“After a long waiting, I have got a University Hostel Room!” (((অনেক কষ্ট হলেও সবাই দয়া করে শেষ পর্যন্ত পড়বেন। তা না হলে লেখকের কথা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।)))

আমার কোর্স দুই বছরের, তার ভিতর দেড় বছর কেটে গেল। এখন পেলাম হোস্টেল। সমস্যা নাই ২০২০ সাল পর্যন্ত হোস্টেলে থাকার অনুমতি আছে। গতকাল ৭ই মার্স, হোস্টেলে ছিল আমার প্রথম দিন। ৮ই মার্স, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হল সেল্ফি উঠানোর কথা। তাই রুমের ভিতরে থেকেই, ভিতর ও বাইরের পরিবেশটা তুলে ধরছি।

আমাদের ইউনিভার্সিটিতে হোস্টেল পাওয়া, জার্মানিতে চাকরি পাওয়ার থেকেও কঠিন। কারণ, আমাদের ইউনিভার্সিটি অনেক বড় ও অনেক ছাত্র-ছাত্রী। প্রায় ৪৫০০০ জন ছাত্র -ছাত্রী, প্রায় ৬০০০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী আছে এই ডুইসবুর্গ- এসেন ইউনিভার্সিটিতে। ডুইসবুর্গ ও এসেন এই দু’টি শহরে আমাদের ক্যাম্পাস ও হোস্টেল আছে। এছাড়া এই দুই শহরের মাঝখানে, ( ২০ কি.মি. এক ক্যাম্পাস থেকে আর এক ক্যাম্পাসের দূরত্ব) মূলহাইম শহরেও হোস্টেল আছে। ৩ শহরের হোস্টেল গুলোতে মোট ২৪০০ ( প্রায়) সিট আছে। আমি সিট পেয়েছি মূলহাইমে। এইখানে মাত্র দুইটি হোস্টেল। আমারটাতে আছে ৮৯(+৩) সিট এবং অন্যটিতে আছে ৬৯ টি। বাংলাদেশে হলে আমার হোস্টেলে কমপক্ষে ৫০০ জনের সিট হত। যাইহোক, আমি বাংলাদেশকে ছোট বা হেও করছিনা। বরং আমি বাংলাদেশকে, বাংলার শিক্ষা ব্যবস্তাকে, আমার দেশের সরকারকে সম্মান করছি। এখন প্রশ্ন কেন? উত্তর:

আমি এই দেশের ( জার্মানির) হোস্টেলে উঠার আগেই আমাকে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা ইউনিভার্সিটির একাউন্টে পাঠাতে হয়েছে। এক মাস আগের থেকে আমাকে ১৭টি পিডিএফ ফাইল পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রায় ৫০ – ৬০ পৃষ্ঠা আছে। তাতে লেখা আছে আইনের কতগুলো ধারা। আমাকে হোস্টেলে উঠার আগে ও পরে কি নিয়ম পালন করতে হবে। নিয়ম না মানলে শাস্তি ও জরিমানার ( সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা) ব্যবস্তা আছে। প্রত্যেক মাসের প্রথম দিনেই আমাকে প্রায় ২৫০০০ টাকার বেশি ভাড়া দিতে হবে। রুমের চাবি হারিয়ে গেলে প্রায় ১১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

আর অন্যদিকে বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীরা ফ্রি হোস্টেলে থাকতে পারে, সস্তায় খাবার খেতে পারে। সরকার তাদের জন্য ফ্রি বই, ইন্টারনেট, বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

জার্মানির সরকারি ইউনিভার্সিটি গুলোতে পড়তে হলে প্রতি মাসে প্রায় ৮০০০ টাকা, ওই দেশের সরকারি ইন্সুরেন্স গুলোকে দিতে হয়। অন্যথায় ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। খাওয়া – দাওয়া, বন্ধু-বান্ধবীর সাথে আড্ডা, ফটোকফি করতে প্রতি মাসে প্রায় ২০০০০ – ৩০০০০ টাকা খরচ। প্রতি ছয়মাস পর সেমিস্টার টিকেট ২৬০০০ – ৩০০০০ টাকা খরচ ( ইউনি. বিশেষ আলাদা) আছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আমাদের খরচ আছে। কিন্তু স্টুডেন্টদের কাজের অনুমতি আছে তার থেকে অনেক কম ( প্রায় ৪৫ হাজার টাকা)। এরপর কাজ না পাওয়া, ছোট শহরে থাকা, শারিরিক অসুস্থতা ও পরীক্ষাতো আছেই। আর যদি আমার মত কেউ অভাগা হয় তাহলে তো কোনো কথা নাই। সে অনেক আগেই পাসপোর্ট ফেলে মিথ্যা বলে এই দেশের বাচ্চা হয়ে গেছে বা রাজনৈতিন আশ্রয় নিয়েছে। তাছাড়া আমার শুধু পরিবারকে না আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীকেও দেখতে হয়। একথা এখন থাক —-যা বলছিলাম,

আমার বড়ই আফসোস হয় তাদেরকে নিয়ে যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। বেঁচে থাকা ও পড়াশুনা করার জন্য ভাল পরিবেশ, সুযোগ- সুবিধা পেয়েও আপনারা যারা পড়াশুনা না করে জুটি হয়ে রিক্সায় ঘুরাঘুরি করেন বা হোটেলে রাত কাটান। আমার একটা বিশাল কষ্ট হল, আমি বাংলাদেশে সরকারি ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পারিনি। কিন্তু যখন দেখি, আপনারা সরকারি ইউনিভার্সিটি গুলোকে মরণক্ষেত্র, যুদ্ধক্ষেত্র বা হিংসার রাজত্ব বানিয়ে ফেলেছেন। তখন নিরুপায় হয়ে নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দেই। বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সেই তিক্ত অভিজ্ঞার কথা বার বার আমাকে নাড়া দেয়। আমি বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বলেছিলাম আর যদি ডিগ্রী করি, তবে সেটা হবে সরকারি ইউনিভের্সিটিতে। সেটাই হয়েছে, তবে তার সাথে বিদেশটা যোগ হয়েছে। আমি ২০১০ সালে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর পাশ করেছি। আজ ৫ বছরের বেশি হয়ে গেল তবুও আমার মাস্টার্স শেষ হল না। ওদিকে বাংলাদেশে আপনারা (সবাই না) এত কিছু করেও সময় মত বড় বড় ডিগ্রীর মালিক হয়ে যাচ্ছেন।

সব শেষে একটা কঠিন কথা হল এই যে, আমরা যারা বিদেশের মাটিতে থেকে, দেশে টাকা পাঠিয়ে পড়াশুনা করে বিদেশের বড় ডিগ্রী নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছি, তারা আপনাদের চেয়ে অনেক বড় যুদ্ধ করছি ওই বাংলাদেশের ক্যাম্পাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়েও। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন, যারা আমরা বিদেশের মাটিতে কাজ করে বা পড়াশুনা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

“জয় বাংলা”

Pilap Mallick ((Golden /Joy)) DUE