আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি সবাই খুব ভাল আছেন আর বজ্রপাতমুক্ত আছেন । সূচনা সংগীত ছাড়াই শুরু করছি। ভার্সিটি এপ্লিকেশন থেকে শুরু করে জার্মানি পদার্পণ — প্রতিটি ধাপ বলার চেষ্টা করবো।
  • ভার্সিটি এপ্লিকেশন : আমি অফার লেটার পেয়েছি ইউনিভার্সিটি অফ ব্রেমেন থেকে কন্ট্রোল, মাইক্রসিস্টেম ও মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স বিভাগ থেকে মাস্টার্স কোর্সে। এপ্লাই ছিল অনলাইন ভিত্তিক তাই কোন ঝামেলাই ছিলনা। পুরা প্রসেস সম্পন্ন করতে ২০ মিনিটের মত নিছিল। যদ্দুর মনে পড়ে মুভি দেখার ফাকে করে ফেলেছিলাম কাজটা। যাবতীয় ডকুমেন্ট যা যা চেয়েছিল ব্যাচেলরের সেগুলো, লেটার অফ মোটিভেশন , সিভি ব্যস এইসব আপলোড করেই খালাস।
  • অফার লেটার প্রাপ্তি : ২২ ডিসেম্বর মেইল পাই যে আমি চান্স পেয়েছি আর আমি যদি পড়তে চাই তাহলে মেইলের রিপ্লাইয়ে একটা সম্মতিসূচক কিছু যেন পাঠাই। ট্যুরে ছিলাম। মেইল পড়লাম ২৮ ডিসেম্বর। তখন আবার বড়দিনের বন্ধ। রিপ্লাই দিলেও পড়বে কিনা সেই চিন্তা । একটা রিপ্লাই দিলাম ২৯ ডিসেম্বরে। ৪ তারিখেও কোন সাড়াশব্দ নাই দেখে আবারো দিলাম ৫ তারিখ। এবারে ৬ তারিখেই তারা অফার লেটার পাঠাই দিলো মেইলে। খুশি হইলাম আবার মনও খারাপ হইলো কেননা কোন সিল সাইন নাই কাগজে। আবার তাদের বললাম — “অফার লেটারে কোন সাইন নাই। মনে হয়না এম্ব্যাসী এটা এক্সেপ্ট করবে ”। তাদের ত্বরিত উত্তর — “স্যরি বাছা। তাড়াহুড়ায় এমন হয়েছে। আবারো পাঠাইলাম তোমারও সনে ……নেও এবারে রেডি হও। ”
  • ল্যাঙগুয়েজ ক্লাসে ভর্তি : আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দা তাই জামালখানে অবস্থিত ডি-স্প্রাখে তে A 1 কোর্সে ভর্তি হই ।
  • ভিসার তারিখ নেয়া আর অন্যান্য কাজ : ৬তারিখে অফার লেটার পাওয়ার সাথে সাথেই এম্ব্যাসী সাইটে ঢুকে পড়ে নিলাম সব আর তারিখটা নিলাম ১৭ ফেব্রুয়ারির জন্য।এবারে ধাপে ধাপে কাজগুলো–
    ১/ ডয়েচে ব্যাংকে টাকা ব্লকের জন্য কাজ —
    একটা ফর্ম নামাতে হবে এই লিংকে গিয়ে ।
    দয়া করে কখনো কোন ব্লগ / গ্রূপ /পেইজ থেকে ডিরেক্ট ক্লিক করে যেসব ফর্মের ডাউনলোড লিংক চলে আসে তা নামাবেননা। একটু কষ্ট করে ওয়েবসাইটে গিয়ে নামান। এই লিংকে গেলে নিচের দিকে দেখবেন Forms নামের ট্যাব আছে। তাতে ক্লিক করলেই সব বুঝবেন। আর মানা করার কারণ হচ্ছে এই ব্যাংক প্রায়ই তাদের ফর্মের ফরম্যাট চেইঞ্জ করে। তখন সমস্যা।

    এই ফর্ম নামানোর পরে প্রথম দুই পেইজে সব বিস্তারিত বলা আছে কি করতে হবে। ইলেকট্রনিক্যালি পূরণ করে ফর্মের প্রথম পাতায় উল্লেখিতভাবে এম্ব্যাসীতে নিয়ে যাবেন। এম্ব্যাসী এই কাজ এভাবে করে
    !!! ফর্মে কোন সিগনেচার করবেননা। শুধুমাত্র এম্ব্যাসীর ভিতরে যাওয়ার পরে কাউন্টারে গিয়ে এই কাজটা করবেন। নিজের কলম সাথে নিবেন। ভালমত পড়ে যাবেন  কই কই করা লাগবে সিগনেচার। !!!
