঙ্কায় প্রতিবাদ করতে পারতেন। কিন্তু টুঁ শব্দ করেননি কোচের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। বরং কোচের পছন্দ অনুযায়ী নতুন পজিশনে নিজেকে শতভাগ ঢেলে দিয়েছেন।
প্রতিপক্ষের প্রতিও কখনো অসম্মান দেখান না। ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই যখন জার্মানি ৫-০ গোলে এগিয়ে, বিরতিতে লাম সতীর্থদের বলেছিলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধা দেখিয়ে ঠিকঠাক খেলব।’ অর্থাৎ জয়টা যত বড় ব্যবধানেই হোক না কেন, প্রতিপক্ষের ত্রাহি দশায় নিজেদের কোনো অহমিকা যেন প্রকাশ না পায়। বরং প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থকদের শ্রদ্ধা করতে হবে। বিশ্বকাপজয়ী এ ফুটবল তারকার এমন সাধারণ, নিরংহকার জীবনদর্শনে মুগ্ধ না হয়ে সত্যি উপায় নেই। লাম সত্যিই অন্য রকম! সূত্র: মেইল অনলাইন , Prothom alo.com