পৃথিবী বিখ্যাত ‘দ্যা ববস‘ এর সেরা অনলাইন এক্টিভিজমে ক্যাটাগরিতে জার্মান প্রবাসে কে মনোনয়ন পেতে দেখে আমি খুবই আনন্দিত।তাই আমি নিজে কিভাবে জার্মান প্রবাসের দেখা পেয়েছিলাম তা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা। তখনকার কথা বলছি যখন হায়ার স্টাডিতে আসার ইচ্ছে থাকলেও গুছানো কোন ইনফরমেশন আমার হাতে ছিলনা।তখন শাহজালাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ল্যাবে উচ্চগতির (?) ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ভোর আটটায় ব্যাকুল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। আর ইনফরমেশনের সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে যাকে পেতাম তাকে ইমেইল করতাম। ইমেইলের শুরুটা ছিল ঠিক এভাবে, „Dear Sir, I hope you are well by the grace of God…please reply me…..“


কীসব যে লিখতাম! আজ জার্মানিতে বসে চিন্তা করে এখন লজ্জা পাচ্ছি, ভাবছি দুনিয়ার নিধার্মিক প্রফেসরগুলো না জানি কী ভাবত!তারপর স্টুটগার্টের কোন এক বাঙালি বড় ভাই দয়াপরবশ হয়ে এক সেন্টেন্সের একটা ইমেইল ব্যাক করেছিলেন। আগে পরে কিছু নাই, ঠিক এটাই, ‘https://www.facebook.com/groups/BSAAG/‘ । আমি মলিন বদনে ফেসবুকে ঢুকি। ওহ আরেকটা কথা বলাই হয়নি, ফেসবুক তখন এতো জনপ্রিয় ছিল যে আমার একাউন্টে কোন স্বদেশী বন্ধু ছিলনা, সবাই বিদেশি।আমি hi, good moring everybody স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেই লাইক দিতাম।


তো সেই গ্রুপে ঢুকে আমি তো হতবাক। যা চাইছিলাম ঠিক তাই। যেন হাতে ধরে ধরে বিদেশ পাঠানো হচ্ছিল (অবশ্যই সঠিক ইনফো দিয়ে)। আমার এখনো মনে পড়ে জামাল উদ্দিন আদনান ভাইয়ের একটা আর্টিকেল পড়ে খুবই ইন্সপায়ার্ড হয়ে ছিলাম। অন্তত এই ভয়টা কেটে গিয়েছিল যে বিদেশ যেতে সব কিছু নিজে নিজেই করা সম্ভব। তারও অনেক পরে ভার্সিটি পাশটাস করে আইয়েল্টস দিয়ে জার্মানি আসা। প্রতিটি স্টেপে এই গ্রুপটা ছিল বন্ধুর মত পথ প্রদর্শক হয়ে। বিদেশ এসে যে কত রকমের ঝামেলা সামলাতে হয় যারা আসেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পান।  সেই সব যুদ্ধ প্রতিকূল দিনে অন্তত সব ছোটখাট ইনফরমেশনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরার চেয়ে জার্মান প্রবাসে তে একটা পোস্ট দেয়াই এনাফ।


এমনকি বিদেশ এসে আবিস্কার করলাম নিজের ভুলে এক অদ্ভুত সাবজেক্টে এসে পড়েছি(আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য অদ্ভুত)। ঠিক তখনও রাশিদুল ভাই হাসিমুখে উৎসাহ দিয়েছেন। গ্রুপের লোকজনের এক্সপেরিয়েন্স কাজে লেগেছে। বার্লিনে এসে চার ইউনিভার্সিটিতে দৌড়াদোড়ি করে আক্ষরিক অর্থে যখন আমার নাভিশ্বাস তখনও আমি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, আচ্ছা, এই গ্রুপের এডমিনরা কী চালের ভাত খায়। অসীম ব্যাস্ততায়ও গ্রুপে সময় দিচ্ছে কিভাবে? দেবযানীদির কথা তো শুনলাম পিএইচডি তে এডমিশন পেয়েছেন। তানজিয়া আপু কনফারেন্স কনফারেন্স ঘুরেন। রাশিদুল ভাই চাকরি করেন। কি করে এসব সম্ভব হয় ভাবে পাই না।


যাই হোক অনেক লিখে ফেলসি। ভোটাভোটিতে জার্মান প্রবাসে কয়টা ভোট পাবে আমি জানিনা। শুধু এটাই জানি এই নিঃস্বার্থ পরার্থপরতার মূল্য ভোট দিয়ে বিচার করা যায় না। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, জার্মান প্রবাসের কাছে আমার আর আমাদের মতো হাজারো লোকের অনেক ঋণ। এটা সত্যিকার অর্থেই জার্মানির বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। আরে কি লিখছি এসব! আমি নিজেও তো জার্মান প্রবাসের বাহান্ন হাজারের একজন,অতি নগণ্য সদস্য। গর্বিত হওয়ার জন্য এটাই বা কম কিসে!


প্রতি ২৪ ঘন্টায় একটি করে ভোট দেয়া যাবে। তাই কালকেও ভোট দিতে ভুলবেন না! ভোট দেয়ার পদ্ধতিঃ

১, সরাসরি ফেসবুক দিয়ে লগ ইন করে ভোট দিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুনঃhttps://goo.gl/URp2jj
২, কিংবা সরাসরি টুইটার দিয়ে লগ ইন করে ভোট দিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুনঃhttps://goo.gl/KqL8Ll
৩, কিংবা DW তে একাউন্ট খুলে ভোট দিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুনঃhttps://goo.gl/fnDXfi
৪, স্ক্রল করে নিচে নেমে “জার্মান প্রবাসে” কে ভোট দিন।