অমর একুশে এবং নারী দিবস কে উপজীব্য করে আমদের এবারের ম্যাগাজিন সাজানো হয়েছে। তবে আজ “একুশে” নিয়ে নয়, বলতে এসেছি “নারী” নিয়ে।

আমাদের শিল্প-সাহিত্যে নারীকে যতই মহিমান্বিত করা হয়েছে বাস্তব-জীবনেও যদি তার ব্যবহার থাকত তাহলে বেশ হত। কিন্তু হায়! পুঁথিগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধনের মত সেটাও ধন্য আশা কুহকিনী। এমনকি মাঝে মাঝে সেই সাহিত্যেও তাঁর জায়গা হয় না। যেমনঃ ৭০০-৩০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে গ্রীক সাহিত্যিকদের “নারীলোচনার” একটি লাইন ছিল এরকমঃ “The woman like mud is ignorant of everything, both good and bad; her only accomplishment is eating.”

বাংলাদেশে তাঁরা কেমন আছে?

২০১১ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত আদমশুমারির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের নারীর সংখ্যা ৭ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার। পুরুষ ও নারীর সংখ্যার অনুপাত ১০০:১০৩।

১৫ এবং এর উর্ধ্ববয়সী নারীর স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৪১ শতাংশ। কিন্তু এরপর? বাল্যবিবাহের কারণে শতকরা ৪১ ভাগ কিশোরীকে স্কুল ত্যাগ করতে হয়।

তবে সবটুকুই কি হতাশার?

২০১৪ সালে ডব্লিউইএফ’র লিঙ্গ বৈষম্য সূচকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৪২টি দেশের মধ্যে ৬৮তম স্থান দখল করে বাংলাদেশ। ডব্লিউইএফ’র তথ্যমতে, ২০১৩ সালের সূচকে ভারতের অবস্থান ছিল ১০১, পাকিস্তান ১৩৫, জাপান ১০৫ ও চীন ৬৯। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ক্রমাগত উন্নতির দিকে বাংলাদেশ, কমছে নারী-পুরুষের বৈষম্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী,

দেশের ৫ কোটি ৪১ লাখ কর্মজীবীর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৬২ লাখ নারী৷ বিদেশে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ৭৬ লাখ প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ৮২ হাজার ৫৫৮ জন নারী৷

কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ৮০ ভাগ কর্মীই নারী এবং দেশের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহারকারীও নারী৷ ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে মাত্র ৫ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ বর্তমানে সংসদে ৬৯ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন৷

নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বাংলাদেশ ‘রোল মডেল’ হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের স্ত্রী বান সুনটিক। কিন্তু এখনও অনেকটুকু পথই বাকি।

প্রসঙ্গত কিছু কথা না বলে পারা যায় না। এই যে আলাদা করে নারী দিবস পালন করতে হয় বা হবে, এটা নিয়েও বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমনঃ মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দিবস চাই, আলাদা করে নারী কেন? ইত্যাদি।

তাদের সুগভীর প্রশ্নের বিপরীতে একটা ছোট্ট কথা রইল। কোনকিছু নিয়ে আলাদা দিবস তখনই আসে যখন সেই বিষয়ে দ্রুত কাজ করা প্রয়োজন হয়। এজন্যই শিক্ষা দিবস, শিশু দিবস ইত্যাদি এসেছে। তাই নারী দিবসও এর থেকে খুব বেশি ব্যতিক্রম নয়। আমাদের সমাজ যেদিন থেকে জাতি/ধর্ম/বর্ণ/লিঙ্গ দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ বন্ধ করবে, যখন থেকে সমাজের প্রতিটা মানুষ একে অপরকে মূল্যায়ন করবে অর্জিত জ্ঞান/বিজ্ঞান/প্রজ্ঞা দিয়ে, তখন হয়ত এই দিবস জাতীয় “কোটা” প্রয়োজন হবে না। নারী ও শিশু নির্যাতন ন্যাশনাল হেল্প-লাইন (টোল ফ্রি) ১০৯২১ টিও বন্ধ করে দেয়া যাবে।

সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে ধার করেই শেষ হোকঃ

“নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে

আপনারি রচা অই কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।

যুগের ধর্ম এই-

পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!”