    এম্ব্যাসী থেকে যেভাবে আপনাকে আপনার ফর্ম ফেরত দিবে সেভাবেই DHL করে দেন ফর্মে উল্লেখিত ঠিকানায়। ব্যাস একটা কাজ শেষ। পাঠানোর দিন থেকে শুরু করে ১০ দিনের মধ্যে একাউন্ট ওপেনিং কনফার্মেশন পেতে পারেন। তার পরের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংকের সাহায্যে টাকা ব্লক করা বা ধরে নিতে পারেন সরকারী ও বেসরকারী কিছু ব্যাংক দ্বারা সাবমেরিন ও রকেট একসাথে বানানোর কাজ হাতে নেয়া। এটায় কিছু পরে আসতেছি। ২/ DHL করার পরে বসে থাকার দরকার নাই। ভিসার জন্য রেডি হন মানে কাগজপত্র ঠিকঠাক করুন। আমার মতে অফার লেটার পাবার দিন থেকে ২২/২৫ দিন পরে ভিসার তারিখ নেয়া ভাল। টাইম কিলিং যা করা ব্যাংকেরটাই করবে আর কিছুনা। হুম্ম কি কি কাজ আছে এখানে তা বলি —
    —-
    হেলথ ইন্স্যুরেন্সটা করে ফেলেন। ২০ মিনিট সময় নিবে সবাই। একটা লিস্ট ছিল কাদের কাছ থেকে করানো যাবে ইন্স্যুরেন্সটা। পাইতেছিনা এখন। কেও পাইলে কমেন্টে ট্যাগ করে দিয়েন । এডিট করে দিবো।
    —- ছবি তুলে ফেলেন। ৩ নম্বর পয়েন্টে আছে
    —- ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম
    রেডি করে বাকি সব কাগজ পত্র রেডি রাখেন। ২,৪ নম্বর পয়েন্ট৩/ এবারে আপনি রেডি। এতদিনে নিশ্চয়ই ডয়েচে ব্যাংকের কনফার্মেশন পেয়ে গেছেন। এবারে ভাল দেখে একজোড়া রাবারের স্যান্ডেল কিনবেন আর “ব্যাংক কি ও কেন ” এরকম একটা বই কিনেন। আমি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের এমন কোন ব্যাংক বাদ রাখি নাই এই কাজের জন্য। তারা আমার দিকে এমনভাবে তাকাইতো মায়া লাগতো। চলে আসতাম। একবারতো এক ব্যাংকার আমাকে সামনে রেখে অনেকজনকে ফোন টোন দিয়ে এক কারবার। আমিত খুশি যে বাহ আমার কাজ হবেই হবে এবারে। নাহ, উনি ৩০ মিনিট পরে আমাকে বললেন — “আপনাকে ধন্যবাদ যে আপনার জন্য আমি নতুন একটি জিনিস শিখতে পারলাম কিন্তু দুঃখিত যে আপনার কাজটি হবেনা। ”। মনে চাইসিল তখন ………… যাই হোক, বাংলাদেশের অন্যান্য প্রান্তের খবর জানিনা, চট্টলাবাসী কোন সরকারী ব্যাংকে গিয়ে লাভ নাই। এরা ত্যানা প্যাঁচায় শুধু। সোজা DBBL আগ্রাবাদ শাখায় যাবেন আর ফরেন এফেয়ারস শাখায় যাবেন। বলবেন জার্মানি যাবো পড়তে আর কিছু টাকা এই এই ব্যাংকে পাঠাতে হবে। সব ডকুমেন্ট আছে। দেখবেন তারা আর কিছু জিজ্ঞাসা করবেনা। একটা স্লিপমত দিবে তাতে লিখা আছে কি কি করা লাগবে এই কাজের জন্য। ব্যাস কাজ শেষ। ১ দিন লাগে কনফার্মেশন পাইতে। আর কোন কাজ নাই ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে।
  • ভিসা ইন্টারভিউ : এটা নিয়ে আলাদা একটা নোট লিখবো । সোজা কথায় এটা ভাল হইলে সবাইই বলবে — বাহ কি সাধু তারা। আর পেইন দিলে হইছে আরকি। আমার ৬০ দিন লেগেছিল পাইতে। আমার এক পরিচিত তাকে ইন্টারভিউয়ের দিন বলেই দিয়েছিল এক মাস পরে রেজাল্ট পাবেন উনি পেয়েছিল ৫৮ দিন পর। সুতরাং কারু ভাল হয়েছে কারু খারাপ হয়েছে এসব জেনে লাভ নাই। যারা প্যাঁচে পড়েছে তারা কেন পরেছে আর তা থেকে উত্তরণের উপায় কি সেসব জানুন। কাজে দিবে। এম্নিতে সেখানে তেমন কোন যদু মধু জিগায় না। সময়ের কিছু আগে চলে যাবেন যদিও একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঢুকতে দিবেনা। সব সাজিয়ে নিয়ে যাবেন ফাইলে করে। আর ওখানে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষী রুমের কাগজে বলা নিয়মানুযায়ী আবারো সব সাজাতে বলবে সেভাবে করে তাকে জমা দিবেন। ব্যাস কাজ শেষ। আর কোন পোশাক আশাকের কথা মাথায় এনে লাভ নাই। ইন্টারভিউয়ার আপনার গলার নিচের বেশি দূরে চোখ নিক্ষেপ করতে পারবেনা। রুমে গেলেই বুঝবেন। এইত্তো সব ধাপ। রেজাল্ট দিলে আপনাকে ফোনে জানাবে পাসপোর্ট নিয়ে যেতে।ভালো হইলে কেনাকাটা আর প্লেনের টিকিট কাটেন আর ভালো না হইলে ……………… পরে আরেকদিন কথা হবে।ভালো থাকুন সবাই। আমার জন্য দোয়া করবেন।

ভিসা সাক্ষাৎকার অভিজ্ঞতা ০৭/০১/২০১৬