ম্যাগাজিন ডাউনলোড/দেখতে ক্লিক করুন (প্রায় 12.25 মেগাবাইট)


আশা করি, আমাদের এই পরিবেশনা আপনারা বরাবরের মত ভালবাসবেন। গত ২ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন প্রকাশনা আপনাদের ভালবাসার জন্যই সম্ভব হয়েছে। আপনারাই আমাদের ম্যাগাজিনের প্রাণ! তাই যেকোন মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।


ম্যাগাজিন ডাউনলোড/দেখতে ক্লিক করুন (প্রায় 12.25 মেগাবাইট)


টিম জার্মান প্রবাসে

১০ মার্চ ২০১৬

২৭ ফাল্গুন ১৪২২

Team German Probashe

অনিচ্ছাকৃত বানানভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন রইল।


চাইলে আপনিও লেখা/ছবি পাঠাতে পারেন!


বিদেশের জীবনে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র-বিড়ম্বনার কথা লিখে পাঠান বাংলা নববর্ষের বৈশাখে- জার্মান প্রবাসে ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যায়।

অনাদিকাল হতে একটি ভূভাগের জনগোষ্ঠীর মাঝে সামষ্টিক যে চরিত্রগত ঐক্যমত প্রকাশিত হতে দেখা যায় মোটা দাগে তাকে আমরা সেই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বলতে পারি। এবং একারণেই পৃথিবীর এক এক স্থানের সংস্কৃতিতে এত এত ভিন্নতা। আর এই ভিন্নতা যারা সহজে বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নেয় তাদের জন্যই পৃথিবী সহজরুপে ধরা দেয়।

আমাদের জার্মান প্রবাসে ম্যাগাজিনের এবারের শিরোনাম যদি দেই “বিদেশের কুকুর ধরি স্বদেশের ঠাকুর ফেলিয়া” তাহলে বিদেশভক্ত অনেকে রেগে আগুন হয়ে বলবেন, বাংলাদেশের ভাল জিনিস (ঠাকুর) রেখে জার্মানির খারাপ জিনিস (কুকুর) অর্জন করতে এসেছি আমরা! কথাটা অবশ্য তা নয়। কিন্তু বিদেশে আসার পর আমাদের অনেকের তুলনারোগ দেখা দেয়। বিদেশে যাই চোখে পড়ে স্বদেশের সাথে তুলনা এবং বিদেশের সবই ভাল অন্ধভাবে এই বিশ্বাস পোষণ করার লোক নেহায়েত কম নয়।

আমাদের সব খারাপ, বিদেশের সব ভাল এইরুপ ধারণা করার পরও আমাদের অনেকেরই বিড়ম্বনা পেতে হয়েছে এই বিদেশেই, এদের বহুত্ববাদিতা আমাদের সংকীর্ণ চিন্তাধারাকে আঘাত করেছে, এদের আচার, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, মানুষের মূল্যবোধ সবই সবসময় নিশ্চই আমার আপনার ভাল লাগেনি। তবে ভাল লাগেনি বলেই সেসব খারাপ তাও নয়, কারণ এটি যেমন তাদের সংস্কৃতি, তদ্রুপ আমাদেরটা আমাদের কাছে ভাল। আমাদের জার্মান প্রবাসে ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যায় আমরা আপনার সেসব কথাই শুনতে চাই। বিদেশের জীবনে এই সাংস্কৃতিক বিড়ম্বনার কথা লিখে পাঠান বাংলা নববর্ষের বৈশাখে।

যেকোন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাদর আমন্ত্রণ আমাদের ম্যাগাজিনে! তাই আমাদের ম্যাগাজিনে লিখতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ বা জার্মানিতেই থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই!

ডেডলাইনঃ ৩১ শে মার্চ ২০১৬

লেখা পাঠানঃ [email protected]
অথবা পেজের ইনবক্সে পাঠানঃ www.facebook.com/pages/জার্মান-প্রবাসে/212610425614429
ছবির পাঠানোর জন্য বিস্তারিতঃ http://goo.gl/90IVlk

লেখার সাথে নাম ঠিকানা পেশা আর একটি ছবি অবশ্যই পাঠাবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ শুধু জার্মানি বা বাংলাদেশ থেকেই নয়, যেকোন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাদর আমন্ত্রণ আমাদের ম্যাগাজিনে! তাই আমাদের ম্যাগাজিনে লিখতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ বা জার্মানিতেই থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই!


জার্মান প্রবাসে আড্ডা দিতে চাইলেঃ www.facebook.com/groups/BSAAG/(বিশ্বস্ততার সাথে ৫২,০০০+ সদস্য নিয়ে)

——————————————————————–

অনলাইনে পড়তে চাইলেঃ http://goo.gl/unYLZD